ব্যাস্! আর বলতে হলো না। নিশ্চয়ই তিনি বেশি আয় করেন এবং আমাকে সেটা বলতেও চাইলেন। তবে দুঃখের কথা তার স্বামীর মোটা মাথায় তা ঢোকে না।
তিনি আমাদের তার মুরগীর খোঁয়াড়ে নিয়ে গেলেন। পরীক্ষা করে দেখতে পেলাম মহিলা নানা ধরনের সব ব্যবস্থা গড়েছেন। আমি সে সব দেখে খুব প্রশংসা করতে লাগলাম বেশ আন্তরিকভাবে। আমি কিছু খাবার আর তাপের উপদেশও দিলাম এবং মহিলাকে জিজ্ঞেস করলাম কিছু বিষয়। অচিরেই বেশ আলাপ জমে উঠলো।
কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি মন্তব্য করলেন, তার কিছু প্রতিবেশী বিদ্যুতের আলো মুরগীর খাঁচায় ব্যবহার করে বেশ সুফল পেয়েছেন। তিনি আমার কাছে আন্তরিকভাবে জানতে চাইলেন এটা তিনি ব্যবহার করবেন কিনা …।
দু সপ্তাহ পরে মিসেস ড্রাকেডের মুরগির খোঁয়াড়ে মুরগিগুলো আনন্দে কঁকর কে করে চলেছিলো। আমিও অর্ডার পাই আর তিনিও বেশ ডিম পেতে থাকেন। প্রত্যেকেই সুখী, প্রত্যেকেরই লাভ হয়েছে।
কিন্তু কাহিনীটির উদ্দেশ্য হলো–ভদ্রমহিলাকে কিছুতেই বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারতাম না যদি প্রথমে আমি তাকে বিদ্যুৎ বিক্রি করার কথা বলতাম। তাকে তাই তাঁর কথাই বলতে দিই।
এ ধরনের মানুষকে কিছুতেই বিক্রি করা যায় না! তাদের কিনতে দিতে হবে। সম্প্রতি নিউইয়র্ক হেরাল্ড ট্রিবিউনে অর্থনৈতিক পাতায় একটা বড় বিজ্ঞাপন বেরিয়েছিল। তাতে একজন অসামান্য যোগ্যতা আর অভিজ্ঞতা সম্পন্ন লোক চাওয়া হয়। চর্লি, টি কুবেলিশ ওই বিজ্ঞাপনের উত্তর একটা বক্স নম্বরে পাঠান। কদিন পরে তাকে একটা চিঠিতে সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হয়। তিনি যাওয়ার আগে ওয়াল স্ট্রীটে খোঁজ নিয়ে জেনে নেন ভদ্রলোকের সম্বন্ধে সব কিছু। সাক্ষাৎকারের সময় কুবেলিশ বললেন, আপনার মত এরকম বিরাট সুনামের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিজেকে জড়িত করতে পারলে সৌভাগ্যবান বলে মনে করবো। আমি শুনেছি আঠাশ বছর আগে আপনি মাত্র একটা ডেস্ক আর একজন স্টেনোগ্রাফার নিয়ে শুরু করেছিলেন। এটা সত্যি?
