আমি এরূপ হাজার-হাজার পুরুষ ও মহিলাকে জানি যারা সত্যিই আত্মবিশ্বাস অর্জন ও সুবক্তা হবার জন্য চেষ্টা করছেন। এদের মধ্যে সামান্য সংখ্যকই অত্যন্ত মেধাবী। অন্যান্যরা আপনার শহরের সাধারণ মানুষের মতো। তাদের মধ্যে যারা বেশি চটপটে তাদেরই আমি ব্যর্থ হতে দেখেছি বেশি। কারণ তারা টাকা বানানোর কথা বেশি চিন্তা করে? বক্তৃতা শেখায় অখণ্ড মনোযোগ দেয় না। কিন্তু সাধারণদের মধ্যে যারা অখণ্ড মনোযোগ দিয়ে চেষ্টা করে তারাই সাফল্য লাভ করে এবং তাদের স্থান হয় সকলের শীর্ষে।
তাই প্রকৃতগত এবং মানবিক, বাণিজ্য ও পেশার ক্ষেত্রেও কী আপনি সব সময় একই রূপ ঘটনা ঘটতে দেখেন না। রকফেলার বলেছিলেন যে, ব্যবসায়ে সাফল্য লাভের চাবিকাঠি হচ্ছে ধৈর্য। বক্তৃতা শেখার বেলাও এটি প্রথম প্রয়োজন।
মার্শাল ভচ বিশ্বের সর্ববৃহত্তম বাহিনীর বিরুদ্ধে জয়লাভ করে বলেছিলেন, এই সাফল্যের কারণ হচ্ছে হতাশ না হওয়া।
১৯২৪ সালে ফ্রান্স যখন মার্নিতে পশ্চাদপসরণে বাধ্য হয় তখন দু’লক্ষ সৈন্যের অধিনায়ক জেনারেল জোফরি তার অধীন জেনারেলদের প্রতি পশ্চাদপসরণ বন্ধ করে তীব্র আক্রমণ শুরু করার নির্দেশ দেন। এর পর দুদিন স্থায়ী যে যুদ্ধ হয় তা বিশ্ব ইতিহাসে একটি স্মরণীয় ঘটনা। এই নির্দেশের পর জেনারেল ফচ জেনারেল জোফরিকে একটি বাণীতে জানান, “আমার কেন্দ্রের সৈনিকেরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমার ভাগে শত্রু নেই। অবস্থা অত্যন্ত অনুকুল। সুতরাং আমি আক্রমণ পরিচালনা করছি।”
এই আক্রমণের ফলেই ফ্রান্স রক্ষা পায়।
সুতরাং যুদ্ধ তখন তীব্র আকার ধারণ করে, পরাজয় যখন প্রায় নিশ্চিত হয়ে উঠে তখন নিজেকে বাঁচাতে হলে শত্রুতে তীব্রতর বেগে আক্রমণ-করতে হবে। প্রতিরোধ নয়, আক্রমণাত্মক যুদ্ধ করতে হবে তাহলে নিজেকে রক্ষা করা, জয়লাভ করা সম্ভব।
ওয়াইলড কায়জার শৃঙ্গে আরোহণ :
কয়েক বৎসর আগের কথা, আমি অস্ট্রিস আল্পস পর্বতের ওয়াইল্ড কায়জার শৃঙ্গে আরোহণের চেষ্টা করি? বেডেকার বলেন যে, এটাতে আরোহণ অত্যন্ত কষ্টসাধ্য এবং শৌখিন আরোহণকারীর জন্য পথপ্রদর্শক প্রয়োজন। আমি ও আমার বন্ধু, আমার দুজন নিশ্চিতভাবেই শৌখিন আরোহণকারী এবং আমাদের কোনো পথপ্রদর্শকও ছিল না। তাই তৃতীয় দল আমাদের প্রশ্ন করে, আমরা সাফল্যলাভ করব বলে চিন্তা করি কী না।
‘নিশ্চয়ই’ আমরা উত্তর দেই।
“কী কারণে আপনারা এরূপ চিন্তা করেন?” তিনি জানতে চান। ”অন্যেরা কোনোরূপ পথ প্রদর্শক ছাড়া সফল হয়েছেন? আমি বলি, সুতরাং আমাদের সফল না হবার কোনো কারণ নেই এবং আমি কখনো পরাজিত হবার কথা চিন্তা করি না।”
আলফাইনা আরোহী হিসাবে আমি সম্পূর্ণ নবিশ কিন্তু আমার ছিল মানসিক প্রস্তুতি। আমি নিশ্চিত ছিলাম সাফল্য সম্পর্কে। সুতরাং বক্তৃতা শেখার সাফল্য অর্জনে এরূপ মানসিক প্রস্তুতি এবং মনোবল থাকলে এভারেস্ট আরোহণে সাফল্য অর্জনের মতো এ ও সহজ সাধ্য।
