ওল্ড ফেইথফুলের আশপাশেই এমন একটা কিছু ছিল যা কেউ আশা করেনি। প্রথম দেখে বিজ্ঞানীদলতো নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারেনি। হ্যালির বুকে কয়েক হেক্টর জুড়ে শূন্যে মিলিয়ে যাওয়া যে এলাকা দেখা গেল তাকে সোজা কথায় হ্রদ বলা যায়। শুধু চরম কৃষ্ণত্ব বাদে।
আর যাই হোক, পানি নয়। এখানে ভারী তেল জাতীয় পদার্থ ছাড়া অন্য কোনো
তরলের টিকে থাকা অসম্ভব। আসলে লেক টুনেলা দেখে পিচকালো পদার্থের কথাই বেশি করে মনে পড়ে। ঠিক যেন পিচ। প্রায় কঠিন, শুধু উপরিতলে এক মিলিমিটারের চেয়েও কম পুরু একটা আধ-তরল স্তর। এই অত্যন্ত কম গ্র্যাভিটিতে ব্যাপারটায় নিশ্চই বেশ কবছর সময় লেগে গেছে… সম্ভবত সূর্যের চারদিকে কয়েকবার ঘুরে আসার ফল। বিশেষত এর উপরিতলটা আয়নার মতো সমতল হতে এমন সময়ই লাগার কথা।
ক্যাপ্টেন এর উপর থামার পর পরই হ্যালির বুকে এটা এক বিশেষ পর্যটন আকর্ষণে পরিণত হল। কেউ একজন (কৃতিত্বটা কেউ দাবী করছে না) বলেছিল যে এর উপর হেঁটে যাওয়া বেশ মজার এবং আরামদায়ক হবে, ঠিক পৃথিবীর মতো। সারফেসের আঠালো ভাবটা পা আটকে রাখার কাজ ভালভাবেই করবে। খুব বেশিক্ষণ পেরুনোর আগেই অভিযাত্রীদের বেশিরভাগ পানির উপর হেঁটে যাওয়া অবস্থায় নিজেদের ভিডিওচিত্র ধারণ করল..
এর পরপরই ক্যাপ্টেন স্মিথ এয়ারলক এলাকা পরিদর্শন করে, এবং আবিষ্কার করে যে দেয়ালগুলো খুব সুন্দরভাবে আঠালো হয়ে আছে। এরপর, তাকে যতটুকু রাগতে দেখা গেল তাও বিস্ময়কর।
খুব খারাপ কথা, দাঁতের ফাঁক গলে বলল ক্যাপ্টেন স্মিথ, শিপের বাইরের দিকটা-ছাইগুড়োয় মোড়া দেখা আমার জন্য… আমার জীবনে দেখা সবচে নোংরা জায়গা হল হ্যালির ধূমকেতু…
এরপর আর কখনোই লেক টুনেলায় আলসী হাঁটাহাঁটির ঘটনা ঘটেনি।
১৯. অটি কুঠুরী নয় দরজা
ছোট্ট ভুবনে, পিচ্চি কোনো ইউনিভার্সে, যেখানে প্রত্যেকে প্রত্যেকের নাড়ীনক্ষত্র জানে, সেখানে এক্কেবারে নবাগতের মতো বিস্ময় আর কোনো কিছু উৎপাদন করতে জানে না।
এই বিরক্তিকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছে ফ্লয়েড, করিডোর ধরে ভদ্রভাবে মূল লাউঞ্জের দিকে ভেসে যাবার সময়। অবাক হয়ে নাক গলানো লোকটার দিকে তাকালো সে, কী করে শিপের ভিতর এ্যাদ্দিন লুকিয়ে থাকল ব্যাটা! অন্যজন তার দিকে একই সাথে বাহবা আর অপ্রস্তুতভাব নিয়ে তাকিয়ে আছে, যেন ফ্লয়েডই আগে কথা বলবে।
ও, ভিক্টর! অবশেষে কথা বলল সাবেক অ্যাস্ট্রোনট, স্যরি! প্রথম প্রথমতো চিনতেই পারিনি। তো, তুমিই বিজ্ঞানের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছ… নাকি বলব তোমার লোকজনের জন্য?
