ও-এটা তত্ত্বেই সম্ভব, বাস্তবে না। বাস্তববাদী হও, ছেলে। দেখ, কীভাবে ওগুলো ট্যাঙ্কে ভরবে?
ইঞ্জিনিয়ারদের সাথে আগেই কথা হয়েছে আমার। জ্বালামুখের পঞ্চাশ মিটারের মধ্যে শিপ নিয়ে যাওয়া তেমন বিপজ্জনক নয়। তারপর একটা লাইন টেনে নিব ওল্ড ফেইথফুলের দিকে। আপনিতো জানেন, সেটা যথেষ্ট ভাল আচরণ করে।
কিন্তু প্রায় শূন্য বায়ুচাপে আমাদের পাম্প কাজ করবে না।
তাদের কোনো দরকার নেই। উষ্ণ প্রসবণটার নিজস্ব গতিই যা করার করবে। প্রতি সেকেন্ডে শত কিলোমিটারের চেয়েও বেশি স্পিড দিতে পারবে তখন।
সেটা শুধু ক্রিস্টাল বরফ আর বাস্প দিবে, তরল পানি নয়।
শিপে ঢুকতে ঢুকতে জুড়িয়ে যাবে সেগুলো।
“তুমি আসলেই এ নিয়ে ভেবেছ, তাই না? ক্যাপ্টেন ফুঁসছে কিন্তু বুঝতে দিতে চাচ্ছে না, এবং তা বোঝা যাচ্ছে, কিন্তু আমি শুধু ব্যাপারটা বিশ্বাস করি না। ব্যস। পানি কি যথেষ্ট খুঁটি? সেখানে কার্বনের গুঁড়া ভর্তি। তা নিয়ে কী করবে?
ফ্লয়েড না হেসে পারল না। ক্যাপ্টেন স্মিথ যেন গুলি করার পাঁয়তারা কষছে…
বড়গুলোকে হেঁকে তোলা সহজ। আর রিয়্যাকশনে ছোটগুলো কোনো প্রভাবই ফেলবে না। হাইড্রোজেন আইসোটোপের হার পৃথিবীর চেয়ে বেশি মনে হচ্ছে। ফলে আরো বেশি থ্রাস্ট পাওয়া সম্ভব।
আপনার কলিগরা আইডিয়াটা নিয়ে কী ভাবছে? এখন সোজা লুসিফারের দিকে তেড়ে গেলে তাদের বাড়ি ফিরতে আরো বেশ কমাস লেগে যাবে…
আমি তাদের সাথে কোনো কথা বলিনি। কিন্তু এতো জীবন ঝুঁকিতে থাকার সময় এটা কোনো ব্যাপার নাকি? আমরা গ্যালাক্সিতে পৌঁছতে পারি সত্ত্বর দিন আগেই। সেভেন্টি ডেজ! একবার চিন্তা করুন, এই সময়ে ইউরোপায় কী না হয়ে যেতে পারে!
আমার সময়জ্ঞান যথেষ্ট টনটনা আছে এখনো। হাত নাড়ল ক্যাপ্টেন, ব্যাপারটা আমাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। আমরাও এতো লম্বা যাত্রা করতে চাই না।
এখন ফ্লয়েড ভাবল, আমার ভাবনা সেও জেনে যেতে পারে, তারচে একটু কৌশলী হওয়া ভাল…
মাত্র বাড়তি দু সপ্তা! ভাবতে অবাক লাগছে, আমাদের মানসিকতা এতো সংকীর্ণ হয়ে গেল কীভাবে! আপনি আমাদের অত্যন্ত ভালভাবে খাওয়াচ্ছেন। আমাদের কেউ কি হপ্তা দুয়েকের জন্য খাবার চুলচেরা করে খেতে রাজি আছে?
ক্যাপ্টেন কোনোমতে একটা বরফ-জমাট হাসি যোগাড় করল মুখ জুড়ে।
কথাটা উইলিস আর মাইকেলোভিচকে জিজ্ঞেস করতে পারেন। কিন্তু আমার ধারণা পুরো আইডিয়াটাই উদ্ভট।
যাই হোক, অন্তত মালিকপক্ষের হাতে ছেড়ে দিন ব্যাপারটা। আমি স্যার লরেন্সের সাথে কথা বলতে চাই।
আমি আপনাকে বাঁধা দিতে পারিনা। অবশ্যই। ক্যাপ্টেন স্মিথ এমন এক সুরে বলল, যেন পারলে সে বেশ খুশিই হয়, কিন্তু আমি ঠিকই জানি তিনি কী বলবেন।
ক্যাপ্টেন স্মিথের কথা ভুল প্রমাণিত হয়েছিল।
.
