তারা অ্যানস্টিতে একটা ভ্রমণ শেষ করে ফিরেছে, তারা শাকসবজির বাগান পরিদর্শন করেছে। সেখানে পরিখা খনন করা ছিল। তারা গহন জঙ্গলের মধ্যে দিয়েও গেছে। সেখানে জঙ্গলে অনেক প্রয়োজনীয় গাছ উপড়ে ফেলা হয়েছে। তারপর তারা সেখানে একটা সরু গলির দিকে করুণ দৃষ্টিতে তাকিয়েছিল তারা চিলেকোঠার উপরেও উঠেছিল, সেখানে অনেক ট্রাঙ্ক ছিল এবং কিছু বাক্স ছিল, যেগুলো বিভিন্ন জিনিস দ্বারা ভর্তি ছিল। তারা নিজের ঘরগুলোও পরিদর্শন করেছে। তারা সমস্ত কিছুই পরিমাপ করে দেখেছে এবং দেওয়ালগুলো পুনরায় তৈরী করেছে। মিস মার্পলকে পুরনো সমস্ত আসবাবপত্র দেখানো হয়েছে। সেখানে একটা সন্দেহজনক ড্রয়ারও ছিল।
সকালে যেখানে প্রাতরাশ খাওয়া হয় সেই ঘরে একটা টেবিল ছিল। সেই টেবিলে কাগজের স্তূপ ছিল–এই কাগজগুলো ম্যাথিউজ স্ট্রাউড রেখে গেছে। কোনও কিছুই ক্ষতি হয় নি। চারমিয়ান এবং এডওয়ার্ড সেই কাগজগুলো ফেরৎ পাঠায়নি। সেখানে কিছু নথিপত্র, আমন্ত্রণলিপি এবং ব্যবসার কাগজপত্র ছিল। তারা পাঠায়নি কারণ তারা ভেবেছিল এখান থেকে যদি কোনও সূত্র পাওয়া যায় এই ঘটনাটার। চারমিয়ান বলল তুমি কি মনে কর আমরা এগুলো কোথাও দেখিনি?
মিস মার্পল তার মাথা নাড়লেন। এবং বললেন–তোমাকে খুব সহজ সাদাসিধে মনে হচ্ছে। যদি আমি এটা বলি, যে তুমি খুব সহজ, সাধারণ নও, আমি মনে করি প্রত্যেকের একটা পরিকল্পনা থাকা উচিত। আমার একজন বন্ধু মিসেস এল্ডরিচ, তার একজন সুন্দর পরিচারিকা ছিল। এই পরিচারিকা লিনোলিয়াম-এর ব্যবহার খুব ভালো জানত। এমনকি সে এতটাই সাধারণ ছিল যে সে বাথরুমের মেঝেও লিনোলিয়াম দিয়ে মাজত। আর মিসেস এল্ডরিচ যখনই বাথরুম থেকে বেরোত তখনই সে পিছলে পড়ে যেত এবং তার পা ভেঙ্গে গিয়েছিল। এটা খুব খারাপ ব্যাপার। কারণ ওই সময় বাথরুমের দরজা বন্ধ ছিল। এবং বাগানের মালি তখন ছিল না। সে মই আনতে গিয়েছিল। তারপর মালী জানালা দিয়ে মিসেস এল্ডরিচের করুণ অবস্থা প্রত্যক্ষ করেছিল। মিসেস এল্ডরিচ খুব বিনয়ী স্বভাবের মহিলা ছিল।
এডওয়ার্ড অস্বস্তিকরভাবে এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়াল।
মিস মার্পল তৎপর হয়ে বললেন-আমাকে ক্ষমা কর, কারণ একটা ঘটনা, অন্য ঘটনার কথা মনে করিয়ে দেয়। কখনো কখনো এই সমস্ত ঘটনা সাহায্যও করে বটে। যদি আমরা আমাদের জ্ঞান বাড়াতে চাই এবং একটা সুন্দর জায়গার কথা ভাবতে শুরু করি তাহলে
এডওয়ার্ড বলল–আপনি একজনের কথা ভাবুন, মিস মার্পল। কারণ চারমিয়ান এবং আমার মাথায় এবং মনে কিছুই নেই জ্ঞান পাওয়ার মত অথবা দেওয়ার মত।
তারপর মিস মার্পল কাগজের দিকে তাকিয়ে বললেন-যদি তুমি কিছু মনে না কর, তাহলে কি আমি ওই কাগজগুলো দেখতে পারি। তিনি আরও বললেন–যদি সেখানে ব্যক্তিগত কিছু থাকে, অমি তাহলে এগোব না।
–ওহ, ঠিক আছে। আমি ভয় পাচ্ছি, তুমি কিছু এখন দেখবে না।
মিস মার্পল টেবিলের পাশে বসলেন; তারপর কাগজপত্র নিয়ে দেখতে লাগলেন। সে যখন একটা একটা করে কাগজ দেখতে লাগল, তখন কাগজগুলো বিভিন্ন স্কুপে আলাদা আলাদা ভাবে রাখা হল। যখন সে কাগজপত্র দেখা শেষ করল সে সেখানে কিছুক্ষণ ধরে বসে থাকল এবং এক দৃষ্টিতে কাগজগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকল।
এডওয়ার্ড বিদ্বেষপূর্ণভাবে মিস মার্পলকে বললেন–সবকিছু কি ঠিক আছে?
