ভারতে কিছু বিচার ব্যবস্থায় কৃত্রিম লিঙ্গের বাজারজাতকরণ এবং বিক্রয় অবৈধ। এখন পর্যন্ত দক্ষিণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনেক স্থানে এবং গ্রেট প্লেইন্সের কিছু স্থানে ‘অশ্লীল সরঞ্জাম’ আইনে কৃত্রিম লিঙ্গ বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ২০০৭ সালে, ফেডারেল আপিল কোর্ট যৌনখেলনা বিক্রি নিষিদ্ধে আলাবামার আইন সমর্থন করে। ১৯৩৮ সালের অশ্লীলতা-বিরোধী আইনে প্রয়োগ (Anti obscenity Enforcement Act) বহাল রাখে ২০০৯ সালের ১১ সেপ্টেম্বর।
কৃত্রিম লিঙ্গ গ্রিক দানি শিল্পে দেখা যেতে পারে। খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীতে, এধরনের দানি শিল্পে একটি দৃশ্য রচিত আছে যেখানে মৌখিক যৌনকর্মে লিপ্ত একজন মহিলা একজন পুরুষের উপর ঝুঁকে আছে এবং অন্য একজন পুরুষ তার পায়ুপথে কৃত্রিম লিঙ্গ প্রবেশের চেষ্টা করছে। ৪১১ খ্রিস্টপূর্বের ‘অ্যারিস্টোফেনিস’ কমেডিতে তরা বহুবার উল্লেখিত, লাইসিসট্রাটা (LYSISTRATA)। সাধারণত কৃত্রিম লিঙ্গ বিভিন্ন আকার-আকৃতির পুরুষ লিঙ্গের বা পুংজনেন্দ্রীয় আকৃতিরও হয়ে থাকে। বর্তমানে নিখুঁতভাবে পুরুষ শারীরস্থান পুনর্গঠন করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ঢঙের এবং আকারের কৃত্রিম শিশ্ন তৈরি হয়ে থাকে। জাপানে প্রাণী অনুরূপ এবং কার্টুন অনুরূপ কৃত্রিম শিশ্ন তৈরি হয়ে থাকে। যেমন হ্যালো কিটি। এটা মূলত খেলনা হিসাবেই বিক্রি হয়ে থাকে। ফলে অশ্লীলতা আইন থেকে বিরত থাকা যায়।
জাপানের কাওয়াসাকি অঞ্চলের শিন্ট ধর্মাবলম্বী লোকেরা প্রতি বছর এপ্রিলের প্রথম রবিবার সাড়ম্বরে পালন করে একটি ধর্মানুষ্ঠান, যার নাম কানামারা মাৎসুরি (Kanamara Matsuri)। জাপানের কাওয়াসাকির একটি মন্দিরে এটি অনুষ্ঠিত হয়। এই উৎসবটি প্রধানত ধর্ম বিশ্বাসের অনুষ্ঠান যার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে পুরুষের বংশদণ্ডের মতো উত্থিত লিঙ্গ। পৃথিবী ব্যাপী এটি লিঙ্গ উৎসব (Penis Festival) নামে পরিচিত। পেনিস ফেস্টিভাল অনুষ্ঠিত হয় জাপানের কাওয়াসাকির কানাইয়ামা মন্দিরে, যা ইতিমধ্যেই পেনিস মন্দির হিসাবে পরিচিত হয়ে গেছে। এই মন্দিরের বয়স ৭০০ বছরেরও বেশি। মন্দিরে একসময় যৌনকাজ করা মেয়েরা আসতো প্রার্থনার জন্য, যাতে এসটিডি (Sexually Transmitted Diseases) থেকে মুক্ত থাকতে পারে, এরপর উৎপাদনে (বাচ্চা), এমনকি শস্য উৎপাদনের জন্য এই মন্দিরে ভক্তরা প্রার্থনার জন্য আসেন। ধারণা করা হয়, খ্রিস্টীয় সপ্তদশ শতকে প্রথম প্রচলন হয় এই বিচিত্র উৎসবের। যখন স্থানীয় বারবনিতারা বসন্তের শেষে বিশাল অগ্ৰত্বকহীন। পুরুষাঙ্গের রেপ্লিকা নিয়ে মিছিল করে যেত কাওয়াসাকি কানামারা মঠে প্রার্থনা করতে। যেন তারা সারাবছর যে কোনো ধরনের যৌন সংক্রমণ বা রোগ থেকে বাঁচতে পারে।