প্রায় প্রত্যেক মানুষই অতীতের স্মৃতিচারণ করতে ভালোবাসেন। ভালোবাসেন তার আগের লড়াইয়ের কথা ভাবতে। এই লোকটিও এর চেয়ে আলাদা ছিলেন না। তিনি অনেকক্ষণ ধরে জানালেন তিনি মাত্র সাড়ে চারশ ডলার আর একটা পরিকল্পনা নিয়ে কাজ আরম্ভ করেন। তিনি জানালেন তিনি কেমন করে হতাশা আর অপমানের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন আর টানা ষোল ঘন্টা ধরে কাজ করেছেন। কাজ করেছেন রবিবারেও। তিনি বললেন কীভাবে তিনি ওয়াল স্ট্রীটের সবচেয়ে বিখ্যাত মানুষ হন। এ ধরনের রেকর্ডের জন্য তিনি গর্বিত। এতে তার অধিকার আছে।
শেষ পর্যন্ত তিনি মি. কুবেলিশকে তাঁর অভিজ্ঞতার কথা জিজ্ঞেস করলেন, তারপর একজন ভাইস প্রেসিডেন্টকে ডেকে বললেন : আমার মনে হয় এমন একজনকেই আমরা খুঁজছিলাম।’
মিঃ কুবেলিশ বেশ সহজভাবেই তার ভবিষ্যৎ নিয়োগকর্তার সম্পর্কে সব বিষয় জেনে নিয়েছিলেন আর তাঁর সমস্যা সম্বন্ধে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি অপর জনকেই সব কথা বলতে দেন–আর বেশ চমৎকার ধারণাও সৃষ্টি করেছিলেন।
আসল সত্য হলো আমাদের বন্ধুরাও নিজের সম্পর্কে অহঙ্কার করতে ভালবাসে। আমার কোন অহঙ্কার তারা শুনতে চায় না।
একজন ফরাসী দার্শনিক লা রোশফুঁকো বলেছিলেন : আপনি যদি শত্রু চান তাহলে গুণে বন্ধুদের অতিক্রম করুন। আর যদি বন্ধু চান তাহলে তাদের আপনাকে অতিক্রম করতে দিন।
কথাটা সত্যি কেন? কারণ আমাদের বন্ধুরা যখন আমাদের অতিক্রম করে থাকেন তখন তাঁদের গুরুত্ব অনুভব করতে দিই, আর আমরা যখন অতিক্রম করি তখন তাদের একটা হীনমণ্যতা চেপে ধরে, সঙ্গে ঈর্ষা।
জার্মানদের একটা প্রবাদ আছে। সেটা হলো এই রকম : ‘অন্য লোকদের বিপদে আমরা যে আনন্দ পাই তা হলো আসল আনন্দ।’ বা অন্যভাবে বললে : অন্যের বিপদেই আমরা আসল আনন্দ পাই।
হ্যাঁ, আপনাদের কোন কোন বন্ধু আপনাদের ঝামেলায় যত বেশি আনন্দ পান আপনাদের সুখে তত পান না।
অতএব, আমাদের জয়কে কম করেই দেখাই আসুন। আমরা নম্র হই আসুন। তাতে সব সময়েই কাজ হবে। আর্ভিন কবের আসল কৌশলটা জানা ছিল। একজন আইনজ্ঞ কবকে সাক্ষীর কাঠগড়ায় বলেন : আমি শুনেছি আপনি আমেরিকার একজন বিখ্যাত লেখক, মি. কব। এটা সত্যি?
‘আমার যোগ্যতার চেয়ে আমি আশাতীত পেয়েছি, কব জবাব দেন।
আমাদের নম্র হওয়া উচিত, কারণ আমার বা আপনার তেমন দর নেই। আগামী এক শতকের মধ্যেই আমাদের সবাই একেবারে ভুলে যাবে। নিজেদের কৃতিত্ব জাহির করার ক্ষেত্রে আমাদের জীবন বড়ই ক্ষণস্থায়ী। তাই অন্যকে কথা বলতে দিন। ভেবে দেখুন সত্যিই বড় করে বলার মত আমাদের কিছু আছে কি? আপনার সঙ্গে একজন মূর্থের পার্থক্য কতটা জানেন? বেশি নয়, থাইরয়েড গ্ল্যাণ্ডে এক নিকেল মাপের আয়োডিন। কোন চিকিৎসক আপনার থাইরয়েড গ্ল্যাণ্ড থেকে ওই আয়োডিন বের করে নিলে আপনি একজন বোকা লোক হয়ে যাবেন। এই সামান্য আয়োডিনই সব বদলে নিতে পারে। তাই গর্ব করে লাভ কি বলুন?
অতএব, অপরকে স্বমতে আনতে চাইলে ৬ নম্বর নিয়ম হল :
‘অপর ব্যক্তিকেই বেশি কথা বলতে দিন।’
১৬. সহযোগিতা পাওয়ার উপায়
ষোড়শ পরিচ্ছেদ
সহযোগিতা পাওয়ার উপায়
আপনি নিজে যা আবিষ্কার করেন তার উপর আপনার বেশি বিশ্বাস আছে না অন্যে যা আপনাকে জানায় তার উপর? তাই যদি হয় তাহলে অন্যের উপরে নিজের মতামত চাপিয়ে দেওয়া কেন? স্পষ্ট না বলে অন্যকে আভাস দেওয়াই ভালো-তাতে অন্যকে সিদ্ধান্তটা নিজেকেই আবিষ্কার দেওয়া হয়।
