দুর্ঘটনা ঘটে গেল যে, এক্ষুনি পৃথিবীতে ফেরার হুকুম এসেছে। একটা রেসকিউ মিশনের জন্য প্রস্তুত হতে হবে।
কোন ধরনের একসিডেন্ট?
আমাদের সিস্টার শিপ গ্যালাক্সি গাঁজায় পড়েছে। বৃহস্পতীয় উপগ্রহগুলো চষছিল একটা সার্ভের সময়। তারপর হঠাৎ ক্র্যাশ ল্যান্ডিং করতে হয়।
ফ্লয়েডের চোখেমুখে অবিশ্বাস ফুটে উঠতে দেখল ক্যাপ্টেন স্মিথ।
ঠিক তাই, আমিও জানি এমন কিছু হওয়া অসম্ভব। কিন্তু আপনি পুরোটা শোনেননি। জাহাজটা ইউরোপার মাটি কামড়ে পড়ে আছে।
ইউরোপা!
এমনটাই মনে হচ্ছে। ক্ষতি হল শিপটার, আর উঠে দাঁড়াতে পারবে কিনা কে জানে!-কিন্তু কোনো প্রাণহানি হয়নি। এরচে বেশি জানতে হলে এখন অপেক্ষা ছাড়া গতি নেই।
কখন?
বারো ঘণ্টা আগে। গ্যানিমিডে খবর পাঠাতে বেশ দেরি করে ফেলেছিল।
কিন্তু আমরা কী করতে পারি? আমরাতো সৌর জগতের অন্যপ্রান্তে। এখন চাঁদে দৌড়ে গিয়ে রিফুয়েলিং করে বৃহস্পতি জগতের দিকে যেতে যেতে অন্তত মাস দুয়েক লেগে যাবে! (এবং মনে মনে বাকীটা যোগ করল ফ্লয়েড, লিওনভের যুগে ব্যাপারটা বছর দুয়েক ঠেকার কথা…)
আমিও জানি। কিন্তু কাজে লাগার মতো আর কোনো শিপ নেই।
তাহলে গ্যানিমিডের নিজস্ব আন্তঃউপগ্রহ ফেরিগুলোর খবর কী?
ওগুলো শুধু অর্বিটাল অপারেশনের জন্য তৈরি। কক্ষপথের চেয়ে নিচে নামতে পারবে না।
ক্যালিস্টোতে নেমেছে না সেগুলো?
বেশ নিম্নস্তরের এনার্জি মিশন ছিল সেসব। ও, ইউরোপায় কোনোমতে নামতে পারবে, কিন্তু প্রায় খালি অবস্থায়। এদিকেও নজর দেয়া হয়েছে, অবশ্যই!
ফ্লয়েড এখনো অবিশ্বাসের চোখে ক্যাপ্টেনের দিকে তাকিয়ে আছে, খবরটা হজম করা বেশ কষ্টকর। আধ শতাব্দীর মধ্যে এই প্রথম এমনটা হল, আর মানব ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো। একটা শিপ নিষিদ্ধ চাঁদের বুকে পা রেখেছে। এই একটা চিন্তাই হাজার ভাবনার জন্ম দেয়ার জন্য যথেষ্ট…
ক্যাপ্টেন স্মিথ, আপনার কি মনে হয় ওই… যেই হোক-ই হোক না
কেন-ওরাই এ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী?
