মিস মার্পেল থামলেন। তারপর সে জোর দিয়ে বলল–সত্যিই কি এটা ১৮৫১ সালের, তাহলে এটা থেকে কি সবকিছু বোঝা যাবে না?
এডওয়ার্ড বলল–আমি বুঝতে পারব না, মিস মার্পল বলল–ঠিক আছে মার্পল আমি হলফ করে বলতে পারি যদি এটা আমার ভাইপো লিওনেলের না হয়, তাহলে এটা তোমারও হতে পারে না। এরকম একটা হৃদয়গ্রাহী ছেলে এবং আবেগপূর্ণ স্ট্যাম্প সংগ্রহকারী। কারণ লিওনেল স্ট্যাম্পের ব্যাপারে সবকিছু জানত। সে আমাকে অনেক বিরল এবং মূল্যবান স্ট্যাম্পের কথা বলেছিল এবং আরো বলেছিল একটা নতুন স্ট্যাম্প নীলামের জন্য গেছিল। আমি একটা নাম উল্লেখ করতে পারি যেটা লিওনেল আমাকে বলেছিল। স্ট্যাম্পটা হল ১৮৫১ সালের ব্লু টু সেন্ট। এটার দাম ২৫ হাজার ডলার ছিল। আমি মনে করি অন্য স্ট্যাম্পগুলোও খুব বিরল এবং মূল্যবান ছিল। এটা নিঃসন্দেহে বলা যায় তোমার কাকা এগুলো কিনেছিল এবং সেগুলো খুব যত্ন করে রাখত। এইগুলোর সম্বন্ধে জানতে পারি তার গোয়েন্দা গল্প পড়ে।
এডওয়ার্ড আর্তনাদ করে উঠল, সে বসে পড়ল এবং তার নিজের মুখটা হাত দিয়ে ঢাকা দিয়ে রাখল।
চারমিয়ান জিজ্ঞাসা করল কী ব্যাপার? এডওয়ার্ড বলল–কিছু না, এটা সত্যিই একটা ভয়ঙ্কর ঘটনা, কিন্তু মিস মার্পলের জন্য আমরা সেই চিঠিগুলো সুন্দর করে পুড়িয়ে ফেলেছি।
মিস মার্পল বললেন–এই ভদ্রলোকেরা যারা ঠাট্টা পছন্দ করত, তারা এর গুরুত্ব কখনোই বুঝতে পারে নি। কাকা হেনরি আমাকে খ্রিস্টমাসে পাঁচ পাউন্ড টাকা পাঠিয়েছিল। সে খ্রিস্টমাস কার্ডের মধ্যে এই টাকা রেখেছিল। তারপর কার্ডটাকে আঠা দিয়ে সাঁটিয়ে দিয়েছিল এবং কার্ডটার ওপরে লিখেছিল আমার ভালবাসা এবং ওভকামনা, আমি সবকিছুই এই বছর ব্যবস্থা করে নিতে পারব।
মিস মার্পল এটা দেখে খুব রেগে গিয়েছিলেন এবং আগুনে সেই কার্ডটাকে ফেলে দিয়েছিলেন। ফলে এটা শুনে তার কাকা তাকে আর একটা কার্ড পাঠিয়েছিল।
এডওয়ার্ডের যে অনুভূতি ছিল তারা কাকা হেনরির প্রতি, সেটা পুরোপুরি পরিবর্তন হয়ে গেল।
এডওয়ার্ড মিস মার্পলকে বললেন আমি এক বোতল শ্যামন আনতে যাচ্ছি। আমরা সবাই মিলে পান করব কাকা হেনরির স্বাস্থ্যের কথা ভেবে।
৫. ইন এ গ্লাস ডার্ক লি
ইন এ গ্লাস ডার্ক লি
আমার কাছে এই গল্পের কোনো ব্যাখা নেই। আমার কাছে কোনো তত্ত্বও নেই–কেন এবং কীজন্য এটা, এটা একটামাত্র জিনিস–যেটা ঘটেছিল।
সবকিছু একইরকম। আমি কখনো কখনো বিস্মিত হয়ে যাই, কিভাবে জিনিসগুলো এগোতে পারত যদি আমি সময়মতো সেগুলো লক্ষ্য করতে পারতাম। একটামাত্র গুরুত্বপূর্ণ খুঁটিনাটি তথ্য। কিন্তু আমি এটা কখনোই উপলব্ধি করিনি। এবং এটা আমি অনেক বছর পরে বুঝতে পেরেছিলাম। যদি আমি এটা লক্ষ্য করতাম–ঠিক আছে, আমি মনে করি তিন জনের জীবনে অনেক বেশি পরিবর্তন আসত। যাইহোক এটা খুবই একটা ভীতিপ্রদ চিন্তা।
