মিঃ ক্রফট একটু থামলেন, কিন্তু উনি ব্যাপারটাকে সিরিয়াসলি নিয়ে নিলেন, সঙ্গে সঙ্গেই একটা উইল বানাবার কাজ শুরু করে দিলেন। আমি ওনাকে অনেক বোঝাবার চেষ্টা করি, ব্যাপারটা খুব সহজ কাজ নয়, অনেক ঝামেলা আছে। কিন্তু উনি বলেন কোন সমস্যা হবে না, ওনার এক তুতো ভাই উকিল। তিনিই সবকিছু করে দেবেন। সব ব্যবস্থা করবেন। পোয়ারো মাথা নেড়ে অনুমোদনের ভঙ্গিতে সায় দেয়, এবং তারপর? আমরা ওটা ডাক যোগে মিঃ ভ্যাইসকে পাঠিয়ে দিই। নিকের সেই তুতো ভাই উকিলকে।
আপনি নিশ্চিত, ওটা মিঃ ভ্যাইসকে পাঠান হয়েছিল? পোয়ারোর কথায় মিঃ ক্রফট ক্ষুণ্ণ গলায় বলেন, মিঃ পোয়ারো, আমি নিজের হাতে ডাকাযোগে ওটা মিঃ ভ্যাইসকে পাঠিয়েছিলাম।
কিন্তু মিঃ ভ্যাইস যে বলছেন তিনি ওটা আদৌ পাননি? মিঃ ক্রফট বিস্ময়ের চোখে তাকালেন। তার মানে? উনি কি বলতে চাইছেন? উইলটা ডাক পথে খোয়া গেছে? কিন্তু তা অসম্ভব নয় কি? পোয়ারো মাথা নাড়ে, যাইহোক, ব্যাপারটা আর এখন তত গুরুত্বপূর্ণ নয়। মাদাম জোয়েল মোটেই মারা যাচ্ছে না। কথাটা শেষ করে পোয়ারো উদ্দেশ্যপূর্ণ হাসে।
El Voila, আমরা বাড়ির বাইরে বের হয়ে আসবার পর পোয়ারো বলে। কে তাহলে মিথ্যে কথা বলছে? মিঃ ক্রফট? না মিঃ ভ্যাইস? সত্যি কথা বলতে কি আমি কিন্তু মিঃ ক্রফটের মিথ্যে কথা বলবার কোন কারণ দেখতে পাচ্ছি না। প্রথমত ওনার উইল থেকে কোন লাভই হবার নেই। দ্বিতীয় কথা, উইলটা বানাতে উনি সাহায্য করেছিলেন। আমার তো মনে হয়……
মি ক্রফটকে রান্না করতে দেখে আমি খুব খুশি হয়েছিলাম। আরও খুশি হয়েছিলাম যখন দেখলাম টেবিলে রাখা খবরের কাগজে উনি সেই হাত চেপে ধরলেন। ওনার অলক্ষ্যে আমি সেই কাগজের থেকে অংশটুকু ছিঁড়ে এনেছি। আমাদের প্রিয় বন্ধু ইন্সপেক্টর জাপের কাছে আজই আঙুলের ছাপটা পাঠিয়ে দিতে হবে। দেখা যাক উনি আমাদের কোন তথ্য দিতে পারেন কি না।
আমি বিস্ময়ে হতবাক চোখে পোয়ারোর দিকে তাকাতে সে হাসে, হেস্টিংস, আমাদের সেই ক্রফট ভদ্রলোক, একটু বাড়াবাড়ি রকম ভদ্রলোক। আর সেখানেই কেমন যেন একটা প্রবল খটকা। কোথায় যেন……..
