চারমিয়ান থেমে গেল–এটা কোথা থেকে? ওহ, হাওয়াই! মিস মার্পল পড়তে লাগলেন? সত্যিই এটা দুর্ভাগ্যজনক, এই সমস্ত প্রতিবেশী দেশের লোকেরা কখনো ভালো দেখতে পায় না। তারা সমসময় অসভ্য এবং অমার্জিত অবস্থায় বিরাজ করে, সবসময় তারা সময় কাটায় হয় সাঁতার কেটে কিংবা মালা পরে নিজেদের সাজায়। সে এবং মিসেস গ্রে সত্যিই নিরুৎসাহিত ছিল। আমরা সমস্ত কিছু করতে পারি তাকে আনন্দ দিতে। কিন্তু আমরা একটা কারণের জন্য দুঃখিত। তুমি কি জান ম্যাথিউজ কারণটা কি? সত্যি, অনুপস্থিতি হল খুব খারাপ ভালোবাসার হৃদয়ে। তোমার স্নেহপূর্ণ প্রতিবাদমূলক আচরণ আমাকে অনেক আনন্দ প্রদান করেছে। তোমার খুব অনুরক্ত এবং বিশ্বস্ত হৃদয় আছে। এবং আমি তোমার সত্যিকারের ভালোবাসা, বেটি মার্টিন।
আমি আমার বন্ধু মার্টিন গ্রেভসকে চিঠি দিয়েছিলাম। আমি আশাকরি, স্বর্গে আমাদের ক্ষমা করে দেবে।
এডওয়ার্ড সশব্দে বলল–একজন মহিলা মিশনারি। যে কাকা ম্যাথিউজ এর ভালোবাসা ছিল? কিন্তু আমি বিস্মিত হয়ে যাই এটা ভেবে যে কেন তারা বিয়ে করেনি।
আমার মনে হয় সে সমস্ত পৃথিবীটা ঘুরে দেখেছে।
চারমিয়ান বলল, চিঠিগুলো দেখে। সে মেয়েটি মাউরিটিয়াম-এও গেছে। সম্ভবত সে মেয়েলি হলুদ জ্বর কিংবা অন্য অসুখে মারা গেছে।
তারা একটু হাসল এবং তাদের যাত্রা শুরু করল। মিস মার্পলকে খুব আনন্দিত দেখাচ্ছিল।
মিস মার্পল বললেন–এটা খুবই মজার।
মিস মার্পল একটা রান্নার প্রস্তুত প্রণালী পড়েছিলেন। তাদের অনুসন্ধিৎসা দেখে, মিস মার্পল পড়তে লাগলেন। সেঁকা শাকসবজি, একটা স্যামন-এর সুন্দর টুকরো নাও, লবঙ্গ দাও, এবং বাদামী চিনি দিয়ে ঢেকে দাও। অল্প তাপে গরম কর। তারপর সেটাকে শাক দিয়ে পরিবেশন কর। এটাকে কেমন খাবার বলে মনে হচ্ছে?
এডওয়ার্ড বলল–এটা খুব নোংরাজনক খাবার বলে মনে হচ্ছে।
-না না, এটা খুব ভালো হবে। কিন্তু তুমি পুরো ঘটনাটা নিয়ে কি ভাবছ?
এডওয়ার্ডের মুখ হঠাৎ আলোকিত হয়ে উঠল–তুমি কি মনে কর এটা এক ধরনের ক্রাইপটোগ্রামী, সে এটা বাজেয়াপ্ত করেছিল এখানে দেখ, চারমিয়ান, তুমি তাহলে জানতে পারবে। সেখানে গোপন ড্রয়ারে আর কোন রান্নার প্রস্তুত প্রণালী রাখতে হবে না। মিস মার্পল বললেন–ঠিক বলেছ? খুব তাৎপর্যপূর্ণ কথা বলেছ।
চারমিয়ান বলল–আমি জানি এটা কি হতে পারে–এটা কি অদৃশ্য কালি এটাকে গরম হতে দাও। এটাকে ইলেকট্রিকের আগুনে ঘোরাও।
এডওয়ার্ড তাই করল, কিন্তু কোনও লেখা দেখা গেল না।
মিস মার্পল কাশতে শুরু করলেন–তুমি জান আমি মনে করি যে তুমি এটাকে আরো কঠিন বানিয়ে ফেলছ। এই রান্নার প্রস্তুত প্রণালী একটা নির্দেশ বহন করছে। তাহলে বল সেই নির্দেশটা কী। আমি মনে করি চিঠিগুলো খুব তাৎপর্যপূর্ণ এবং গুরুত্বপূর্ণ।
–চিঠিগুলো গুরুত্বপূর্ণ?
