সূর্যের সবচে কাছের গ্রহ সবচে বেশি গতিতে সেকেন্ডে মাত্র পঞ্চাশ কিলোমিটার যেতে পারে। প্রথম দুদিন মহাকাশ অগ্নিরথটা এর দ্বিগুণ গতিতে চললেও আর কিছুক্ষণের মধ্যে কয়েক হাজার টন পানি কমে গেলে এটা হৃদকম্প ঘটানো গতি পাবে।
তারপর শুক্রের এলাকায় প্রবেশ; এখন তাকে লুসিফার আর সূর্যের মাঝে সবচে স্বর্গীয় ভুবন বলে ভুল হয়। ভোলা চোখে একটা গোলক দেখা গেলেও সবচে শক্তিশালী টেলিস্কোপ তেমন কোনো কাজে লাগবে না, ধারণার কোনো উন্নয়ন হবে না-কারণ ইউরোপাকে হিংসা করে সেও নিজেকে ঢেকে রাখে হাজার রহস্যে।
সূর্যের আরো কাছাকাছি যেতে যেতে ইউনিভার্স মোটেও মোহাবিষ্ট হবে না, বরং সৌর জগৎপতির কাছ থেকে বাড়তি শক্তি ছিনিয়ে নেবে, সৌর দোলনায় দোল খেয়ে এগিয়ে যাবে নতুন নক্ষত্রের দিকে।
কিন্তু একেবারে বিনামূল্যে প্রকৃতি শক্তি দেয় না। ঠিক রাখে নিত্যতার সূত্র। সূর্যের গ্র্যাভিটিশনাল ফোর্স কাজে লাগিয়ে ইউনিভার্স এগিয়ে যাবে ঠিকই, ঠিক সেটুকু শক্তি প্রকৃতি ছিনিয়ে নেবে শক্তির আধার সূর্যের কাছ থেকে। মানুষের জন্য পরিমাণটা অনেক অনেক বেশি হলেও সূর্যের জন্য একেবারে কম। আসছে হাজার হাজার বছরেও তার ফলে সূর্যের হয়ে যাওয়া ক্ষতির নগণ্য হিসাবটা বের করা যাবে না।
ক্যাপ্টেন স্মিথ বেশ কষ্টে তার একগুঁয়েমির ফলে হারানো মূল্যের কিছুটা ফিরিয়ে নিল।
“এখন আপনারা বুঝতেই পারছেন, সে বলল সবার উদ্দেশ্যে, কেন আমি শিপটাকে ওল্ড ফেইথফুলের ভিতর দিয়ে নিয়ে গেলাম। যদি শরীরের সবটা ময়লা ধুয়ে না নিতাম, তো এতোক্ষণে আমাদের বারোটা বেজে যাবার কথা। থার্মাল কন্ট্রোল যদি কাটিয়ে উঠতে পারতো তাহলেও পৃথিবীর চেয়ে দশগুণ চাপ পড়ার কথা।
এখনি কালো হয়ে যাওয়া ফিল্টারের দিকে তাকিয়ে সবাই তার কথা বিশ্বাস করে নিল। তারপর সবার স্বস্তি ফিরে এল মঙ্গলের অর্বিটে ঢোকার পরপর সেটা আবার আগের আকৃতি ফিরে পাওয়ায়।
ফেমাস ফাইভ তাদের জীবনে অত্যাশ্চর্য এবং অপ্রত্যাশিত পরিবর্তনে যার যার পদ্ধতিতে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে এরিমধ্যে। মাইকেলোভিচ আবারো ব্যগ্রভাবে সশব্দে কম্পোজ করা শুরু করেছে, ফলে খেতে বেরুনো ছাড়া তার টিকিটির স্পর্শ পায়নি কেউ। তাই তার রীতিসিদ্ধ খোঁচায় আহত হতে থাকা সবাই খানিক স্বস্তি পেল, বিশেষত উইলিস।
গ্রিনবার্গ নিজেকে নিজেই নির্বাচিত করল একজন অনারারি ক্রু হিসেবে। কেউ প্রতিবাদ না করায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় স্বনির্বাচিত হওয়ার একটা মজা আছে। তার বেশিরভাগ সময় কাটছে ব্রিজে।
সমস্ত ব্যাপারকে ম্যাগি মবালা আন্তরিক তুষ্টির সাথে নিয়েছে অনেক আগেই।