মিস মার্পল উদাস হয়ে গেলেন, এই প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করাতে তিনি স্বজ্ঞানে ফিরে আসলেন, এবং বললেন–হ্যাঁ এটা সত্যিই সাহায্য করবে।
–তুমি কি কিছু প্রাসঙ্গিকতা খুঁজে পেয়েছ?
-না সেরকম কিছুই পাই নি। কিন্তু আমি হলফ করে বলতে পারি তোমার কাকা ম্যাথিউজ কী ধরণের লোক ছিল। কিছুটা আমার কাকা হেনরির মত। আমার কাকা হাসিঠাট্টা খুব ভালবাসত। সে অবিবাহিত ছিল–কিন্তু আমি বিস্মিত হই, কেন সে এত হতাশায় ভেঙ্গে পড়েছিল? এটা ঠিক যে অনেকে বিয়ে করতে পছন্দ করে না। কিন্তু তাদের সংখ্যা নিতান্তই কম।
মিস মার্পলের পিছনে চারমিয়ান এডওয়ার্ডকে ইশারা করল।
মিস মার্পল তার অসুস্থ কাকা হেনরির কথা আনন্দ সহকারে বলতে লাগলেন। –আমার কাকা হেনরি মজা, কৌতুক খুব ভালবাসত। কিন্তু অনেকের কাছে কৌতুক কিংবা মজা বিরক্তিকর ছিল। শুধুমাত্র কথা তাকে ভীষণ বিরক্ত করে তুলত, সে একজন সন্দেহজনক লোক ছিলও বটে। সবসময় সে ভাবত যে তার চাকর-বাকরেরা কিছু চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। অবশ্য কখনো কখনো তারা চুরি করত। কিন্তু সবসময় চুরি করত না। কিন্তু কাকা হেনরি তাদের সবসময় সন্দেহ করত। এমনকি শেষের দিকে সে তাদের খাবার-দাবার নিয়েও সন্দেহ করতে লাগল এবং শেষ পর্যন্ত সে খাওয়া ছেড়ে দিল। পাছে তার খাবার চুরি হয়ে যায়। সে সবসময় সিদ্ধ ডিম খেতে লাগল। কিন্তু আমার কাকা হেনরি একটা সময় খুব হাসিখুশি লোক ছিল। সে রাতের খাবারের পরে কফি খেতে পছন্দ করত। কিন্তু সে সবসময় বলত, এই কফিটা খুব জঘন্য। কারণ সে কফি পছন্দ করত কিন্তু কম পরিমাণে খেত।
এডওয়ার্ড ভাবল, যদি সে কাকা হেনরির সম্বন্ধে আরো বেশি কিছু শুনত। তাহলে সে পাগল হয়ে যেত।
মিস মার্পল বললেন –কাকা হেনরি যুবক ছেলেদের ভীষণ ভক্ত ছিল। তাদেরকে উত্যক্ত করতে পছন্দ করত। সে এক ব্যাগ মিষ্টি এমন এক জায়গায় রেখে দিত। সেখানে একজন ছেলেও প্রবেশ করতে পারবে না।
