(৮) জাপানে বড় মাপের একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়, যার নাম ‘সাইদাই জি ইয়ো হাদাকা মাতসুরি’। প্রতি ফেব্রুয়ারির তৃতীয় শনিবার ‘সাইদাই-জি টেম্পল’-এ নগ্ন হয়ে অংশ নেন পুরুষরা।
(৯) এটি এমন এক গণবিবাহের আয়োজন যেখানে সবাই নগ্ন হয়ে বিয়ে করেন।
(১০) নিউজিল্যান্ডে আয়োজিত হয় ‘নুড রাগবি ইন্টারন্যাশনাল’। অল ব্ল্যাকস এবং ফ্রান্সের খেলার আগে উত্তাপ ছড়ানোর একটি আয়োজন নারী-পুরুষের অংশগ্রহণে রাগবি খেলা (সূত্র : ইন্ডিয়া টাইমস)।
ফোটোগ্রাফির আবিষ্কারের প্রায় শুরু থেকেই নগ্নতার ব্যবহার প্রচলিত। বস্তুত ফোটোগ্রাফিতে নগ্নতার মধ্যে সবসময় শৈল্পিক মেধা বিকশিত না-হলেও, নগ্ন ফটোগ্রাফি (Nude Photography)-তে হয়ে থাকে। ফোটোগ্রাফিতে নগ্নতা সাধারণত স্ন্যাপশট। কিন্তু নগ্ন ফোটোগ্রাফি কোনো ব্যক্তির স্থির অবস্থায় তোলা ছবি। শিল্পকৃতি হিসাবে, নগ্ন ফোটোগ্রাফি হল নগ্ন দেহের শৈল্পিক প্রদর্শন। এখানে মানবদেহের রেখা ও রূপই প্রধান উদ্দেশ্য। অনেক ফোটোগ্রাফারই একটি আর্ট ন্যুড ফটোগ্রাফকে ব্যক্তির বদলে মানবদেহের পাঠ মনে করেন। ব্যক্তির ফোটোগ্রাফ, যেখানে তাঁকে হুবহু চেনার উপায় থাকে, তাকে পোর্ট্রেট বলা চলে। কিন্তু অনেক ন্যুড ফটোগ্রাফে ব্যক্তির মুখই দেখা যায় না। ফোটোগ্রাফারেরা অনেক সময় আলোছায়ার চরম ব্যবহার, তৈলাক্ত ত্বক অথবা দেহের গঠন বোঝাতে ছায়ার ব্যবহার করে থাকেন।
প্রথম যুগের ফোটোগ্রাফাররা অনেক সময়ই নারীদের নগ্নতা ফটোগ্রাফিতে ফুটিয়ে তুলতেন। এঁদের মধ্যে ফেলিক্স-জ্যাক মলিন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এডওয়ার্ড ওয়াটসন, রুথ বার্নার্ড ও জেরি অ্যাভেনেইম প্রমুখ ফোটোগ্রাফাররা শিল্পকর্ম হিসবে দেহের রেখা প্রদর্শন করতে পছন্দ করতেন। ইরোটিক ফোটোগ্রাফি ও পর্নোগ্রাফিতেও অনেক সময় নগ্ন বা অর্ধনগ্ন মডেলদের শৈল্পিক চিত্র বিস্তৃত হয়ে থাকে। স্পেনসার টিউনিক নির্মিত সারা বিশ্বের নানা প্রকাশ্য স্থানে এক দঙ্গল নগ্ন লোকের স্থিতিস্থাপক ফটোগ্রাফি উচ্চ মানের শিল্পমেধার জন্য নন্দিত।
তথাকথিত সভ্য মানুষ ছাড়া পৃথিবীর সব প্রাণীই নন বিচরণ করে। তবে মানুষও সৃষ্টির শুরু থেকে আর পাঁচটা প্রাণীর মতো নগ্নভাবে বিচরণ করত। লজ্জার নিবারণের জন্য নয়, মানুষ শরীর ঢাকতে শুরু করেছিল নানা প্রাকৃতিক কারণে। চরম প্রতিকূল আবহাওয়া থেকে বাঁচতেই মানুষ শরীর ঢাকতে থাকে। পরবর্তী সময়ে পোশাকে বৈচিত্র্য আনা হয় শরীরকে সাজাতে। মানুষ যখন নগ্ন ছিল তখন শরীর নিয়ে এমন অদম্য কৌতূহল ছিল না। কৌতূহল ছিল না বলে শরীরের ভাঁজ-বিভঙ্গ দেখার জন্য অস্থিরতাও ছিল না। সারা পৃথিবী জুড়ে