চারমিয়ান নম্র সুরে বলল–কাকা হেনরি সত্যিই খুব ভয়ঙ্কর লোক ছিল।
কারণ সে অবিবাহিত ছিল, তাই তার কোনো বাচ্চা ছিল না, কিন্তু হেনরি বোকাও ছিল না। সে সবসময় বাড়িতে টাকা পয়সার ব্যাপার নিয়ে আলোচনা করত। এবং সে অনেক টাকাও সঞ্চয় করেছিল। এবং সে খুঁটিনাটি ব্যাপারে অতি সতর্কও ছিল বটে, তার অত্যধিক কথা বলার জন্য। একদিন রাত্রিবেলা কিছু বদমায়েশ তার ঘরে জোর করে প্রবেশ করল। তারপর যেখানে হেনরি টাকা রেখেছিল, সেখানে একটি গর্ত কাটল। টাকা-পয়সাগুলো ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য।
এডওয়ার্ড বলল, তোকে ঠিক পথে নিয়ে যাওয়া উচিত ছিল।
মিস মার্পল বললেন-সেখানে কোনও কিছু নিরাপদ ছিল না। সে অনেক টাকা পাঠাগারে বইয়ের তলায় রেখেছিল এবং সে লোকজনদের বারণ করত ওই পাঠাগার থেকে বই নেওয়ার জন্য।
এডওয়ার্ড বাধা দিয়ে বলল–আমি মনে করি, এটা খুব ভালো বুদ্ধি। পাঠাগার সম্বন্ধে আপনি কি জানেন?
চারমিয়ান বিদ্রুপাত্মকভাবে তার মাথা নাড়াল। তুমি কি মনে কর আমি এই বিষয়ে ভাবিনি। আমি প্রত্যেকটি বই গত সপ্তাহের মঙ্গলবার পড়েছি, যখন তুমি পোর্টমাউথে ছিলে। যতই তুমি নাড়াচাড়া কর, সেখানে কিছুই পাবে না।
এডওয়ার্ড দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলল–তারপর সে সেখান থেকে চলে যাওয়ার জন্য পরিকল্পনা করতে লাগল। সে বলল–সত্যিই এটা খুব ভাল মিস মার্পল আপনি আমাদের সাহায্য করতে এসেছেন। কিন্তু আমি বলছি যে এগুলো সব আলোচনা হয়ে গেছে। আমরা এখানে অনেক সময় অতিবাহিত করলাম। যাইহোক এবার আমরা গাড়ি নিয়ে বেরোব। এবং আপনি ৩ টে ৩০-এর গাড়িটা ধরতে পারবেন। কিন্তু মিস মার্পল বললেন, আমাদের কিছু টাকা নিতে হবে। তাই নয় কি মিঃ রোসিটার। তুমি এই ব্যাপারটা ছেড়ে দিয়ো না। যদি তুমি প্রথমে সাফল্য না পাও, তাহলে বার বার চেষ্টা কর।
–তার মানে তুমি চলে যাচ্ছ, আমি চেষ্টা করে যাব।
মিস মার্পল বললেন–আমি একদমই শুরু করিনি। মিসেস বিটন তার রান্নার বইতে বলে, প্রথমে তোমার খরগোসটা ধর। কিন্তু তার রান্নার বই অনেক দামী। এবং প্রত্যেকটা রান্নার প্রণালী শুরু হত এইভাবে। একটু ক্রিম নাও এবং ১২টা করে ডিম নাও। আমাকে দেখতে দাও, আমি কোথায় ছিলাম? ওহ হা মনে পড়েছে। আমি বলছিলাম আমাদের খরগোস ধরার কথা। তোমার কাকাকে ম্যাথিউজকে খরগোস বানিয়ে আমাদের দেখতে হবে কোথায় সে টাকাটা লুকিয়ে রেখেছে। এটা খুব সহজ, সাধারণ হবে বলে মনে হয়।
চারমিয়ান বলে উঠল–আপনি ভাবছেন এটা সহজ হবে?
