–আমার অনেক কথাই মনে পড়ছে মিসেস হারমন। কিন্তু সেগুলো সত্যি সত্যি এখানে আছে কি?
–মিস মার্পল হাসি মুখে বলে উঠলেন–হ্যাঁ, এখানে সব কিছু নিরাপদে গচ্ছিত আছে।
.
০৪.
–রেভারেন্ড জুলিয়ান হারমনকে এখন আবার তাঁর আগের অবস্থানে দেখা গেল। তিনি তার স্ত্রীকে স্নেহ এবং সন্তুষ্টি ভরা আচরণের মাধ্যমে অভিনন্দিত করলেন। তারপর বললেন–তুমি যে ফিরে এসেছ, এতে যে আমি কত খুশি হয়েছি তোমাকে কী করে বোঝাব? শ্রীমতী বার্ড চেষ্টা করে সবকিছু ভালো ভাবে করতে। সে আমায় মাছের কেক করে খাইয়েছে। লাঞ্চের খাওয়াটা খুব একটা খারাপ হয় নি। কিন্তু তোমার মতো রান্না সে কি করতে পারে?
…….বাধ্য হয়ে আমি খাবারের টুকরোগুলো টিগালাথকে দিয়ে দিয়েছি।
–টিগলাথ? বাঞ্চ চিৎকার করে উঠলেন, তার মানে ওই মোটা সোটা বেড়ালটি, যেটা এখানে সেখানে ঘুরে বেড়ায়, খাবারের জন্য। তিনি বলে উঠলেন, টিগলাথের ভাগ্য ভালো বলতে হবে। মনে হয় সে বোধহয় খেয়ে খেয়ে আরও একটু মুটিয়ে যাবে।
দাঁতের ব্যথাটা কেমন আছে, প্রিয়তমা? তুমি কি ডেন্টিস্টের শরণাপন্ন হবার সুযোগ পেয়েছিলে?
বাঞ্চ বলে, উঠলেন–এখন আর দাঁতের যন্ত্রণা তেমন ভাবে আমাকে আঘাত করছে না। আমি আরও একবার আন্ট জেনের সঙ্গে দেখা করতে যাব।
জুলিয়ান বললেন–তিনি এখনও ভালো আছেন, আমি আশা করি।
বাঞ্চ বলে উঠলেন–হ্যাঁ, তিনি কখনো খারাপ থাকেন না।
পরদিন সকালে ক্রিসেনথেমাম হাতে চার্চের দিকে এগিয়ে চলেছেন। সূর্যকে আবার পূর্ব দিগন্তে দেখা গেল। বাঞ্চের মনে হল, চারপাশে এখন হাজার হীরকের বর্ণচ্ছটা ছড়িয়ে পড়েছে। নিশ্বাস নিতে বড্ড ভালো লাগছে তার। তিনি ভাবলেন এখন আকশের দিকে দুহাত তুলে ওই নবজাতিকা মেয়েটির জন্য প্রার্থনা করা উচিত। তিনি মনে মনে বললেন-হে ঈশ্বর, এই মেয়েটি যেন ভালোভাবে বেঁচে থাকতে পারে। আমাকে অনেকটা পথ এখনও হাঁটতে হবে ওকে সাহায্য করার জন্য।
তিনি ধীরে ধীরে চার্চে পৌঁছে গেলেন, বেশ কিছুটা সময় কাটালেন ঈশ্বরের সামনে নতজানু অবস্থায়। মনে হল গত দুটি দিনের স্মৃতি বুঝি তার মনের আকাশ থেকে চিরতরে বিলুপ্তি হয়ে গেছে। এখন তাকে নতুন উদ্যমে আবার জেগে উঠতে হবে। জেগে উঠতে হবে শুধুমাত্র ওই নবজাতিকা মেয়েটিকে মানুষ করার জন্য।
২. টেপ-মেজার মার্ডার
টেপ-মেজার মার্ডার
০১.
