এসব তারিখ স্মরণ রাখার সর্বোত্তম পন্থা কী?
(ক) ১৫৬৪–শেক্সপিয়ারের জন্ম।
(খ) ১৬০৬ –ইংরেজরা প্রথম আমেরিকায় বসতি স্থাপন করে।
(গ) ১৮১১ –রানী ভিক্টোরিয়ার জন্ম।
(ঘ) ১৮০৭ –রাবার্ট ইলীর জন্ম।
(ঙ) ১৭৮১ –বাস্তিল দুর্গের পতন।
যান্ত্রিক পদ্ধতিতে পুনরাবৃত্তি করে ইউনিয়নে যোগদানকারী মূল তেরটি রাজ্যের নাম মুখস্থ করা এবং ধারাবাহিকভাবে এগুলোর নাম বলা আপনার জন্যে খুবই কষ্টকর। বার বার চেষ্টা করলেও এগুলো সহজে মুখস্থ হবে না; এবং মুখস্থ হলেও বলার সময় কোনটা আগে, কোনটা পরে চলে যাবে। কিন্তু নিম্নবর্ণিত ব্যাপারটি আপনি কয়েক বার পড়লে ১৩টি নাম স্মরণ রাখা এবং ধারাবাহিক ভাবে স্মরণ রাখা আপনার জন্যে সহজ হয়ে পড়বে।
প্যারটি হচ্ছে :
এক শনিবার বিকেলে জনৈকা তরুণী ডেলাওয়ার হতে রেলযোগে প্যানসিলভিনিয়া গমনের জন্যে একটি টিকিট কেনেন। তিনি তাঁর সুটকেসে নিউজার্সির একটি সুয়েটার নেন এবং তার বন্ধু জর্জিয়ার সাথে কনেকটিকাটে দেখা করেন, পর দিন সকালে বন্ধুসহ তিনি মেরিল্যান্ডের মাস চার্চে উপস্থিত হন। অতঃপর তারা সাউথ কার যোগে বাড়ি গিয়ে একটি সদ্য ভাজা মুরগিসহ ভোজ গ্রহণ করেন। মুরগিটি ভার্জিনিয়ায় রোস্ট করা। এতে মশল্লা দেয়া হয়েছে নিউইয়র্কের। ভোজের পর তারা নর্থ কার যোগে দ্বীপে গমন করেন।
এটি পড়ে মুখস্থ করা সহজ এবং নামগুলো স্মরণ রাখাও সহজ।
আপনার বক্তৃতার পয়েন্টগুলো কীভাবে স্মরণ রাখবেন :
একটি বিষয়ের উপর আমরা দু’ভাবে চিন্তা করতে পারি। প্রথম-বাহিরের দিক স্মরণ করে, দ্বিতীয়, মনে যা আছে তা স্মরণ করা। নোট প্রভৃতির সাহায্যে আপনি আপনার বক্তৃতা বিষয় স্মরণ রাখতে পারেন। কিন্তু কোনো বক্তা নোটের সাহায্য নিয়েছেন এটা কী শ্রোতারা পছন্দ করেন? অন্য কিছুর সাথে মিলিয়ে আপনি আপনার বক্তব্য স্মরণ করতে পারেন। তবে সেগুলো এমন ভাবে সাজাতে হবে যে প্রথম পয়েন্ট এর পর দ্বিতীয় পয়েন্ট, অতঃপর তৃতীয় পয়েন্ট অর্থাৎ আপনি যেন এক ঘরে থেকে অন্য ঘরে যাচ্ছেন। এভাবে যেন আপনার বক্তব্য প্রকাশ পায়।
কিন্তু নতুন বক্তা, যিনি সঠিক ভাবে কিছু চিন্তা করতে পারেন না তার জন্যে এই পদ্ধতি সহজ নয়। কেননা নতুন বলে তার মনে ভয়ও আছে। তার জন্যে পয়েন্ট মনে রাখার সহজ পদ্ধতি কী?