স্যার লরেন্স ত্রিশ বছর ধরে বাজি জিতে জিতেও খুশি নয়, বর্তমান বিশ্ববাজারে তার অবস্থান যথেষ্ট নয় যেন। বাজি সে সবখানেই ধরে। হং হং রেসকোর্সে তাই তার নিয়মিত যাতায়াত। কিন্তু মানুষের সাধারণ মানবিকতার কারণে সরকার রেসকোর্সটা বন্ধ করে দিয়েছে। কী নিষ্ঠুর খেলা! যখন খেলাটা খেলার উপায় ছিল তখন টাকা ছিল না, আর বর্তমানে বিশ্বের সবচে ধনী লোকটার এ খেলা খেলার ইচ্ছা থাকলেও কোনো উপায় বাকী নেই। অন্য পথে বাজি জিতে একটা দৃষ্টান্ত স্থাপনের উপায় আছে এখনো।
আর তারচে ভাল কেই বা জানে, তার পুরো ক্যারিয়ারটাই এক জুয়া। সে সব সময় নিষ্ঠুর হাতে বিরূপ পরিবেশকে নিজের মতো গড়ে নিয়েছে, নিয়েছে লাখো ঝুঁকি এবং সবশেষে, সবচে দক্ষ লোকগুলোকে সবচে দামী উপদেশের জন্য সবচে বেশি মূল্য দিয়েছে। সে তারপরই কাজ করত, এবং তাদের কথা ভুল হবার সম্ভাবনা দেখা দেয়ার সাথে সাথে আরো নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেয়া হতো; তার পরও, পুরো জীবনটাই এক জুয়া।
এখন, হেউড ফ্লয়েডের কাছ থেকে পাওয়া মেমোরেন্ডাম পড়তে পড়তে, হঠাৎ যৌবনের সেই ঘোড়াগুলোর শেষচক্র পূর্ণ করার কথা মনে পড়ে যায়। কী উত্তেজনা, কী উত্তেজনা চারদিকে! এটাও এক জুয়া, সম্ভবত তার জীবন এবং ক্যারিয়ারের শেষ এবং সবচে বড় বাজি, যদিও সে কখনো তার বোর্ড অফ ডিরেক্টরসকে কোনো আদেশ দিতে ভয় পায় না…
বিল, তোমার কী মনে হয়?
তার ছেলে (স্থির এবং ভরসা করা যায় তার উপর। কিন্তু সেই ঝলক নেই-ঝলকটা অবশ্য প্রয়োজন পড়বে না আরো কয়েক প্রজন্মের মধ্যে) প্রত্যাশিত জবাবই দিল ।
থিওরিটা কাগজে কলমে ভাল। এদিকে আমরা এরই মধ্যে একটা শিপ হারিয়ে বসেছি। অন্যটাকেও গাড্ডায় ঠেলে দেয়া কি ঠিক হবে?
শিপটা বৃহস্পতিতেমানে লুসিফারে যাচ্ছে।
হ্যাঁ, কিন্তু পৃথিবীর অর্বিটে একটা পূর্ণ চেক-আউটের পর। আর আপনি কি ভাবতেও পারেন কত ঝুঁকি নেয়া হবে একাজে? সে সর্বকালের সব রেকর্ড ভেঙে সেকেন্ডে হাজার কিলোমিটার ছাড়িয়ে যাবে। এবং ফিরে আসবে। এজন্য আর যাই হোক, যত্ন দরকার।
এরচে অভদ্রভাবে তার পক্ষে বাবাকে কিছু বলা সম্ভব নয়।
বেশ শান্ত সুরেই স্যার লরেন্স জবাব দেয়, একটা পরীক্ষা করলে দোষ কী? অবশ্য ক্যাপ্টেন স্মিথ দাঁত-নখ দিয়ে যুদ্ধ করছে। সম্ভবত পদত্যাগ করবে। যাই হোক, লয়েডস এর সাথে কথাবার্তা সেরে ফেল। আমরা গ্যালাক্সি দাবী করতেই পারি।
