.
সেকেন্ড অফিসার য়ু আর তার দু সহকর্মী ব্রিজের লক করা দরজার বাইরে নিজেরদের উন্নয়ন করা অস্ত্র হাতে ওঁৎ পেতে আছে, এবং এটাই সম্ভবত তাদের জীবনের সবচে বিদঘুঁটে অ্যাসাইনমেন্ট। ভিতরে কী হচ্ছে তা জানানোর জন্য কোনো মনিটর স্ক্রিন নেই, শুধু ওয়ার্ডরুমের মেসেজের উপর নির্ভর করতে হবে। এবং স্পাই মাইকের ভিতর দিয়ে কোনো নির্দেশনা আসছে না; ব্যাপার লক্ষণীয়। রোজি আর চ্যাঙের কথা বলার কোনো সুযোগ নেই।
টাচডাউনটা চমৎকার হল, শুধু সামান্য একটা ধাক্কা, ব্যস। আরো কমিটার ডুবে গেল গ্যালাক্সি, তারপর ভেসে উঠল আবার… আর ইঞ্জিনের অবস্থান ও ওজনকে ধন্যবাদ, সেগুলো উপরের দিকে বসানো।
এরপরই শ্রোতারা দরজার ওপাশ থেকে হাল্কা কথা শুনতে পায়।
তুমি, ম্যানিয়াক রোজি; আশা করি তোমার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। আমরা সবাই এখন মৃত।
একটা পিস্তলের আওয়াজ ভেসে এল, তারপর সব চুপচাপ।
একজন নুইয়ে ফেলল মাথা, স্পেস ক্রুকে এমনটা মানায় না। অন্যজন পেছনে। তাকায়, যেন চিৎকার করবে। কিন্তু য়ুর বাধার মুখে কিছু করার নেই।
সেকেন্ড অফিসার য়ু আর তার কলিগরা ধৈর্য ধরল, দাঁতে দাঁত চেপে। তারা জানে, এখন কিছু না কিছু ঘটবেই।
ঠিক তাই, দরজার লকিংবারের শব্দ শোনা যাচ্ছে। সে তাদের কোনো একজনকে পেড়ে ফেলতে পারে, সবাইকে নয়-খোলার সাথে সাথে আঘাত হানতে হবে, তিনদিক থেকে।
দরজা খুলে গেল, অতি ধীরে।
“স্যরি, আমি নিশ্চই মিনিটখানেকের জন্য পাগল হয়ে গিয়েছিলাম…
তারপর, যে কোনো বুদ্ধিমান মানুষের মতো চুপ করে থাকল সে, সেকেন্ড অফিসার চ্যাঙ।
৩১. প্রখর, দারুণ, অতি দীর্ঘ দগ্ধ দিন
কে জানে কীভাবে মানুষ ডাক্তার হয়! ভাবছে ক্যাপ্টেন ল্যাপ্লাস। অন্যদিকে, মানুষ যে কী করে গোরখোদক হয় তাই বা কে জানে? দুজনেরই কিছু না কিছু বিচ্ছিরি কাজ করতে হয় হরহামেশা…
কিছু পেলেন নাকি?
না, স্কিপার। এম্নিতেও আমার সঠিক যন্ত্রপাতি নেই। দেখেশুনে মনে হচ্ছে তাদের দেখতে হলে মাইক্রোস্কোপ দিয়ে আঁতিপাতি করে খুঁজতে হবে।
একটা রিলে ট্রান্সমিটার থাকার কথা বলেছিল ফ্লয়েড, দেখুনতো। আর ফিঙ্গারপ্রিন্টও দরকার। নিয়েছেন এসব?
