একটি ছোট্ট সুন্দর চেহারা, পশমের মতো চুল, যেগুলি কোঁচকানো সেগুলি ঝুলে পড়েছিল তার লম্বা মুখের এবং চোখের চারধারে।
লুইস একটুখানি ঝুঁকে গেল, লম্বা অভিনন্দন যেটা চলছিল সেটা তাকে ক্লান্ত করে তুলেছিল। সে এমনভাবে একপাশে লাফাচ্ছিল যে তাকে দেখে মনে হচ্ছিল সে এখুনি চলে যাবে। সম্ভবত, এমনকি এখনও হ্যারি সেটা বলতে পারত, সে হ্যারিকে পাশ ফিরে তাকাল। এত লম্বা এবং প্রশস্ত কাধ! তার আনন্দ পাওয়াটা একটা ভাঁওতা। সুতরাং পার্টিটা তার কাছে ভয়ঙ্কর এবং নীরস ছিল।
.
০৩.
–ওফ! এটা একটা দীর্ঘশ্বাস পূর্ণ বিদায়।
হ্যারি তার স্ত্রীর দিকে আনন্দিত হয়ে তাকাল। তারা তখন পার্টি থেকে বেরিয়ে যাচ্ছিল।
সে বলল-ডার্লিং এটা সত্যিই একটা ভয়ঙ্কর পার্টি ছিল।
হ্যারি অট্টহাস্যে হাসতে লাগল–সত্যিই সুন্দর এবং ভয়ানক। কিছু মনে কর না, আমার মিষ্টি প্রিয়া, এটা করা উচিত, তুমি জান, সমস্ত বৃদ্ধাপুসিগুলো আমাকে চিনেছিল, যখন আমি এখানে একজন বালক হিসাবে থাকতাম। তারা কখনই ভয়ানকভাবে হতাশাগ্রস্ত হয়ে ওঠেনি, তোমাকে এত কাছে দেখতে পেয়ে।
লুইসি একটা ভেংচি কাটল। সে বলল–আমি কি তাদের অনেকজনকে দেখতে পাব?
–কি? ওহ না। তারা আসবে এবং অনুষ্ঠানের জন্য তোমাকে কার্ড দিয়ে আমন্ত্রণ করবে এবং তুমি সমস্ত কার্ডগুলোকে তাদের ফেরত দিয়ে দেবে। কিন্তু তারা এটা নিয়ে কেউ ভাববে না, তুমি গেলে কি না গেলে। তুমি তোমার নিজের বন্ধুদের সঙ্গে থাকতে পার অথবা তুমি সেটা করবে যেটা তোমার পছন্দ।
লুইসি একমিনিট কিংবা দু মিনিট পরে বলল–কেউ কি আমোদ প্রমোদ পায় এখানে নিচু তলায় বাস করে।
-ওহ, হ্যাঁ, সেটা হল কার্টলি তুমি জান। যদিও তুমি তাদেরকে বৃদ্ধ হিসাবে দেখতে পার। তারা সবাই কুকুর কিংবা ঘোড়ার প্রতি আগ্রহান্বিত। তোমাকে অবশ্যই ঘোড়ায় চড়ে যেতে হবে। তুমি এটা অবশ্যই উপভোগ করবে। ইগলিনটন আই ডি একটা ঘোড়া দিল, যেটাকে তোমার মত দেখতে। একটা সুন্দর পশু। পুরোপুরি প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত, এবং তার মধ্যে কোন খুঁত নেই। কিন্তু অসম্ভব তো রয়েছে।
কিংসডেন প্রাসাদের দ্বারে গাড়িটা দাঁড় করানো হয়েছিল। গাড়িটা ঘোরানোর জন্য হ্যারি চাকাটাকে বলপূর্বক ভাবে টানল এবং শপথ করল যেহেতু একটা অদ্ভুত কদাকার চেহারা রাস্তার মাঝখানে দেখা গিয়েছিল এবং সে চেষ্টা করছিল কিভাবে তাকে এড়িয়ে যাওয়া যায়। এটা সেখানে দাঁড়িয়েছিল তারপর একটা নাড়া দিল এবং তাদের পিছনে চিৎকার করতে লাগল। হুইস তার বাহু তুলে ধরল। সে একজন ভয়ঙ্কর বৃদ্ধা মহিলা।
হ্যারির ভ্রু কুঁচকে গেল, এটা হল বৃদ্ধ–মারগাট্রায়েড। মারগাট্রয়েড এবং তার স্ত্রী এই পুরনো বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণকারী ছিল। তারা সেখানে প্রায় ৩০ বছর ধরে ছিল।
–সে তার মুষ্টি কেন তোমার দিকে নাড়াচ্ছে?
