এবার পুলিশ কনস্টেবল অ্যাবেলের জয় হবার পালা। তিনি বললেন–ঠিক আছে, আমি ব্যাপারটার এখনই মীমাংসা করে দিচ্ছি।
-ম্যাডাম, যদি এটা আপনার স্যুটকেস হয়ে থাকে, তাহলে আপনি বলুন তো এর মধ্যে কী আছে?
বাঞ্চ একটুও ইতস্তত না করে বলে উঠলেন–জামাকাপড় আছে, একটা কোটও আছে, যার কলারের রঙটা ঈষৎ ময়লা হয়ে গেছে। দুটো উলের জাম্পার আছে, একজোড়া জুতো আছে।
পুলিশ কনস্টেবল অ্যাবেল বললেন–ঠিক আছে। বেশ ভালোভাবেই আপনি বলছেন দেখছি। এবার তিনি অন্যদিকে ঘুরে বললেন–এবার আপনি বলুন তো?
ওই দীর্ঘদেহী পুরুষটি বলে উঠলেন–এর মধ্যে থিয়েটারের কসটিউম আছে। থিয়েটারের জিনিসপত্র এখানে আছে। আমি এখানে এসেছি একটা অ্যামেচার থিয়েটারে অংশ নেব বলে।
পুলিশ কনস্টেবল অ্যাবেল বললেন–ঠিক আছে, স্যার, আমরা সুটকেসটা খুলে ফেলি কেমন? দেখি ভেতরে কী আছে। আমরা এখনই পুলিশ স্টেশনে যেতে পারি, তবে আপনার যদি খুব তাড়া থাকে, তাহলে আমরা স্যুটকেসটা স্টেশনে নিয়ে যেতে পারি। সেখানে গিয়ে না হয় এটা খুলে ফেলব।
এবার ওই ভদ্রলোকের অধৈর্য হবার পালা, তিনি বললেন–এই স্যুটকেসটা আমার, আমার নাম মস, এডুইন মস।
পুলিশ কনস্টেবল হাতে ধরা স্যুটকে নিয়ে স্টেশনে ফিরে গেলেন। তারপর বললেন–আমরা এখনই পার্সেল অফিসে যাব।
টিকিট কালেক্টারকে তিনি বললেন–চার্জ, এই স্যুটকেসটা এখনই পার্শেল অফিসে নিয়ে চলো তো।
পুলিশ কনস্টেবল অ্যাবেল ধীরে ধীরে হাঁটছিলেন, পার্শেল অফিসে স্যুটকেসটা পৌঁছে দেওয়া হল। স্যুটকেসটার তালা বন্ধ করা হয়নি। বাঞ্চ এবং মিস্টার এডুইন মস দু পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। একজন অন্যজনের দিকে অর্থহীন ভাবে তাকিয়ে আছেন।
পুলিশ কনস্টেবল বললেন–ঠিক আছে, এবার স্যুটকেসটা খুলে ফেলা যাক।
খুলে ফেলা হল, আহা, সেখানে সুন্দরভাবে পাট করা একটা পুরোনো দিনের টুইড কোট রয়েছে। দুটো মাফলারও চোখে পড়ল। সাধারণত আমরা যে চটি পায়ে দিয়ে বাড়িতে চলাফেরা করে থাকি তেমন একজোড়া চটি।
এবার পুলিশ কনস্টেবল অ্যাবেলের মুখে বুঝি বিস্ময়ের হাসি। তিনি বললেন–ম্যাডাম, আপনার বর্ণনা অক্ষরে অক্ষরে মিলে গেছে।
এবার মিস্টার এডুইন মস কী করবেন? তার কণ্ঠস্বরে একটা আশ্চর্য পরিবর্তন চোখে পড়ল।
তিনি বললেন-আমি অত্যন্ত ক্ষমাপ্রার্থী। বিশ্বাস করুন, আমি এই ব্যাপারটা কখনোই ঘটাতে চাইনি। কোথায় গেল আমার স্যুটকেসটা? আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। তারপর ঘড়ির দিকে তাকিয়ে তিনি বললেন-মনে হচ্ছে আমাকে এক্ষুনি ছুটে যেতে হবে। আমার স্যুটকেসটা বোধহয় ট্রেনেই রয়ে গেছে।
উনি ওনার হ্যাট ঠিক করতে করতে বাঞ্চের দিকে তাকিয়ে বললেন–আপনি আমাকে ক্ষমা করেছেন তো? অতি দ্রুত ভদ্রলোক পার্শেল অফিস থেকে চলে গেলেন।
