এই বলে টারজান প্যাট্রিসিয়ার হাত ধরে পাহাড় থেকে নামতে লাগল। তাদের পিছনে এক বিরাট জনতা গান গাইতে গাইতে আসতে লাগল। নগরদ্বারের কাছে এসেই থমকে দাঁড়িয়ে পড়ল টারজান।
টারজান এক অদ্ভুত চীৎকার করল। একটা হাতির নাম ধরে ডাকতে লাগল। তার ডাক শুনে একটা হাতিও চীৎকার করতে করতে ছুটে এল।
প্যাট্রিসিয়া ভয় পেয়ে গেল। কিন্তু টারজান বলল, আমার বন্ধু। ভয়ের কিছু নেই।
এই বলে হাতিটার শুঁড়ের উপর হাত রাখল টারজান। তারপর সে তাদের একে একে পুঁড় দিয়ে তুলে নিতে বলল।
তারা হাতির পিঠে চাপলে হাতিটা ঘুরে যাত্রা শুরু করতেই ওরা দু’জনেই পিছন ফিরে দেখল চিচেন ইজার সব লোক নতজানু হয়ে প্রার্থনা করছে এবং তাদের মাথাগুলো মাটিতে ঠেকানো আছে।
এদিকে শিবির সাইগনে তখন সকলেই টারজনের আশা একরকম ছেড়েই দিয়েছে। তারা ভাবছিল টারজান আর প্যাট্রিসিয়াকে আর তারা দেখতে পাবে না কখনো।
কর্নেল বললেন, কেন তুমি লোকটার বিরুদ্ধে শুধু শুধু তিক্ত হয়ে উঠছ। সে ত আমাদের সঙ্গে মিত্রতা ছাড়া কখনো শত্রুতা করেনি।
এমন সময় জেনেত্তে বলল, টারজান এসে গেছে। সঙ্গে প্যাট্রিসিয়া।
হাতির পিঠ থেকে নেমে ছুটে শিবিরে চলে এল প্যাট্রিসিয়া।
এমন সময় দূরে সমুদ্রের উপর একটা জাহাজ দেখা গেল।
ক্যাপ্টেন বোল্টন চোখে বাইনাকুলার দিয়ে দেখে বলল, আরে এটা ত নাইয়াদ জাহাজ, ভাসতে ভাসতে এই দিকেই আসছে।
টারজান ও নিষিদ্ধ নগরী (টারজান এ্যাণ্ড দি ফরবিডন সিটি)
তখন বর্ষা শেষ হয়ে গেছে। দুপুরবেলা। একটা হাতির পিঠের উপর পা ছড়িয়ে শুয়েছিল টারজান।
কিছুক্ষণের মধ্যেই একজন নিগ্রো টারজনের সামনে এসে দাঁড়াল।
টারজান বলল, কি খবর ওগাবি?
ওগাবি বলল, আমি এখন শ্বেতাঙ্গ মালিক গ্রেগরির সফরিতে যোগদান করেছি। গ্রেগরি আমাকে বড় মালিক টাজনের খোঁজে পাঠাল।
টারজান বলল, আমি গ্রেগরিকে চিনি না। কি জন্য আমাকে খুঁজতে পাঠাল?
সে আপনাকে তার কাছে লোয়াঙ্গো গায়ে নিয়ে যেতে বলল আমাকে।
না, টারজান সেখানে যাবে না। গাঁটা বড় নোংরা আর লোকগুলো খুব খারাপ।
কিন্তু মালিক দার্ণৎ বলল টারজান আসবেই।
টারজান এবার আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞাসা করল, লোয়াঙ্গো গাঁয়ে দার্ণৎ এল কি করে? এ কথা আগে বলনি কেন আমাকে?
এই কথা বলেই হাতির পিঠ থেকে এক লাফে নেমে হাতিটাকে বিদায় জানিয়ে সেই মুহূর্তে লোয়াঙ্গো গাঁয়ের পথে রওনা হয়ে পড়ল টারজান। ওগাবি তাকে অনুসরণ করতে লাগল।
লোয়াঙ্গো গাঁয়ে তখন দারুণ গরম। ফরাসী নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন পল দার্ণৎ কোন একটা হোটেলের ঘরে টেবিলের তলায় পা ছড়িয়ে একটা চেয়ারের উপর বসেছিল। হেলেন গ্রেগরির সুন্দর চেহারাটার পানে একদৃষ্টিতে তাকিয়েছিল।
হেলেন একসময় দার্ণৎকে বলল, আপনি কি মনে করেন যে টারজানকে আপনি ডেকে পাঠিয়েছেন তিনি ব্রিয়ানকে খুঁজে বার করতে পারবেন?