হ্যারির মুখ লাল হয়ে গেল। সে যে বিরক্ত প্রকাশ করছে। যেহেতু বাড়িটা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে গেছে। সেজন্য তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তার স্বামী দুবছর আগে মারা গেছে। সবাই বলছে যে সে এখন অদ্ভুত আচরণ করছে, তার স্বামী মারা যাওয়ার পর।
-তাই কি, তাই নয় কি–সে উপবাস করছে।
লুইসির ধারণা নিতান্তই অস্পষ্ট এবং নাটকে পরিপূর্ণ ছিল। ধনীরা তোমাকে বাধা দিয়েছে যাতে তুমি সত্যিটার সংস্পর্শে না আসতে পার।
হ্যারি খুব রেগে গেল। ভালো লুইস, কী ধারণা দিয়েছে। আমি তার ভাতা বন্ধ করে দিয়েছি। অবশ্যই তার জন্য একটা নতুন কুঁড়েঘর এবং সবকিছু বার কর।
লুইসি জিজ্ঞাসা করল হতবুদ্ধি হয়ে–কেন যে এটা মনে করো।
হ্যারি ভ্রু কোচকাতে লাগল।–ওহ, আমি এটা কিভাবে জানব? এটা পাগলামি। সে সত্যিই বাড়িটাকে ভালোবাসত।
–কিন্তু সেটা তো ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে তাই নয় কি?
–অবশ্যই এটা হয়েছে, একদম ছোট ছোট টুকরোতে ভেঙে গেছে, ছাদ ফুটো হয়ে গেছে। কম বা বেশি এটা নিরাপত্তাহীন, যাই হোক, আমি মনে করি এটা তার কাছে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সে এখানে দীর্ঘদিন ধরে আছে। ওহ, আমি জানি না, আমি মনে করি এরা বৃদ্ধ। এটা কারসাজি।
লুইসি অস্বস্তিকর ভাবে বলল–সে আমি মনে করি, সে আমাদের অভিশাপ দিয়েছে। ওহ, হ্যারি, আমি মনে করি যাতে এটা না হয়।
লুইস এটা মনে করল যে তার নতুন বাড়িটাতে কিছু খুঁত ছিল এবং বাড়িটা একটা ক্ষতিকর বৃদ্ধার দ্বারা দূষিত হয়েছিল। সে যখন গাড়ির বাইরে গেল, যখন সে ঘোড়ায় চড়ল, সে যখন কুকুরের সঙ্গে হাঁটছিল, সবসময়ই তার সামনে সেই চেহারা অপেক্ষা করছিল। তারপর কুঁকড়ে গিয়ে সে তার লৌহ ধূসর চুলে একটা টুপি পরল এবং কিছু ভূত প্রেত তাড়ানোর মন্ত্র উচ্চারণ করছিল।
লুইসি তখন বিশ্বাস করল যে হ্যারি ঠিক বলেছিল–বৃদ্ধা মহিলাটি সত্যিই পাগল ছিল। তথাপি এটা সবকিছু সহজ করে দেয়নি। মিসেস মারগাট্রায়েড কখনোই ওই বাড়িতে আসেনি। এমনকি সে কখনোই ভীতি প্রদর্শন করেনি। এমনকি হিংসাও ছড়িয়ে দেয়নি। তার উবু হয়ে বসা চেহারা সবসময়ই গেটের বাইরে ছিল। পুলিশের কাছে। আবেদন করেও কোনো লাভ হয়নি এবং যদিও কখনো মনে হয়নি হ্যারি ল্যাক্সটন বিমুখ হয়েছে এই কাজটার প্রতি, সে বলল–এটা তার জন্য দয়ার উদ্রেক করবে বৃদ্ধা পশুর জন্য যে লুইস এর থেকেও তাড়াতাড়ি ব্যাপারটা বুঝে নিতে পারল।