বাঞ্চ পুলিশ কনস্টেবল অ্যাবেলের কানে কানে বললেন–আপনি ওকে ছেড়ে দিলেন কেন? ওনাকে আটকে রাখা উচিত ছিল।
অ্যাবেল কোনো কথা বললেন না। একটু বাদে তিনি বললেন-উনি বেশি দুর যেতে পারবেন না। এই ব্যাপারে আপনি আমার ওপর অগাধ আস্থা রাখতে পারেন। ওর গতিবিধির ওপর আমার লোকেরা কড়া নজর রেখেছে। আশা করি আপনি আমার কথার আসল অর্থ বুঝতে পারছেন।
বাঞ্চ স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে বললেন–তাহলে ঠিক আছে।
পুলিশ কনস্টেবল অ্যাবেল বললেন–ওই বৃদ্ধা ভদ্রমহিলা ফোন করে আমাকে সব কথা বলে দিয়েছেন। ওনার সাথে আমার অনেক দিনের পরিচয়। আমি সব কথা ঠিক বলছি তো? দেখা যাক, এবার ঘটনা কোন দিকে ঘুরে যায়। তবে মনে রাখবেন, আপনাকে কোনো ব্যাপারে চিন্তা করতে হবে না। আপনি আমার বুদ্ধিমত্তা এবং কার্যক্ষমতার ওপর আস্থা রাখতে পারেন। আশা করি কাল সকালে আপনার সাথে ইন্সপেক্টরদের দেখা হয়ে যাবে। ইন্সপেক্টর অথবা সার্জেন্ট। আজ রাতের ঘুমটা নষ্ট করবেন না।
.
০৩.
মিস মার্পলের পরিচিত ইন্সপেক্টার ক্রাডফও বাঞ্চকে অভিযানে জানালেন, তাঁর ঠোঁটের কোণে পুরোনো বন্ধুত্বের উষ্ণ হাসির পরশ।
তিনি বললেন–চিপিং লেক হর্নে আবার একটা অপরাধের ঘটনা ঘটে গেল। মিসেস হারমন, এখানে কি ব্যাপারটা নিয়ে তেমন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে?
ভদ্রলোকের এই কথা শুনে একটু রেগে গেলেন শ্রীমতী হারমন। আসলে কদিন ধরে তাঁর স্নায়ুর ওপর যে চাপ পড়েছে, রাগ দেখানোটাই স্বাভাবিক। তবুও নিজেকে শান্ত সংযত রেখে তিনি বললেন–আমি আপনার উদ্দেশ্যটা ঠিক মতো বুঝতে পারছি না। আপনি কি আমাকে প্রশ্ন করতে এসেছেন, নাকি আপনি এই ব্যাপারটা সম্পর্কে সত্যি তদন্ত করতে চান?
ইন্সপেক্টর বললেন–আমি প্রথমেই কয়েকটা কথা আপনাকে পরিষ্কারভাবে জানাতে চাইছি। আমি মিস্টার এবং মিসেস একলেসের গল্প দিয়ে এই কাহিনিটা শুরু করব। আমরা কিছু দিনের জন্য তাদের ওপর কড়া নজর রাখতে বাধ্য হয়েছি। তারা বিভিন্ন ধরনের ডাকাতি কাজের সঙ্গে যুক্ত। এ বিষয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই। আর একটি বিষয়ের কথা আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, শ্রীমতী একলেসের একজন ভাই আছে। তার নাম স্যান্ড বর্ন। সে বিদেশ থেকে সম্প্রতি ফিরে এসেছে। কিন্তু যে মানুষটিকে আপনারা চার্চ প্রাঙ্গনে শুয়ে থাকতে দেখেছেন তিনি কিন্তু স্যান্ড বর্ণ নন। এ ব্যাপারে আমি একশো ভাগ নিঃসন্দেহ।
বাঞ্চ বললেন–আমি এ ব্যাপারটা আগেই অনুমান করেছিলাম। ওই ভদ্রলোকের নাম ওয়াল্টার, উইলিয়াম নয়–এটাও আমি জোরের সঙ্গে বলছি।
