এবার মার্পলের ঠোঁট থেকে বেরিয়ে এল আশাব্যঞ্জক হাসি। তিনি বললেন আপনার কোনো সমস্যা হবে না, আমি আপনাকে একশো ভাগ সাহায্য এবং সহায়তা করব।
অনেক দিন বাদে মিস মার্পলের ঠোঁটে আবার আশ্বস্ত ভরা হাসি দেখা গেল। মনে হল এক ছাত্র বোধহয় অনেক কষ্টে প্রবেশিকা পরীক্ষায় পাশ করে কলেজে ঢোকার ছাড়পত্র পেয়ে গেছে।
সত্যি কথা বলতে কী, ওই পরীক্ষায় কর্নেল ভালোভাবেই পাশ করতে পেরেছিলেন।
৩. দি কেস অফ দ্য কেয়ারটেকার
দি কেস অফ দ্য কেয়ারটেকার
০১.
-ঠিক আছে। ডাক্তার হেডক তার রোগীকে আশ্বস্ত করল, আর আজকের দিনটা কেমন লাগছে?
মিস মার্পল তার দিকে তাকিয়ে হাসলেন।
-আমি মনে করি, সত্যি আমি খুব ভালো আছি, সে স্বীকার করল। কিন্তু আমি মনে করি আমি ভীষণ হতাশাগ্রস্ত, আমার কিছু করার নেই, শুধু ভাবি, এটা কত ভালো হত যদি আমি মারা যেতাম, সর্বোপরি, আমি একজন বৃদ্ধা মহিলা। কেউ আমাকে চায় না এবং কেউ আমার দেখাশোনা করে না।
চিরাচরিত তৎপরতার সঙ্গে ডাক্তার হেডক মাঝখানে থামিয়ে দিল তাঁকে। –হ্যাঁ, এই প্রতিক্রিয়াই দেখা যায় এই ধরনের ফু-এর পর। তোমার এখন প্রয়োজন কারও সাহায্য নেওয়া। যে তোমাকে তোমার থেকে টেনে বার করবে। এটা মনের ওষুধ।
মিস মার্পল দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলল এবং তারপর মাথা নাড়াল।
–আর কি বাকি আছে, ডাক্তার হেডক বলেই চলল, আমি সঙ্গে করে আমার ওষুধ নিয়ে এসেছি।
সে একটা লম্বা খাম রাখল বিছানার উপর।
–এটা তোমার জন্য একদম উপযুক্ত।
একটি বিভ্রান্তিতে মিস মার্পল খুব আগ্রহান্বিত হলেন।
–এটা আমার সাহিত্যিক প্রচেষ্টা। ডাক্তার বলল লাল হয়ে। চেষ্টা কর এখান থেকে একটা রোবকের গল্প তৈরি করতে। লোকটি বলল, মহিলাটি বলল মেয়েটি ভাবল ইত্যাদি এই গল্পের ঘটনাগুলো সত্যি।
ডাক্তার হেডক ভেংচি কাটল, কারণ ব্যাখ্যাটা এখন তোমার উপর নির্ভর করছে। আমি দেখতে চাই তুমি কতটা চালাক, যতটা তুমি করে এসেছ সবসময়।
রেগে সে সেখান থেকে প্রস্থান করল।
মিস মার্পল হস্ত লিখিত লিপিগুলি তুললেন এবং পড়তে শুরু করলেন।
কন্যা কোথায়? মিস হারমন ভদ্রভাবে জিজ্ঞাসা করল।
গ্রামটি পুরো ছিল উত্তেজনাপূর্ণ যেহেতু তারা দেখতে চেয়েছিল ধনী এবং সুন্দরী যুবতী স্ত্রীকে যাকে হ্যারি ল্যাক্সটন বিদেশ থেকে এনেছিল। সেখানে একটা প্রশ্রয় দেওয়ার অনুভূতি দেখা গেল, যে হ্যারি একটা বদমায়েশ হয়েও কীভাবে ভাগ্যের জোরে যুবতী, সুন্দরী স্ত্রীকে পেয়েছিল। সবাই এর হ্যারির প্রতি প্রশ্রয় দেওয়ার মনোভাব ছিল। এমনকি জানালার মালিকরা যারা তার বেপরোয়া গুণ্ডামির আওয়াজে ভুগেছে, তাদের রাগটাও দমিত হয়ে গেল হ্যারির করুণ এবং অনুশোচনা পূর্বক মুখ দেখে। তার ঘরের জানালা ভাঙ্গা ছিল, সুশোভিত ফলের বাগান ছিল, অনধিকারী খরগোশগুলি ছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে সে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল। এবং সে একজন তামাক ব্যবসায়ী কন্যার দ্বারা আকৃষ্ট হয়েছিল। তারপর তাকে সেখান থেকে মুক্ত করা হয়েছিল। তারপর তাকে আফ্রিকায় পাঠানো হয়েছিল, এবং গ্রামটিতে প্রতিনিধিও করেছিল। বিভিন্ন বয়সের কুমারী মেয়ে, যারা প্রশ্রয় দেওয়ার ভান করে বলছিল, জীবন যুদ্ধে জয়ী হয়ে সে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবে!
