জোতদারেরা লিংকনকে ‘অলস’ মনে করতেন কেন?
আপনি এভাবে আপনার বক্তৃতা অভ্যাস করলে আপনার দ্বারা খ্যাতনামা বক্তাদের অনুসৃত পথ অনুসরণ করা হবে। লয়েড জর্জ যখন তাঁর নিজ শহর ওলেস্ এর একটি বিতর্ক ক্লাবের সদস্য ছিলেন তখন তিনি অনেক সময় রাস্তায় গিয়ে গাছপালার সামনে গিয়ে বক্তৃতা করে বক্তৃতার মহলা দিতেন।
লিংকন তাঁর প্রথম ব্রেকেন রিজের মতো খ্যাতনামা বক্তাদের বক্তৃতা শোনার জন্যে ৩০ অথবা ৪০ মাইল দূরে চলে যেতেন। বক্তৃতা শুনে এত অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি নিজ কর্মস্থলে ফিরে আসতেন যে, মাঠে তিনি অন্যান্য শ্রমিকদের ডেকে তাদের সামনে বক্তৃতা দিতে শুরু করতেন। ভবিষ্যতে একজন সুবক্তা হবার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা নিয়ে তিনি মাঠে-মাঠে বক্তৃতা করতেন, গল্প বলতেন। এতে তার প্রভু তাঁর উপর সাংঘাতিক অসন্তুষ্ট হতেন এবং বলতেন যে, লিংকন অসম্ভব অলস। তাই সে বক্তৃতা করে বেড়াতে চায় এবং এর ফলে অন্যান্য শ্রমিকেরাও অলস হয়ে পড়ছে।
আসকুইথ প্রথমে অক্সফোর্ডের একটি বিতর্ক ক্লাবে যোগ দেন। এর পরে তিনি নিজেও একটি বিতর্ক সমিতি প্রতিষ্ঠা করেন। উড্র উইলসন একটি বিতর্ক ক্লাবে বক্তৃতা শেখেন। হেনরী ওয়ার্ড বেকারও অনুরূপভাবে বক্তৃতা শিখেছিলেন। সুবক্তা বার্ক ও একইভাবে বক্তৃতা শিখেছিলেন। একই পদ্ধতি অনুসরণ করেছিলেন এ্যান্টানিটা ব্লাকয়েল ও লুস স্টোন। ইলিহুরুট বক্তৃতা শিখেছিলেন নিউইয়র্কের ২৩শতম সড়কের ওয়াই এস সি এর সাহিত্য সমিতিতে।
খ্যাতনামা বক্তাদের জীবনী আলোচনা করুন, একটি বিষয় আপনি সবার মধ্যে সাধারণ দেখবেন। সেটা হচ্ছে, বক্তৃতা শেখা, অভ্যাস করা, মহলা দেয়া। যারা যত বেশি অভ্যাস করেছেন তাঁরা তত তাড়াতাড়ি সাফল্য অর্জন করেছেন।
এর জন্যে কি কোনো সময় প্রয়োজন হয়? জোসেফ সোয়াটে কী পদ্ধতি অনুসরণ করতেন? তিনি সকাল বেলায় একটি সংবাদপত্র কিনতেন। কাজের অবসরে তার একটি নির্দিষ্ট খবর ঠিক করে নিতেন। অতঃপর কাজ শেষ করে সেই বিষয়টি নির্ভর করে বক্তৃতা তৈরি করতেন।
চাউন্সে এম. ডেপু ছিলেন শ্রমিক নেতা এবং মার্কিন সিনেটর। তিনি প্রতি রাতেই একটি করে বক্তৃতা প্রস্তুত করতেন। ”আমি কাউকে আমার কাজে হস্তক্ষেপ করতে দিই না,“ বলেছেন তিনি। ”আমার কর্মশেষে আমি অফিস হতে ঘরে ফিরি এবং রাতে বক্তৃতা প্রস্তুত করি।”
প্রতিদিন আমরা আমাদের নিজেরদের হাতে কয়েক ঘণ্টা সময় পাই, সে সময়টি আমরা আমাদের ইচ্ছানুযায়ী কাজে লাগাতে পারি। শরীর রোগা ছিল বলে ডারউইন ঠিক এভাবে কাজ করতেন। দিনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র তিন ঘণ্টা করে কাজ করে তিনি এত খ্যাত হয়েছেন।
