আচ্ছা, তোমার ভাইটিকে দেখছি না যে? বাড়ি নেই? জিজ্ঞেস করল পল কেড্রিক।
সতর্ক দৃষ্টিতে ওর দিকে তাকাল স্যু লেইন। ওর সঙ্গে দেখা করার কিংবা কথা বলার দরকার নেই তোমার। তুমি এবার যাও।
কিন্তু, আমি সত্যিই পিটের সঙ্গে আলাপ করতে চাই, সু। ছেলেটার কথা অনেক শুনেছি, পরিচিত হতে ইচ্ছে করছে।
তুমি যাও, সতর্ক করে দিল স্যু লেইন। একটু পরেই, পিট ফিরে আসবে, ইয়েলো বাটের লোকজনও থাকবে ওর সঙ্গে!
তার মানে ও নেই? তা হলে বাইরে ঘোড়াটা কার? ওই গুলা মাস্ট্যাংটার কথা বলছি।
চোখের পলকে বদলে গেল স্যু লেইনের চেহারা, মাথা নাড়ল। আমাকে মিথ্যেবাদী ভাবতে পারো, কিন্তু সত্যি বলছি, জানি না। ওটার আরোহীকে আমি কখনও দেখি নি।
স্যু লেইনের চোখের দিকে তাকাল পল কেড্রিক। মেয়েটা বোধ হয় সত্যি কথাই বলছে। দৃষ্টি দেখে মনে হচ্ছে একটু যেন ভয় পেয়েছে সে। ঘোড়াটা একজন বেঁধে রেখে গেল আর তাকে দেখলে না?
ঠিক। পিট বেরিয়ে যাবার খানিক পর জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে দেখি ঠিক ওইখানে দাঁড়িয়ে আছে ঘোড়াটা। এবারই কিন্তু প্রথম নয়। আগেও দুবার এখানে এসেছে ওটা। কোনওবারই পিট ঘরে ছিল না। এখানে আরও অনেকে দেখেছে ওই ঘোড়া। ঘরে পুরুষ মানুষ না থাকলেই কেবল ওকে দেখা যায়। মিসেস বার্ট উইলিয়ামস বলেছে একদিন প্রায় তিন ঘণ্টা ওদের করালে ছিল গ্রাটা।
ঘোড়াটা ফেরত নেবার সময়ও কেউ দেখে নি মালিককে? তা কী করে হয়?
অথচ তা-ই হচ্ছে। এখন যেমন দাঁড়িয়ে আছে, তেমনি দাঁড়িয়ে-ইয়াল্লা, ওটা চলে গেছে!
চমকে উঠে দাঁড়াল পল কেড্রিক, দরজা দিয়ে বাইরে তাকাল। স্যু লেইনের কথা সত্যি প্রমাণ করে বাতাসে মিলিয়ে গেছে ইঁদুর-রঙা ঘোড়াটা। ওর অ্যাপলুসা আগের মতোই, ঠায় দাঁড়িয়ে আছে, এটা নেই।
উঠোনে এসে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে চারদিকে তাকাল ক্যাপ্টেন পল কেড্রিক। কিন্তু সমভূমি বা পাহাড়ের গায়ে কোনওরকম নড়াচড়া চোখে পড়ল না। সত্যি মিলিয়ে গেছে ঘোড়াটা স্যুর দিকে ফিরল ও, হতভম্ব চেহারায় দাঁড়িয়ে আছে মেয়েটা। অ্যাপলুসার দিকে পা বাড়াল পল। স্যাডলের সঙ্গে পিন দিয়ে একটা কাগজ সাটা রয়েছে। খুলে নিয়ে পড়ল ও। কাছে এসে দাঁড়াল স্যু লেইন, কাগজটা তার হাতে তুলে দিল।
দূরে থাকো!
কাঁধ ঝাঁকাল কেড্রিক। তোমার ভাইয়ের কাজ?
না! ঘোড়ার কথা আমার কাছেই শুনেছে ও, আমার চেয়ে বেশি কিছু জানে। তা ছাড়া, এটা ওর লেখা নয়, পিট লেখাপড়া জানে না, লিখবে কীভাবে?
