তারপরে এল কিছু বাগানের রক্ষণাবেক্ষণকারী এবং তাদের চলে যাওয়ার পর এল আসবাধপত্রের গাড়িগুলি।
ঘরটি পুরোপুরি তৈরি। পরিচারিকা সব এসে গেল। অবশেষে একটা অমিশ্রিত, একটা মূর্তি হ্যারি এবং মিসেস হ্যারিকে গড়ে দেওয়া হল সম্মুখ দরজায়।
গ্রামের লোকেরা সবাই ছুটে গেল ডাকতে। তখন মিসেস প্রাইস যে এই ঘরটির মালিক হিসাবে ছিল এবং যে নিজেকে সমাজের একটি উল্লেখযোগ্য স্থানে প্রতিষ্ঠিত করে দিল, সে আমন্ত্রণ লিপি পাঠাল পার্টি করার জন্য। যাতে সে বিবাহিত কন্যাকে সাক্ষাৎ করতে পারে।
এটা নিঃসন্দেহে একটা বড় ঘটনা ছিল। অনেক মহিলার নতুন ফ্রক ছিল এই পার্টিতে আসার জন্য। সবাই খুবই উত্তেজিত ছিল। উদগ্রীব ছিল। এবং আবেগপ্রবণ ছিল, এই মোহিত মেয়েটিকে দেখার জন্য। তাই সবাই বলছিল যে এটা একটা পরীর গল্পের মত ছিল।
মিস হারমন শীতকাতুরে ছিল এবং একজন হৃদয়বান কুমারী ছিল। সে একটা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিল, যেহেতু সে তার রাস্তাটা মেপে মেপে তৈরি করছিল জনাকীর্ণ ড্রয়িং ঘরের দরজার সম্মুখে।
ওহ আমার প্রিয়, সত্যিই মিষ্টি দেখতে। তার ব্যবহারও খুব সুন্দর, সে খুব যুবতীও। সত্যি, তুমি জান এটা সত্যি অন্যকে ঈর্ষান্বিত করে তুলবে। আর এইরকম সমস্ত সুযোগ সুবিধা আছে। ভালো দেখতে অনেক টাকা এবং অনেক সন্তান সন্ততি যারা যারা সত্যিই পৃথক এই মহিলার থেকে, এবং হ্যারি সত্যিই তার প্রতি ভীষণ অনুরক্ত ছিল।
আহ মিস হারমন বলল–এটা সত্যিই আগেকার দিন।
মিস ব্রেন্ট-এর সরু নাক আন্দোলিত হল, প্রশংসা শুনে। –আহ আমার প্রিয় সত্যিই কি তুমি আমার কথা ভাব।
–আমরা সবাই জানি, হ্যারি কী ধরনের লোক, হারমন বলল।
–আমরা জানি সে কি ছিল। কিন্তু আমি এখন প্রত্যাশা করি।
–আহ, মিস হারমন বলল, মানুষ মাত্রেই একই প্রবৃত্তির। একবার যদি হাসিখুশি প্রতারক হও তাহলে সারাজীবন হাসিখুশি প্রতারক হয়ে থাকবে। আমি তাদেরকে জানি।
–প্রিয়, প্রিয় করুন জিনিস, মিস ব্রেন্টকে অনেক সুখী লাগছিল। হ্যাঁ, আমি মনে করি সে তার সঙ্গে সবসময় সমস্যা নিয়ে আসে। কারুর তাকে সতর্ক করা উচিত। আমি অবাক হয়ে যাই যদি সে পুরনো গল্প সম্বন্ধে কিছু শোনে তাহলে?
–এটা খুবই দৃষ্টিকটু মিস ব্রেন্ট বলল।–যে তার কিছুই জানা উচিত নয়। ভীষণ অদ্ভুত। মূলত একটা ওষুধ দোকান ছিল ওই গ্রামে।
–আগের তামাক ব্যবসায়ীর কন্যায় বিয়ে হয়েছে মিঃ এবং এর সঙ্গে। সে ছিল একজন ওষুধ প্রস্তুতকারক।
এটা সত্যিই খুব ভালো ঘটনা। মিস ব্রেন্ট বলল। যদি মিসেস ল্যাক্সটন তার বুট নিয়ে ব্যবসা করত।
আমি হলফ করে বলতে পারি, মিস হারমন বলল, যে হ্যারি ল্যাক্সটন তার নিজের সম্বন্ধে প্রস্তাব দেবে।
এবং একবার একটা তাৎপর্যপূর্ণ চাউনি অতিক্রম করল তাদের দুজনের মধ্যে।
–কিন্তু আমি নিশ্চিত ভাবে ভাবি–মিস হারমন বলল, যে তার জানা উচিত।
.
