ভয় পেও না, ডার্লিং। সে কিছুক্ষণ বাদে তার মুখামিপূর্ণ ব্যাপারে ক্লান্ত হয়ে যাবে। সে সম্ভবত নতুন কাজ শুরু করার চেষ্টা করছে।
সে করছে না হ্যারি, সে আমাদের ঘৃণা করে আমি এটা অনুভব করতে পারছি। সে আমাদের যাতে ক্ষতি হয় সেই ইচ্ছা করছে।
–সে ডাইনি নয়, ডার্লিং। যদিও তাকে তাদের একজনের মতো দেখতে। সুতরাং এটা ভেবে মনমরা হয়ো না।
লুইসি শান্ত হয়ে গেল, তার প্রথম উত্তেজনা এটার জন্য তো শেষ হয়ে গেল। সে নিজেকে একাকী অনুভব করল এবং সে একদম শেষ প্রান্তে এসে উপস্থিত হয়েছে। সে সবসময় ইংল্যান্ডে থেকে অভ্যস্ত হয়ে গেছে এবং রিভিরেরাতেও তার কোনো ধারণা এবং জ্ঞানই নেই ইংরেজদের দেশের জীবনযাত্রা সম্বন্ধে। সে বাগান পরিচর্যা সম্বন্ধে কিছুই জানে না। সে শুধু জানে ফুল ফোঁটার মুহূর্তে কীভাবে গাছকে পরিচর্যা করতে হয়। সে কুকুরদের যত্ন নেয় না। সে যখন প্রতিবেশীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে, তখন সে পরিশ্রান্ত হয়ে যায়। সে ঘোড়ায় চড়ে ভ্রমণ করতে ভীষণ ভালোবাসে এবং যদি হ্যারি সঙ্গে থাকে। কিন্তু হ্যারি যখন প্রাসাদের কোনো কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে সে গাছপালা এবং বনজঙ্গল এবং সরু গলি রাস্তার মধ্যে ঘুরে বেড়ায় এবং তার ফলে সে সুন্দর ঘোড়ার চলন উপভোগ করে এবং এই ঘোড়াটাকেই হ্যারি লুইসির জন্য এনেছিল।
এমনকি প্রিন্স হল যেটা খুবই অনুভূতি প্রবণ কাজুবাদামের আবাসস্থল হিসাবে, সেটাও খুব নিরিবিলি ছিল এবং এটা মনে হত যে সে তার মহিসীকে অতীতের কোনো অপকারী বৃদ্ধা মহিলার সংস্পর্শে নিয়ে গেছেন।
একদিন লুইসি তার সাহস দুহাত ভরে নিল। মারগাট্রায়েড তখন হাঁটতে হাঁটতে বেরিয়ে যাচ্ছিল। সে মিসেস মারগাট্রায়েডকে অতিক্রম করে এসেছিল এবং এমন ভান করছিল যে সে তাকে দেখেনি। হঠাৎ সে পিছনে ফিরে তাকাল এবং সোজা মিসেস মারগাট্রায়েড-এর কাছে গেল। সে হাঁপাতে হাঁপাতে বলল–এটা কি? কি ব্যাপার? তুমি কি চাও?
