–তাহলে তুমি কি মনে করছ? স্বামী ইচ্ছে করেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। যাতে অন্য একজন আততায়ী এসে মিসেস স্পিনলোকে হত্যা করতে পারে?
হ্যাঁ, আপনি ট্রেড ইয়ার্ডের কথা মনে রেখেছেন? আমি তার সঙ্গে কাজ করেছি, আমি দেখেছি, তিনি খুব এলোমলো স্বভাবের মানুষ। তিনি একটু পরে কী করবেন আগে থেকে তা নির্বাচন করতে পারেন না।
হ্যাঁ, তুমি ঠিকই বলেছ, তার চরিত্রের মধ্যে কোনো দৃঢ়তা নেই। তার চরিত্রে একাধিক দোষও লুকিয়ে আছে।
-স্যার, আমার মন্তব্য যে একেবারে সঠিক আমি তা বলছি না। আমার মনে হয় এই ব্যাপারের সঙ্গে সেও জড়িয়ে থাকতে পারে। হয়তো সে এই ভাবে তার কৃতিত্ব জাহির করার চেষ্টা করেছে।
মেলচেট অবাক হয়ে জানতে চাইলেন–অক্সফোর্ড ব্লুবার্ডদের খবর কি?
-এই ব্যাপারটাও আমি ভেবে দেখেছি। মনে হয় কেউ হয়তো টাকার লোভে এই কাজটা করেছে। আমি এ ব্যাপারে কয়েকটা ক্ল্য আপনাকে দিয়ে গেলাম। আপনি এই ক্লু গুলো নিয়ে নাড়াচাড়া করবেন। আমার মনে হয় আপনি কদিনের মধ্যেই আসল আততায়ীকে ধরতে পারবেন।
কর্নেল মেলচেট বললেন-তোমার মন এত সন্দেহে ভরা কেন? যাক, তুমি কি মিস মার্পলের সঙ্গে কথা বলেছ?
এই ব্যাপারের সঙ্গে মিস মার্পলের কী যোগ থাকতে পারে, স্যার, আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না। আমার তো মনে হচ্ছে এটা আমরাই সমাধান করতে পারব।
-না, হয়তো আপাত দৃষ্টিতে মনে হতে পারে যোগসূত্ৰতা বলে কিছু নেই। কিন্তু ওই ভদ্রমহিলার অগাধ আস্থা এবং অসীম জ্ঞানের প্রতি আমি উপেক্ষা দেখাব কী করে? তোমার এখনই উচিত ওনার বাড়িতে গিয়ে ওনার সাথে আলোচনায় অংশ গ্রহণ করা। ওনার বয়স হয়েছে, কিন্তু মাথাটা এখনও পরিষ্কার আছে।
প্যাট ইচ্ছে করেই বিষয়টা ঘোরাবার চেষ্টা করে বললেন–স্যার, একটা ব্যাপারে আপনার কাছ থেকে পরামর্শ চাইছি। মৃতা ভদ্রমহিলা যেখান থেকে তার পেশাগত জীবন শুরু করেছিলেন, আমি বলতে চাইছি যেখানে তিনি পরিচারিকার কাজ করতেন, সেই ফ্ল্যাট রবার্ট অ্যাবার ক্রমগট জায়গাটা একবার দেখে এলে কেমন হয়? আমার মনে হচ্ছে সেখানে গেলে আমরা কোনো একটা সূত্রের সন্ধান পাব। ওখান থেকেই তো হীরে জহরত চুরি হয়ে গিয়েছিল। আমি বলতে চাইছি মরকত মণির কথা, আপনার তো মনে আছে, স্যার। সেগুলো আর কখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। এই ব্যাপারটা নিয়ে আমি যথেষ্ট নাড়াচাড়া করেছিলাম, আমার মনে হচ্ছে ওই ভদ্রমহিলা যখন সেখানে কাজ করতেন তখনই এই ঘটনাটা ঘটে গিয়েছিল। এই সময় অবশ্য তিনি নেহাতই এক কিশোরী কন্যা ছিলেন। আপনার কি কখনো মনে হয় না স্যার, এর সাথে ওই ভদ্রমহিলার কোনো যোগ সূত্র থাকতে পারে? আসল