জনসভায় বক্তৃতাকালে আপনি কি এই কাজগুলি করবেন?
জনসভায় বক্তৃতা বিষয়টিকে আরো পরিষ্কার, আরো বিস্তারিত ভাবে প্রকাশ করার জন্যে আমরা এক্ষেত্রে স্বাভাবিক বক্তব্যের আরো কিছু বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করব। এটা করতে গিয়ে আমার মনে দৌদুল্যমানতা এসেছিল। তবে আমি আমার সম্পর্কে নিশ্চিত ভাবে বলতে পারি, “আমার ওপর চাপ দিলে আমি সব কিছু ঠিক ভাবে বলতে পারি, কিন্তু আপনার বেলায় এটি সত্য নাও হতে পারে। চাপ দিলে হয়তো বা আপনি যা জানা আছে তাও ভুলে গিয়ে কাঠের ঘোড়ার মতো হয়ে যেতে পারেন।”
আপনি গতরাতে এসব নিয়ম পালন করেছেন অচেতন মনে। কেননা, নৈশ ভোজে আপনি বিমূঢ় হয়ে পড়েছিলেন। সুতরাং একমনে অচেতন মনের উপরই চাপ প্রয়োগে সুফল পাওয়া যায়। কিন্তু সচেতন মনে বক্তৃতা করতে হলে প্রয়োজন অভ্যাস।
প্রথমত : ‘গুরুত্বপূর্ণ’ শব্দের উপর জোর দিন অন্য শব্দকে সহযোগী হিসাবে গ্রহণ করুন :
আলাপ আলোচনাকালে আমরা শব্দের একটি সিল্যাবলের উপর বিশেষ জোর দেই, অন্য শব্দগুলোকে সাধারণ ভাবেই উচ্চারণ করি। যেমন-মাংসসুংলেটস, এট ট্রাক-শাস, এন-ভাই রনমেন্ট। বাক্যের ক্ষেত্রেও আমরা ঠিক একই কাজ করি। আমরা একটি বাক্যের একটি বা দুটি শব্দের উপর নিউইয়র্কের পঞ্চম এ্যাভিনিউস্থ এম্পায়ার স্ট্রেট-বিল্ডিং এর মতো জোর দেই।
এই পদ্ধতিটা কোথাও অপরিচিত পদ্ধতি নয়। আপনি যত্রতত্র এরূপ জোর দিয়ে উচ্চারণ করবেন। আপনি নিজেও সবসময় কোনো কোনো শব্দ উচ্চারণে শব্দাংশে জোর দেন, বাক্যে কোনো-কোনো শব্দে জোর দেন, ভবিষ্যতে দিবেন।
এখানে একটি উদাহরণ দেয়া হচ্ছে। নিম্নের বড় অক্ষরের লেখা শব্দগুলোর উপর জোর দিয়ে প্রশ্ন পড়ুন। ফলে কি বুঝতে পারছেন? ভেবে দেখবেন।
আমি যে কাজেই হাত দিই না কেন সফল হই, কেননা আমি স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে সে কাজে হাত দেই। মানব সমাজের উপর প্রভাব বিস্তারের সুযোগ গ্রহণে আমি ইতঃস্তত করি না–নেপোলিয়ন।
এই লাইনগুলো পাঠের পদ্ধতি একটি নয়। অন্য বক্তা এটিকে অন্য ভাবেও পাঠ করতে পারেন, জোর দেয়ার কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম নেই। এটা বক্তার উপরই নির্ভরশীল।
নিম্নপঙক্তিগুলো জোর দিয়ে পাঠ করার চেষ্টা করুন, অতঃপর এটার তাৎপর্য উপলব্ধি করার চেষ্টা করুন। আপনি কি কিছু শব্দের ওপর জোর দিয়ে অন্যগুলো দ্রুত উচ্চারণ করে শেষ করতে চান না?
