ক্যাসিয়াসের নির্দেশে সিজারের প্রাসাদে গেল ব্রুটাস ডেসিয়াস সিজার তাকে বললেন গতরাত ঘুমের মাঝে দুঃস্বপ্ন দেখেছে তার স্ত্রী। তাই তিনি স্থির করেছেন আজ সেনেটে যাবেন না।
ডেসিয়াস ব্রুটাস বললেন, আপনার স্ত্রী কি দুঃস্বপ্ন দেখেছেন তা কি আমায় শোনাবেন?
সিজার বললেন, নিশ্চয়ই শোনাব। কাল রাতে আমার স্ত্রী স্বপ্ন দেখেছে যে আমার প্রতিমূর্তির মুখ থেকে ঝলকে ঝলকে রক্ত বেরুচ্ছে এবং রোমের বিশিষ্ট নাগরিকরা হাসিমুখে সেই রক্ত দিয়ে তাদের হাত ধুয়ে নিচ্ছেন। স্ত্রীর মতে এই স্বপ্ন আমার জীবন সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তাই স্থির করেছি আজ আর বের হব না।
ডেসিয়াস ব্রুটাস বলল, মাননীয় সিজার! আপনার স্ত্রীর প্রতি যথাযোগ্য শ্রদ্ধা নিয়েই বলছি স্বপ্নের যে ব্যাখ্যা উনি দিয়েছেন তা ঠিক নয়। বরঞ্চ উনি যে স্বপ্ন দেখেছেন তা সব দিক দিয়েই সৌভাগ্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আপনার প্রতিমূর্তির মুখ দিয়ে ক্ষণে ক্ষণে রক্ত বেরুচ্ছে আর সেই রক্তে বিশিষ্ট রোমান নাগরিকরা হাত ধুচ্ছেন-এর অর্থ নানা দেশের রক্ত সংগ্রহ করে রোমের অতীত গৌরব ফিরিয়ে আনবেন আপনি। আর এ কাজে রোমের বিশিষ্ট নাগরিকরা সাহায্য করবেন। আপনাকে। আপনি কেন এই সুলক্ষণযুক্ত স্বপ্নকে দুঃস্বপ্ন বলে ধরে নিচ্ছেন মাননীয় সিজার?
তাহলে তুমি আমার স্ত্রীর স্বপ্নের এই ব্যাখ্যা করছ? বললেন সিজার, আসলে এভাবে আমি ব্যাপারটা ভেবে দেখিনি।
ব্রুটাস ডেসিয়াস বললেন, এবার আমার কথা শুনুন মহামান্য সিজার। আজ সেনেটেররা আপনার মাথায় রাজমুকুট পরাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আপনি না গেলে হয়তো তাদের সিদ্ধান্তের পরিবর্তনও হতে পারে। ভুলে যাবেন না, আপনার স্ত্রী দুঃস্বপ্ন দেখেছেন বলে আপনি সেনেটে যাবেন না, তাহলে সেনেটরদের কাছে আপনার মান-মর্যাদা থাকবে কি? আপনি তাদের কাছে কাপুরুষের পর্যায়ে পড়ে যাবেন।
মনে মনে স্ত্রীর কথা ভেবে বললেন সিজার, কালফুর্নিয়া! দুঃস্বপ্ন দেখে যে ভয় তুমি পেয়েছ তা নিছক ভিত্তিহীন— এতে কোনও সন্দেহ নেই আমার। ওহে কে আছ! আমার সেনেটে যাবার পোশাকগুলো এনে দাও।
ডেসিয়াস চলে যাবার আগেই একে একে সেখানে এলেন ক্যাসিক, সিন্না, মেটেলাস, লিগারিয়াস, ট্রোবনিয়াস এবং ক্যাবলিয়াস।
তাদের সবাইকে দেখে অবাক হয়ে বললেন সিজার, কী ব্যাপার! তোমরা সবাই এসে হাজির হয়েছ আমার বাড়িতে? তোমাদের সবাইকে জানাই সুপ্ৰভাত। ঠিক সে সময় এসে হাজির মার্ক অ্যান্টনি।
তাকে দেখে হেসে বললেন সিজার, কী ব্যাপার অ্যান্টনি! অনেক রাত অবধি ফুর্তি করেও এই সাত সকালে এসেছ তুমি?