সাফল্যের কথা চিন্তা করুন। যথাযথ আত্মনিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে আপনি জনসভায় বক্তৃতা করছেন বলে চিন্তা করুন।
এটা সম্পূর্ণরূপে আপনার শক্তির মধ্যে। সাফল্য সম্পর্কে মনে-মনে বিশ্বাস বা আত্মবিশ্বাস পোষণ করুন। এটা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে বিজয়লাভের জন্যে বা প্রয়োজনে ঠিক সেভাবে কাজ করুন।
এডমিরাল ডুপান্ট কেন তাঁর গানবোর্ট চার্লেনটন পোতাশ্রয়ে ভেড়ান নি তার পক্ষে আধাডজন গুরুত্বপূর্ণ যুক্তি দেখিয়েছেন। এডমিরাল ফারাগুট গভীর মনোযোগ দিযে তা শোনেন। কিন্তু আরো একটি কারণ ছিল, তা আপনি উল্লেখ করেন নি? শোনার পর তিনি উত্তর দেন।
‘ওটা কি?’ এডমিরাল ডুপান্ট প্রশ্ন করেন। উত্তর আসে, আপনি তা করতে পারতেন সে বিশ্বাস আপনার ছিল না।
সাধারণ ভাষণ কোর্সে অংশ গ্রহণকারীরা সবাই যে মূল্যবান জিনিসটি প্রশিক্ষণকালে লাভ করেন তা হচ্ছে নিজেদের উপর আস্থা বৃদ্ধি, আত্মবিশ্বাস অর্জন। এবং যে কোনো ভাষায় যে কোনো ক্ষেত্রে সাফল্যের জন্য এটি বিশেষ প্রয়োজন।
বিজয় লাভের ইচ্ছা :
এ ক্ষেত্রে আমি প্রয়াত এলবার্ট এর একটি বিজ্ঞ উপদেশ উল্লেখ করার লোভ সংবরণ করতে পারছি না। সাধারণ মানুষ, নারী বা পুরুষ যদি তাদের নিজস্ব জ্ঞান সঠিকভাবে কাজে লাগান তা হলে সুখ ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত।
যখনি আপনি ঘর হতে বের হবেন তখন মনে-মনে গ্লানি রাখবেন না, দৃঢ় পদক্ষেপে চলবেন, বুক ফুলিয়ে হাঁটবেন, কোনো বন্ধুর দেখা পেলে তার সাথে হাসিমুখে কথা বলবেন। কোথাও কোনো কারণে ভীত হবেন না, কাকেও শত্রু মনে করে চিন্তায় সময় নষ্ট করবেন না। আপনি কী করতে চান তা মনে মনে ঠিক করে নেবার চেষ্টা করুন এবং অতঃপর সেই স্থির লক্ষ্য সামনে রেখে এগিয়ে চলুন। যে কাজটি আপনি চান তার উপর আপনার মন স্থির রাখুন, তাহলে আপনি দেখতে পাবেন যে, আপনি নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে গেছেন, আপনি সাফল্য লাভ করেছেন। সময় ও স্রোত আপনার লক্ষ্য অর্জনে বাধা হয় নি, আপনি যা হতে চান তা কল্পনা করুন, কোনো একজনকে তা হবার আদর্শ হিসাবে কল্পনা করুন, মনে মনে তার ছবি এঁকে নিন। অতঃপর সফলতার লক্ষ্য সামনে রেখে কাজ করুন, সাফল্য আসবে। চিন্তা হচ্ছে বড় শক্তি। দৃঢ় মনোবল নিয়ে অটুট বিশ্বাস নিয়ে আপনার বিষয়টি চিন্তা করুন। এই চিন্তা আপনার মনকে করে তুলবে সৃজনশীল। ইচ্ছানুযায়ী কর্ম হয় এবং সব কর্মেরই ফলোদয় হয়। আমাদের মন যেরূপ আমরাও হই ঠিক সেরূপ। নিজের চিন্তা নিয়ে লক্ষ্য স্থির করে মাথা উঁচু করে চলুন। সাফল্য আসবেই।
