মিস মার্পল বলার চেষ্টা করলেন-দেখ, এত সুন্দর পেন্টাবল আমি কখনো দেখিনি। এর ওপর ছোটো করে জে বর্ণটা লেখা আছে। দেখ, রেডান্সের বউয়ের নাম তো জোয়ান, আমার মনে হয় এটা জোয়ানের জন্যই রাখতে হবে। তাহলেই বোধহয় আমাদের আশা পরিপূর্ণ হবে।
বাঞ্চ কিশোরীর আনন্দে মেতে উঠে বললেন–ওই গ্লাসক্লথগুলো আমার খুবই দরকার ছিল। এত সহজে যে পাব সেটা আমি কখনো ভাবতেই পারিনি। আমার মনে হয় যে কোনো ভদ্রমহিলার উচিত এখানে এসে ওগুলো কিনে ফেলা।
তাদের কথাবার্তায় ছেদ পড়ে গেল। আসলে তখনই অ্যাপেলবার্গে প্রবেশ করেছে। এক তরুণী। যথেষ্ট আকর্ষণীয় চেহারা ওর। ঠোঁটে রঞ্জনির ছোঁয়া। সে এখানে সেখানে তাকাল অর্থহীন দৃষ্টিতে। তারপর ছুটে এল তাদের টেবিলের দিকে। মিস মার্পলের উপস্থিতিতে খুশি হল সে।
মিস মার্পলের কোলের ওপর একখানি খাম ছুঁড়ে দিল।
তারপর অত্যন্ত দ্রুতভাবে বলল–মিস, তুমি এখানে?
মিস মার্পল বললেন-তোমাকে অনেক ধন্যবাদ, গ্ল্যাডি। তোমাকে আমি সব সময় ধন্যবাদ জানাতে চাই, তুমি এত তৎপরতার সঙ্গে কাজগুলো করে ফেলো।
এই কথা শুনে গ্ল্যাডির লাল গাল আর একটু বেশি লালিমায় রাঙা হল। গ্ল্যাডি বলল–তোমার কথা মানতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবতী মনে করি, হেনরি আমাকে সব সময় বলে থাকে। মিস মার্পলের কাছ থেকে জীবনের সব সৎগুণগুলো নিয়ে নেবার চেষ্টা করবে। মিস মার্পলকে সেবা করার মধ্যে একটা আলাদা আনন্দ আছে–সে কথাই মেনে চলার চেষ্টা করি আমি। তাতে আমার কোনো কৃতিত্ব নেই।
মিস মার্পল গ্ল্যাডির দিকে তাকিয়ে বলে উঠলেন-তুমি সত্যি খুব উপকারী মেয়ে, তোমার মতো এত ভালো মেয়ে আমি জীবনে খুব কমই দেখেছি।
যেমন ঝড়ের মতো এসেছিল গ্ল্যাডি, তেমনই চলে গেল সে। তখনও ক্যাফেটেরিয়াতে রয়ে গেল তার উজ্জ্বল উপস্থিতির দিকচিহ্নগুলি।
এবার মিস মার্পল এনভেলাপটা খুলে কিছু দেখার চেষ্টা করলেন। তারপর সেটা বাঞ্চের দিকে তুলে দিয়ে বললেন-তুমি কিন্তু এখন থেকে সাবধানে পথ চলবে। আচ্ছা, এখনও কি সেই সুদক্ষ ইন্সপেক্টার মেলচেষ্টরে কর্মরত অবস্থায় আছেন? আমার ঠিক মনে পড়ছে না।
বাঞ্চ বললেন–আমিও জানি না, মনে হয় উনি এখনও সেখানে কাজ করছেন।
মিস মার্পল চিন্তামগ্ন কণ্ঠস্বরে বলে উঠলেন–আচ্ছা, আমি দেখছি, আমার মনে হয় চীফ কনস্টেবলকে এখনই একটা ফোন করা দরকার। তিনি বোধহয় এখনও আমাকে মনে রেখেছেন।
বাঞ্চ বলে উঠলেন–হ্যাঁ, যিনি একবার তোমার সংস্পর্শে এসেছেন, তিনি কি তোমাকে ভুলে যেতে পারেন? তুমি তোমার উজ্জ্বল উপস্থিতি নিয়ে সব সময় বিরাজ করছ।
এবার বাঞ্চকে উঠে দাঁড়াতে হল। বেডিংস্টোন আসার পর বাঞ্চ লাগেজ অফিসে গেলেন, ক্লোকরুম টিকিটটা আধিকরিকের হাতে তুলে দিলেন। কিছুক্ষণ পরে একটা পুরোনো স্যুটকেস সেখানে এসে গেল। স্যুটকেস নিয়ে তিনি শান্তভাবে প্ল্যাটফর্ম ধরে হাঁটতে শুরু করলেন। .
