সত্যি বলতে আমরা তার অন্ধ ভক্ত ছিলাম, কিন্তু সে খুব অল্প সময়ের জন্য অসুস্থ হয়েছিল।
বিষয়টা হচ্ছে যে সবকিছু যা সে রেখে গেছিল, সেগুলোর কিছুই মূল্য নেই। সুতরাং এটা আমাদের কাছে স্পষ্টতই একটা বড় আঘাত! তাই নয় কি, এডওয়ার্ড?
বন্ধুত্বপূর্ণ ভাবে এডওয়ার্ড সম্মতি জ্ঞাপন করল। তুমি দেখ, সে বলল–আমরা এটার সম্বন্ধে খুব অল্প গণনা করেছি, আমি বলতে চাই, যখন তুমি জানো যে অল্প টাকা তোমার কাছে আসছে–তুমি কি জানতে না–ঠিক আছে, ধরে রাখ এবং এটা নিজের জন্য করার চেষ্টা কর। আমি সৈন্যবাহিনীতে আছি, আমার কোনও অধিকার নেই আমার এক্তিয়ারের বাইরে কিছু বলা এবং চারমিয়ানও একটা মটরশুটিও পায়নি। সে কাজ করে একজন স্টেজ ম্যানেজার হিসাবে, একটা রিপারটরি রঙ্গমঞ্চে, সত্যিই আগ্রহোদ্দীপক, এবং সে এটা উপভোগ করে–কিন্তু এখানে কোনও টাকা নেই। আমরা এটা হিসাব করেছি আমাদের বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর। কিন্তু আমরা কি সত্যিই টাকাটা নিয়ে ভীত ছিলাম না। কারণ আমরা উভয়েই জানতাম আমরা একদিন না একদিন অনেক টাকার মালিক হব।
এবং এখন, তুমি দেখ, আমরা কি সত্যিই খুশী নই। চারমিয়ান বলল, আর কি বলার আছে, অ্যানেস্টে–এটা হচ্ছে একটা পারিবারিক জায়গা, এবং এডওয়ার্ড এবং আমি দুজনে এটা খুব ভালোবাসি–উইলটাকে সম্ভবত বিক্রি করে দিতে হবে। কারণ এডওয়ার্ড এবং আমি মনে করি, যে আমরা এটাকে টেনে নিয়ে যেতে পারব না। কিন্তু আমরা যদি কাকা ম্যাথিউজ-এর টাকা খুঁজে না পাই, তাহলে আমাদের বিক্রি করতে হবে।
এডওয়ার্ড বলল–তুমি জান, চারমিয়ান, আমরা কিন্তু আমাদের মূল বিষয়বস্তুতে আসিনি।
-ঠিক আছে, তুমি বল, তাহলে।
এডওয়ার্ড মিস মার্পল-এর দিকে ঘুরে তাকাল, এটা এটার মত, তুমি দেখ যেহেতু কাকা ম্যাথিউজ বৃদ্ধ হয়ে গিয়েছিল, সে অনেক অনেক সন্দেহবাতিক হয়েছিল, সে কাউকেই বিশ্বাস করত না।
-খুব বুদ্ধিমান লোক ছিলেন তিনি,–মিস মার্পল বলল, মানুষের প্রকৃতির মহার্ঘত হল তার অবিশ্বাস্যতা।
-ঠিক আছে, তুমিই ঠিক হতে পার এই বিষয়ে, ঠিক আছে। কাকা ম্যাথিউজ হয়তো এটাই ভেবেছিল। তার একজন বন্ধু ছিল সে সমস্ত টাকা হারিয়ে ফেলে একটা ব্যাঙ্কে। এবং আর একজন বন্ধু, তার সর্বনাশ করেছিল একজন আত্মগোপনকারী তোলাবাজ, তাছাড়া সে নিজে কিছু টাকা হারিয়েছিল একটা প্রতারিত কোম্পানির ফাঁদে পড়ে, যেহেতু সে শিক্ষা পেয়েছিল, তাই সে সবসময় বলত, যে একমাত্র নিরাপদ, নিশ্চিত বিষয় হল যে টাকাকে স্বর্ণ বা রৌপ্যের পিণ্ডতে পরিণত করা এবং মৃত্তিকাগর্ভে স্থাপন করা। আ, মিস মার্পল বল, আমি দেখছি।