থিউডর রুজভেল্ট প্রেসিডেন্ট থাকাকালে প্রতিদিন পূর্বাহ্নে তিনি হোয়াইট হাউসে বসে পাঁচ মিনিট করে সাক্ষাৎকার দিতেন। এই সময়েও তার সাথে বই থাকতো। একব্যক্তি বা দল নিষ্ক্রান্ত হলে অপর ব্যক্তি বা দল আসতে যে কয়েক সেকেন্ড সময় লাগবে তাও যাতে ব্যর্থ না হয় এই উদ্দেশ্যে তিনি বই রাখতেন।
আপনি যদি ব্যস্ত ব্যক্তি হন এবং আপনার অপচয় করার মতো যদি সময় না থাকে তাহলে আপনি অর্কনেড ব্যানেট এর লেখা বই ”দিনের ২৪টি ঘন্টা কাটানোর উপায়” পড়ুন। আপনি কাজের ফাঁকে যে কয়েকটি মুহূর্ত সময় পাবেন সে মুহূর্তগুলিতে তা পড়ুন। এইভাবে মাত্র ছ’দিনে আমি বইটি পড়ে শেষ করেছি। তা হলে আপনি বুঝতে পারবেন, কীভাবে সময় বাঁচানো যায়। কীভাবে অবসর সময় কাজে লাগিয়ে আরো লাভবান হওয়া যায়।
আপনি ব্যস্ত ব্যক্তি। কাজ থাকলেও আপনার অবসর প্রয়োজন। এই অবসর সময়ে ঘরে বসে আপনি আপনার পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বললেও অনেক কিছু শিখতে পারবেন, যা আপনাকে আপনার বক্তৃতা প্রস্তুতিতে সাহায্য করতে পারে, আপনার বক্তব্যের সহায়ক হতে পারে।
সংক্ষিপ্তসার :
১। ”যুদ্ধের কৌশল”, বলেছেন নেপোলিয়ন, “একটি বিজ্ঞান, সুচিন্তিতভাবে হিসাব করে না-গেলে তাতে সফল হওয়া যায় না”। শিকার করার ক্ষেত্রেও এটি অনুরপ সত্য। বক্তৃতা একটি সমুদ্র যাত্রা বিশেষ সুতরাং এটি নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। যে বক্তৃতার শুরুর ঠিক থাকে না, সাধারণত তার সমাপ্তিরও কোনো ঠিকানা পাওয়া যায় না।
২। মনের ধ্যান ধারণাকে সঠিকভাবে সাজানো এবং বক্তৃতা প্রণয়ন করার প্রচলিত কোনো আইন কানুন বা বিধি নেই। প্রতিটি বক্তৃতায় থাকে আলাদা-আলাদা সমস্যা।
৩। একজন যখন বক্তৃতা করেন তখন তাঁর বক্তব্যের বিশেষ একটি পয়েন্ট একবারেই ব্যাখ্যা করা উচিত। বক্তৃতাকালে দ্বিতীয় দফে এটির পুনরুল্লেখ ঠিক নয়। এই প্রসঙ্গে ফিলাডেলফিয়ার সংক্ষিপ্ত ভাষণটি উল্লেখ করা যায়। কোনো বক্তৃতায় কোনো বিশেষ পয়েন্টের পুনরুক্তি এবং একবার সামনে একবার পেছনে যাওয়া উচিত নয়।
৪। মৃত ডা. কনওয়ের্ক নিম্ন পরিকল্পনা ভিত্তিতে ভাষণ প্রস্তুত করতেন;
ক। তথ্য প্রকাশ করা।
খ। এর উপর বিতর্ক।
গ। কাজের জন্য আবেদন করুন।
৫। নিম্ন পরিকল্পনা আপনার জন্যে সহায়ক হতে পারে।
ক। ভুল দিকটি তুলে ধরুন।
খ। কীভাবে সংশোধন করা যায় তা বলুন।
গ। কাজের জন্যে আবেদন করুন।
৬। নিম্নটি হচ্ছে একটি উল্লেখযোগ্য পরিকল্পনা :
ক। শ্রোতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করুন।
খ। আস্থা অর্জন করুন।