লেখকেরা, তার মন্তব্য, সারা জীবন চোটপাট করে যায় একটা কথা বলে, কী নিশ্চিন্তে যে কাজ করতে পারতাম একটু নির্জনতা পেলে! কী পরিমাণ কাজ যে করতে পারতাম! এই কথার প্রমাণ চান আপনারা কেউ কেউ চ্যালেঞ্জ না করলেও তার উৎসাহে ভাটা পরার লক্ষণ নেই। বাতিঘর আর জেলখানা হল প্রমাণ। সুতরাং আমার কোনো অভিযোগ নেই। শুধু একটাই অভিযোগ, রিসার্চ ম্যাটেরিয়াল পেতে একটু দেরি হয়ে যাচ্ছে হাই প্রায়োরিটি মেসেজের কারণে।
এমনকি ভিক্টর উইলিসও মূল পথে চলে এসেছে, রবিবারের লম্বা প্রজেক্ট নিয়ে তার ব্যস্ততা দেখার মতো। কেবিনে বন্দী থাকার আরো কারণ আছে। দেখে মনে হতে পারে আরো কয়েক সপ্তাহেও সে শেভ করবে না। এবং আরো বেশ ক মাস লেগে যাবে পুরনো বনেদীয়ানা ফিরে পেতে।
ইভা মারলিন দিনের বেশ ক ঘণ্টা কাটিয়ে দেয় এন্টারটেইনমেন্ট রুমে, সবাই জানে সে সারাক্ষণ প্রিয় ক্লাসিকগুলো দেখছে। ভাগ্য ভাল বলতে হয়, অভিযানের আগে তড়িঘড়ি করে লাইব্রেরি আর প্রজেকশন সিস্টেম গড়ে তুলেছিল কর্তারা। এখনো লাইব্রেরিটা স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়, কিন্তু যা আছে তা দেখে শেষ করতে কয়েক জীবন পেরিয়ে যাবে।
সিনেমার জগতের, সত্যি বলতে গেলে শিল্প জগতের সব কাজই সেখানে সযত্নে রাখা হয়েছে, সেসবের বেশিরভাগই ইভার চেনা এবং সে নিজের জ্ঞানের সাথে ব্যাপারটা মিলিয়ে দেখে বেশ মজা পাবে তাই স্বাভাবিক।
ফ্লয়েড সেসময় তার কথা শুনতেই বেশি ভালবাসে। স্বাভাবিক। তখনি ইভা রক্তমাংসের মানুষে পরিণত হয়, কোনো অতিমানব না। খুব আফসোস হয় ফ্লয়েডের, এই মহিলা বাস্তব জীবনে ফিরে আসে বাস্তব জীবন পাবার বদলে সিনেমার পর্দা পেলে।
ফ্লয়েড তার জীবনের অন্যতম ভয়াল অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিল একবার ইভার পেছনে বসে সত্যিকার গন উইথ দ্য উইন্ড দেখার সময়। তখনই সে ভিভিয়ান লিথের সাথে তার তুলনার সুযোগ পায় এবং মিলিয়ে দেখতে গিয়ে নিজের মনেই বেশ হেনস্থা হয়ে পড়ে।
আলো নেভার পর দেখতে পায় ইভার কান্না। সান্ত্বনার সুরে সে হাতটা তুলে নেয়, তারপর দরদমাখা কণ্ঠে বলে, বনির মৃত্যু দেখে আমিও কেঁদেছিলাম।
সাথে সাথে ইভা একটা মৃদু হাসি যোগাড় করেছিল।
“আমার কান্না ভিভিয়ানের জন্য। আমরা দ্বিতীয় পর্ব শু্যট করার সময় তার জীবন নিয়ে অনেক পড়াশোনা করি। বেচারীর জীবনটা অনেক কষ্টে কেটেছে। এখন, তাকে নিয়ে এই মহাকাশে কথা বলার সময়, সিনেমা দেখার সময় ল্যারির একটা কথা মনে পড়ে গেল। ভিভিয়ানের নার্ভাস ব্রেকডাউনের পর ল্যারি শ্রীলংকা থেকে ফিরে বলেছিল, আমি মহাকাশের একটা মেয়েকে বিয়ে করেছিলাম, আমাদের দুনিয়ার কোনো মেয়েকে না।