সিজারকে হাসিমুখে অভিবাদন জানিয়ে অ্যান্টনি বললেন, সুপ্ৰভাত সিজার।
এক এক করে সবার দিকে তাকিয়ে বললেন সিজার, এসো, ভেতরে গিয়ে আমার সাথে সামান্য মদ্যপান করবে। তারপর আমরা সবাই একসাথে সেনেটে যাব।
এদিকে আর্তেমিদোরাস নামে এক গ্রিক অধ্যাপক কোনওভাবে জানতে পেরেছিলেন সিজারকে হত্যার চক্রাস্তের কথা। তিনি সিজারকে উদ্দেশ্য করে চক্রান্তকারীদের সবার নাম জানিয়ে একটা চিঠি লিখলেন। যেদিক দিয়ে সিজার সেনেটে ঢুকবেন তিনি তার একাধারে চিঠিটা হাতে নিয়ে অপেক্ষা করতে লাগলেন যে জ্যোতিষী ১৫ মার্চের ব্যাপারে সিজারকে সাবধান করে দিয়েছিলেন তিনিও এসে দাঁড়ালেন অধ্যাপকের পাশে। জ্যোতিষীকে দেখে সিজার বললেন, আরে, ১৫ মার্চ তো এসে গেছে। আজই তো সেই দিন!
সিজারের প্রবল আত্মবিশ্বাস দেখে জ্যোতিষী বললেন, হ্যাঃ সিজার! আজই। ১৫ মার্চ। দিনটা সবে শুরু হয়েছে, শেষ হতে এখনও বাকি। জ্যোতিষীকে পাত্তা না দিয়ে সিজার এগিয়ে যাবেন এমন সময় অধ্যাপক আর্তেমিদোরাস তার লেখা চিঠিটা সিজারের হাতে দিয়ে বললেন, মহামান্য সিজার! দয়া করে আমার আবেদনটা পড়ে দেখুন। সিজারের বিরুদ্ধে চক্রান্তকারীদের অন্যতম মেটেলাস ট্রোবনিয়াসও তার আবেদনপত্রটি এগিয়ে দিলেন সিজারের দিকে। সেটি পড়ে দেখার জন্য ডেবিয়াস ব্রুটাস অনুরোধ জানালেন সিজারকে। এইসব দেখে ঘাবড়ে গিয়ে গ্রিক অধ্যাপক বললেন, মাননীয় সিজার! আমার আবেদনের সাথে জড়িয়ে আছে আপনার স্বার্থ। অনুগ্রহ করে ওটা আগে পড়ুন।
সিজার বললেন, না, তা হয় না। আপনার আবেদনের সাথে যদি আমার ব্যক্তিগত বিষয় জড়িয়ে থাকে, তাহলে সেটা সবশেষে পড়া হবে।
ব্যস্ত হয়ে অধ্যাপক বললেন, এ নিয়ে আপনি আর দেরি করবেন না সিজার। দয়া করে এটি এখনই পড়ে ফেলুন।
লোকটার মস্তিষ্কের সুস্থতা নিয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে, বললেন সিজার। তারপর অধ্যাপককে উদ্দেশ করে তিনি বললেন, আমি আপনাকেই বলছি, যদি আপনার কোনও আবেদন থাকে, তাহলে সেটা রাস্তায় নয়, সেনেটে এসে আমায় দেবেন।
সবাইকে নিয়ে সেনেটে ঢুকে তার নির্দিষ্ট আসনে বসলেন সিজার। তার বিশ্বস্ত বন্ধু মার্ক অ্যান্টনি কাছেই দাঁড়িয়েছিলেন। কৌশলে তাকে সেখান থেকে সরিয়ে দিলেন ক্যাসিয়াসের বন্ধু ট্ৰেবোনিয়াস।
এবার চক্রান্তকারীরা এগিয়ে গেল তাদের পরিকল্পিত পথে। প্রথমে সেনেটর মেটেলাস নতজানু হয়ে হাতজোড় করে বললেন, মাননীয় সিজার! অনুগ্রহ করে আপনি আমার নির্বাসিত ভাইকে দেশে ফেরার অনুমতি দিন।
তা হয় না মেটেলাস, বললেন সিজার, তোমার ভাই অপরাধী। বিচারে তার অপরাধের উপযুক্ত সাজা পেয়েছে সে। সে সাজা মকুব করার পেছনে কোনও যুক্তি নেই। আর তা তুলে নেবার অধিকারও আমার নেই। আর যাই হোক, দেশের আইন-কানুন ছেলেখেলার বিষয়বস্তু নয়।
