(ঘ) সর্বোপরি চোখের ধারণা স্বচ্ছ করুন। কারণ কান থেকে মস্তিষ্কে যে সব শিরা উপশিরায় শক্তি অন্তত ২৫গুণ বেশি শক্তিশালী। নোট ব্যবহার কালে মার্কটোয়েন তাঁর বক্তব্যের রূপরেখা বলতে পারতেন না। কিন্তু তিনি নোট বাদ দিয়ে যখন ছবি ব্যবহার শুরু করেন তখন তিনি রূপরেখা বলতে সক্ষম হন। স্মরণ রাখা তাঁর পক্ষে সহজতর হয়ে পড়ে।
৪। স্মরণ রাখার দ্বিতীয় আইন হচ্ছে পুনরাবৃত্তি। হাজার-হাজার মুসলমান ছাত্র মুখস্থ করে বারবার পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে। বার-বার পড়লে, পুনরাবৃত্তি করলে যে কোনো বিষয় মুখস্থ করা যায়। পুনরাবৃত্তি করার সময়ও স্মরণ রাখতে হবে :
(ক) কোনো বিষয় না বুঝে, অর্থ হৃদয়ঙ্গম না করে বারবার পাঠ করা, পুনরাবৃত্তি করা সঠিক পদ্ধতি নয়। এক সাথে বার-বার পড়বেন না। দুতিন বার পড় ন। তারপর বন্ধ করে দিন। সময় করে আবার পড় ন। তা হলে সহজে মুখস্থ করতে পারবেন স্বল্প সময়ে।
(খ) একটা বিষয় মুখস্থ করার আধঘণ্টার মধ্যে আমরা যতটুকু ভুলি, পরবর্তী ত্রিশ দিনেও সমপরিমাণ ভুলি না। সুতরাং বক্তৃতা শুরু করার আগে আপনার মুখস্থ বিষয়টির নোটটির নোট আবার দেখে নিন।
৫। স্মরণ শক্তির তৃতীয় আইন হচ্ছে সহযোগিতা। অন্য তথ্যের সাথে মিলানোই হচ্ছে মুখস্থ করার সহজতর পদ্ধতি। ”মনে যাই আসুক না কেন” বলেছেন, অধ্যাপক জেমস, তার প্রকাশ করা প্রয়োজন –যার স্মরণ শক্তি প্রখর তাঁর পক্ষে মিলিয়ে এটা প্রকাশ করা সহজতর।
৬। আপনি যখন আপনার মনের একটি চিন্তাকে অন্যটির সাথে মিলাতে চান, তখন সকল দৃষ্টি কোণ হতে তা বিচার করার চেষ্টা করুন। বিষয়টি সম্পর্কে এভাবে প্রশ্ন রাখুন কেন এরূপ হয়? কীভাবে এরূপ হয়? কখন এরূপ হয়? কোথায় এরূপ হয়? কে বলেছে এটার এরূপ?
৭। একজন অপরিচিতের নাম মনে রাখতে হলে নামের উচ্চারণ জিজ্ঞেস করুন এবং এ সম্পর্কে অন্যান্য প্রশ্ন করুন। তার নামকে চেহারার সাথে মিলাবার চেষ্টা করুন। তার পেশা জেনে নিয়ে কোনো প্রবাদ মিলাবার চেষ্টা করুন। এটা করা হয়েছিল প্যান এ্যাথলেটিক ক্লাবে, এরূপ করলে নাম স্মরণ রাখা সহজ হবে।
৮। কোনো তারিখ মনে রাখতে হলে কোনো স্মরণীয় তারিখের সাথে তা মিলান, উদাহরণ স্বরূপ, শেক্সপিয়রের জন্ম ত্রিশত বার্ষিকীতে গৃহযুদ্ধ হয়।
৯। আপনার বক্তব্যের পয়েন্ট স্মরণ রাখতে হলে সেগুলো এমনভাবে সাজান যেন প্রথমটার পর দ্বিতীয়টা আসে। এটার জন্যে অদ্ভুত বাক্য ও ব্যবহার করা যেতে পারে। উদাহরণ স্বরূপ —