০২.
-পশুগুলি! ক্ল্যারিস ভেন ক্রুদ্ধ হয়ে বলল তার কাকাকে, ডাক্তার হ্যাডড়কে, কিছু মানুষ পুরোপুরি পশু।
সে তার দিকে উৎকণ্ঠার সঙ্গে তাকাল।
সে ছিল একজন লম্বা, কালো মেয়ে। সুন্দরী উষ্ণ মনের এবং আবেগপ্রবণ মেয়ে। তার বড় বাদামী চোখগুলো ক্রোধে ভরে গিয়েছিল। এবং সে বলল, সমস্ত বিড়ালগুলি কিছু বলছে, কিছু নির্দেশ করছে।
–হ্যারি ল্যাক্সটন সম্বন্ধে?
–হ্যাঁ, তার একটা প্রণয় ঘটিত ব্যাপার ছিল, তামাক সেবনকারীর মেয়ের সঙ্গে।
–ওহ, তাই নাকি! ডাক্তার তার কাধ ঝাঁকাল, এই রকম অনেক যুবক লোকের এই রকম ধরনের প্রণয় ঘটিত ব্যাপার ছিল।
–অবশ্যই তাদের সম্পর্ক ছিল এবং এখন এটা পুরোপুরি নিঃশেষ হয়ে গেছে। সুতরাং এখন কেন এটা নিয়ে আলোচনা করছ? ক্রমশ আমাদের ভাবতে হবে তার পরের বছরগুলোর কথা। এটা ঠিক ক্ষত চিহ্নের মত মৃত শরীরগুলিতে। এটা আলোচনা করা মানে এটা দাঁড়ায়।
আমি জোর দিয়ে বলতে পারি, আমার প্রিয়, এটা তোমার মত ব্যাপার মনে হয়, কিন্তু তুমি দেখ তাদের এখানে বলার মত অল্প কিছু রয়েছে, এবং আমি ভীত যে তারা অতীতের দাঙ্গা হাঙ্গামাগুলো নিয়ে ভাবছে। কিন্তু আমি জানতে চাই কেন তোমাকে এটা এত বিষাদগ্রস্ত করে তুলেছে?
ক্ল্যারিস ভেন তার ঠোঁটে আঘাত করল। সে কৌতূহলের সাথে বলল–তাদেরকে ভীষণ খুশী লাগছে। আমি বোঝাতে চাইছি ল্যাক্সটনদের। তারা সবসময় যুবক এবং ভালোবাসায় পরিপূর্ণ এবং এটা কতটা আনন্দের ব্যাপার তাদের জন্য। আমি সবসময় ঘৃণা করি, যে কোনো ঘটনা কানভাঙানিদের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, এবং আমি পশুসুলভ আচরণকেও ঘৃণা করি।
–হুম, আমি দেখছি।
ক্ল্যারিস বলে চলল সে আমাকে এখুনি বলল। তাকে এখুনি খুব সুন্দরী, খুব খুশী, কৌতূহলী এবং উত্তেজিত লাগছিল। এবং হ্যাঁ, তাকে শিহরিতও দেখাচ্ছিল যেহেতু তার মনের বাসনা পূর্ণ হয়েছে। যখন সে দেখেছে যে কিংসডেনে ঘরটা পুরোপুরি নতুন করে তৈরি করা হয়েছে। তার এই আচরণ একটা শিশুর মত এবং আমি ভাবি যে, তার জীবনে কোনো কিছু ভুল ঘটেনি। সে যখন যেটা খুঁজেছে সেটা পেয়েছে। তুমি তাকে দেখেছ। তাকে দেখে তোমার কী মনে হয়?
ডাক্তার কিছু উত্তর দিল না। অন্য লোকের কাছে লুইসি ল্যাক্সটন একজন ঈর্ষার বিষয়। একজন নষ্ট হয়ে যাওয়া ভাগ্য। তার কাছে সে (মহিলা) হল একজন সাময়িক বিরতি। একটা জনপ্রিয় গানের যেটা বহু বছর আগে মানুষ শুনেছে, গরীব ছেলে ধনী মেয়ে।
