সোনালী দরজার পাল্লার ঠিক মুখেই অপেক্ষমান মহিলা পরিচারিকাকে মেহেরুন্নিসা জীবনে কখনও দেখেনি, কিন্তু এ বিষয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই যে খোঁজা আর মেয়েটা পরস্পর পরস্পরের পরিচিত। খোঁজাটা মাথা নত করে, বলে, মহামান্য সম্রাটের আদেশ অনুসারে আমি মেহেরুন্নিসাকে নিয়ে এসেছি।’
‘খালেদ আপনাকে ধন্যবাদ, ভেতরে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটা উত্তর দেয় এবং তারপরে, তার সঙ্গে আসা খোঁজাটা বের হয়ে যায় এবং প্রহরীরা সোনালী পাল্লা দুটো বাইরে থেকে টেনে তার পেছনে সেটা বন্দ করে দেয়, মেয়েটা এবার মেহেরুন্নিসার হাত আঁকড়ে ধরে। আমার নাম আশা, আমি মহামান্য সম্রাটের বামা দেহরক্ষীবাহিনীর প্রধান এবং এটা আমার দায়িত্ব যে রাজকীয় শয়নকক্ষে গমনকারী সব রমণী যে নিরস্ত্র সেটা নিশ্চিত করা। অনুগ্রহ করে আপনি হাত তুলে দাঁড়ান। মেয়েটা এবার দ্রুত কিন্তু পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মেহেরুন্নিসার দেহ তল্লাশি করে। বেশ। আমার সাথে এসো।’
মেহেরুন্নিসা আশাকে অনুসরণ করে লম্বা কক্ষটার দূরতম প্রান্তের দিকে এগিয়ে যাবার সময়, বেদীটার পাশ দিয়ে হেঁটে যায় যেখানে জাহাঙ্গীর তার ভাইয়ের বিচারের সময় উপবেশন করেছিল এবং বেদীটা থেকে প্রায় পনের ফিট পেছনে একটা পর্দা দ্বারা আড়াল করা একটা দরজার নিচে দিয়ে বের হয়ে আসে। দরজাটা তাঁদের বেশ প্রশস্ত একটা করিডোরে পৌঁছে দেয় যার শেষ প্রান্তে অবস্থিত একটা ছোট বর্গাকার দরজার কাছে যাবার রাস্তাটা আরো রাজপুত সৈন্য পাহারা দিচ্ছে। মেহেরুন্নিসা তাঁর নেকাবের ভেতর থেকেও দরজায় বসান পাথর থেকে বিচ্ছুরিত হওয়া আগ্নেয় আলোর আভা স্পষ্ট দেখতে পায়। আশা দরজার সামনে এসে দাঁড়িয়ে প্রহরীদের উদ্দেশ্যে কথা বলে। এই রমণীকে সম্রাটের মনোরঞ্জনের জন্য পাঠান হয়েছে। দরজা খুলে দাও।’ রাজপুত প্রহরীর দল বিনা বাক্য ব্যয়ে আদেশ পালন করে। মেহেরুন্নিসা অনুভব করে আশা তার পিঠের মাঝে আলতো করে হাত রেখে তাকে সামনের দিকে অন্ধকারাচ্ছন্ন কক্ষের মাঝে তাকে পথ দেখায়।
দরজার পাল্লাগুলো তার পেছনে বন্ধ হতে, মেহেরুন্নিসা দাঁড়িয়ে পড়ে। জাহাঙ্গীর মাত্র কয়েক ফিট দূরে দাঁড়িয়ে রয়েছে তার পরনের ব্রোকেডের আলখাল্লাটা গলার কাছে রুবির একটা বকলেশ দিয়ে আটকানো, তাঁর কালো চুল কাঁধের উপর ছড়িয়ে রয়েছে।
‘সম্রাট, আপনি আমাকে ডেকে পাঠিয়েছেন। তাদের শেষবার দেখা হবার সময় সে যে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে এত কষ্ট করেছিল দেখা যায় এই দফা তাকে পরিত্যাগ করেছে এবং সে নিজের কণ্ঠস্বরে মৃদু একটা কম্পন টের পায়।
জাহাঙ্গীর আরো কাছে এগিয়ে আসে। তোমার নেকাবটা খুলে রাখো। সে ধীরে ধীরে হাত তুলে রেশমের চুমকি শোভিত টুকরোটা টেনে ছিঁড়ে ফেলে এবং সেটাকে ভাসতে ভাসতে মাটিতে পড়তে দেয়। মেহেরুন্নিসা, আমি দীর্ঘসময় আপনার জন্য অপেক্ষা করেছিলাম। আমি আজ রাতটা আপনার সাথে অতিবাহিত করতে চাই, কিন্তু তার আগে আমাকে জানতে হবে আপনি কি আমার সাথে রাত কাটাতে আগ্রহী?