তার জন্যে সহজতর পদ্ধতি হচ্ছে কতিপয় প্রাণী, দ্রব্য, মানুষ প্রভৃতির নাম স্মরণ রাখা এবং এসব প্রাণী দ্রব্য প্রভৃতিকে তার পয়েন্ট বলে মনে রাখা। যেমন একটি বাক্য ‘গরু একটি সিগার পান করে, নেপোলিয়ানকে ধাক্কা দেয়ায় ঘরে আগুন লেগে সব কিছু ভস্ম হয়ে গেল।” এখন সে তার পয়েন্টগুলো গরু, সিগার, নেপোলিয়ন প্রভৃতির সাথে মিশিয়ে নিলে তার পক্ষে বক্তব্য মনে রাখা সহজতর হবে। অথচ বাক্যটি অর্থহীন।
এভাবে মিশিয়ে নিন। অতঃপর ভাবুন আপনার প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম পয়েন্ট কী।
হ্যাঁ, এভাবে বক্তব্য স্মরণ রাখা সহজ হবে। এভাবে-বক্তব্যকে আস্তে-আস্তে আরো দীর্ঘায়িত করতে পারবেন।
এভাবে একবার অনুসরণ করার চেষ্টা করলে আপনার মনে নতুন-নতুন ভাব আসবে, আপনি সহজে বক্তৃতা শিখতে পারবেন।
সকল বিষয়ে আমরা আমাদের স্মরণ শক্তি সমান ভাবতে পারি না :
এই পরিচ্ছেদে আমি আমাদের ধারণা সৃষ্টি এবং আমাদের ধারণাকে ধারাবাহিকভাবে সাজানো সম্পর্কে বলেছি। আমাদের স্মরণশক্তি বাড়ানো প্রয়োজন একথা বলেছি, কিন্তু আমাদের স্মরণ শক্তি সম্পর্কে অধ্যাপক জেমস বলেছেন, “কতিপয় বিশেষ ব্যাপার আমরা স্মরণ রাখতে পারলেও সব বিষয় স্মরণ রাখার জন্যে আমাদের স্মরণ শক্তি সমান নয়।”
উদাহরণ স্বরূপ, যে ব্যক্তি শেক্সপিয়রের লেখা ভালবাসেন, পাঠ করেন, সাহিত্যসম্পর্কিত কোনো বিষয় আলোচনার উদ্ধৃতি দিয়ে তার পক্ষে বক্তৃতা করা সহজতর কিন্তু তিনি কাপড়ের ব্যবসা সম্পর্কে বক্তৃতা করলে হ্যাঁমলেট বা রোমিও জুলিয়েট থেকে তিনি কী উদ্ধৃতি দেবেন?
আমি আবারো বলছি এই পারিচ্ছেদে আলোচিত নীতি অনুরসণ করা হলে যে কোনো বিষয় মুখস্থ করা সহজতর হবে, আমাদের স্মরণ শক্তি বাড়বে। আমাদের মন হচ্ছে বিভিন্ন বিষয়ের অনুসঙ্গ। একটি পয়েন্ট আর একটি পয়েন্টের সাথে সম্পর্কিত। সুতরাং সেভাবে চিন্তা করলে কোনো কিছু মুখস্থ করা স্মরণ করা সহজতর হবে।
সারাংশ :
১। ”গড় মানুষ”, বলেছেন খ্যাতনামা মনস্তত্ত্ববিদ অধ্যাপক কার্ল সিসোর ”স্মরণ শক্তি সম্পর্কিত শক্তির শতকরা দশ ভাগও কাজে লাগান না। স্মরণ রাখার প্রাকৃতিক নিয়ম অনুসরণ না করে শতকরা ৯০ ভাগ শক্তি নষ্ট করেন।”
২। স্মরণ রাখার প্রাকৃতিক নিয়ম তিনটি –ধারণা সৃষ্টি, পুনরাবৃত্তি ও সহযোগিতা।
৩। যে বিষয়টি আপনি মুখস্থ করতে বা স্মরণ রাখতে চান সেটি ভালোভাবে জেনে নিন, বুঝে নিন। এবং তা করতে হলে :
(ক) মনোযোগ দিতে হবে। এটাই থিওডর রুজভেল্টের স্মরণ শক্তির উৎস।
(খ) নিকট থেকে পর্যবেক্ষণ করুন। সঠিক ধারণা নিন, ক্যামেরা কুয়াশার ছবি নেয় না। সুতরাং মনের ধারণা কুয়াশাচ্ছন্ন থাকা সঠিক নয়?
(গ) ধারণাকে বহুমুখী করুন। কানে শুনে এবং চোখে দেখে সহজে মুখস্থ করা এবং স্মরণ রাখার জন্যে লিংকন আওয়াজ করে পড়তেন।