অসংখ্য ‘আনসিভিলাইজড’ ও ‘আনকনটাকটেড’ নরনারী গোষ্ঠী আছেন যাঁরা এই একবিংশ শতাব্দীতে আজও কেউ সম্পূর্ণ নগ্ন, কেউ-বা প্রায়-নগ্ন জীবনযাপন করেন। তথাকথিত সভ্য দুনিয়ার সঙ্গে তাঁদের কোনো সম্পর্ক নেই। যেমন– ভারতের ‘জাড়োয়া উপজাতি, ঘানার ‘ক্রোবো’ উপজাতি ইত্যাদি। নিউ গিনির পাপুয়ার এক উপজাতি গোষ্ঠীর কম বয়সি মেয়েরা উদ্ধাঙ্গ অনাবৃত করে পুরুষ-সঙ্গীদের সঙ্গে দেখা করতে যান। অপরদিকে সভ্য দুনিয়ার যেসব নরনারী বিভিন্ন দেশে ন্যুডিস্ট জোনে সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে বিচরণ করেন। তাঁদের মধ্যে শরীর নিয়ে ন্যূনতম আঁতলেমি নেই। তাঁরা অবলীলায় ভাবলেশহীনভাবে নগ্ন হয়ে ঘোরাফেরা করেন। শুয়ে থাকেন যেমন খুশি, বসে থাকেন যেমন খুশি। আট থেকে আশি– সব বয়সের নরনারী একত্রে নগ্ন হয়ে থাকেন। কারোকে নগ্ন অবস্থায় দেখে কারোর উত্তেজনা হয় না। কেউ কারোর দিকে ঘুরেও দেখে না। জাপানের বহুল আলোচিত লিঙ্গ-উৎসব প্রতিবছর এপ্রিলের প্রথম রবিবার জাপানের কাওয়াসাকি অঞ্চলের লোকেরা সাড়ম্বরে পালন করে একটি ধর্ম অনুষ্ঠান যার নাম কানামারা মাৎসুরি (Kanamara Matsuri)। জাপানের কাওয়াসাকির একটি মন্দিরে এটি অনুষ্ঠিত হয়। এই উৎসবটি প্রধানত ধর্ম বিশ্বাসের অনুষ্ঠান, যার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে পুরুষাঙ্গসদৃশ উত্থিত লিঙ্গ।
সমস্যা হয় যেসব দেশে নগ্ন হয়ে বিচরণ করার অনুমতি নেই। যেসব দেশে নগ্ন হওয়া অপরাধ, নগ্নতা অপরাধ। সেখানে নগ্নতার আকর্ষণ অদম্য, অপ্রতিরোধ্য। সেখানে নগ্ন শরীর পুঁজিতে রূপান্তরিত হয়। নগ্ন শরীর প্রদর্শনে মধ্য দিয়ে কোটি কোটি ডলার আমদানি হয়। যদিও প্রকৃতির নিয়মে পৃথিবীতে মানুষ নগ্ন হয়েই আসে। কারণ এক অনিবার্যতায় মানুষ তার জন্মলগ্নের নগ্নতা এড়াতে পারে না। শিশু যতই পরিণত হতে থাকে, নগ্নতাও ততটা ঢাকা পড়ে যেতে থাকে। তবে মানবসমাজ পুরোপুরি নগ্নতামুক্ত নয়। পরিণত বয়সের নগ্নতা প্রদর্শন একদিকে যেমন নেতিবাচক ও নিন্দনীয়, অপরদিকে তেমন আকর্ষণীয় ও ‘লাভজনক’। নগ্নতার প্রতি মানুষের চিরন্তন আগ্রহ ও আকর্ষণের কারণে শোবিজের সঙ্গে এটা যেন বাই ডিফল্ট একটা ব্যাপার। এখানে নগ্নতা শুধু ‘শিল্প’ ই নয়, খুব বড় মাপের বাণিজ্যও বটে। অভিনেত্রী পাউলি দাম সিনেমায় এসে শুধু নগ্ন হয়েই তার দাম অনেক বাড়িয়ে ফেলেছেন কি না বলতে পারব না। ‘টেক ওয়ান’-এ স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে শরীরের সামনের অংশ নির্দ্বিধায় উন্মোচন করেছেন ক্যামেরার সামনে। তবে পাওলি আর স্বস্তিকার নগ্নতা উড়িয়ে নস্যি করে দিয়েছে ঋতুপর্ণা (রি) সেন এবং ইন্দিরা ভার্মারা।