১৫. ফ্রেডরিকার আশ্চর্য ব্যবহার
১৫. ফ্রেডরিকার আশ্চর্য ব্যবহার
চিফ কনস্টেবল কর্ণেল ওয়েস্টন আমাদের দুপুরের খাবারটা তার সঙ্গে খেতে ডেকেছেন, হোটেলে ফিরেই খবর পেলাম। আমরা যথাসময়ে গিয়ে হাজির হলাম। লম্বা, সুদর্শন পুলিশ কর্মীটি দেখা গেল পোয়ারোর বিরাট ভক্ত। তার বিষয়ে প্রায় সব খবরই রাখে সে। সাদর অভ্যর্থনা জানানোর পর তিনি বললেন (এবং কথাটা অনেকবারই বললেন)। আমাদের পরম সৌভাগ্য, যে আপনাকে এখানে পেয়েছি। তবে তিনি দ্রুত অপরাধের সমাধান করে আসল অপরাধীকে গ্রেপ্তার করতে চান। তার আশঙ্কা না হলে হয়ত তদন্তের ভার স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের হাতে চলে যাবে। নিশ্চিতভাবেই নার্সিংহোমে মহিলাটি সুরক্ষিত আছেন। কিন্তু সেটা কোন সমাধান নয়। কতদিন ওনাকে সেখানে রাখা যাবে? কর্নেল ওয়েস্টনের কথায় পোয়ারো উত্তর দেয়, এই সমস্যার তো একটাই সমাধান। কর্নেল আগ্রহী গলায় প্রশ্ন করেন, সেটা কি?অপরাধীকে তাড়াতাড়ি কজা করা। হুমম। কিন্তু সেটা খুব সহজ কাজ হবে না, কর্নেল ওয়েস্টন হতাশ গলায় বলেন। অবশ্যই। এই ধরনের মামলাগুলো সবসময়েই ভীষণরকম জটিল। আহ, যদি পিস্তলটাও, যেটা খুনে ব্যবহৃত হয়েছিল, সেটা হাতে পাওয়া যেত। চিফ কনস্টেবল হতাশ গলায় আবারও বললেন। সেটা ঠিক। তবে ঘাঘু অপরাধীরাও মাঝে মাঝেই এমন ছোট্ট, ছোট্ট বোকার মত ভুল করে বসে। পোয়ারো সমর্থনের ভঙ্গি করে মাথা নাড়ে।
আগামীকাল সকালে ময়না তদন্ত করা হবে। তবে তার ফলাফল আপাতত আমরা কাউকে জানাব না।
সেটাই ভাল। পোয়ারো উঠে দাঁড়ায়। আমরা এবার বিদায় নেব। আমরা দরজার দিকে কয়েক পা মাত্র এগিয়েছি, হঠাৎ উনি বললেন, ওহ, একটা কথাতত বলতে ভুলেই গেছি। কথাটা বোধহয় আপনার মতামতও চাই। পকেট থেকে একটা প্রায় দোমড়ানো মোচড়ানো কাগজের টুকরো বের করে পোয়ারোর দিকে এগিয়ে দেন চিফ কনস্টেবল। আমার পুলিশকর্মীরা যে মাঠে বাজি পোড়ানো হচ্ছিল সেখানে তল্লাশি করতে গিয়ে এটা পেয়েছে।
পোয়ারো কাগজটাকে সোজা করে দুহাত দিয়ে চেপে, তারপর চোখের সামনে তুলে ধরে। বেশ বড় বড় অক্ষরে লেখা।
……. টাকার জোগাড় তাড়াতাড়ি কর…… তা না হলে, তুমি জান কি ঘটবে……… ভালই জানো……. আমি তোমাকে শেষবার সতর্ক করছি……….
পোয়ারোর চোখে বেশ তীব্র আগ্রহ ফুটে ওঠে। ইন্টারেস্টিং। আমি কি এটা রাখতে পারি? অবশ্যই। চিঠিটায় কোন আঙুলের ছাপ নেই। আপনি যদি এটার থেকে আর কোন তথ্য বার করতে পারেন আমি খুশিই হব। এরপর আমরা বের হয়ে এলাম। তার আগে অবশ্য চিফ ইন্সপেক্টর আমাদের জানিয়ে দিলেন ম্যাগির মা-বাবা আজ বিকেলেই ইয়র্কশায়ার থেকে এসে পৌঁছেছেন। আগামীকাল ময়না তদন্তের পরই তারা মেয়ের মৃতদেহ নিয়ে ফিরে যাবে ইংলন্ডে।
বাড়িতে ফিরে পোয়ারো খুব মনোযোগ দিয়ে চিঠিটাকে পরীক্ষা করছি, কোন প্রয়োজনীয় তথ্য? কোন সূত্র? আমার প্রশ্নে পোয়ারো কাঁধ ঝাঁকায়। কি করে বলা যেতে পারে? শুধু এটুকু বলা যেতে পারে চিঠিটার মধ্যে ব্ল্যাকমেলের দুর্গন্ধ আছে। সেই বাজি পোড়ানোর অনুষ্ঠানের রাতেই এই চিঠিটা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কে দিয়েছিল? কাকে? এবার সে খুব মনোযোগ দিয়ে একটা ম্যাগনিফাইং গ্লাস দিয়ে চিঠিটাকে পরীক্ষা করতে থাকে। হাতের লেখাটাকে বিশেষ করে। তারপর আমার দিকে মুখ ফিরিয়ে মৃদু হাসে। তোমার কি হাতের লেখাটা চেনা মনে হচ্ছে হেস্টিংস? আমি আরও একবার বেশ কিছু সময় নিয়ে চিঠির হাতের লেখাটাকে গভীর মনোযোগ দিয়ে লক্ষ্য করি আমার কি যেন একটা মনে পড়ছে। কি যেন……. আহ মনে পড়েছে। মিসেস রাইস।
