বারবারা বার্টনকে বলল, তোমার একজন শত্রু হলো।
বার্টন বলল, আমার অনেক শত্রু আছে।
এরপর ডানকান ট্রেন্ট এসে বার্টনকে স্পষ্ট বারবারার কাছ থেকে সরে যেতে বলল।
শান্তভাবে বার্টন বলল, আমার মনে হয় এ ব্যাপারটা বারবারার উপরেই ছেড়ে দেয়া ভাল। কে সরে যাবে না যাবে সেটা সেই ঠিক করবে।
এতে ট্রেন্ট প্রথমে আঘাত করে বার্টনকে। বার্টন তখন জোরে একটা ঘুষি মেরে ফেলে দেয় ট্রেন্টকে।
পরদিন সকালে লর্ড জন গোদেনষ্কিকে জানিয়ে দেয় বঙ্গানিতে পৌঁছে গেলেই কাজ থেকে ছাড়িয়ে দেয়া হবে তাকে। সকলেই এড়িয়ে চলতে লাগল গোদেনস্কিকে। এমন কি স্মিথ ও পিটারসনও তাকে দেখতে পারত না। সারাদিন সে তাই একা একা মুখ ভারী করে পথ চলত ও তার কাজ করে যেত।
আগুনের মত গরম রোদের নিষ্ঠুর তাপে সকলেরই কষ্ট হচ্ছিল। মালবাহী কুলিদের কষ্ট হচ্ছিল সবচেয়ে বেশি। গল্ট সব সময় ছোটাছুটি করে কুলিদের দেখাশোনা আর বকাবকি করছিল।
এক সময় ধৈর্য হারিয়ে ফেলে গল্ট একটা কুলিকে মারতে মারতে মাটিতে ফেলে দিল। সে উঠে দাঁড়ালে আবার তাকে ফেলে দিল।
বার্টন তখন নিকটেই ছিল। সে গল্টের সামনে এসে বলল, খবরদার মারবে না বলে দিচ্ছি।
গল্ট বার্টনকে বলল, তুমি নিজের চরকায় তেল দাওগে। এ সফরী আমি পরিচালনা করছি।
বার্টন বলল, কার সফরীকে পরিচালনা করছ তা আমি দেখতে চাই না। তুমি কোন লোককে মারবে না বা গালাগালি দেবে না।
গল্ট সঙ্গে সঙ্গে একটা ঘুষি চালিয়ে দিল। বার্টন সরে গিয়ে সেটা এড়িয়ে গেল। তারপর এক ঘুষিতে ফেলে দিল গল্টকে।
সফরীতে আসার পর এই হলো বার্টনের তিন নম্বর লড়াই।
লর্ড জনকে বার্টন বলল, আমি দুঃখিত রামসগেট সকলের সঙ্গেই আমার ঝগড়া বাধছে।
তাকে সমর্থন করে রামসগেট বলল, তুমি ঠিকই করেছ।
বারবারাও বলল, গল্টকে উচিৎ শিক্ষা দিয়ে খুব ভাল করেছ তুমি। লোকটাকে সবাই খারাপ বলে।
বার্টন বলল, আর কারো সঙ্গে শত্রুতা করতে হবে না। আগামীকালই আমরা বঙ্গানিতে পৌঁছব।
এর পর পরস্পরকে শুভরাত্রি জানিয়ে সকলেই শুতে চলে গেল শিবিরের মধ্যে। শুয়ে শুয়ে ভাবতে লাগল বার্টন, আজ সে সত্যিই সুখী। আগামীকালই তার বাবার সঙ্গে দেখা হবে। তাছাড়া বারবারাকে সে পেয়েছে প্রেমিকারূপে।
শান্তিপূর্ণ এক স্তব্ধতা বিরাজ করছিল নৈশ শিবিরের মধ্যে। জ্বলন্ত আগুনের পাশে বসেছিল তন্দ্রাচ্ছন্ন প্রহরী। দূরে এক সিংহের গর্জন শোনা গেল। জ্বলন্ত আগুনে বেশি করে কাঠ ফেলে দিল আস্কারি।
তখনো কিছুটা রাত ছিল। ভোর হয়নি ভাল করে। আগের প্রহরীর পর নতুন যে প্রহরী এসেছে সে একগাদা কাঠের পাশে পিঠ দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিল।
ঘুম ভাঙ্গতেই দৈত্যাকার নগ্ন এক শ্বেতাঙ্গকে আগুনের ধারে বসে থাকতে দেখে চমকে ওঠে সে। ভাল করে চোখ মেলে দেখে বুঝল এটা স্বপ্ন নয়, তার দেখার কোন ভুল হয়নি।
প্রহরী দৈত্যাকার লোকটিকে বলল, কে তুমি? কোথা থেকে এসেছ? তুমি যদি কোন দৈত্যদানব হও তাহলে আমি তোমাকে খাবার এনে দেব। কোন ক্ষতি করো না আমার।
আগন্তুক লোকটি বলল, আমার নাম টারজান। এটা কার সফরী?
