আতন থোমের কানের কাছে মুখটা এনে মাগরা ফিসফিস করে কি বলতেই আতন থোমের মুখটা উজ্জ্বল হয়ে উঠল। বলল, চমৎকার। আগামী কালই লাল টাস্ক এ কাজটা সেরে ফেলবে। ওৎ ফেঙ এখন তারই কাজ করছে। সে না পারলে উলফ এ কাজ করবে।
পরদিন সকালে ছাদের উপর গ্রেগরিরা টারজনের সঙ্গে যখন প্রাতরাশ করছিল তখন উলফ এল। গ্রেগরি টারজনের সঙ্গে উলফফের পরিচয় করিয়ে দিল। টারজনের পরনে কৌপীন আর তার হাতে আদিমকালের অস্ত্র-শস্ত্র দেখে উলফফু বলল, এ যে দেখছি একটা বুনো লোক। একে আপনি সঙ্গে নেবেন গ্রেগরি?
গ্রেগরি বলল, টারজনের উপর আমাদের অভিযানের সব দায়িত্ব থাকবে।
উলফ বলল, সেকি? সে কাজ ত আমার।
টারজান বলল, সেটা আগের কথা। এখন যদি শুধু শিকারী হিসেবে আমাদের দলে আসতে চাও তাহলে আসতে পার।
উলফ কিছুক্ষণ ভেবে বলল, ঠিক আছে। তাই যাব।
টারজান বলল, আগামীকাল নৌকায় করে আমরা বাঙ্গা যাচ্ছি। সেখানেই তুমি অপেক্ষা করবে। তার আগে তোমাকে কোন দরকার নেই।
ক্ষুণ্ণ মনে চলে গেল উলফ।
গ্রেগরি বলল, আমার মনে হচ্ছে ওকে শক্ত করে তুললে।
টারজান তাচ্ছিল্যভরে বলল, আমি ত ওকে একটা কাজ দিয়েছি। তবে ওর উপর কড়া নজর রাখতে হবে।
দার্ণৎ বলল, উলফ আবার আসছে।
উলফ এসে সরাসরি গ্রেগরিকে বলল, আমি ভাবলাম আমরা কোথায় যাচ্ছি তা একবার ভাল করে জেনে নেয়া দরকার। কোথায় কোথায় ভাল শিকার পাওয়া যায় সেই সব জায়গাগুলোও দেখতে হবে। আপনার কাছে ম্যাপ আছে?
গ্রেগরি বলল, আছে। হেলেন, তোমার কাছে ছিল ম্যাপটা। কোথায় সেটা?
হেলেন বলল, উপরের ড্রয়ারটায়।
গ্রেগরি বলল, এস উলফ দেখি একবার চোখ বুলিয়ে।
উলফকে নিয়ে গ্রেগরি হেলেনের ঘরে গেল। বাকি সবাই ছাদেই বসে রইল। ড্রয়ারের কাগজপত্র ঘেঁটে ম্যাপটা বার করল গ্রেগরি। তারপর টেবিলের উপর ম্যাপটা খুলে ধরল উলফ। সেটা কিছুক্ষণ খুঁটিয়ে দেখে বলল, আমি ওদেশের কিছুটা জানি। কিন্তু আমি আশেয়ারের নাম শুনিনি কখনো।
কিছুক্ষণ পর উলফ বলল, আমাকে ম্যাপটা একবার দিন না, কালই আমি এটা ফেরত দিয়ে যাব।
মাথা নেড়ে অসম্মতি জানিয়ে গ্রেগরি বলল, ম্যাপটা আমি হাতছাড়া করতে পারি না।
উলফ বলল, ঠিক আছে।
সেদিন দার্ণৎ টারজান আর গ্রেগরিদের লাঞ্চে নিমন্ত্রণ করেছিল। খাবার পর দার্ণৎ হেলেনকে দেখতে পেল না। শুনল, হেলেন বাজারে গেছে কিছু জিনিসপত্র কেনার জন্য। দার্ণৎ আগেই তাকে নিষেধ করেছিল, সে যেন বাজারে একা না যায়, কারণ জায়গাটা ভাল নয়। তবু হেলেন সে নিষেধ শোনেনি।
এদিকে আতন থোম তখন ও; ফেঙের দোকানের পিছন দিকের একটা ঘরে বসে লাল টাস্কের পথ চেয়ে বসেছিল উদ্বিগ্ন হয়ে। পাশের একটা ঘরে মাগরা হেলেনকে পাহারা দিচ্ছিল। হেলেন এক সময় বলল, আচ্ছা, ম্যাপটা পেলে কি ওরা আমায় ছেড়ে দেবে?