–হ্যাঁ আমি মনে করি সে সঠিক কাজটাই করেছে–একটা গোপন ড্রয়ার যেখানে সমস্ত সমস্যার সমাধান হবে।
এডওয়ার্ড মনমরা হয়ে বলল–তুমি নিশ্চয়ই এই গোপন ড্রয়ারে সোনা লুকিয়ে রাখনি।
এডওয়ার্ড বলল-না একদমই না। কারণ টাকা কখনো সোনা হতে পারে না।
সে সবসময়ই এটা বলত–কিছু আমার কাকা হেনরি এ বিষয়ে খুব নিশ্চিত ছিল, কিন্তু আমি বিশ্বাস করি সেখানে কিছু গুপ্ত রহস্য আছে। কারণ সেখানে হিরেও একটা গোপন ড্রয়ারে থাকতে পারে।
–আমরা সমস্ত গোপন ড্রয়ারগুলো খুঁজে দেখেছি। আমাদের একজন কেবিনেট প্রস্তুতকারী ছিল সে আসবাবপত্রগুলোর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করত।
-সত্যি, এটা খুব চালাকিপূর্ণ কাজ আমি বলব, তোমার কাকার ডেস্কও এইরকম ছিল।
হ্যাঁ আছে। আমি তোমাকে দেখাব, সেখানে দেখা গেল পায়রার কোটরের মত কুঠুরি, এবং ছোট ছোট ড্রয়ারগুলো। মিস মার্পল মাঝখানের ছোট দরজাটা খুলল এবং একটা স্প্রিং পেল বাম হাতের দিকে ড্রয়ারে। তারপর চারমিয়ান সেটাকে বার করে আনল এবং দেখা গেল সেটা কার।
মিস মার্পল বললেন–তুমি কি মনে কর না এটা কোইনসিডেন্ট, কাকা হেনরিরও এরকম একটা ডেক্স ছিল, তার ডেক্স ছিল ওয়ালনাটের তৈরি এবং এটা মেহগনি কাঠ দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল।
চারমিয়ান বলল–যদি তুমি দেখ, তাহলে দেখবে সেখানে কিছুই ছিল না।
মিস মার্পল বললেন–আমি মনে করি, তোমার কেবিনেট প্রস্তুতকারী একজন যুবক মানুষ ছিল। সে কিছুই জানত না। মানুষ যখন এই সমস্ত গোপন জায়গাগুলো খুঁজে বার করে তাহলে এটা মনে যে লোকেরা খুব অঙ্কন শিল্পে মনোযোগ দিতে পারে। এবং একটা গোপন তথ্যের মধ্যে আর একটা গোপন তথ্য থাকতে পারে। তারপর মিস মার্পল তার ধূসর চুল থেকে পিন বার করল। তারপর সে সেটাকে গোপন ড্রয়ারে লাগাল, খুলতে চেষ্টা করল। তারপর সে সফল হল তার মধ্যে ছোট ড্রয়ারটা খুলতে। সেখানে অনেক পুরনো চিঠিপত্র এবং একটা মোড়া কাগজ ছিল।
এডওয়ার্ড এবং চারমিয়ান দুজনেই ঝাঁপিয়ে পড়ল এটা দেখার জন্য। কাঁপতে কাঁপতে এডওয়ার্ড কাগজটা খুলল। সে তারপর আবার বিরক্তিতে সেটা ছুঁড়ে ফেলে দিল।
চারমিয়ান রিবনটা খুলতে লাগল, যেটাতে সমস্ত চিঠিগুলো একসঙ্গে বাঁধা ছিল। সে একটা বার করল এবং দেখল এগুলো ভালবাসার চিঠি।
মিস মার্পল তার ভিক্টোরিয়ান ভঙ্গিতে এর প্রতিক্রিয়ার উত্তর দিলেন এবং বললেন–এটা সত্যিই আগ্রহজনক এবং এই কারণের জন্য তোমার কাকা কখনো বিয়ে করেনি। চারমিয়ান সশব্দে পড়তে শুরু করল।
আমার চিরদিনের প্রিয় ম্যাথিউজ, আমি অবশ্যই স্বীকার করব যে সময়টা অনেক দিন পেরিয়ে গেছে, যখন আমি তোমার চিঠিটা পেয়েছিলাম। আমি নিজেকে অনেক কাজের মধ্যে ব্যস্ত রাখতে চেয়েছিলাম। এবং নিজেকে বলতাম যে আমি পৃথিবীর একজন ভাগ্য জনক ব্যক্তি। এবং আমি আমেরিকায় গেছি এবং অনেক দ্বীপ ঘুরে বেড়িয়েছি।
