নেপোলিয়ন, ওয়েলিংটন, রী, গ্রান্ট, ফোচ–সকল বিখ্যাত সামরিক নেতা স্বীকার করেছেন যে একটি সামরিক বাহিনীর বিজয় অর্জনের ইচ্ছা এবং বিজয় অর্জনের যোগ্যতা সম্পর্কে তার আস্থা বিজয় নিশ্চিত করে।
“নব্বই হাজার বিজিত ব্যক্তি” বলেছেন মার্শাল ফোচ, “নব্বই হাজার বিজয়ী ব্যক্তির আগেই ঝিমিয়ে পড়েন। কেননা, তারা বিজয় লাভ সম্পর্কে হতাশ হন। এই হতাশা তাদের নৈতিক অথঃপতন ঘটায় এবং পরিশেষে তারা পরাজয় বরণ করতে বাধ্য হয়। প্রতিরোধ করতে পারে না ঠেকাতে পারে না।”
অন্যথায়, পরাজিত নব্বই হাজার লোকের সকলেই বেত্রাঘাত প্রাপ্ত নয়। কিন্তু তারা মানসিক ভাবে বেত্রাঘাত প্রাপ্ত, তারা আত্মবিশ্বাস ও সাহস হারা, তাই হয় তারা পরাজিত। আত্মবিশ্বাস ও সাহস হারা বাহিনীর বিজয়ের কোনো পথ নেই। এ ধরনের কোনো মানুষেরও সাফল্যের কোনো আশা নেই।
মার্কিন নৌবাহিনীর প্রাক্তন যাজক ফোজিয়ার প্রথম মহাযুদ্ধ কালে নৌবাহিনীতে যাজক হতে ইচ্ছুক বহু বক্তির সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছিলেন। নৌ-বাহিনীর যাজকের সাফল্যের জন্যে কী কী গুণ থাকা প্রয়োজন মর্মে প্রশ্ন করা হলে তিনি উত্তর দেন –চারটা জি। সেগুলো হচ্ছে গ্রেস, গ্রুমসান, গ্লিট ও গুর্টস অর্থাৎ দয়া, সাধারণ বুদ্ধি, চরিত্রের দৃঢ়তা ও সহন শক্তি।
বক্তৃতায় সাফল্যের জন্যেও এগুলো প্রয়োজন। এগুলোকে আপনার আদর্শ হিসাবে গ্রহণ করুন। রবার্টের নিম্নপদ্যটিকে আপনারা সমর-সঙ্গীত রূপে গ্রহণ করুন।
আপনি যখন হারিয়ে যাবেন বনে
হবেন ভয়ে শিশুর মতো শংকিত–
চোখে মৃত্যুর ছায়া দেখে হবেন আতঙ্কিত
হবেন মর্ম যাতনায় দগ্ধ, নয় বা আকাঙ্ক্ষিত।
হতাশ হৃদয়ে বেষ্টিত হবেন আত্মহত্যায় —
কিন্তু মানব জীবনের নিয়ম–সগ্রাম সর্ব অবস্থায়;
আত্মবিশ্বাস নিষিদ্ধ, বেআইনী কাজ হয়ে —
ক্ষুধা এবং যন্ত্রণা, অবশ্যই সহ্য করা যায়,
প্রাতভোজে শক্ত রুটি। কী নিরূপায়। অসহায়,
খেলায় আপনি অনাসক্ত। কী লজ্জার বিষয়–
তরুণ, সাহসী উজ্জ্বলের তরে এমন হবার নয়।
আপনার মনোভাবে স্থিতি নেই এটা প্রকাশ না হয়,
উঠুন, আগুন, লড়ে যান সদা। অনন্ত হৃদয়–
অতঃপর হবে আপনার বিজয়।
হবেন না যন্ত্র হবেন না পশু, কোনোভাবে।
নিজের পায়ে দাঁড়ান, জয় আপনারই হবে।
মার খেয়ে কাদা, মৃত্যু, সে তো সহজ কাজ বড়–
বাগদা চিংড়ির মতো হামা দেয়া, জড় সড়।
কিন্তু হৃদয়ে হতাশা নয়, সংগ্রাম আর সংগ্রাম
বিজয়ের তরে চালাতেই হবে এই প্রোগ্রাম।
সকল ক্ষেত্রেই হবে তবে জয়–
ঝড় ঝঞ্ঝার নিশ্চিত হবে লয়।
মৃত্যুর আগে মরা সে তো অনেক সহজ কাজ–
বাঁচার মতো বেঁচে থাকাই তো ফরজ আজ।
সংক্ষিপ্ত সার :