মাগরা বলল, ম্যাপটা পেলেও এখান থেকে ওরা নিরাপদে চলে না যাওয়া পর্যন্ত ছাড়বে না তোমাকে। আমি এ জন্য খুবই দুঃখিত। আতন থোম এখন হীরের লালসায় উন্মাদ হয়ে উঠেছে। ও ম্যাপটা না পাওয়া পর্যন্ত শান্ত হবে না।
হেলেন বলল, ম্যাপটা না পেলেও ওরা কি সত্যি সত্যিই আমাকে দূরে কোথাও নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে দেবে?
মাগরা বলল, হ্যাঁ দেবে।
এমন সময় লাল টাস্ক আতন থোমের ঘরে এসে ঢুকল। বলল, একটা কাগজ এক টুকরো পাথরের সঙ্গে বেঁধে ফেলে দিয়েছে। দেখ কি লিখেছে।
থোম পড়ে দেখল, ওরা লিখেছে ম্যাপটা চুরি হয়ে গেছে।
থোম বলল, আমি ম্যাপ ছাড়াই আশেয়ারে যাব। ওর মেয়েকে আমি কোনদিন ছাড়ব না। দেখ কে ডাকছে।
লাল দরজা খুলে দেখল উলফ। সে এসেই বলল, আশেয়ারে যাবার পথ-নির্দেশের ম্যাপটা পেলে কি দেবে তুমি?
থোম বলল, পাঁচশো পাউন্ড।
উলফ বলল, হাজার পাউন্ড দেবে আর যা হীরে পাবে তার অর্ধেক অংশ। তাহলে ম্যাপটা দেব।
আতন থোম বলল, কি করে দেবে?
উলফ বলল, আমি ম্যাপটা হেলেনের ঘর থেকে চুরি করে এনেছি।
থোম বলল, তোমার কাছেই আছে তাহলে?
উলফ বলল, ম্যাপটা কাড়ার চেষ্টা করবে না। টাকা দাও, ম্যাপটা নিয়ে নাও।
উলফ তার পকেট থেকে ম্যাপটা বার করে থোমকে দেখাল। কিন্তু তার হাতে ছেড়ে দিল না। থোম তার পকেট থেকে ইংল্যান্ডের একটা ব্যাঙ্ক থেকে আনা একতাড়া নোটের বান্ডিল বার করে তার থেকে পাঁচশো পাউন্ড বার করে উলফফের হাতে দিল।
উলফ বলল, তোমার মত টাকা থাকলে আমি কখনো এত বিপদের ঝুঁকি নিয়ে হীরের খোঁজে যেতাম না।
থোম বলল, তুমি কি তাহলে গ্রেগরিদের সঙ্গে যাচ্ছ?
উলফ বলল, নিশ্চয়! আমি গরীব মানুষ, একটা কাজ চাই ত। তবে তুমি আশেয়ারে পৌঁছলে এবং হীরের খোঁজ পেয়ে গেলে আমি তোমার কাছে গিয়ে হাজির হব। তার অর্ধেক ভাগ আমায় দিতেই হবে।
থোম বলল, তুমি আর একটা উপকার আমার করতে পার। আমি মাগরাকে গ্রেগরিদের দলে পাঠাচ্ছি। সে তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করবে। তোমার কাজ হবে তাদের ভুল পথে চালিত করা। তারা পথ হারিয়ে ফেললে তুমি মাগরাকে নিয়ে সোজা আশেয়ারে চলে আসবে। ওখানকার পথ তোমার চেনা আছে। তুমি আমার শিবিরে গিয়ে উঠবে বুঝলে?
উলফ বলল, বুঝেছি। আমি তাহলে যাচ্ছি।
সেদিন দুপুর রাতে আতন থোম লাল টাস্ক আর হেলেনকে নিয়ে একটা স্টীমারে চাপল। স্টীমারে ওঠার সময় মাগরাকে বিদায় দিয়ে বলল, যে কোন অছিলায় গ্রেগরিদের দলে যোগদান করবে। উলফকে আমি বিশ্বাস করি না। তার উপর নজর রাখবে। তাছাড়া তুমি গ্রেগরিদের দল ত্যাগ না করা পর্যন্ত ওকে আমি ছাড়ব না।