এ নিয়েই ভাবছিলাম। কিন্তু অনেক বছর ধরেইতো এলাকাটার আশপাশে ঘুরছি আমরা। এতোদিন কিছু হয়নি।
আরো একটা কথা থেকে যায়, উদ্ধার করতে গেলে আমাদের ক্ষেত্রে কিছু হবার সম্ভাবনা থাকে কি-না।
সবার আগে আমার মাথায় এ চিন্তাটাই গোত্তা দিয়েছে। কিন্তু সবটা না জেনে রাজা-উজির মেরে কোনো লাভ নেই। ও, যেজন্য আপনার সাথে কথা বলতে চাচ্ছিলাম, এইমাত্র গ্যালাক্সির তালিকা হাতে এল। ভাবছিলাম…
ক্যাপ্টেন একটু দ্বিধার সাথে একটা কাগজ ঠেলে দিল টেবিলের ওপাশে। জানে, ফ্লয়েড কী বলবে এবার।
মাই গ্র্যান্ডসন…
এবং মনে মনে বাকীটা যোগ করল সে, একমাত্র মানুষ, যে আমার নাম সাথে নিয়ে কবরে যাবে।
৩. ইউরোপান রোলেট
তৃতীয় পর্ব – ইউরোপান রোলেট
২১. মুক্তির রাজনীতি
এতো বিশ্রী ব্যাপারের পরও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপ্লব বিনা রক্তপাতে সফল হয়েছিল-এসব ব্যাপারে যা হয় আর কী! হাজারো ক্ষতির জন্য যে টেলিভিশনকে শাপ-শাপান্ত করা হয় তাই এর পেছনে তুরুপের তাস হিসেবে কাজে লেগে যায়। ফিলিপাইনেও ক্ষমতার দাপটে যখন বিশেষ সাধারণ জনগোষ্ঠির গোড়া উপড়ে যাবার দশা তখন এই টেলিভিশনের কল্যাণেই ভাল ব্যাবহার করতে বাধ্য হয় ক্ষমতালিন্দুরা। তারপরও সারা দুনিয়া বেশকিছু ধ্বংসযজ্ঞের ন্যাক্কারজনক দৃশ্য দেখতে পেয়েছে।
বেশিরভাগ আফ্রিকানারই অপ্রতিরোধ্য ভবিতব্য আঁচ করতে পেরে ক্ষমতার পালা বদলের অনেক আগে দেশ থেকে পাততাড়ি গোটায়। দেশটার নতুন প্রশাসন যে তেতো অভিযোগ তুলেছে, সেসব কথা অনুযায়ী তারা মোটেও খালিহাতে বাক্স পেঁটরা গোছায়নি। বিলিয়ন বিলিয়ন র্যান্ড চলে গেছে সুইস আর ডাচ ব্যাঙ্কগুলোর অতল গর্তে। নাটকের শেষ দিকে যে কত রহস্যময় ফ্লাইট দেখা গেল কেপ টাউন বা জোহান্সবার্গ থেকে জুরিখ-আমস্টার্ডামের দিকে উড়ে যেতে তার ইয়ত্তা নেই। পরে স্বাধীনতা দিবসে এমন কথাও প্রকাশ্যে বলাবলি করতে লোকে যে এক আউন্স খাঁটি সোনা বা এক ক্যারেট দ্যুতিময় হীরাও পড়ে নেই সদ্যলুপ্ত দক্ষিণ আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে। কথা একেবারে মিথ্যা নয়। সবচে দুঃখজনক ব্যাপার-খনিকৰ্মীদের উপর তলে তলে গণহত্যা চলেছে শেষদৃশ্যে। হেগে নিজের বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টে বসে কোনো এক রিফিউজি তার বনিয়াদী কণ্ঠে দম্ভোক্তি ছড়িয়েছিল, কিম্বার্লিকে কর্মক্ষম করতে কাফ্রিদের বছর পাঁচেক তো লাগবেই… যদি ওরা কোনোদিন পেরে ওঠে।
অবাক হলেও সত্যি কথা, ডি বিয়ার্স আবার সচল হল এক সময়, নতুন নামে-নতুন মুঠোয় আবদ্ধ হয়ে। না, পাঁচটা বছরও লাগেনি। এই ছোট্ট সময়ের মধ্যেই নতুন জন্ম নেয়া দেশটার আর্থিক চালিকাশক্তিতে পরিণত হল হীরার ভুবনমোহিনী আলো।
এক প্রজন্মের ব্যবধানেই নবীন রিফিউজিরা একত্র হল তাদের গোঁড়া পূর্বপুরুষদের ছত্রছায়ায়-একবিংশ শতাব্দীর একীভূত পরিবেশে। সগর্বে তারা উঠে দাঁড়ায়, সদম্ভে নয়। উঠে দাঁড়ায় পূর্বপুরুষের কর্মোদ্যম আর স্পৃহা নিয়ে, বাদ দেয় বিগতদের গোড়ায় থাকা গলদটুকু। আসলেই, তারা আফ্রিকান ভাষায় কথা বলত না, নিজেদের ঘরেও নয় ।
শতাব্দী পুরনো রুশ বিপ্লবের কথা মনে করে অনেকে ঘড়ির কাঁটা উল্টে দেয়ার স্বপ্নে বিভোর হয়েছিল। অন্তত যারা দখলদারদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার সুদী কারবার করেছিল তাদের দাঁত উপড়ে ফেলার চেষ্টা হয়েছে বেশ কবার। যথারীতি তাদের এই জিঘাংসা আর নিষ্ফল আক্রোশ প্রবাহিত হয় অপপ্রচারের দিকে। প্রোপাগান্ডা, মহড়া, বয়কটের মাধ্যমে তারা ব্যতিব্যস্ত করতে চায় ওয়ার্ল্ড কাউন্সিলকে। এমনকি মাঝেমধ্যে ব্যবহার করে শিল্পকেও। উইলহেম স্যামুটের দ্য ভোট্রেকার্স কে ইংরেজি সাহিত্যের একটা মাস্টারপিস হিসেবে প্রদর্শন করা হয়, এমনকি যারা লেখকের সাথে একমত নয় তারাও একাজ করে।
