এরপরও কিন্তু বিতর্ক থামছে না। আদালতের এই রায় মানুষের ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ কি না, আর সেটা হয়ে থাকলে তা কতটুকু নৈতিক, সেই বিতর্ক এখন আবার শুরু হয়েছে। সমস্যাটি নিয়ে চিন্তাভাবনা করছেন জার্মানির নৈতিকতা পরামর্শ কেন্দ্র। এখানকার একমাত্র মুসলিম সদস্য ইলহান ইলিচ এ প্রসঙ্গে বলেছেন– “নৈতিক দিক থেকে আমি মনে করি যে, মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের সবকিছুই আইনগতভাবে পরিচালিত হওয়ার দরকার নেই। তবে এখন বিতর্ক যে পর্যায়ে পৌঁছেছে তাতে আমার সন্দেহ যে আইন–করে বিষয়টির সুরাহা করা আদৌ সম্ভব কি না।”
ভাবা যায়? শুধুমাত্র লিঙ্গকে কেন্দ্র করেই বাঙালি দ্বিখণ্ডিত হয়ে গেল। বাংলা ভাষা দুটি ভিন্ন রূপ পেল– ইসলামাশ্রয়ী মুসলমানি বাংলা আর সংস্কৃতাশ্রয়ী হিন্দু বাংলা। খিলজিরা বাঙালিদের একটি পুরুষাঙ্গের খানিকটা চামড়া কেটে দিয়ে বলল যে তোমরা মুসলমান হয়ে গিয়েছ। তাদের বিশেষ কাজে তেমন। কোনো সমস্যা না-হওয়ায় বাঙালিরা এটাকে কিছু মনে করল না। কার লিঙ্গ ‘কাটা’ আর কারটা ‘আকাটা’ তা তাদের মধ্যে বিশেষ প্রভাব বিস্তার করতে পারল না। “সুন্নতে খতনা’ নামক এ কাজটির মাধ্যমে বাঙালিদের আর-একটি পরিচয় হল বটে, কিন্তু বাঙালি বুঝতে পারল না যে তারা দু-ভাগে বিভক্ত হয়েছে। এরপর ইংরেজ শাসকরা বুঝতে পারল এই ‘কাটা’ আর ‘আকাটা’-দের মধ্যে বিভাজন তৈরি করতে পারলেই তাদের ঔপনিবেশিক শাসন অনেক সহজ হয়। জনশ্রুতি আছে, ইংরেজরা একদিন দু-দলকে ডেকে ন্যাংটো করে সামনাসামনি দাঁড় করাল। তারপর দেখাল যে “তোমাদের দু-দলের লিঙ্গ একরকম নয়, তোমাদের একদলেরটা কাটা’ এবং অন্য দলেরটা ‘আকাটা। সুতরাং, তোমরা কখনোই এক নও”। তারপর ‘আকাটা’ দলের লিঙ্গে কিছু বিছুটি পাতার গুড়ো দেওয়া হল এবং ‘কাটা’-দের লিঙ্গে মেখে দেওয়া হল কিছু মরিচের গুড়ো। তারপর তাদের জিজ্ঞেস করা হল, “তোমাদের কেমন অনুভূত হচ্ছে?” একদল বলল চুলকানির কথা, অন্য দল বলল জ্বলুনি-পুড়নির কথা। তারপর তাদের বোঝানো হল, “দেখো, তোমাদের চুলকায় আর ওদের জ্বলে পুড়ে যায়। তার মানে এখানেও তোমরা ভিন্ন”। এবার ইংরেজরা ‘কাটা’-দেরকে বোঝাল যে তোমাদের দেশটারও ‘সুন্নতে খতনা করা দরকার। ১৯০৫ সালে ‘বাঙালিত্ব’-এর সুন্নতে খতনা করা হল। একেবারে মাঝখান থেকে কেটে। গোড়ার অংশটা পশ্চিমবঙ্গ, আগার অংশটা পূর্ববঙ্গ। তবে ১৯১১ সালেই কিছু বিশেষজ্ঞ সার্জন (কার্জন?) দ্বিখণ্ডিত বাঙালিত্বকে আবার সেলাই করে জুড়ে দিলেন। তবে বাঙালি এবার দু-ভাগে বিভক্ত হয়ে গেল। বাঙালি হিন্দু ও বাঙালি মুসলমান। ১৯৪৭ সালে এসে বাঙালিত্বকে দ্বিখণ্ডিত করে পুনরায় সুন্নতে খতনা করা হল। চেষ্টা করা হল বাঙালির সঙ্গে একেবারেই জাত-গোষ্টি-সমাজ সংস্কৃতিতে ভিন্ন আর-একজন ‘কাটা’-র সঙ্গে জুড়ে দিতে। যেহেতু ভিন্ন জাত গোষ্ঠীর অঙ্গটি বাঙালিদের মতো অর্ধেক কাটা ছিল না, তাই ওটাকে সেলাই করে সংযুক্ত করে দেয়া গেল না; কোনোরকমে সুতো দিয়ে বেঁধে ঝুলিয়ে রাখা হল। বাঙালির প্রাণের ধর্ম ‘বাঙালিত্ব’ এবার আর-একজনের কাটা অঙ্গের সঙ্গে ঝুলে রইল। পাকিস্তানিরা এবার ঝুলে থাকা অর্ধেক বাঙালিত্বর পুনরায় সুন্নতে খতনা করার প্রস্তুতি নিল। বাংলা ভাষাকে বিলুপ্ত করে দিয়ে বাঙালি মুসলমানদের খাঁটি মুসলমান বানানোর পায়তারা করল। সে তো আর-এক গল্প!