মিস মার্পল বললেন–সম্ভবত সইগুলো গুরুত্বপূর্ণ।
কিন্তু এডওয়ার্ড মিস মার্পলের কথায় কান দিল না। সে উত্তেজিত হয়ে বলল –চারমিয়ান, এখানে এস, মার্পল সত্যি কথা বলছেন, খামগুলো দেখ এগুলো পুরনো। কিন্তু চিঠিগুলো অনেক পরে লেখা হয়েছিল।
মিস মার্পল বললেন–ঠিক বলেছ।
–সত্যিই এগুলো নকল চিঠি, কিন্তু পুরনো। আমি এটা হলফ করে বলতে পারি যে কাকা ম্যাট এই সমস্ত জাল চিঠিগুলো নিজে তৈরি করেছে। মিস মার্পল বললেন–হ্যাঁ, খুব অল্প চিঠি জাল করেছে।
সেখানে কোনও মিশনারি নেই আমার বাচ্চারা। এটাকে কঠিন করার কোনও প্রয়োজন নেই। তোমার কাকা একজন সহজ সাধারণ মানুষ। সে অনেক সময় কৌতুক, মজা করতে ভালোবাসে, এটুকুই এর বেশি কিছু নয়।
এই প্রথম চারমিয়ান এবং এডওয়ার্ড মিস মার্পলের কথাগুলো মনযোগ দিয়ে শুনতে লাগল।
চারমিয়ান জিজ্ঞাসা করল–মিস মার্পল আপনি কি বলতে চাইছিলেন।
–আমি বলতে চাইছি যে তোমরা টাকাটা নিজের হাতেই রেখেছিলে।
চারমিয়ান মাথা নিচু করল এবং আর কারোর দিকে তাকাল না। এই সইটা যেটা সমস্ত কিছুকে ছাপিয়ে গেছে। রান্নার প্রস্তুত প্রণালীটা একটা নির্দেশ মাত্র। এই রান্নার প্রণালীতে লবঙ্গ এবং বাদামি চিনি মেশানো ছিল। এবং অবশিষ্ট কি কি ছিল এগুলো বাদে? তাহলে কেন শূকরের জঙ্ঘা এবং শাক বাদ যাবে। শূকরের জঙ্ এবং শাক! সত্যিই এটা খুব দুর্বোধ্য। সুতরাং এটা পরিষ্কার যে, এই চিঠিগুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল, এবং যদি তুমি বিবেচনা কর যে তোমার কাকা মরার আগে কি করেছিল। সে নাকি তার চোখ বন্ধ করেছিল, তুমি বলেছিলে। ঠিক আছে এইগুলিই তোমাকে কিছু সংকেত জ্ঞাপন করবে।
চারমিয়ান বলল–আমরা কি পাগল, না তুমি পাগল? তুমি নিশ্চিতভাবে জান যে কিছু ঘটনা সত্যি ছিল না। আবার কিছু ঘটনা এখনকার দিনে কেউ বিশ্বাস করে না। মিস মার্পল বলল–আমি বেটি মার্টিনকে স্পষ্টভাবে চিঠিতে দেখতে পেয়েছি।
এডওয়ার্ড হাঁপাতে লাগল। সে চিঠিটার দিকে তাকাল এবং বেটি মার্টিনের নাম দেখতে পেল।
মিঃ রোসিটার বলল–সত্যিই এটা ঠিক। তুমি সেটা বলেছিলে। এখানে সেরকম কোনও লোকই নেই। এই চিঠিগুলো তোমার কাকা লিখেছে, এই খামে যে লেখাটা রয়েছে সেটা অনেক পুরনো, এই খামটির সঙ্গে এই চিঠিগুলোর কোনও সম্পর্ক নেই। কারণ একটা খামে পোষ্টমার্ক দেওয়া রয়েছে ১৮৫১ সালের।