‘গরু ধূমপান করে, নেপোলিয়নকে ধাক্কা দেয়ায় ঘরে আগুন লেগে সবকিছু ভষ্মে পরিণত হয়।” এক্ষেত্রে গরু সিগার, নেপোলিয়ন প্রভৃতি কোনটার জন্যে কী পয়েন্ট ধরেছেন তা স্মরণ করুন। তা হলে। পয়েন্টগুলো একটির পর একটি আসবে।
১০। পদ্ধতি ও সর্বপ্রকার সতর্কতা সত্ত্বেও আপনি যদি বক্তৃতা কালে বক্তৃতা ভুলে যান তা হলে আপনি কী করবেন? আপনার শেষ বাক্যের শেষ শব্দটির পুনরাবৃত্তি করে, তা ব্যাখ্যা করে, অবস্থা আপনার আয়ত্বে রাখতে পারেন। আপনার পরবর্তী পয়েন্ট মনে না আসা পর্যন্ত সেভাবে ব্যাখ্যা কাজ চালিয়ে যাবেন।
০৫. সকল বক্তৃতার প্রয়োজনীয় উপাদান
অধ্যবসায়ের প্রয়োজনীয়তা :
যখন আমরা ফরাসি ভাষা অথবা গল্প অথবা জনসভায় বক্তৃতা করণ শেখার মতো নতুন কিছু শিখতে শুরু করি, আমরা কখনো একরূপ ভাবে এগুতে পারি না। আমাদের উন্নতিও ক্রমান্বয়ে হয় না। হঠাৎ কোনো ধাক্কায় আমরা এগিয়ে যাই। অতঃপর আমরা স্থির হয়ে বসি অথবা আমরা পিছিয়ে পড়ি এবং কখনো বা শেষ কোনো কিছু ভুলে যাই, বিস্মৃত হই। এই স্থির অথবা প্রত্যাগতিকাল সম্পর্কে সকল মনোবিজ্ঞানীই ওয়াকেবহাল এবং সচেতন এবং তাঁরা এই জন্যেই এই সময়টাকে ‘শিক্ষার বক্র অধিত্যকা’ বলে অভিহিত করেছেন। ভাষণ কোর্সের শিক্ষার্থীরাও কখনো-কখনো এই অধিত্যকায় আটকা পড়েন। কঠোর পরিশ্রম করেও তাদের পক্ষে এটা অতিক্রম করা সম্ভব হয় না। এই সময়েই দুর্বল ব্যক্তি হতাশ হয়ে পাঠ ছেড়ে দেন। কিন্তু যারা অধ্যবসায়ী, ধৈর্যশীর, তারা দেখতে পান যে, হঠাৎ রাতারাতি তাঁদের অগ্রগতি হয়ে গেছে অকল্পনীয় ভাবে। তারা নিজেরাও বুঝতে পারে না কীভাবে এটা সম্ভব হল। তারা অধিত্যকা হতে বেরিয়ে আসেন বিমানের গতিতে হঠাৎ তারা বক্তৃতা করার এমন শক্তিলাভ করে বসে যা তারা নিজেরাও কখনো কল্পনা করেন নি। হঠাৎ তারা অনেক কিছু শিখে ফেলেন।
আমরা সর্বত্রই একটা কথা বলেছি যে, শ্রোতাদের সামনে বক্তৃতা করতে দাঁড়ালে প্রথম কয়েক মিনিট প্রত্যেকের মনেই ভীতে জাগে, স্নায়বিক দুর্বলতা জাগে, হৃৎকম্প উপস্থিত হতে পারে। কিন্তু আপনি যদি ধৈর্যশীল হন তাহলে ভীতি ছাড়া সব কিছুই আপনার মন হতে সহসা বিদূরিত হবে। কয়েকটি বাক্য বলার পরে আপনি নিজেই আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হবেন। তখন আপনি আপনার বক্তব্য আনন্দ ও দৃঢ়তার সথে পেশ করতে পারবেন।
সবসময় অটুট থাকা অনড় থাকা :
আইন অধ্যয়নেচ্ছ একজন তরুণ লিংকনের উপদেশ প্রার্থনা করলে লিংকন লিখেন, আপনি যদি নিজেকে একজন আইনজীবী রূপে গড়ে তোলা দৃঢ় ইচ্ছা পোষণ করে থাকেন তা হলে কাজটি অর্ধেকের বেশি ইতোমধ্যে হয়ে গেছে। সবসময় স্মরণ রাখবেন নিজের ইচ্ছাই সাফল্যের পথে অন্য যে কোনো কিছু হতে গুরুত্বপূর্ণ।
