বর্তমানে তারা সবচে কাছের ভূ-ভাগ থেকে নব্বই কিলোমিটার দূরে। বেশকিছু বড় সামুদ্রিক প্রাণীর দেখা পাওয়া যায় সেখানে। সেগুলো কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।
এখন কোনো উটকো ঝামেলায় না পড়লে আরো মাস কয়েক টেনেটুনে চলতে পারবে। খাবারের সঙ্কটটাই প্রধান এবং শক্ত রেশনিং চলছে। কিন্তু ক্যাপ্টেন ল্যাপাসের মতে মনোবল এখনো অটুট আছে সবার।
“এখন, আমরা এমন এক জায়গাতেই যাচ্ছি। রওনা হয়ে পৃথিবী থেকে জ্বালানী নিতে হবে। তারপর অর্বিটে পৌঁছতে পৌঁছতে ৮৫ দিন লেগে যেতে পারে। আর বর্তমানে একমাত্র ইউনিভার্সই সেখান থেকে যথেষ্ট পে লোড নিয়ে আবার ওটার ক্ষমতা রাখে। গ্যানিমিডের শাটলগুলো বড়জোর সাপ্লাই ফেলতে পারে, তাও পাবার ঠিক ঠিকানা নেই। এবং এ কাজ করতে গিয়ে ধসে পড়ার ভয়ও থাকে।
“আই অ্যাম স্যরি, লেডিস অ্যান্ড জেন্টলমেন, কিন্তু আমাদের যাত্রা একটু কেটেহেঁটে ছোট করতে হচ্ছে। কিন্তু আপনারা নিশ্চই একমত হবেন যে ওয়াদামতো আমরা আপনাদের সব দেখিয়েছি, এবং এ নিয়েও আমি নিশ্চিত যে নতুন মিশনের ব্যাপারেও আপনাদের কোনো আপত্তি থাকতে পারে না। যদিও, মুক্ত মনে বলতে গেলে, সফলতার সম্ভাবনা অতি ক্ষীণ। এখনকার মতো এটুকুই বলতে চেয়েছিলাম। ড. ফ্লয়েড, আপনার সাথে একটু কথা বলা যাবে?
সবাই চিন্তিত মনে ভেসে বেরিয়ে যাবার সময় ক্যাপ্টেন একটা ক্লিপবোর্ড হাতে তুলে নিল। এ যুগেও মাঝেমধ্যে কাগজের টুকরাতে ডাটা প্রিন্ট করা হয়, কিন্তু খুব কম। এখানেও একটা কিন্তু থেকে যায়, এ মাল্টিফ্যাক্স পেপার এক বিশেষ জিনিস। ওয়েস্ট পেপার বক্সের ওজন কমানোর জন্য এক কাগজেই হাজারবার প্রিন্ট নেয়া হয়।
হেউড সে বলল, কারণ আনুষ্ঠানিক ভদ্রতার সময় শেষ হয়ে গেছে, দেখতেই পাচ্ছেন, এতো এতো তথ্য আসছে যে সার্কিট পুড়ে যাবার দশা। আর চারধারে এতোকিছু ঘটছে যে মাথায় চট করে কিছু ঢোকে না।
ক্রিসের কোনো খবর, ডিটো?
“না। কিন্তু গ্যানিমিড আপনার খবর প্রচার করেছে। এর মধ্যে তার মেসেজটা পাবার কথা, এমিতেও প্রাইভেট মেসেজের উপর আমাদের পাঠানো খবরগুলোর প্রাধান্য আছে, তার উপর আপনার নাম নিশ্চই জাদুমন্ত্রের মতো কাজ করবে, অন্তত করার কথা।
“থ্যাঙ্কস, কাপ্তান। কোনোভাবে সাহায্য করতে পারি?
আসলে, না-আমি আপনাকে সাথে সাথেই জানাব।
এই শেষবার তারা নিকট বন্ধুর মতো পরস্পরের সাথে কথা বলছে, আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা। তারপরই ড, হেউড ফ্লয়েড হয়ে যাবে, ঐ পাগলা বুড়োটা… আর শুরু হবে ক্ষণস্থায়ী, ইউনিভার্সের বুকে বিদ্রোহ। এই বিদ্রোহে পুরোধা হবে ক্যাপ্টেন স্বয়ং।
.
