আপনি যদি সত্যিই ওটা দেখতে চান আপনাকে চার্লসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
আপনার একটা লিখিত অনুমতিপত্র ছাড়া সেটা বোধহয় সম্ভব নয়।
নিক বিস্ময়ের চরমে ওঠা গলায় বলে, আরে না না, তার কোন দরকার নেই।
না, মাদাম জোয়েল, আমার বিনীত অনুরোধ সব কিছুরই একটা নির্দিষ্ট পদ্ধতি থাকে। সবারই সেটা মেনে চলা উচিত।
বেশ। নিক পোয়ারোর দিকে তাকিয়ে ফ্যাকাশে মুখে মৃদু হাসে। বিছানার পাশ থেকে কাগজের প্যাড, কলম টেনে নেয়।
পোয়ারো চিঠিটা হাতে নিয়ে বের হবার উদ্যোগ করে। ধন্যবাদ। আমি সত্যিই ভীষণভাবে দুঃখিত। আপনাকে অনেক সমস্যায় ফেলেছিলাম। কিন্তু বিশ্বাস করুন। আমার একেবারেই মনে ছিল না। পোয়ারো মৃদু হাসে। ঘরের চারপাশে তাকিয়ে হাসি মুখেই বলে, বাহ, চমৎকার ফুলগুলো।
নিক উচ্ছ্বাসের গলায় বলে, চমৎকার, তাই না? এই কারনেশানগুলো ফ্রেডির পাঠান। গোলাপগুলো জর্জের, আর জিম লাজারুম পাঠিয়েছে লিলিগুলো।
একটু থেমে সে আরও বেশি উচ্ছ্বাসের গলায় বলে, তার এটা দেখুন না।
কাপড়ের ঢাকনা সরাতেই একটা বেতের ফলের টুকরি বের হয়। তাতে দুর্দান্ত পাকা, রসালো, কালো আঙুরের থোকা। নিমেষে পোয়ারোর মুখটা পরিবর্তিত হয়ে ওঠে। দ্রুত, ক্ষিপ্র পায়ে সে সামনে এগিয়ে যায়। আপনি কি এখান থেকে ফল খেয়েছেন?
পোয়ারোর তীব্র প্রতিক্রিয়ায় নিক একটু ঘাবড়ে যায়, না, এখনও পর্যন্ত খাইনি।
খাবেন না। মাদাম হাসপাতালের খাবার ছাড়া অন্য কিছু বাইরের কোন খাবার ভুল করেও মুখে তুলবেন না। বুঝেছেন?
পোয়ারোর প্রতিক্রিয়া দেখে নিকের মুখের বিবর্ণতা আরও প্রগাঢ় হল, বুঝেছি। আপনি মনে করছেন সব এখনও শেষ হয়ে যায়নি–না, শেষ হয়নি। তাই না? খুনি এখনও চেষ্টা করে যাবে–যাচ্ছে, তাই না? ফিস্ ফিস্ করে বলে সে।
পোয়ারো নিকের হাতদুটো নিজের হাতের মধ্যে তুলে নেয়। চেপে ধরে, ওসব নিয়ে একদম চিন্তা করবেন না। আপনি এখানে পুরোপুরি নিরাপদ। শুধু একটা কথা মনে রাখবেন, বাইরে থেকে আসা কোন জিনিস ছুঁয়েও দেখবেন না, খাবেন না, এমন কি কিছু ব্যবহারও করবেন না।
আমার ঘর ছেড়ে বের হয়ে আসবার পরও, বিছানার বালিশে হেলান দিয়ে এলিয়ে থাকা, মৃতবৎ নিকের ফ্যাকাশে মুখটা আমার চোখের সামনে ভাসছিল। পোয়ারো ঘড়ির দিকে তাকায়। চলো হে, তাড়াতাড়ি যেতে পারলে মিঃ ভ্যাইস দুপুরের খাবার খেতে বের হয়ে যাবার আগে ধরতে পারব।
আমাদের মিঃ ভ্যাইসের ঘরে পৌঁছে দেওয়া হল। উনি সাদরে আমাদের অভ্যর্থনা করলেন।
আসুন মিঃ পোয়ারো। বলুন আপনার জন্য কি করতে পারি?