বৃদ্ধা মহিলাটি লুইসি-এর দিকে চোখ পিট পিট করে তাকাল। তার কালো মুখে চতুরতা বিরাজ করছিল। এমনকি এটা তার লৌহ ধূসর চুলেও প্রতিফলিত হয়েছিল। তার চোখে সন্দেহের প্রকাশ ছিল। লুইসি বিস্মিত হয়ে গেল এই ভেবে যে, সে কি উন্মত্ত হয়ে আছে।
সে ভীতিসূচক সুরে বলল–তুমি আমাকে জিজ্ঞাসা করছ আমি কি চাই? কি, বাস্তবিক পক্ষে যেটা আমার থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। কে আমাকে কিংসডেন বাড়িটা থেকে বিতাড়িত করেছে? আমি সেখানে থাকতাম মেয়ে এবং মহিলাদের নিয়ে, প্রায় চল্লিশ বছর ধরে। এটা একটা অপরাধমূলক কাজ। আমাকে তাড়ানো এবং এটা খারাপ অন্ধকার ভাগ্য নিয়ে এসেছে। যেটা আমাকে তোমাদের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে।
লুইস বলল–তুমি একটা সুন্দর কুঁড়ে ঘর পেয়েছ এবং …।
সে থামল, বৃদ্ধা মহিলাটি তার বাহু তুলল। সে আর্তনাদ করতে লাগল–কী ভালো হয়েছে আমার জন্য? এটা আমার নিজের বাসস্থান যেটা আমি চাই এবং আমি আমার জন্য নিজস্ব আগুন চাই। যাতে আমি আগুনের পাশে সারাবছর বসতে পারি। তোমার এবং তার জন্য এটা আমি তখন পাচ্ছি না। আমি বলছি তোমরা কখনও সুখী হবে না তোমাদের নতুন বাড়িতে। সেখানে তোমাদের জন্য অন্ধকার এবং দুঃখ অপেক্ষা করে আছে। সেখানে তোমরা শুধু দুঃখ, মৃত্যু এবং আমার অভিশাপ পাবে এবং সেখানে তোমাদের সুন্দর মুখগুলো পচতে শুরু করবে।
লুইসি ফিরে তাকাল এবং তারপর হোঁচট খেয়ে ছুটতে ছুটতে ঘরে প্রবেশ করল। সে ভেবেছিল, আমরা এখান থেকে পালিয়ে যাব এবং এই বাড়িটা আমরা বেচে দেব। আমরা অবশ্যই চলে যাব।
ঠিক এই মুহূর্তে একটা সমাধান ব্যাপারটাকে আরও সহজ করে দিল কিন্তু হ্যারির নির্বুদ্ধিতার জন্য তাকে আবার ফিরে আসতে হল। যে চিৎকার করতে লাগল। এখান থেকে চলে যাও। বাড়িটা বিক্রি কর কারণ, মত্ত বৃদ্ধা মহিলার ভীতি প্রদর্শন! তুমি পাগল হয়ে যাবে এখানে থাকলে।
-না, আমি পাগল হব না। কিন্তু সে যে আমাকে ভয় দেখায়। আমি জানি কিছু ঘটবে।
হ্যারি ল্যাক্সটন ভয়ঙ্করভাবে বলল-মিসেস মারগাট্রায়েডকে আমার উপর ছেড়ে দাও, আমি তার ব্যবস্থা করব।
.
০৫.
একটা বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ সৃষ্টি হল ক্ল্যারিস ভেন এবং মিসেস ল্যাক্সটনের মধ্যে। দুজনেই বেশ প্রাপ্তবয়স্ক ছিল। কিন্তু দুজনের চরিত্র এবং রুচি আলাদা ছিল। ক্ল্যারিসের বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণে লুইসি নিশ্চিত ভবিষ্যৎ খুঁজে পেয়েছিল। ক্ল্যারিস আত্মবিশ্বাসী ছিল এবং নিজের প্রতি গভীর আস্থা ছিল। লুইস একদিন তার কাছে মিসেস মারগাট্রায়েড এবং তার ভীতি উল্লেখ করল। কিন্তু ক্ল্যারিস-এর কাছে এটা বেশি বিরক্তিকর লাগল ভীতিকর থেকেও।
-এটা খুব বোকা বোকা ব্যাপার। সে বলল, এটা তোমার জন্য সত্যি বিরক্তিকর।
-তুমি জান, ক্ল্যারিস আমি…….আমি কখনো, কখনো ভীতি অনুভব করি, আমার হৃদয়ের মধ্যে সশ্রদ্ধ ভয় উঁকি দেয়।
-দুর্বোধ্য, তুমি এইরকম বোকা ব্যাপারটা নিয়ে খুব বেশি চিন্তিত হয়ো না। সে নিশ্চয়ই একসময় ক্লান্ত হয়ে যাবে।
সে এক কিংবা দুমিনিট ধরে নিস্তব্ধ থাকল। ক্ল্যারিস বলে উঠল–কি ব্যাপার?
লুইসি এক মিনিটের জন্য থেমে গেল। তারপরে সে সবেগে উত্তর দিল–আমি এই জায়গাটা ঘৃণা করি। আমি সবকিছুকে ঘৃণা করি। যেমন এই বন, এই ঘর, এবং রাত্রিবেলায় ভয় মিশ্রিত নিস্তব্ধতা এবং পেঁচার অদ্ভুত আওয়াজ। আমি লোকজনকেও ঘৃণা করি।