এবং এখনই সত্যিই উড়নচণ্ডীটা ফিরে এসেছে এটা নয় যে সে মানসিক যন্ত্রণা পেয়ে ফিরে এসেছে। কিন্তু সে সাফল্যের সঙ্গে ফিরে এসেছে। হ্যারি ল্যাক্সটন ভালই করেছে, যেভাবে বলা হয়েছিল, সে সবার আগে নিজেকে টেনে নিয়ে এগিয়ে গেছে, কঠোর পরিশ্রম করেছে এবং তারপর অবশেষে সে সাক্ষাৎ পেয়েছে একটি মেয়ের। আর হ্যারির ভবিষ্যৎ গড়ার পেছনে সে হল মূল অধিকারিনী।
হ্যারি লন্ডনে থাকতে পারত বা একটা সুন্দর শিকারী দেশে একটা জায়গা কিনতে পারত। কিন্তু সে পছন্দ করত পৃথিবীর এই অংশে ফিরে আসার জন্য, যেটা তার কাছে একটা নিজস্ব ঘরের মত ছিল এবং সেখানে তার রোমান্টিকতার পথ ধরে একটা পরিত্যক্ত জায়গা কিনেছিল। সেখানে এবং যৌতুক হিসাবে প্রাপ্ত ঘরে সে তার শৈশব কাটিয়েছিল।
কিংসডেন ঘরটি পরিত্যক্ত রয়েছে বহু বছর হয়ে গেল। এটা ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পরিত্যক্ত ঘরে পরিণত হয়েছে। একজন বয়স্ক রক্ষণাবেক্ষণকারী এবং তার স্ত্রী ওই ঘরের একটি কোণে অতিথির মত জীবন যাপন করত। অতীতে এটা একটা বড় আড়ম্বর এবং জাঁকজমকপূর্ণ প্রাসাদ ছিল। সেখানে বাগানে বিভিন্ন উচ্চতার গাছ দেখা যেত। এবং গাছগুলোর পাড় বা আঁচলা যাদুকরের গুহার মত অন্ধকার পূর্ণ ছিল।
যৌতুক দেওয়া ঘরটা খুবই মনোরম, খুবই সুন্দর শান্ত পরিবেশ বিরাজ করছিল। এবং এই ঘরটাতে মেজর ল্যাক্সটন হ্যারির বাবা দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছে। বালক হিসাবে হ্যারি কিংসডেন প্রাসাদে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়িয়েছে এবং এই গৃহের প্রত্যেকটা খুঁটিনাটি বিষয় সম্বন্ধে অবগত আছে। এবং পুরানো ঘরটা সবসময় তাকে আকৃষ্ট করত।
মেজর ল্যাক্সটন কিছু বছর আগে মারা গেছে। সুতরাং এটা ভাবা যেতে পারে যে, হ্যারির কোনও দায়িত্ব ছিল না মেজর ল্যাক্সটনকে ফিরিয়ে আনার জন্য। তথাপি হ্যারি তার নতুন বউকে নিয়ে তার ছেলেবেলার ওই ঘরটিতে পা রাখতে দ্বিধা বোধ করেনি। ধ্বংসপ্রাপ্ত পুরানো কিংসডেন ঘরটা টেনে অন্য জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এক দল বাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থা এবং কনট্রাক্টরটা ছোঁ মেরে এই জায়গাটাকে নিয়ে নিয়েছে এবং অবিশ্বাস্যভাবে খুব কম সময়ে এবং বিস্ময়করভাবে সমস্ত প্রাচুর্য নিয়ে নতুন ঘরটাকে ঢেলে সাজানো হয়েছে। এই নতুন ঘরটা সাদা রঙের এবং উজ্জ্বল এবং চকচক করছে গাছের ভেতরকার মধ্যে দিয়ে।