স্পিনলো তো সেই সময় জুয়েলারির দোকান নিয়ে নাড়াচাড়া করতেন, মনের ভেতর উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকাটাই স্বাভাবিক, তাই নয় কি? ঘটনাটার কথা আমার স্পষ্ট মনে আছে। পুলিশ মহলে একটা চালু কথা ছিল, তা হল ওই বাড়ির কোনো একটি ছেলে এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত আছে, তার নাম হল জিম অ্যাবার ক্রমগই। সে হল বড়োলোকের বখে যাওয়া ছেলে। প্রচুর দেনা করে ফেলেছিল, আর ওই ভয়ঙ্কর ডাকাতিটা হবার পর সব দেনা সে শোধ করে দেয়। বলা হয়, কোনো এক ধনী ভদ্রমহিলা নাকি তার হয়ে এই সব দেনা শোধ করে দিয়েছিল, ব্যাপারটা আমার কাছে অবিশ্বাস্য বলেই ঠেকেছিল। ভেবে দেখ, বৃদ্ধ অ্যাবারক্রমগই কিন্তু এই ব্যাপারটা নিয়ে বেশি আলোচনা করতে চাননি। আমার মনে হয়, এটা বোধহয় নেহাতই একটা পারিবারিক কলঙ্ক, তাই তিনি চেষ্টা করেছিলেন এটাকে ধামা চাপা দেবার।
প্যাট একটু বিষণ্ণ হয়ে বলল–আমি আপনাকে আমার মনের কথা জানালাম স্যার, আমার তো ভুল হতে পারে।
.
০৩.
মিস মার্পল প্যাটকে অভিবাদন জানালেন। সাবধান এবং সন্তর্পণে। যখন শুনতে পেলেন যে, প্যাটকে কর্নেল মেলচেট পাঠিয়েছেন তখন তার মধ্যে আতিথেয়তার ভাব ফুটে উঠল। আসলে তিনি সব মহলের সঙ্গেই ভালো সম্পর্ক বজায় রাখতে চাইতেন।
-কর্নেল মেলচেটকে আমার অভিবাদন জানাবেন। আমি তো ভাবতেই পারছি না যে, তিনি এখনও আমাকে মনে রেখেছেন।
এটাই হলো মিস মার্পলের চরিত্রের ভদ্রতা।
–উনি সবসময় আপনার কথা মনে রাখেন, ম্যাডাম। উনি আমাকে বললেন এখনই আপনার সঙ্গে দেখা করতে। সেন্ট মেরিমেড-এ যেসব ঘটনা ঘটে চলেছে, আশা করি আপনি সে সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। এই ব্যাপারে আপনার অভিজ্ঞতা এবং জ্ঞান আমাকে সাহায্য করে।
–আমি আবার কর্নেলকে আমার ধন্যবাদ জানাচ্ছি। কিন্তু বিশ্বাস করুন এই ঘটনাটা সম্পর্কে আমি বিন্দু বিসর্গ কিছুই জানি না। কীভাবে যে হত্যাকাণ্ডটা ঘটেছে সে ব্যাপারে আমি এখনও অন্ধকারের মধ্যে আছি।
–আপনি কি বুঝতে পারছেন কী বিষয় নিয়ে আমরা কথা বলতে চলেছি?
-হ্যাঁ, আমি খানিকটা অনুমান করতে পারছি, এইভাবে কথা বলে কোনো লাভ হবে বলে আমার মনে হচ্ছে না। শুধু শুধু কথা বলে সময় কাটানোর কী দরকার?
প্যাট বুঝতে পারছেন, পরিস্থিতি ক্রমশই তাঁর হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে। তা সত্ত্বেও তিনি শেষ চেষ্টায় খড় কুটো আঁকড়ে ধরার প্রয়াসে মত্ত থেকে বললেন–এটাকে নেহাতই একটা ব্যবসায়িক বা শুকনো আলোচনা বলে ভাববেন না, ম্যাডাম। মনে করা যাক আমরা অন্তরঙ্গ আলাপচারিতায় এসেছি। গোপনে আপনার সাথে কিছু শলা পরামর্শ করতে চাই।