প্রহরী বলল, এ সফরী দু’জনের-বাওয়ানা রোমানক আর বাওয়ানা রামসগেটের।
টারজান বলল, ওরা বঙ্গানি যাচ্ছে ত?
আমরা আগামীকালই বঙ্গানিতে পৌঁছব।
ওরা শিকার করে?
বাওয়ানা রোমানক শিকার করে। কিন্তু বাওয়ানা রামসগেট শুধু ছবি তোলে।
এরপর টারজান বলল, তোমাদের শিবিরের মধ্যে একজন মৃত লোক আছে।
এই বলে শ্বেতাঙ্গদের শিবিরটার দিকে হাত বাড়িয়ে দেখাল।
শিবিরের ভিতরে গিয়ে প্রহরী ডাকাডাকি করে সকলকে তুলল। বলল, কোথা থেকে দৈত্যের মত একটা নগ্নদেহ শ্বেতাঙ্গ এসে বলছে এই শিবিরের মধ্যে একটা মৃত লোক পড়ে আছে।
সকলেই টারজনের চেহারা দেখে অবাক হয়ে গেল। ভয় পেয়ে গেল। অবশেষে রামসগেট তার কাছে গিয়ে কথা বলল তার সঙ্গে।
টারজান বলল, আমার নাম টারজান। সত্যিই এই শিবিরের মধ্যে একটা লোক মরে পড়ে আছে।
রামসগেট বলল, কি করে বুঝলে তুমি?
বাতাসে গন্ধ পেয়ে বুঝলাম। মানুষ মরে গেলেই এটকা বিশেষ গন্ধ বার হয় তার দেহ থেকে।
সকলেই হেসে উড়িয়ে দিল তার কথাটা। বলল, নোকটা পাগল।
কিন্তু রামসগেট গল্টকে ডেকে খোঁজাখুঁজি করতে বলল। বলল, সবাইকে ডেকে তোল। আজ খুব সকালেই যাত্রা শুরু করব।
এমন সময় একজন ভৃত্য ছুটতে ছুটতে এসে খবর দিল বার্টন তার ঘরে মরে পড়ে আছে।
সকলেই বলতে লাগল, ঐ উলফঙ্গ আধ-পাগলা লোকটাই খুন করেছে বার্টনকে। কিন্তু লর্ড জন রামসগেট বা বারবারা এ কথা মানতে পারল না। ওরা বলল, ওর তাতে স্বার্থ কি? তাছাড়া প্রহরী বলছে, মাত্র কিছুক্ষণ আগে আসে লোকটা। এসে ঠাণ্ডায় আগুন পোয়াতে থাকে।
টারজান শান্তভাবে বলল, আমি আসার আগেই লোকটি নিহত হয়।
বার্টনের মৃতদেহ পরীক্ষা করে দেখা গেল। তার পিঠে ছোরা মারা হয়েছে। ছোরাটা তার হৃৎপিণ্ডটাকে বিদ্ধ করেছে।
রামসগেট বলল, আগন্তুককে সন্দেহ করার কোন অর্থ হয় না। বারবারা বলল, বার্টনের শত্রু ছিল এই শিবিরে। গল্ট আর ট্রেন্টের সঙ্গে তার মারামারি হয় এবং ওরা তাকে খুন করবে বলে ভয় দেখায়।
অবশেষে ঠিক হলো বঙ্গানিতে গিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হবে ব্যাপারটাকে। পুলিশ প্রমাণ করবে কে খুন করেছে।
গল্ট আর ট্রেন্ট বলল, লোকটাকেও আমরা বেঁধে সঙ্গে করে নিয়ে যাব।
