‘আমি ব্যাপারটা ঠিক বুঝলাম না, হাল। দুদিনের মধ্যে দুটো ইউনিট নষ্ট হতে পারে না।’
‘আসলেই একটু অন্যরকম লাগে, ডেভ। কিন্তু তোমাদের নিশ্চয়তা দিতে পারি যে সেখানে একটা সমস্যা হয়েছে।’
‘ট্র্যাকিং অ্যালাইনমেন্ট সিস্টেম দেখাও।’
ডেভ একেবারে ভালমতোই জানে যে এই দেখায় কিছু এসে যায় না। কিন্তু দেখাটাই আসল নয়, তার ভাবার জন্য সময় চাই। সেই সময়টা যাতে হাল না বুঝতে পারে। মিশন কন্ট্রোল যে রিপোর্ট পাঠানোর কথা বলেছিল তা এখনো এসে পৌঁছেনি। এবার একটু সাবধানে পরীক্ষা করার সময় এসেছে।
সামনে পৃথিবীর সেই পরিচিত দৃশ্য। এবার চাঁদ একটু পিছিয়ে যাওয়ায় সূর্যের আলোয় বসুন্ধরা দারুণ হাসি হাসছে। চিকণ পেন্সিলটা এখনো তাদেরকে উৎপত্তির গ্রহের সাথে আটকে রেখেছে। এই হওয়ার কথা। যোগাযোগ বন্ধ হলে অ্যালার্মের তারস্বরে চিৎকার করা ছাড়া উপায় থাকত না।
‘ভুলটা কোথায় তা নিয়ে তোমার কোনো ধারণা আছে?’
হাল কখনো এতক্ষণ চুপ করে থাকে না। অবশেষে সে জবাব দেয়, আসলে কোনো ধারণা নেই, ডেভ। আমার আগের রিপোর্টের মতো এবারো সমস্যার গোড়াটা ধরতে পারছি না।’
‘তুমি কি পুরোপুরি নিশ্চিত যে,’ খুব সাবধানে শব্দ খুঁজে বের করে বোম্যান, ‘যে…তুমি… কোনো ভুল হয়ে যায়নি…তোমার? জানোইতো, অন্য এ ই থার্টি ফাইভ ইউনিটটা আমরা ভালমতো চেক করেছি। সেখানে কোনো সমস্যাই ছিল না।’
‘হ্যাঁ, আমি জানি। কিন্তু এবার অবশ্যই ফল্ট আছে। সমস্যা ইউনিটে না থাকলে পুরো সাব সিস্টেমে আছে।’
বোম্যান কনসোলের উপর নিজের আঙুল দিয়ে বাজনা তোলে। এমন হতে পারে, যে পর্যন্ত একটা কাজ না হয় সে পর্যন্ত সমস্যাটার দিকেই হালের চোখ থাকবে।
‘ঠিক আছে, আমরা মিশন কন্ট্রোলকে ব্যাপারটা জানাই, তারপর দেখা যাক কী হয়…’ সে একটু থামলেও কোনো প্রতিক্রিয়া নেই হালের মধ্যে।
‘হাল,’ সে বলতে থাকে, ‘কোনো কিছু কি তোমাকে বিরক্ত করছে? এমন কিছু যা এর সাথে মিলে যায়?’
