গ। আপনার তথ্য বর্ণনা করুন।
ঘ। অতঃপর তাদের প্রতি কাজের আহ্বান জানান।
৭। ”আপনার বিষয়ের উভয় দিকের তথ্যাদি বলেছেন প্রাক্তন সিনেটর আলবার্ট জে বেভারিজ, “সংগ্রহ করতে হবে, সাজাতে হবে পর্যালোচনা করতে হবে, হজম করতে হবে। নিশ্চিত হোন যে এসব তথ্য সত্য। অতঃপর এগুলোর উপর চিন্তা করে সমাধানের চেষ্টা করুন।”
৮। বক্তৃতা করার আগেই উপসংহার সম্পর্কে লিংকন যে চিন্তা করে নিতেন তা হত গণিতের হিসাব। চল্লিশ বছর বয়সে যখন তিনি কংগ্রেস সদস্য হন তখন তিনি এই উপসংহার সঠিকভাবে নির্ধারণের জন্যে ইউক্সীড় অধ্যয়ন করেন।
৯। থিউডর রুজভেল্ট যখন কোনো বক্তব্য প্রস্তুত করতেন তখন তিনি চিট ভিত্তিতে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে তা ডিক্টেট করতেন, টাইপ অনুলিপি আবার সংকলন সংযোজন করে আবার ডিক্টেট করে নিতেন।
১০। সম্ভব হলে আপনার বক্তব্য পিক্টাফোনে ডিক্টেট করুন এবং নিজে শুনে নিন।
১১। নোট অনেক সময় বক্তৃতা শেখার আগ্রহ নষ্ট করে দেয়। সুতরাং আপনার প্রবণতা যদি সব সময় নোট দেখে বলার প্রতি ঝুঁকে থাকে তা হলে নোট করা পরিত্যাগ করুন। লিখিত বক্তৃতার প্রতি শ্রোতা তেমন আকর্ষিত হয় না সুতরাং যথা সম্ভব লিখিত বক্তৃতা পরিহার করে চলুন।
০৪. স্মরণশক্তির উৎকর্ষ সাধন
“প্রায় লোক,“ বলেছেন খ্যাতনামা মনস্তত্ত্ববিদ অধ্যাপক কার্ল সিসোর তার স্মরণ শক্তি সম্পর্কে, “উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত গুণের দশ ভাগও কাজে লাগান না। স্মরণ রাখার স্বাভাবিক নিয়ম লংঘন করে তারা শতকরা ১০ ভাগ ক্ষমতা অপব্যবহার করেন।”
আপনিই কি এই গড় মানুষের একজন? যদি তাই হয়, তাহলে আপনাকে এই অবস্থা থেকে মুক্তির জন্যে সগ্রাম করতে হবে, আপনি এই অনুচ্ছেদটি পড়ুন, পুনঃপুনঃ পড়ুন, উপকৃত হবেন সামাজিকভাবে, বাণিজ্যিকভাবে। এতে স্মরণ রাখার স্বাভাবিক নিয়ম কানুন সমূহ বর্ণনা করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে ব্যবসা, সামাজিক কথোপকথন এবং বক্তৃতায় কীভাবে এই নিয়ম পালন করা যায়।
এই সব”স্মরণ রাখার নিয়ম” অত্যন্ত সহজ নিয়ম হচ্ছে মাত্র তিনটি। এই তিনটি নিয়ম বা শব্দ হচ্ছে প্রভাবিত করা, পুনরাবৃত্তি ও সহযোগিতা।
প্রথম বিষয়টি হচ্ছে-আপনি যে বিষয়টি জানতে চান, বুঝতে চান, শিখতে চান তার গভীরে প্রবেশ করুন। এটা করতে হলে আপনার মনোসংযোগ করতে হবে। থিওডর রুজভেল্টের স্মরণ শক্তি সকলকেই অভিভূত করতো। তিনি অভ্যাসের দ্বারাই যে কোনো বিষয়ে গভীরভাবে মনোনিবেশ করার অধিকার অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন? ১৯১২ সালের শিকাগোর বুলমুস কনভেনশনের সময় তার সদর দপ্তর ছিল কংগ্রেস