পল দার্ণৎ বলল, সারা আফ্রিকার জঙ্গলে কোথায় কি আছে তা টারজনের মত এত ভাল করে আর কেউ জানে না। তাবে মনে রাখবে তোমার ভাই নিখোঁজ হয়েছে আজ থেকে দু’বছর আগে।
হেলেনের বাবা ঘরেই ছিলেন। তিনি এগিয়ে এসে বললেন, হ্যাঁ ক্যাপ্টেন, আমি বুঝি আমার ছেলে। হয়ত মারা গেছে।
হেলেন বলল, না বাবা, ব্রিয়ান এখনো মরেনি। আমি তা জানি। আমি অনেককে জিজ্ঞাসা করে অনেক খোঁজ-খবর নিয়ে জেনেছি, অভিযানকারীদের মধ্যে চারজন মারা যায় আর বাকি সবাই পালিয়ে যায়। মৃতদের দলে ব্রিয়ান ছিল না।
গ্রেগরি বলল, দেরী হয়ে গেলে মুস্কিল হয়ে যাবে। ওগাবী গেছে প্রায় এক সপ্তাহ হয়ে গেল। কিন্তু টারজনের এখনো দেখা নেই। তাকে হয়তো খুঁজে পায়নি। আমি অবিলম্বে রওনা হতে চাই। তাছাড়া উলফও ভাল লোক। সেও নাকি আফ্রিকার সব জায়গা চেনে।
দার্ণৎ বলল, আপনি হয়ত ঠিকই বলেছেন তবে টারজান আপনাদের সঙ্গে থাকলে ভাল হত।
সেই ঘরেরই এক প্রান্তে অন্য একটি টেবিলে এক যুবতী তার পাশের একজন সঙ্গীর সঙ্গে কথা বলছিল। যুবতী মেয়েটির নাম মাগরা আর লোকটির নাম লাল টাস্ক।
এমন সময় টারজান ঘরে ঢুকে সোজা দার্ণৎতের কাছে গিয়ে দাঁড়াতেই বিস্ময়ে অবাক হয়ে গেল ওরা সবাই। মাগরা আশ্চর্য হয়ে বলল, এ কখনো হতে পারে না।
গ্রেগরি আর হেলেনও টারজানকে দেখে বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে উঠল, কারণ টারজানকে দেখতে অনেকটা ব্রিয়ানের মত।
দার্ণৎ গ্রেগরিদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিল টারজনের। গ্রেগরি বললেন, আশ্চর্যজনক চেহারার মিল।
ওদিকে মাগরা লাল টাস্ককে বলল, ওই হচ্ছে ব্রিয়ান গ্রেগরি।
লাল বলল, ঠিক বলেছ তুমি। ওর জন্য আমরা কয়েক মাস ধরে খোঁজ করছি আর ও আমাদের হাতের কাছে এসে পড়ল। ওকে আতন থোমের কাছে ধরে নিয়ে যেতে হবে। কিন্তু কি করে নিয়ে যাব সেটাই ভাবনার কথা।
মাগরা লালকে নিয়ে ভিতরের দিকে একটা ঘরে চলে গেল। মাগরা বলল, সোজাসুজি বললে বা আমাদের দেখলে ও আসবে না। একটা ছেলেকে দিয়ে একটা চিঠি পাঠাচ্ছি।
টারজান যখন দার্ণৎ আর গ্রেগরির সঙ্গে কথা বলছিল তখন হঠাৎ হোটেলের একটি বালকভৃত্য এসে টারজনের হাতে একটা চিঠি দিল।
টারজান চিঠিটা পড়ে দার্ণৎকে বলল, লিখেছে পাশের ঘরে এখনি আমাকে দেখা করতে হবে। তলায় পুরনো বন্ধ এই বলে নাম সই করেছে। বিশেষ জরুরি।