হু, একটু যেন বিরক্ত হল উইলিস, কোনোমতে একটা হেলমেটে এঁটে যেতে পারলাম আর কী! কিন্তু মরার হেলমেট-গাত্রে এতো বিরক্তিকর শব্দ ওঠে যে কাউকে একটা কথাও বোঝাতে পারি না। শুধু খসখস শব্দেই দুনিয়া ঢেকে যায়।
তো, বাইরে যাচ্ছ কখন?
ক্লিফ ফেরার সাথে সাথেই। বিল চ্যান্টের সাথে সেই যে বেরিয়েছে…
.
সেই ১৯৮৬-তে প্রথম যেবার হ্যালির দেখা পেল বিজ্ঞানীদের টেলিস্কোপের বাহিনী। তখনই জানা যায়, ধূমকেতুটার ঘনত্ব পানির চেয়েও কম। তার মানে, হয় সূক্ষ্ম ছিদ্র ছিদ্র উপাদান ভর্তি, নয়তো শক্ত গায়েই বড় বড় গর্ত ছড়িয়ে আছে। দেখা যাচ্ছে দু ব্যাখ্যাই সত্যি।
সুড়ঙ্গ-অভিযানের ব্যাপারে চির সাবধান ক্যাপ্টেন স্মিথ সোজাসাপ্টা মানা করে দিয়েছে। কিন্তু বাঁধা মানে কে! ড. পেড্রিল তার নিজের মতে স্থির, পেড্রিলের চিফ অ্যাসিস্ট্যান্ট ড. চ্যান্ট খুবই অভিজ্ঞ মহাকাশ-ভূগোলবিদ। তাকে সুযোগ দেয়া যায়। আর কী করা, দেয়া গেল।
লো গ্র্যাভিটিতে গুহায় ঢোকা অসম্ভব, সন্দিগ্ধ ক্যাপ্টেনকে বলেছিল পেড্রিল, তার মানে, আটকে পড়ার কোনো ভয় নেই।
হারিয়ে পড়ার ভয়ের খবর কী?
চ্যান্ট ব্যাপারটাকে পেশাদারী অপমান মনে করতে পারে। সে ম্যামথ গুহার বিশ কিলোমিটার গভীরে গিয়ে অভ্যস্ত। যাই হোক, তার হাতে একটা গাইডলাইন থাকবে।
যোগাযোগ?
লাইনের ভিতরে ফাইবার অপটিক্স থাকছে। আর স্যুট রেডিওর যোগাযোগ ক্ষমতাও প্রকট।
“উমম! তো, কোনখান দিয়ে যেতে চায় সে?
এটনা জুনিয়র বেসের কাছাকাছি যে মরা উষ্ণ প্রসবণটা আছে, সেটায়। অন্তত হাজার বছরে সেখানে কোনো উদগীরণ হয়নি।
তার মানে আশা করি আরো দিন দুয়েক চুপ থাকবে গর্তটা। খুবই ভাল-আর কেউ কি যেতে চায়?
ক্লিফ গ্রিনবার্গ স্বেচ্ছাসেবক হতে চাচ্ছে। এক পায়ে খাড়া। সে বাহামা দ্বীপপুঞ্জে অনেক আন্ডারওয়াটার গুহায় অভিযান চালিয়েছে এককালে।
“আমি একবারই চেষ্টা করেছিলাম… ওটুকুই যথেষ্ট। ক্লিফকে বলল, তার দাম অনেক। যে পর্যন্ত প্রবেশপথ দেখা যায় সে পর্যন্ত যাবার অনুমতি মিলবে। এর এক পা-ও ভিতরে নয় । আর যদি কোনোমতে চ্যান্টের সাথে যোগাযোগ হারিয়ে যায় তো পিছুধাওয়া করতে পারবে না। অন্তত আমার অনুমতিতে নয়।
তারপর নিজের মনে বাকী কথাটা শেষ করল কাপ্তান, অনুমতি দেবার বিন্দুমাত্র ইচ্ছা নেই আমার…
.
মহাকাশ-ভূগোলবিদদের নিয়ে যেসব পুরনো রসিকতা বাজারে চালু আছে তার মধ্যে মহাকাশ ভূগোলবিদরা আবার গর্ভে ফিরে যেতে চায় ভয়ে… টা সবচে চলতি কৌতুক। ড. চ্যান্ট এ কথাটা বৃথা করে দিতে বদ্ধ পরিকর।