হোটেলে। হোটেলের পাদদেশে, সমগ্র জনপদে তখন নেমেছিল মানুষের ঢল। তাদের হাতে ছিল ব্যানার, কণ্ঠে ছিল চিৎকার আর শ্লোগান, “আমরা টেডি চাই। আমরা টেডি চাই। জনতার চিৎকার, বাজনার শব্দ, রাজনীতিকদের আনাগোনা, অব্যাহত সম্মেলন, আলোচনা, সাধারণ মানুষকে করে তুলেছিল পরিশ্রান্ত। কিন্তু এই পরিস্থিতিতেও রুজভেল্ট তার কক্ষে একটি ঘূর্ণায়মান চেয়ারে বসে নিশ্চিন্ত মনে গ্রিক বীর হিরোডোটাসের কাহিনী পাঠ করেন, গভীর অভিনিবেশ সহকারে ব্রাজিলের বন্যপথে চলার সময় একদিন বিকেলে তিনি এক নির্জন স্থানে শিবির সন্নিবেশ করেন। তথায় বৃহৎ বৃক্ষাদির নিচে ছায়াতলে একটা শুষ্কস্থান দেখে তিনি তথায় একটি টুলে বসে গীবনের লেখা ”রোমান সাম্রাজ্যের উত্থান পতন” পড়তে শুরু করেন এবং অল্প সময়ের মধ্যে এমনভাবে ডুবে যান যে শিবিরের শব্দ জনগণের হই চই, কোনো কিছুই তার ধ্যান ভাঙতে পারে না। নিরবচ্ছিন্ন মনে তিনি বইটি পাঠ করতে থাকেন। আরো আশ্চর্যের বিষয় যে, তিনি যা তখন পাঠ করেন তা হুবহু তার মনে থাকে, যেন তিনি তা মুখস্থ করে নিয়েছেন।
মানসিক অশান্তি ও অস্থিরতা নিয়ে সারাদিনের পাঠের চাইতে গভীর মনোনিবেশ সহকারে পাঁচ মিনিটের পাঠের ফল অনেক বেশি ফলপ্রসু, কল্যাণকর”গভীর আবেগপূর্ণ একটি ঘণ্টা, লিখেছেন হেনরী ওয়ার্ড বিসার, “স্বপ্নময় বছরের চেয়ে মূল্যবান।”“যে বিষয়টি আমি শিখেছি তা অন্য যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে মূল্যবান”, বলেছেন ইউজিন গ্রেস, যিনি বেথেলহেম ষ্টিল কোম্পানির চেয়ারম্যান হিসেবে দশ লক্ষাধিক ডলার হতে বেশি উপার্জন করতেন, এবং যে কোনো পরিস্থিতি ও অবস্থায় আমি প্রতিদিন নিয়মিতভাবে যে কাজ করি তা হচ্ছে আমার হাতের কাজের প্রতি গভীর মনোযোগ দান।
এটাই হচ্ছে শক্তি, বিশেষ করে স্মরণ শক্তির গোপন উৎস।
তারা একটি চেরি গাছ দেখে নি :
টমাস ইডিসন দেখতে পান যে তাঁর নিউ জার্সির ম্যানলো পার্কের ন্যামন ফ্যাক্টরিতে কর্মরত ২৭ জন শ্রমিক প্রতিদিন ফ্যাক্টরি থেকে আসা যাওয়ার একটি পথ ব্যবহার করে। তারপর ছয়মাস ধরে এই পথ দিয়ে প্রতিদিন আসা যাওয়া করছিল। এই পথের ধারে একটি চেরি গাছ। নিয়মিত ব্যবহারে পথের চেরি গাছ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে ২৭ জনের মধ্যে একজন শ্রমিকও এই গাছের অস্তিত্ব সম্পর্কে কোনো উত্তর দিতে ব্যর্থ হয়।
‘গড়পড়তা মানুষের মস্তিষ্ক’ এডিসন দৃঢ়তার সাথে বলছেন, চোখে যা দেখে তার হাজার ভাগের একভাগও উপলব্ধি করে না। আমাদের পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা, প্রকৃত পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা কত কম এটাই তার প্রমাণ।