মূলত এটি একটি শিন্ট ধর্মীয় উৎসব, যার মাধ্যমে প্রজনন শক্তি বৃদ্ধির জন্য বন্দনা করা হয়। জানা যায়, ১৬০৩ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৮৬৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত যৌনব্যাধি বিশেষ করে সিফিলিস থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ঘটা করে এই মেলা উদযাপন করত বারবনিতারা। বর্তমানে এটি পালিত হয় নিরাপদ যৌনতা, এইডস সংক্রমণ রোধ ও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সচেতনতার অংশ হিসাবে উৎসবে হাজার হাজার লোক জড়ো হন। সব থেকে আকর্ষণীয় বিষয় হচ্ছে লিঙ্গ রেলি। মন্দিরের কাঠের লিঙ্গটি নিয়ে রেলিতে বের হন ভক্তরা। সঙ্গে থাকে আরো বড়ো বড়ো লিঙ্গ এবং সবার হাতে হাতে পুরুষদের অবিকল লিঙ্গ সদৃশ খেলনা বা বস্তু। ফেস্টিভালের সময়ে প্রায় নগ্ন মেয়েরা সেখানে লিঙ্গ আকৃতির বিভিন্ন আইসক্রিম, ফাস্টফুড, খেলনা বিক্রি হয়, কেউ ইচ্ছে করে সেগুলো কিনে খেতে পারে, লিঙ্গের উপর বসতে পারে, লিঙ্গের সঙ্গে ছবি উঠতে পারে, লিঙ্গের মাথায় চুমুও খেতে পারে। সাধারণত মেয়েরা আবার এসব ব্যাপার খুবই আগ্রহী হয়ে থাকে। রাস্তায় রাস্তায় ছোটো থেকে বড়ো সবাইকে দেখা যায় পুরুষাঙ্গের আদলে তৈরি চকলেট আর আইসক্রিম চুষতে। অনেককেই ছবির জন্য পোজ দিতে দেখা যায় বিশালাকৃতির পুরুষাঙ্গের পাশে। মাথায় পেনিস সদৃশ টুপি পরিধান করে নাচগান করেন অনেকেই। ৬ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে এই উৎসব চলে টানা ৭ এপ্রিল রাত পর্যন্ত। বর্তমানে প্রচণ্ড জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। মেলাটি। শুধু জাপান নয়, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেও আলোচিত হচ্ছে কানামারা মাৎসুরি। ২০১৫ খ্রিস্টাব্দে ৫ এপ্রিল উৎসবটি আবার পালিত হবে। এ ফেস্টিভালে আয় হওয়া টাকা এইডস গবেষণার কাজে দান করা হয়, যেহেতু এককালে এখানে যৌনকর্মীরা আসতেন, এসটিডি যাতে না হয় সেই প্রার্থনার জন্য।
জাপানের সংস্কৃতি চর্চায় রক্ষণশীলতা প্রচণ্ড। পাশাপাশি আছে অবারিত উন্মোচন। পেনিস ফেস্টিভাল বা লিঙ্গ উৎসব এই রকম অবারিত উন্মোচনেরই একটি অন্যতম উদাহরণ।
লিঙ্গ নামক বিষয়টা নিয়ে যখন এত কথা হলই, তখন বিখ্যাত লিঙ্গটি বাদ গেলে হবে কেন! হ্যাঁ, শিবলিঙ্গের কথাই বলছি। “লীনং বা গচ্ছতি, লয়ং বা গচ্ছতি ইতি লিঙ্গম্” যা লয়প্রাপ্ত হয় তাই লিঙ্গ। আবার কারও মতে সর্বস্তু যে আধারে লয়প্রাপ্ত হয় তাই লিঙ্গম। কিন্তু বৈয়াকরণিকগণের মতে “লিঙ্গতে চিহ্নতে মনেনেতি লিঙ্গম্”। লিঙ্গ শব্দের অর্থ ‘প্রতীক’ বা ‘চিহ্ন’। যার দ্বারা বস্তু চিহ্নিত হয়, সত্য পরিচয় ঘটে তাই-ই লিঙ্গ। অর্থাৎ যার দ্বারা সত্যবিজ্ঞান লাভ হয়, যার সাহায্যে বস্তুর পরিচয় পাওয়া যায় তাকেই বস্তু পরিচয়ের চিহ্ন বা লিঙ্গ বলে। আর এজন্যই দেহ প্রকৃতিতে লীনভাবে অবস্থান করে বলেই চি জ্যোতিকে বলা হয় লিঙ্গ। ভূমা ব্রহ্মের গুহ্য নাম ‘শিব’ এবং ভূমা ব্রহ্মের পরিচায়ক বলে আত্মজ্যোতির উদ্ভাসনের নাম শিবলিঙ্গ। প্রলয়ের কারণ বলে লোকে মহাদেবকে লিঙ্গ বলে। এই লিঙ্গ ব্রহ্মের পরম শরীর। আর এ জন্যই ত্রেতাযুগে রাবণ বধে যাত্রার সময় সেতুবন্ধে শ্রীরামচন্দ্র রামেশ্বরে শিবের পুজো করেন। আবার পরশুরামও পশুপতি শিবের তপস্যা করেই পশুপাত অস্ত্র লাভ করেন। দ্বাপরযুগে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাঁর স্ত্রী জাম্ববতীসহ উপমন্যু মুনির আশ্রমে গমন করেন এবং তথায় দেবতা, ঋষি ও পিতৃগণের তর্পণান্তে অমিত মহাদেবের লিঙ্গমূর্তিতে পুজো করেন। আবার শ্রীকৃষ্ণ মার্কণ্ডেয় মুনির আশ্রমে গিয়ে ভুতিভূষণ শিবের পুজো করেছিলেন।