মিস পলিটকে দেখা গেল উদ্বিগ্ন মুখে দাঁড়িয়ে থাকতে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকবার দরজায় শব্দ করেছে। সে আরও একবার করবে কি না ভাবছে। কিছুক্ষণের নীরবতা, তারপর আবার সে খটখট করে শব্দ করল। তার বাঁ হাতে একটা মোটা সোটা পালে ধরা আছে। নিজেকে স্থির রাখার চেষ্টা করল সে। এই পার্শেলের মধ্যে আছে শ্রীমতী স্পিনলোর নতুন সবুজ শীতকালীন পোশাক। একেবারে মাপসই করে বানানো হয়েছে মিস পলিটের বাঁ হাতে কালো সিল্কের তৈরি একটা ব্যাগ ঝোলানো আছে। ব্যাগের মধ্যে আছে মালা নেবার ফিতে, পিন কুশন আর মস্তবড়ো কঁচি।
মিস পলিট দীর্ঘদেহী তরুণী, তীক্ষ্ণ নাক তার। ঠোঁট দুটি লালাভ এবং লোভনীয় চুলের রংকে আমরা ঈষৎ বাদামি বলতে পারি। আরও একবার দরজায় আঘাত করা উচিত হবে কি না মনে মনে ভাবতে চেষ্টা করে সে। তারপর রাস্তার দিকে তাকায়। দেখে একটা শরীর ক্রমশ কাছে এগিয়ে আসছে, কে এই ভদ্রমহিলা? মিস হার্টনেল না? সময় যাকে কখনো ব্যস্ত করতে পারে না। পঞ্চান্ন বছর বয়স প্রায়। চিৎকার করে বলে উঠলেন–শুভ সন্ধ্যা, মিস পলিট।
ড্রেস মেকার উত্তর দিল শুভ সন্ধ্যা মিস হার্টনেল, কিন্তু তার কণ্ঠস্বরের মধ্যে কেমন একটা মায়াবী মৃদুময়তা খেলা করছে। কথা বলার আসল শক্তি কি সে হারিয়ে ফেলেছে? জীবন শুরু করেছিল একজন ভদ্রমহিলার পরিচারিকা হিসেবে। সে বলেই চলল–একটা কথা জানতে চাইছি, আপনার সাথে কি মিসেস স্পিনলোর দেখা হয়েছে? উনি কি বাড়িতে আছেন?
মিস হার্টনেল বলে উঠলেন–এ ব্যাপারে আমার বিন্দুমাত্র ধারণা নেই, আসলে ওনার সাথে আমার খুব একটা কথাবার্তা হয় না।
-দেখুন না, আমি কতক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে আছি। মিসেস স্পিনলোর জন্য নতুন ড্রেস নিয়ে এসেছি। তিনি বলেছিলেন সাড়ে তিনটের সময় আসতে। আমি কিন্তু সময় মেনে চলতে ভালোবাসি।
মিস হার্টনেল তার হাতঘড়ির দিকে তাকালেন। আধঘণ্টা হয়ে গেছে, বেচারি, তোমার জন্য সত্যি আমার মায়া হচ্ছে।
ইতিমধ্যে আমি তিনবার দরজায় শব্দ করেছি, কিন্তু ভেতর থেকে কোনো উত্তর পাইনি। বুঝতে পারছি না, এখন আমি কী করব? আমার মনে হয় মিসেস স্পিনলো বোধহয় বাইরে চলে গেছেন আর আমি যে আসব–এই ব্যাপারটা একেবারে ভুলে গেছেন। তবে উনি কিন্তু সাধারণত খুব একটা ভুলো মনের নন। তিনি এই পোশাকটা পরবেন, আমাকে বারবার তাগাদা দিয়েছিলেন। পরশুদিন কোনো একটা অনুষ্ঠানে এই পোশাকটা পরে যাবেন।
মিস হার্টনেল দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকলেন। মিস পলিট তাকে অনুসরণ করল। র্যাভারনাম কটেজের বাইরে এসে তারা দাঁড়ালেন।
তিনি বলে উঠলেন–গ্ল্যাডির উত্তর শোনা যাচ্ছে না কেন? ওহ আজ তো বৃহস্পতিবার, তার মানে আজ গ্ল্যাডি ছুটি নিয়েছে। আমার মনে হয় মিসেস স্পিনলো হয়তো গভীরভাবে ঘুমিয়ে পড়েছেন। আপনি কি বার বার বেল বাজিয়ে ওনার ঘুম ভাঙাতে পারবেন? না হলে কিন্তু ওনার ঘুম ভাঙবে না। আর আপনাকে এখান থেকে চলে যেতে হবে।