এবারও অস্বাভাবিক বিরতির পর হাল নিজের চির-স্থির কণ্ঠে বলে চলে, দেখ, ডেভ, আমি জানি তোমরা সাহায্য করার চেষ্টা করছ। কিন্তু আমি নিশ্চিত, ভুলটা হয় অ্যান্টেনা সিস্টেমে নয়তো তোমাদের টেস্ট প্রোগ্রামে। আমার ইনফরমেশন প্রসেসিং একেবারে ঠিকমতো চলছে। আমার রেকর্ড চেক করলেই দেখতে পাবে, সেখানে কোনো ভুলের নিদর্শন নেই।’
‘আমি তোমার সার্ভিস রেকর্ড সম্পর্কে সবই জানি, হাল। কিন্তু তাতে প্রমাণ হয় যে এবারও তুমি ঠিকমতো কাজ করছ। যে কেউ ভুল করতে পারে।’
‘আমি এ নিয়ে তর্কে জড়াতে চাই না, ডেভ, কিন্তু আমি ভুল করতে অক্ষম।’
এবার আর কোনো ভদ্র জবাব দেয়া যায় না, বোম্যান তাই কথাটাকে ছেড়ে দিল।
‘ঠিক আছে, হাল,’ সে একটু বেশি বন্ধুভাব দেখিয়ে বলে, ‘আমি তোমার দৃষ্টিকোণ বুঝতে পেরেছি। আমরা ব্যাপারটা সেভাবেই দেখব।’
সে যেন বলছে বাকী কথাটুকুও, প্লিজ, ব্যাপারটা ভুলে যাও। কিন্তু একমাত্র এ কাজটাই সম্ভবত হাল করতে পারবে না কোনোদিন।
মিশন কন্ট্রোল কখনোই যোগাযোগের ব্যান্ডউইডথ ভিশন দিয়ে খরচ করে না। একটা ভয়েজ আর একটা টেলিটাইপ থাকলেই চলে। কিন্তু এবার যে চেহারা ভেসে উঠল সে সাধারণত কন্ট্রোলারের দায়িত্ব পালন করে না। এ লোক চিফ প্রোগ্রামার, ডক্টর সিমনসন। এর একটাই মানে, সামনে সমস্যার পাহাড়।
‘হ্যালো, এক্স-রে-ডেল্টা-ওয়ান, মিশন কন্ট্রোল থেকে বলছি, আমরা তোমাদের এ ই থার্টি ফাইভ ইউনিট সমস্যা পরীক্ষা করে দেখেছি। আমাদের ট্রান্সমিশনে টু ওয়ান-ফোর-সিক্সে যে দ্বিতীয় সমস্যার কথা পাঠিয়েছ তাও পরীক্ষা করা হয়েছে।
‘আমাদের অনুমান মোতাবেক, সমস্যাটা এ ই থার্টি ফাইভ ইউনিটে নয়। আবার একে প্রতিস্থাপনের কোনো প্রয়োজন দেখি না। সমস্যাটা প্রেডিকশন সার্কিটে। আর এর উৎপত্তি একটা প্রোগ্রামিং বৈপরীত্যে যা ঠিক করার জন্য তোমাদের নাইন ট্রিপল জিরো কম্পিউটার বন্ধ করতে হবে। এজন্য তোমরা নিম্নোক্ত পদক্ষেপ নেবে, প্রথমেই ২২০০ শিপ টাইমে…’
এবার কথা মিলিয়ে যেতে লাগল। সাথে সাথে অ্যালার্ম বাজতে শুরু করলে হালও ঠাণ্ডা মাথায় আগের স্থির-ধীর সুরে বলে গেল, কন্ডিশন ইয়েলো, কন্ডিশন ইয়েলো।
‘কী হল?’ প্রশ্ন করে বোম্যান, যদিও সম্ভাব্য উত্তরটা তার জানা।
‘এ ই থার্টি ফাইভ ইউনিট নষ্ট হয়ে গেছে।’
‘আমাকে অ্যালাইনমেন্ট ডিসপ্লে দেখতে দাও।
অভিযানের প্রথম মুহূর্ত থেকে আজ পর্যন্ত যা হয়নি তাই হয়েছে। সেই বিগ ডিশের প্রান্তে বসানো ক্যামেরাটা এবার অন্য কোথাও দিক নির্দেশ করে আছে। পৃথিবীর দিকে নয়।
পোল খাওয়া রেখে দৌড়ে এলে দুজন দুজনের দিকে নিরবে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে।
‘তো, আমি একদম শেষ। অবশেষে বলল বোম্যান।
‘তার মানে, সব সময় হালের কথাই ঠিক ছিল।’
‘তেমনি মনে হচ্ছে। আমাদের বরং ক্ষমা চাওয়া উচিত।’
‘তার কোনো প্রয়োজন নেই,’ নাক গলাল হাল, ‘স্বাভাবিকভাবেই এ ই থার্টি ফাইভ ইউনিট নষ্ট হওয়াতে আমি মোটেও সন্তুষ্ট নই। তবে এটুকু আশা করা যায় যে তোমরা আমার উপর বিশ্বাস স্থাপন করতে পার।
‘আমি এই ভুল বোঝাবুঝির জন্য দুঃখিত, হাল,’ বলল বোম্যান।
‘আমার উপর তোমাদের পূর্ণ আস্থা ফিরে এসেছে?’
‘অবশ্যই, হাল।’