হু-গ্যানিমিডের সাথে যোগাযোগ বসার সাথে সাথে তার পেপারগুলোসহ পাঠিয়ে দিব। কিন্তু সন্দেহ হয়, আমরা কোনোদিনই জানতে পারব না রোজি কে ছিল, অথবা কার ভূমিকায় অভিনয় করছিল, অথবা কেন-আল্লা মাবুদ জানে।
ক্যাপ্টেন ল্যাপ্লাস যেন তার মানবিক গুণ খোঁজায় ব্যস্ত, যাই হোক, ওর ব্যবহারে কিছু মানবিক দিক প্রকাশ পেয়েছিল। অ্যাবোর্ট লিভার টানার সময় সে ইচ্ছা করলেই চ্যাঙকে গুলি করতে পারত।
তাতে আমাদের বেশ ভালই হত, মনে হয়। এক ধাক্কায় সবাই শেষ হয়ে যেতাম। জেঙ্কিন্স আর আমি লাশটা রিফিউজ ড্যাম্প দিয়ে ফেলে দেয়ার সময় কী হল বলি…
ডাক্তার আতঙ্কিতভাবে ঠোঁটদুটোকে চেপে ধরল পরস্পরের সাথে।
“আপনার কথাই ঠিক, অবশ্যই। এছাড়া আর কী করার ছিল? যাই হোক, আমরা বাড়তি ওজন বওয়ার ঝামেলায় যাইনি-কয়েক মিনিট ভেসে ছিল শরীরটা-তারপর শিপ থেকে দূরে যায় কিনা তা দেখার জন্য চেয়ে ছিলাম-ঠিক তখনই…
ডাক্তার যেন কথা খুঁজে পাবার চেষ্টা করছে।
কী? ড্যাম ইট!
“পানি থেকে কিছু একটা উঠে এসেছিল। অনেকটা টিয়ার ঠোঁটের মতো; কিন্তু প্রায় শতগুণ বড়। এক ঠোকরেই এটা-রোজিকে-নিয়ে উবে গেল। আমাদের এখানে বেশ ভাল সঙ্গী জুটবে মনে হয়। এমনকি বাইরে শ্বাস নেয়ার সুযোগ থাকলেও আমি সাঁতরানো পছন্দ করি না এমন পরিস্থিতিতে।
ব্রিজ টু ক্যাপ্টেন বলল অফিসার অন ডিউটি, পানিতে বড় ধরনের আলোড়ন দেখা যাচ্ছে, ক্যামেরা থ্রি তে। আপনাকে ছবি দিচ্ছি।
এই জিনিসটাকেই দেখেছিলাম আমরা! কেঁদে উঠল যেন ডাক্তার, তার গলায় ঠাণ্ডা একটা অনুভূতি হচ্ছে, একটাই চাওয়া তার: আশা করি আরো বেশি কিছু পাবার জন্য জিনিসটা উঠে আসেনি।
তারপর হঠাৎ করেই এক বিশাল আকৃতি পানি থেকে ছিটকে উঠল উপরে; পানি আর আকাশের মাঝামাঝি পুরো আকৃতিটা চোখে পড়ল এবার।
পরিচিতিটা এতো বেশি, মিলটা এতো কাছাকাছি যে ডক্টর আর ক্যাপ্টেন একসাথে চিৎকার করে উঠল: ইটস এ শাক!
দৈত্যটা আবার সাগরে ফিরে যেতে যেতে একবারের জন্য শরীর আর টিয়া পাখির ঠোঁটের দিকে দৃষ্টি বুলানোর সুযোগ পাওয়া যায়। একজোড়া বাড়তি ফিন দেখা যাচ্ছে, আর কোনো ফুলকা আছে বলে মনে হল না। কোনো চোখও নেই-কিন্তু তা কী করে সম্ভব? অসম্ভব কেন! ঠোঁটের অন্যপাশে কেমন একটা অংশ দেখা গেল-সেটাই হয়তো ভিন্ন ধরনের কোনো ইন্দ্রিয়।
চিরাচরিত বিবর্তন। বলছে চিকিৎসক, সেই একই ধরনের সমস্যা, একই। ধরনের সমাধান, সব গ্রহে। পৃথিবীর দিকে চোখ ফেরান-ডলফিন, হাঙর আর ইকথায়োসর-সব সামুদ্রিক শিকারীর এই একই বেসিক ডিজাইন থাকতে হয়। কিন্তু ঐ চোয়াল মার্কা ঠোঁটটাই আমাকে ধাঁধায় ফেলে দিচ্ছে।
জীবটা আবারও জেগে উঠেছে উপরে, কিন্তু এবার ধীরলয়ে এগুচ্ছে, যেন ঐ দানবীয় লম্ফঝম্পের পর বেশ ক্লান্ত এখন। বোঝা যাচ্ছে এর ভিতরে গন্ডগোল হয়েছে কোনো, যেন যন্ত্রণায় লেজ দিয়ে পানিতে আঘাত করছে বারবার, কোনোদিকে যাবার আশায় নয় ।
তারপর হঠাৎ করেই প্রাণীটা শেষ খাবারটা উগড়ে দিয়ে পেট উপরের দিকে তুলে নির্জীব ভেসে থাকল শান্ত পানির উপর।