(১) আস্তে-আস্তে বা ধাপে-ধাপে আমরা কোনো কিছু শিখি না, তা যে গলফ খেলা, ফরাসি ভাষা শেখা, বক্তৃতা শেখা যাই হোক। হঠাৎ শুরু করে এক ধাক্কায় আমরা এগিয়ে যাই। অতঃপর আমরা স্থির হয়ে বসি অথবা পিছিয়ে পড়ি এবং কখনো বা শেখা কোনো কিছু ভুলে যাই, বিস্মৃত হই। মনোবিজ্ঞানীরা এই স্থিতিকালকে বলেন, শিক্ষার বক্র অধিত্যকা। আমরা কঠোর পরিশ্রম করেও এই ‘অধিত্যকা’ হতে বের হয়ে আসতে পারি না, কখনো বা এগুতে পারলেও আবার পিছিয়ে পড়ি। কিছু লোক, আমাদের অগ্রগতির পদ্ধতি বুঝতে না পেরে অধিত্যকায় পড়ে হতাশ হয়ে চেষ্টা ছেড়ে দেন। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক, তারা যদি চেষ্টা অব্যাহত রাখতেন, অভ্যাস করতেন সতত, তা হলে তারা একদিন দেখতে পেতেন, হঠাৎ তারা বিমানের চাইতেও দ্রুত গতিতে বেরিয়ে আসছেন, রাতারাতি অকল্পনীয় অগ্রগতি ও সাফল্য লাভ করেছেন।
(২) বক্তৃতা শুরু করার প্রারম্ভে আপনি কখনো স্নায়বিক দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পারেন না। কিন্তু আপনি যদি ধৈর্যশীল হন তাহলে শীঘ্রই আপনি প্রাথমিক ভয় ছাড়া সবকিছু কাটিয়ে উঠতে পারবেন এবং কয়েক মিনিট বক্তৃতা করার পর আপনার ভয় দূরীভূত হবে।
(৩) অধ্যাকি জেনম বলেছেন যে, কারো তার শিক্ষা সম্পর্কে কোনোরূপ উৎকণ্ঠা রাখা উচিৎ নয় এবং সত্যি যদি যে আন্তরিকভাবে চেষ্টা করে একদিন যে তার সামসাময়িকদের মধ্যে দক্ষ ব্যক্তি হয়ে উঠবে, ক্ষেত্র বা বিষয় তার যাই হোক না কেন। এর মনস্তাত্ত্বিক সত্য আপনার ওপর এবং আপনার বক্তৃতা শেখার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করুন। আপনার সাফল্য আসবে প্রশ্নাতীত ভাবে। এভাবে যে লোক সফল হয় সে মাত্রাতিরিক্ত মেধার অধিকারী নয়, সাধারণ ধিশক্তিসম্পন্ন। ধৈর্যও দৃঢ় প্রত্যয়ই জয়ের কারণ দৃঢ়তার সাথে চেষ্টা করে সফল হন।
(৪) জনসভায় বক্তৃতা করে সাফল্যলাভের চিন্তা করুন। এই চিন্তা মনে থাকলে সাফল্য অর্জনের জন্যে যা করা প্রয়োজন তা আপনি করতে পারবেন।
(৫) আপনি যদি হতাশ হয়ে পড়েন তাহলে টেডি রুজভেল্টের পরিকল্পনা অনুসরণে লিংকনের ছবির দিকে তাকান এবং নিজেকে প্রশ্ন করুন, আপনার মতো অবস্থায় পড়লে তিনি কী করতেন।
(৬) প্রথম বিশ্বযুদ্ধকালে মার্কিন নৌবাহিনীর জনৈক পদস্থ যাজক, যাজকের সাফল্যের কথায় বলেছেন চারটি শব্দ, চারটি জি, সেগুলো কী?
০৬. সুভাষণ প্রদানের গোপন তথ্য
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হবার অব্যবহিত পরে আমি লন্ডনে দু’ভাই স্যার রোক ও স্যার কেইথ স্মিথের সাক্ষাৎলাভ করি। তারা সদ্য লন্ডন হতে অস্ট্রেলিয়ায় বিমান সফর সমাপ্ত করেছেন, এই সাফল্যজনক সফরের জন্যে অস্ট্রেলিয়া চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং তাঁরা নাইট উপাধি পেয়েছেন।