আইডিয়াটা আসলে হেউড ফ্লয়েডের নিজস্ব নয়; সে শুধু আশা করেছিল যেন…
সেকেন্ড অফিসার রয় জলসন নেভিগেশন অফিসারদের মধ্যে তারকায় পরিণত হবে কিছুক্ষণের মধ্যেই। এর আগে ফ্লয়েড তার সাথে খুব একটা কথাবার্তা বলেনি, মুখচেনা লোকটাকে বড়জোর শুভ সকাল জানানো হত। তাই ফ্লয়েডের কেবিনে অন্যরকম নক শুনে বেশ অবাক হওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।
অ্যাস্ট্রোগেটর (মহাকাশ নেভিগেটর) হাতে একগাদা চার্ট নিয়ে গলদঘর্ম হচ্ছিল; এম্নিতেও ফ্লয়েড তার উপস্থিতি টের পায়নি। তার উপর শিপের আবহাওয়া গেছে। বদলে। তবু এভাবে আসার অন্য কোনো কারণ অবশ্যই আছে।
ড, ফ্লয়েড, সে হড়বড় করে কথা শুরু করল, যেমন করে নতুন সেলসম্যান তার লাইসেন্সদাতার কাছ থেকে লাইসেন্স পাবে নাকি পাবে না তা জানার আগে কথা বলে, সেভাবে, আমি আপনার পরামর্শ চাই-এবং একটু সহায়তা।
অবশ্যই! কিন্তু কী করতে পারি আমি আপনার জন্য?
জলসন চার্টটা মেলে ধরল সামনে। চার্টে লুসিফার অর্বিটের ভিতরে সব গ্রহের অবস্থান দেখাচ্ছে।
লিওনভ আর ডিসকভারিকে জুড়ে দিয়ে বৃহস্পতি জগৎ ধসে পড়ার আগে টেনে নেয়ার যে পদ্ধতি আপনি নিয়েছিলেন, সেটাই আমাকে আইডিয়াটা দিয়েছে।
ধারণাটা আমার নয়, ওয়াল্টার কার্নোর মাথা থেকে বেরিয়েছিল।
ও-আমি এ কথা জানতাম না। অবশ্যই, এখানে গতি বাড়ানোর জন্য আমাদের হাতে অন্য কোনো শিপ নেই, কিন্তু অন্য কোনো ব্যাপার আছে। আরো বড় ফ্যাক্টর।
কী বলতে চাচ্ছেন আপনি?পুরোপুরি বিভ্রান্ত হয়ে ফ্লয়েড প্রশ্ন তুলল।
কেন কষ্ট করে পৃথিবী পর্যন্ত যাব? যেখানে দুশ মিটার দূরে ওল্ড ফেইথফুল আমাদের জ্বালানী বুকে নিয়ে বসে আছে! তিন মাসের জায়গায় হপ্তা তিনেক লাগবে, বড়জোর। তারপর সোজা ইউরোপার বুকে নামব আমরা।
চিন্তাটা এতো অবাক করা যে ফ্লয়েড কয়েক মুহূর্তের জন্য শ্বাস নিতে ভুলে গেল। সাথে সাথেই চোখের সামনে আধ ডজন অভিযোগ ভেসে উঠল, কিন্তু কোনোটাই খুব বেশি ভয়ংকর নয়।
ক্যাপ্টেন কী ভাবছে এ নিয়ে?
তাকে বলিনি। আপনার কাছ থেকে এই সাহায্যটাই চাই। আগে হিসাবনিকাশ শেষ করে তারপর বলব। সে পাত্তাই দেবে না-অবশ্যই। আমি হলেও তাই করতাম…।
ছোট্ট কেবিন অনেক অনেকক্ষণ ধরে চুপ থাকার পর ফ্লয়েড বলল, ধীরলয়ে, কেন কাজটা সম্ভব না তা বলার ফুরসত দিন আমাকে। তারপর আপনি জানাবেন আমার কোথায় কোথায় ভুল হল।
.
সেকেন্ড অফিসার জলসন তার ক্যাপ্টেনকে হাড়ে হাড়ে চেনে। সে জিন্দেগীতেও এমন কথায় কান দেবে না..
তার জেদটা একটু পুরনো তালের। তোমার কথা ঠিক আছে, কিন্তু মানা সম্ভব না.. এখানে প্রযোজ্য নয় (এবং, তোমার মাথায় এই আইডিয়া আসার কথা নয়) গোছের।