‘জাঁহাপনা, আমি আগ্রহী, সে নিজেই কথাগুলো বলছে টের পায়।
‘আসুন তাহলে।’ সে ঘুরে দাঁড়িয়ে ফুলের নক্সা তোলা রেশমের চাদর দিয়ে আবৃত বিশাল একটা নিচু বিছানার দিকে এগিয়ে, কিন্তু বিছানায় কোনো বালিশ বা কোনো তাকিয়া কিছুই নেই। বিছানার দুই পাশে রূপার মোমদানিতে জ্বলন্ত লম্বা মোমবাতি বিছানার মসৃণ উপরিভাগে ছায়া ফেলেছে। জাহাঙ্গীর নিজের আলখাল্লাটা খুলে ফেলে এবং অবহেলা ভরে সেটাকে মাটিতে ফেলে দেয়। মৃদু আলোতে তাঁর তৈলাক্ত, পেষল দেহ চিকচিক করে। মেহেরুন্নিসা যখন ধীরে ধীরে নিজের বসন ত্যাগ করে আপন নগ্নতা প্রতিভাত করতে তখন সে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখে। তিনি যদি জোর করে তাকে নিজের বাহুর ভেতর টেনে আনতেন তাঁর স্বামী শের আফগান মেসটা করতে পছন্দ করতো তারচেয়ে তার দেহের প্রতিটা বাঁক, প্রতিটা ফাটল চোখে পড়তে জাহাঙ্গীরের চোখে ফুটে উঠা চাঞ্চল্য অনেকবেশি উত্তেজক। অচিরেই যা ঘটতে চলেছে সেটা একটা দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কে সূচনা করবে নাকি তাঁদের জীবনের কেবলই স্বল্পকালস্থায়ী একটা অধ্যায় মেহেরুন্নিসার নিজের ভেতরে উপচে উঠা শারীরিক চাহিদার তুলনায় সহসাই গুরুত্বহীন হয়ে উঠে। সে এতদিন বিশ্বাস করে এসেছে যে মন দেহকে নিয়ন্ত্রণ করে কিন্তু এখন সে বুঝতে পারে ব্যাপারটা সবক্ষেত্রে সত্যি নয়।
জাহাঙ্গীর কিছু বলবে সেজন্য অপেক্ষা না করে সে নিজেই ধীরে ধীরে তাঁর দিকে এগিয়ে যায় এবং নিজের হাত উঁচু করে সে নিজের সুরভিত দেহ দিয়ে তাঁর দেহকে প্রবলভাবে আঁকড়ে ধরে। সে অনুভব করে তাঁর স্তনবৃন্ত জাহাঙ্গীরের বুকের কাছে শক্ত হয়ে উঠেছে এবং তার কামোত্তেজনাও কম প্রবল নয়। সে দু’হাতে তাঁর নিতম্ব আঁকড়ে ধরতে সে সহজাত প্রবৃত্তির কারণে সাথে সাথে বুঝতে পারে সে তার কাছে কি চাইছে। সে তার কাঁধ শক্ত করে আঁকড়ে ধরে, সে দু’পায়ে তার কোমর সাপের মত পেঁচিয়ে ধরে। জাহাঙ্গীর তার ওজন সামলাতে গিয়ে আরও জোরে তার নিতম্ব চেপে ধরে এবং নিজের ভেতর সম্রাটের প্রবল উপস্থিতি অনুভব করে সে কেঁপে উঠে এবং চাপানউতোর শুরু হয়। সে যতই তার গভীর থেকে গভীরতর অংশে প্রবিষ্ট হয় ততই তাঁর পিঠ ধনুকের মত বেঁকে যায় আর শীৎকার শুরু করে, তার নখ জাহাঙ্গীরের ত্বক খামচে ধরে তাকে আরো প্রবল হতে উৎসাহিত করে।