রক্তমাংসের লিঙ্গের তো অনেকটা করা গেল, কিন্তু কৃত্রিম লিঙ্গের আলোচনা না করলে এ প্রবন্ধ অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। কৃত্রিম লিঙ্গ বা ডিলডো পুংজননেন্দ্রিয় সদৃশ এক ধরনের যৌনখেলনা। বিশেষ করে হস্তমৈথুনের বা এধরনের বিকল্প রতিক্রীড়ার সময় অথবা সঙ্গীর সাথে যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়ার সময় শারীরিক অনুপ্রবেশের উদ্দেশ্যে কৃত্রিম লিঙ্গ ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কৃত্রিম লিঙ্গ আকৃতি আকার এবং সামগ্রিক চেহারার দিক দিয়ে দেখতে উলম্ব বা উত্থিত পুরুষ শিশ্নের মতো। এর প্রসারিত বর্ণনা সংযুক্ত রয়েছে ভাইব্রেটর সামগ্রীতে। এই ধরনের লিঙ্গাকৃতির সরঞ্জাম যোনিপথে অনুপ্রবেশের জন্যে ব্যবহৃত হয়, যা মানসিকভাবে পুরুষ-লিঙ্গের মতো ব্যবহার করা যায়। যে সমস্ত পুরুষ ও মহিলারা অ্যানাল সেক্স পছন্দ করেন তাঁরা অনেকে পায়ূপথে অনুপ্রবেশের জন্যেও এটা ব্যবহার করে থাকে। কৃত্রিম লিঙ্গ সব লিঙ্গের মানুষের দ্বারা ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এটা মূলত হস্তমৈথুন এবং অন্যান্য যৌন কার্যকলাপের নিরাপদ বিকল্প উপায়মাত্র। কৃত্রিম লিঙ্গের বস্তুকাম মূল্য আছে। তবে কিছু ব্যবহারকারী অন্য উপায়েও এটি ব্যবহার করে থাকেন। উদাহরণস্বরূপ পূর্বরাগের সময় চামড়ার উপর চালনা করা। উপযুক্ত আকারের হলে, কৃত্রিম মুখমেহনের জন্য মৌখিক অনুপ্রবেশ কাজেও এর ব্যবহার হয়ে থাকে। কোনো কোনো ব্যক্তি কৃত্রিম লিঙ্গ বিশেষভাবে জি-স্পট উদ্দীপিত করার কাজে ব্যবহার করে।
কৃত্রিম লিঙ্গ বস্তুত ফাঁপা ধরনের। পুরুষ তার লিঙ্গ এই কৃত্রিম লিঙ্গের ভিতর পুরে নিয়ে নারীর সঙ্গে সঙ্গমে রত হতে পারে। যে সকল পুরুষের লিঙ্গোত্থান সমস্যা আছে তারা এই খেলনা ব্যবহার করে থাকে। এই ডিলডো নামক যন্ত্রটি কোমরে শক্ত করে বাঁধার জন্য চামড়ার স্ট্যাপ থাকে যার কারণে এর নাম স্ট্র্যাপ অন ডিলডো। অন্যদিকে নারী সমকামীরা যোনিভেদের আনন্দ লাভের উদ্দেশ্যে ‘স্ট্র্যাপ-অন ডিলডো’ পরে নিয়ে একজন আরেকজনকে তৃপ্ত করতে পারে। পায়ুপথে ঢোকানো এবং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কৃত্রিম শিশ্নের অবস্থান করাকে বাট প্লাগ বলা হয়। কৃত্রিম শিশ্নে পায়ুপথে অনুপ্রবেশের পুনরাবৃত্তি অথবা দ্রুতলয়ে খোঁচানোর জন্য ব্যবহৃত।