এখানে ঘটনাটা শুরুর জন্য, আমাকে গরমকালের ১৯১৪ সালে ফিরে যেতে হয়েছে–এটা যুদ্ধের আগে। যখন আমি ব্যাজওয়ার্দি থেকে নীল কারসলেকে নিয়ে নেমে এসেছিলাম। নীল, আমি মনে করি আমার প্রিয় বন্ধু। আমি তার ভাই অ্যালানকেও চিনি, কিন্তু ভালোভাবে চিনি না। সিলভিয়া, তাদের বোন, আমি তার সঙ্গে কখনই সাক্ষাৎ করিনি। সে অ্যালান-এর থেকে দুবছরের বড় এবং নীলের থেকে তিন বছরের ছোট। দুবছর যখন আমরা স্কুলে একসঙ্গে ছিলাম, আমি তার সঙ্গে ছুটির দিনে সময় কাটানোর জন্য ব্যাজওয়ার্দিতে যেতাম এবং দুবার আমাকে কেউ বাধা দিয়েছিল। সুতরাং এটা বোঝ গিয়েছিল গেল যে আমি ২৩ বছরের ছিলাম যখন আমি নীল এবং অ্যালানের ঘরে গেছিলাম।
আমাদের সেখানে অনেক বড় বড় পার্টি হত। নীলের বোন একজনের সঙ্গে ঘনিষ্ট হয়েছিল। সেই লোকটার নাম হল চার্লস ক্ৰলে। নীল বলেছিল যে ক্রলে তার বোনের থেকে একটু বেশী বয়সী ছিল কিন্তু সে খুব মার্জিত, ভদ্র এবং বাস্তবিকপূর্ণ ছিল।
আমরা পৌঁছেছিলাম, আমি মনে করছি, ঠিক সাতটার সময় সন্ধেবেলা। প্রত্যেকেই তাদের নিজস্ব ঘরে গেছে রাতের খাবার খাওয়ার পর। নীল আমাকে নিয়ে গেল, ব্যাজওয়ার্দি খুব আকর্ষিত এবং ভ্রাম্যমান পুরনো বাড়ি ছিল। এটা শেষ তিন শতকে বিনামূল্যে যোগ করা হয়েছিল এবং অনেক সিঁড়িতে ভর্তি ছিল। যেগুলো ওপরে কিংবা নীচের দিকে গেছে। এটা এমন একটা ঘর যেখানে তুমি তোমার পথ খুঁজে পাবে না। আমি মনে করি নীল আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল আসবে বলে এবং আমাকে ওখানে নিয়ে গেছিল রাতের খাবার খাওয়ার জন্য। আমি তখন খুব লজ্জিত হয়েছিলাম যখন আমি সেই সমস্ত লোকেদের সঙ্গে প্রথমবার সাক্ষাৎ করেছিলাম। আমি মনে করি যে অট্টহাসি হেসে এটা বলা যেতে পারে যে এটা এমন এক ধরনের বাড়ি যেখানে লোকজন সরু গলির মধ্যে ভূতের দেখা পাবে। এবং সে বলেছিল অসতর্কভাবে যে সে বিশ্বাস করে এই জায়গাটায় একটা ভূতের বাসস্থান ছিল। কিন্তু কেউ কখনই ভূতকে দেখেনি। এবং এমনকি সে নিজেও জানে না ভূতকে কেমন দেখতে ছিল।
তারপর সে তাড়াহুড়ো করে গেল, তারপর আমি অ্যানি। সন্ধেবেলার পোশাকের জন্য স্যুটকেসে ঢুঁ মারলাম। তখন কারসলেকটা ঠিকঠাক ছিল না। তারা তাদের পুরনো ঘরকে আঁকড়ে ধরেছিল। কিন্তু সেখানে কোনো ছেলে চাকর ছিল না যে সন্ধেবেলার পোশাকটা বার করে দেবে।