বাড়ি আসা পর্যন্ত কোনো ঘটনা ঘটল না। ট্রেন চিপিং লেক হর্নের দিকে এগিয়ে যেতে লাগল। বাঞ্চের হাতে ধরা আছে ওই পুরোনো সুটকেসটা। তিনি শান্তভাবে স্যুটকেস ধরে হেঁটে চলেছেন। হঠাৎ একটা অভাবনীয় ঘটনা ঘটে গেল, বাঞ্চ লক্ষ্যই করেননি যে আর এক ভদ্রলোক তাকে এইভাবে অনুসরণ করে আসছে। হঠাৎ সেই ভদ্রলোক তার হাত থেকে স্যুটকেসটা ছিনিয়ে নিল, ভিড়ের মধ্যে পালাবার চেষ্টা করল।
বাঞ্চ চিৎকার করে উঠল-থামোথামো! ওই লোকটিকে থামান, ও আমার স্যুটকেস চুরি করেছে।
গ্রাম্য স্টেশনের টিকিট কালেক্টাররা যেমনটি হয়ে থাকেন, অত্যন্ত মন্দাক্রান্তা ছন্দে তাঁদের জীবনচক্র বাঁধা। তিনি বললেন-দেখছি, এমনটি কখনো করা উচিত নয়…..
কিন্তু তার চোয়ালের ওপর নিখুঁত একটা ঘুষির পাঞ্চ। তিনি আর এগোতেই পারলেন না। স্যুটকেস নিয়ে রুদ্ধশ্বাসে স্টেশন থেকে বেরিয়ে গেল ওই দুবৃত্ত। অপেক্ষামান একটি গাড়িতে চড়ে বসল। পুলিশ কনস্টেবল আবেলের কণ্ঠস্বর শোনা গেল–তাহলে? কী ঘটনা ঘটেছে বলুন তো?
বাঞ্চ স্টেশন থেকে ইতিমধ্যে সেখানে পৌঁছে গেছে। লোকটি আমার স্যুটকেস তুলে নিয়েছে। আমি ট্রেন থেকে সেটা নিয়ে নামছিলাম।
লোকটি বলল –ননসেন্স, আমি জানি না, এই ভদ্রমহিলা কী বলার চেষ্টা করছেন। এটা আমার স্যুটকেস। আমি ট্রেন থেকে এটা নিয়ে নেমে এসেছি।
ওই লোকটা বাঞ্চের দিকে তাকাল। রাগী চোখের তারায়। পুলিশ কনস্টেবল অ্যাবেল কিছুই বুঝতে পারছেন না। মিসেস হারমন তাঁর বিশেষ পরিচিত। এর আগে মিসেস হারমনের সঙ্গে পুলিশ কনস্টেবল অ্যাবেলের বিভিন্ন বিষয়ে কথাবার্তা হয়েছে। বিশেষ করে কীভাবে ভালো সার দিলে গোলাপটা ফুটবে সেই সম্পর্কে অ্যাবেলের অসীম কৌতূহল।
পুলিশ কনস্টেবল অ্যাবেল বিব্রত সুরে বললেন–ম্যাডাম, এটি কি আপনার স্যুটকেস?
বাঞ্চ বললেন–অবশ্যই।
এবার আপনার কথা শুনি, স্যার।
–এটা আমার স্যুটকেস, আমি জোরের সঙ্গে বলছি।
লোকটা দীর্ঘদেহী, গায়ের রং ঈষৎ কালো। ভালো পোশাক পরিহিত। এমনভাবে কথা বলছেন যেন কর্তৃত্বের ছাপ আছে। গাড়ির ভেতর বসে ছিলেন এক ভদ্রমহিলা, তার এবার তীক্ষ্ণ কণ্ঠস্বর শোনা গেল।–এডুইন এখানে আর দেরি করে লাভ কী, তুমি এখনই স্যুটকেস নিয়ে এখানে চলে এসো। আমি জানি না এই ভদ্রমহিলা এসব কথা বলছেন কেন?