-হ্যাঁ, বন্ধুরা তার সঙ্গে তর্ক করে চলল, এটা লক্ষ্য করা গেল যে তার কোনও আগ্রহ নেই এই বিষয়ে, কিন্তু সে এটা এমনভাবে উপস্থাপনা করল যে এটা তার কাছে কোন ব্যাপারই নয়। সে বলল, তোমার গচ্ছিত টাকা রাখা উচিত একটা বাক্সে। তোমার বিছানার তলায় অথবা পুঁতে দাও বাগানে। এগুলো ছিল তার উপদেশ।
চারমিনার বলতেই থাকল এবং যখন সে মারা গেল, তার গুপ্ত সম্পদ কিছুই পাওয়া গেল না, যদিও সে খুব ধনী ব্যক্তি ছিল, সুতরাং আমরা ভাবলাম এইজন্যই সে এটা করেছে।
এডওয়ার্ড বিস্তারিতভাবে বলল, আমরা দেখেছিলাম সে তার সমস্ত সম্পত্তি বিক্রি করে দিয়েছিল এবং তার বদলে সে সময়ে সময়ে বড় অঙ্কের টাকা পেত। এবং কেউই জানত না সে তার সম্পদগুলো কি করেছে। কিন্তু এটা স্পষ্টতই বোঝা গেল যে, সে তার আদর্শ ও নীতিতে সজাগ ছিল, এবং সেই জন্যই সে সোনা কিনত এবং মাটিতে পুঁতে রাখত।
-সে তার মৃত্যুর আগে পর্যন্ত কিছু বলেনি এ ব্যাপারে। এমনকি কোনও কাগজ কিংবা কোনও চিঠি রেখে যাননি এ ব্যাপারে।
এটা একটা পাগলামির মত। সে অনেকদিন অচেতন ছিল। কিন্তু সে আমাদের ডেক পাঠিয়েছিল। তার মৃত্যুর আগে আমরা গেলাম। তারপর সে আমাদের দিকে তাকাল এবং মুখ টিপে হাসল–একটু মূচ্ছা, তারপরে দুর্বল মুখটেপা হাসি। সে বলল তুমিই ঠিক, আমার সুন্দর জোড়া ঘুঘু তারপর সে তার চোখ বুজে ফেলল–তার ডান চোখ–এবং তারপর পিটপিট করে তাকাল। এবং তারপর সে মারা গেল। খুবই করুণ, বৃদ্ধ কাকা ম্যাথিউজ-এর এভাবে চলে যাওয়া।
–সে কি তার চোখ বুজে ফেলেছিল, মিস মার্পল চিন্তামগ্ন হয়ে বললেন।
এডওয়ার্ড কৌতূহলভাবে বলল–এটা কি তোমাকে কিছু আভাস দেয়? এটা আমাকে আরসেন লুপিন গল্পের কথা মনে করিয়ে দেয়। সেখানে বলা হয়েছিল যে কিছু লুকানো ছিল একজন মানুষের স্বচ্ছ কাঁচের মত চোখে।
মিস মার্পল তার মাথা নাড়লেন। না–এই মুহূর্তে আমি অন্য কিছু চিন্তা করতে পারছি না।
চারমিয়ান হতবাক হয়ে বললেন-জেন আমাদের বলেছিল, তুমি আমাদের একবার বল কোথায় খুঁড়তে হবে।
মিস মার্পল হাসতে লাগলেন–আমি জাদুকর নই, তুমি জান। আমি তোমার কাকাকে জানি না। এবং আমি এটাও জানি না যে সে কি ধরনের মানুষ ছিল। এবং আমি এটাও জানি না তার ঘর কিংবা মাঠ।
চারমিয়ান বলল-তুমি যদি তাকে জানতে?
–ঠিক আছে, এটা খুব সহজ হত, সত্যি, সহজ হত না কি? মিস মার্পল বলল।
চারমিয়ান বলল।–তুমি অ্যাস্ট্রেতে অ্যাশ এবং দেখ এটা কতটা সহজ!
এটার মানে যে সে কোনরকম গভীর আমন্ত্রণ নির্দেশ করেনি, কিন্তু মিস্ মার্পল তৎপর হয়ে বলল–ঠিক আছে, সত্যি, আমার প্রিয়, এটা তোমার মত আমি সর্বদা চেষ্টা করেছি গুপ্ত সম্পদ দেখার এবং সে তার দিকে তাকিয়ে নিচু হয়ে ভিক্টোরিয়ান হাসি হেসে বলল।–ভালবাসার আগ্রহও বটে। চারমিয়ান তখন নাটকে যেরকম ঘটে সেরকম অঙ্গভঙ্গি করতে লাগল।