পোয়ারো মৃদু হেসে নিকের চিঠিটা ওর হাতে তুলে দেয়। সেটা পড়বার পর মিঃ ভ্যাইস বিমূঢ় চোখে আমাদের দিকে তাকালেন।
মাফ করবেন, কিন্তু আমি কিছুই বুঝতে পারছি না।
পোয়ারো ভুরু কুঁচকে তাকায়, চিঠিটা কি যথেষ্ট সহজ ভাষায় লেখা নয়?
এই চিঠিতে……. বিহ্বলভাবে ভ্যাইস বলে, আমাকে বলা হয়েছে ফেব্রুয়ারি মাসে নিক যে উইলটা আমায় করতে এবং গচ্ছিত রাখতে দিয়েছে, সেটা আপনার হাতে তুলে দিতে। চিঠিটার উপর আঙুল বোলাতে বোলাতে উনি বলেন।
হ্যাঁ, মঁসিয়ে।
কিন্তু, মহাশয়, আমাকে তো কোন উইল করতে বা রাখতে দেওয়া হয়নি।
মানে? পোয়ারোর দুচোখ এবার ছানাবড়া হয়ে যায়।
আমি যতদূর জানি, আমার তুতো বোন কোন উইল করে নি। আমি সেরকম কিছুই কখনও ওর জন্যে বানাইনি।
পোয়ারো কয়েক মুহূর্ত নিশব্দে বসে থাকে। বোধহয় বিস্ময়ের অভিঘাতটা সামলাতে। তারপর উঠে দাঁড়ায়, মিঃ ভ্যাইস, সেক্ষেত্রে আমার কিছু বলার নেই। কোথাও একটা ভুল হচ্ছে।
নিশ্চিত ভাবেই মিঃ পোয়ারো ভুল হচ্ছে একটা।
ঠিক আছে। আজ তাহলে চলি। আবার দেখা হবে।
বাইরে বের হয়ে এসে আমি প্রথম কথা বলি, ব্যাপারটা কি হল? তোমার কি মনে হয়? লোকটা মিথ্যে বলল?
কিছু বলা যাচ্ছে না।
তাহলে? এখন আমাদের কর্তব্য?
খুব জটিল হয়ে উঠল। একমাত্র মিঃ ক্রফটই আমাদের এ ব্যাপারে আলো দেখাতে পারেন।
ওনার তো এখানে কোন লোভ করার ব্যাপার নেই?
না, না, আমি সেই দৃষ্টিভঙ্গিতে ব্যাপারটা দেখছি না। ভদ্রলোক বোধহয় প্রতিবেশীদের ব্যাপারে অহেতুক নাক গলানো, এবং গায়ে পড়ে তাদের সাহায্য করা ধরনের চরিত্রের মানুষ। কিছু লাভের আশায় কোন কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন না।
আমরা যখন মিঃ ক্রফটের বাড়ি গিয়ে পৌঁছলাম উনি রান্নাঘরে ব্যস্ত ছিলেন। আমাদের দেখেই উনি নিকের বিষয়ে জানতে চাইলেন। সে ভাল আছে, পোয়ারো জানাল। ভদ্রলোক তাতে বেশ নিশ্চিন্ত হলেন মনে হল। কিন্তু মিঃ ক্রফট এতো কথা বলছিলেন, প্রশ্ন করছিলেন, যে পোয়ারো আমাদের এখানে আসবার আসল প্রসঙ্গটাই তুলতে পারছিল না। নিহত মেয়েটির ময়না তদন্ত হয়েছে কি? তার আত্মীয় পরিজনরা কখন এসে পৌঁছবেন? শেষকৃত্য কবে, কখন হবে? পুলিশ কি খুনের ব্যাপারে কোন সূত্র পেয়েছে? শেষ পর্যন্ত, সামান্য একটা বিরতি, ক্রফটের সামান্য থামার সুযোগে পোয়ারো প্রশ্নটাকে বলা ভাল একরকম ছুঁড়েই দেয়। এতক্ষণ যে কথাটা সে বলবার জন্যে প্রবল, অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল।
হ্যাঁ, নিশ্চয়ই, আমার স্পষ্টই মনে আছে। পোয়ারোর প্রশ্নের উত্তরে উনি বললেন।
আসলে, কিছুটা মজা করেই আমি ওনাকে বলেছিলাম, প্রশ্ন করেছিলাম, উনি কোন উইল করেছেন কিনা?