যদি না থাকে সাহস নির্যাতন হবে না বন্ধ,
করা যাবে না, প্রতিরোধ, মোকাবেলা।
মনে যদি না থাকে নিশ্চিত বিশ্বাস।
বিজয় অসম্ভব, ব্যর্থ হবে ছলাকলা।
রণক্ষেত্র, কুসুম শয্যা নয়।
শক্তি আছে যার জয় তারই হয়।
আগে বা পরে এ ব্যক্তিরই হয় জয়,
আত্মবিশ্বাসে নেই যার কোনো সংশয়।–এ্যানন।
দৃঢ় প্রত্যয়ের চাইতে সম্ভবত আর কোনো গুরুত্বপূর্ণ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নেই। যে বালক, কালে মহান ব্যক্তি হবে অথবা হবে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি তাকে হাজার বাধা অতিক্রমের দৃঢ় প্রতিজ্ঞা নিয়ে চলতে হবে, বাধা অতিক্রম করতে হবে। শত বাধা-বিপত্তিতে ও হতাশ না হয়ে তাকে এগিয়ে যেতে হবে দৃঢ় পদক্ষেপে–থিওডর রুজভেল্ট।
দ্বিতীয়ত : আপনার স্বর পরিবর্তন করুন :
কথোপকথনে আপনার শব্দের ধ্বনি বা স্বরের উত্থান-পতন হয় উঁচু-নিচু, যেন সমুদ্রের তরঙ্গ, মহা সাগরের ঊর্মি। কেন? কেহই জানেন না, এবং কেহই এটা ব্যাখ্যা করতে পারেন না। এর ফলাফল আনন্দদায়ক এবং এটাই প্রকৃতির নিয়ম, আমরা কখনো এটা করতে শিখি না, এটা আমাদের আয়ত্বে আসে, যেমন শিশু জন্মায়, কিন্তু শ্রোতাদের সামনে দাঁড়াতে গেলে আমাদের স্বর অনেক সময় হয়ে যায় অশ্রাব্য, যেন আমরা দাঁড়িয়েছি নেভাদা মরুতে।
যখন আপনি বক্তৃতা করার কোনো কিছু পাবেন না, বিশেষ করে আপনার স্বর এক ঘেয়ে মনে হবে তখনই আপনি একটু থামুন, নিজে-নিজে ভেবে নিন, “আমি একটি কাঠের যন্ত্রের মতো কথা বলছি, এসব লোকের সামনে কথা বলতে হলে নম্রভাবে বলতে হবে, স্বাভাবিক হতে হবে।”
এই ধরনের চিন্তা কি আপনাকে কোনোভাবে সাহায্য করবে? অবশ্যই কিছু সাহায্য করবে। সামান্য কিছুক্ষণের বিরতি আপনাকে সাহায্য করবে। অভ্যাস থাকলে আপনার সমস্যার সমাধান অবশ্যই আপনি করতে পারবেন।
অথচ স্বর নামিয়ে অথবা ভুলে আপনি প্রয়োজনীয় একটি প্রবাদ বাক্য বলতে পারেন। ব্রকলীনের কংগ্রেস দলীয় মন্ত্রী ডা: এস পার্কস ক্যাডম্যান প্রায়ই এরূপ করতেন, স্যার অলিভার জজ, ব্রাইস ও রুজভেল্ট এরূপ করতেন। খ্যাতনামা প্রায় সকল বক্তা এরূপ করতেন, অর্থাৎ এরূপ করে তারা কণ্ঠস্বর নিয়ন্ত্রণ করতেন।
নিম্নবর্ণিত বাক্যগুলোর পাঠে আপনার স্বাভাবিক স্বরকে নিচে নামান। দেখুন কি ফল লাভ করেন।
আমার একটি ছাড়া কোনো গুণ নেই এবং সে গুণটি হচ্ছে হতাশ না হওয়া। বলেছেন মার্শাল ফেচ।
শিক্ষার মূল লক্ষ্য জ্ঞান নয়, কর্ম। বলেছেন হার্বাট স্পেন্সার।
আমার ৮৬ বছরের জীবনকালে আমি বহু লোককে সাফল্য অর্জন করতে দেখেছি, দেখেছি শত-শত লোক একমাত্র বিশ্বাসের কারণেই সফল হয়েছে। বলেছেন, কার্ডিন্যাল গিবনস।
তৃতীয়ত:-বক্তৃতার ধারা পরিবর্তন করুন :
যখন কোনো শিশু কথা বলে অথবা যখন আমরা সাধারণ আলোচনায় অংশ নিই, আমরা আমাদের কথার ধারা পরিবর্তন করি অব্যাহত ভাবে। এটা আনন্দ ধারণাকে দৃঢ়ও বদ্ধ মূল করে প্রতিষ্ঠা করা চলে।