ম্যালপাই ক্যানিয়ন থেকে বেরিয়ে আসার পরেও অনেকক্ষণ অদ্ভুত ঘোড়াটা নিয়ে মাথা ঘামাল পল কেড্রিক। কেউ একজন পরিকল্পিতভাবে স্কোয়াটারদের বিভ্রান্তিতে ফেলে আতঙ্কিত করে তোলার চেষ্টা করছে। কোম্পানির এমন কিছু করার কথা নয়; এমন, কেউ করছে কাজটা যার হাতে অপচয় করার মতো অঢেল সময় আছে।
উত্তরে ব্লু হিলের উদ্দেশে ঘোড়া ঘুরিয়ে এগোল কেড্রিক, তারপর পুবে বাঁক নিয়ে ওল্ড মরমন ট্রেইল পেছনে ফেলে রিম ঘেঁষে এগিয়ে চলল।
চারদিকে ঘাসে ছাওয়া ময়দান। যেদিকে তাকাও, ঘাস আর ঘাস এরকম জায়গায় নির্ঝঞ্ঝাটে বড়সড় একটা গরুর পাল চরানো সম্ভব-সবুজ সতেজ ঘাস খেয়ে অল্পদিনেই তাগড়া হয়ে উঠবে ওগুলো। রিম, আছে বলে গরু সামলানোর কাজ অনেক সহজ হয়ে যাবে। রিমই প্রাকৃতিক বেড়ার কাজ করবে, গরু, বাছুর হারিয়ে যাবার আশঙ্কা থাকবে না।
সল্ট ক্রিক লেকে পৌঁছে ক্রিক ধরে নদীর এদিকে এগোল কেড্রিক, কিছুক্ষণ পর আবার পুবে বাঁক নিল, চিমনি রকে এসে ওটাকে পেছনে ফেলে দক্ষিণ-পুবে হগব্যাক ট্রেইল পর্যন্ত একনাগাড়ে ঘোড়া হাঁকিয়ে চলল; তারপর রিজ পেরিয়ে মাস্ট্যাংয়ের উদ্দেশে পুব দিকে পূর্ণ গতিতে ছুটল।
বরাবরের মতো সতর্ক সজাগ দৃষ্টি ওর। কখনও কখনও হয়তো নিংর, কঠিন, তবু এদেশকে ভালোবাসে ও এখানকার নীল-আকাশ আর পাহাড়-পর্ত, দূরান্তের কুয়াশা; এদেশের সকাল-সন্ধ্যার মায়াবী পরিবেশ, সবুজ ঝোঁপঝাড় আর রক্তের মতো লাল চুনাপাথরের টিলা-সবই ওর ভালোবাসার সম্পদ।
কিছুতেই মনস্থির করতে পারছে না পল কেড্রিক। গুন্টারের কাছে ওর দেনা সিন্দাবাদের বুড়োর মতো ঘাড়ে চেপে আছে; তা ছাড়া আরও কিছু ব্যাপার রয়েছে। ঝামেলায় জড়াতে চায় না ও, কিন্তু এখন কাজ ছাড়তে গেলে ঝামেলা হবে এবং তারপর এখানে থাকলে আরও মুশকিল; অথচ সেরকমই ওর ইচ্ছে। কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা করে চাকরিটা ছেড়ে দেয়ার চেষ্টা করা। যায়, কিন্তু তাতে লাভ হবে না, জানা কথা।
কিন্তু এখানে সামান্থা ফক্সের ভূমিকা কী? ও যা ভাবছে, তার চেয়েও গম্ভীরভাবে জড়িয়ে আছে? নাকি ব্যাপারটা খুবই সাধারণ: শুধু ওর টাকাটা মামা ব্যবসায় খাটিয়েছে? তেমন হলে এই অবস্থায় সুযোগ পেলেও সরে দাড়ানো অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে।
বারউইক এখনও দুর্বোধ্য রয়ে গেছে ওর কাছে। লোকটার নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা অসীম। কিন্তু ওই ক্ষমতার উৎস কোথায় বোঝার উপায় নেই। দেখলে একেবারে সাধারণ মনে হলেও এটা তার আসল চেহারা নয়। পরিষ্কার বোঝা যায়, কীথ বা গুন্টার তাকে সমীহ করে চলে।
স্যু, লেইনের সঙ্গে কথা বলার সময় ইয়েলো বাট মেসার কাছে ওর আত্মগোপনের জায়গার কথা এড়িয়ে গেছে কেড্রিক। মেয়েটা এমনিতেই এমন কিছু কথা জেনে গেছে, যা বিপদ ডেকে আনতে পারে। তা ছাড়া, জায়গাটা যে, কোনও সময় আবার কাজে লাগতে পারে। সুতরাং ওটার কথা গোপন রাখাই ভালো।
