ওহ্,নিকের বাঁকা ভুরু এবার সহজ হয়, ওটা নিয়ে আর মাথা ঘামানোর প্রয়োজন আছে কি? আমি তো মরিনি। আর আমি যতদূর জানি, কোন মানুষ যতক্ষণ না মারা যাচ্ছে তার উইলের কোন দাম বা গুরুত্বই নেই।
যেটা ঠিকই। তবে আমার নিজস্ব একটা অন্য কৌতূহল আছে আপনার এই উইলের ব্যাপারে।
পোয়ারো থামে। এক ঝলকে নিকের মুখটা চকিতে নিরীক্ষণ করে নিয়ে আবার বলে, ভাল করে চিন্তা করুন উইলটাকে ঠিক কোথায় রেখেছেন। মনে করবার আন্তরিক চেষ্টা করুন মাদাম।
নাহ, সেরকম সঠিকভাবে কিছু মনে করতে পারছি না। তবে যতটা মনে করতে পারছি কোন একটা ড্রয়ারে ঢুকিয়ে রেখেছিলাম ওটাকে।
আপনি কোনভাবেই কোন সিক্রেট প্যানেলে রাখেননি তো এটাকে?
সিক্রেট কি? চরম বিস্ময়ের গলায় প্রশ্ন করে নিক।
আপনার পরিচারিকা এলিন আমাকে বলেছে আপনার বাড়ির লাইব্রেরিতে একটা গোপন চেম্বার রয়েছে।
ননসেন্স। আমি কোন দিন এরকম কিছুর কথা শুনিওনি, দেখিওনি কখনও। এলিন আপনাদের এই আষাঢ়ে গল্পটা বলেছে?
আশ্চর্য তো? তাহলে হয়ত অল্পবয়সে সে যখন রান্না ঘরের পরিচারিকা হিসাবে এন্ড হাউসে কাজ করত সে সময় দেখে থাকবে। হয়ত, হতে পারে রাঁধুনিটিই ওকে সেসময় এটা দেখিয়েছিল।
এই প্রথম আমি ব্যাপারটা শুনছি। সেরকম কিছু যদি থাকত ঠাকুরদা নিশ্চয়ই জানতেন। আর সেক্ষেত্রে, তিনি আমাকে অবশ্যই বলতেন। নিশ্চিতভাবেই। মিঃ পোয়ারো আপনি নিশ্চিত এলিন এসব বানিয়ে বলছে না তো?
না মাদাম জোয়েল, আমি এ বিষয়ে একেবারেই নিশ্চিত নই। আপনার এই এলিনের মধ্যে একটা অদ্ভুত ব্যাপার আছে। কিছু একটা অস্বাভাবিক…….. গণ্ডগোল……. কোথায় যেন…….. পোয়ারোর কথায় নিক কয়েক মুহূর্ত চিন্তা করে বলে, আমার অবশ্য সেরকম কিছু কখনও মনে হয়নি। বেশ দায়িত্বশীলই মনে হয়েছে ওকে সবসময়।
পোয়ারোর সে কথা কানে গেল কিনা বুঝলাম না। হাতের পাতা উল্টে নখের দিকে তাকিয়ে এক মনে কি যেন চিন্তা করে যাচ্ছিল। হঠাৎ চোখ তোলে সে।
আচ্ছা মাদাম, আপনি ওকে বাগানে গিয়ে বাজি পোড়ানো দেখবার ছুটি দিয়েছিলেন?
হ্যাঁ, নিশ্চয়ই, প্রতিবারেই সবাইকে ছুটি দেওয়া হয়।
তবু সেই রাতে বাজি পোড়ানো দেখতে বের হয় নি সে।
হ্যাঁ, অবশ্যই গিয়েছিল, নিক জোর গলায় দাবি করে।
আপনি কি করে জানলেন মাদাম?
না, মানে ঠিক জানি না। প্রতিবছরই তো ওদের সবাইকে ছুটি দেওয়া হয়। ওরা বাইরে বাজি পোড়ানো দেখতে যায়। সেই হিসাবে বলছি। এবারও নিশ্চয়ই এসেছিল।
না, মাদাম জোয়েল। পোয়ারো মৃদু হেসে মাথা নাড়ে, বরং উল্টোটাই ঘটেছিল। এলিন বাড়ির ভেতরেই ছিল।
কিন্তু কেন? ভারি আশ্চর্য তো? নিকের গলায় বিস্ময়ের পরিবর্তে স্পষ্ট সংশয়।
মাদাম, আপনার এটা আশ্চর্য মনে হচ্ছে?
হ্যাঁ, অবশ্যই। আমি নিশ্চিত এর আগে কখনও সে এরকম করেনি।
সে কি বলেছে কেন বাইরে যায়নি?
নাহ, সেরকম কিছু নিশ্চিত ভাবে বলেনি। কাজ সারছিল–এইটুকুই।
আশ্চর্য। গোটা ব্যাপারটাই আমার কেমন যেন গোলমেলে লাগছে। আচ্ছা, লুকানো প্যানেলটা ঠিক কোথায় আছে ও আপনাদের দেখিয়েছে?
ও বলেছে এখন মনে করতে পারছে না।
এরকম কিছু আছে, থাকতে পারে বলে আমি বিশ্বাস করি না।
ও এটাও বলেছে বাড়িটা নাকি বাস করবার পক্ষে ঠিক নয়। ওর অস্বস্তি হয় থাকতে।
নিমেষে নিকের মুখ-চোখ বদলে যায়। দু চোখ বিস্ফারিত হয়ে ওঠে। চোখের তারায় আতঙ্কের কালো ছায়া পড়ে, হ্যাঁ, এই কথাটা ও ভুল বলেনি। ইদানিং আমারও কেমন মেনে লাগত এই বাড়িটাতে থাকতে। মাঝে মাঝেই শরীর কেমন ছমছম করে উঠত। আর তাছাড়া………
মৃদু কাঁপুনি ছড়িয়ে পড়ে শরীরে। পোয়ালরা ওকে কথা শেষ করতে না দিয়ে দ্রুত প্রসঙ্গ পাল্টে ফেলে।
মাদাম, আমরা মূল প্রসঙ্গ থেকে ক্রমশই সরে যাচ্ছি। উইল। ম্যাগি বার্কলির উইল। শেষ কোথায় আপনি দেখেছিলেন সেটাকে?
আমি ঠিক মনে করতে পারছি না। আসলে মিঃ ক্রফট বলেছিলেন উইল বানানোটা খুব কঠিন ব্যাপার। তাই আমি পরপর বেশ কয়কটা খসড়া করেছিলাম। নতুন খসড়া করা হলেই পুরনোটা নষ্ট করে ফেলতাম।
পোয়ারো কৌতূহলী গলায় বলে, মিঃ ক্রফট? তিনি উইলের ব্যাপারটা জানতেন?
হ্যাঁ, উনিই তো প্রথম ব্যাপারটা আমার মাথায় ঢোকান। উনি বলেছিলেন তুমি যদি সম্পত্তির ভাগ না করা অবস্থায় মারা যাও তাহলে সরকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে নেবে। তাই উনি আমাকে উইল করে রাখবার কথা বলেছিলেন।
বাহ্। বেশ উপকারী তো ভদ্রলোক পোয়ারো কথায় সায় দেয়।
হ্যাঁ, নিঃসন্দেহে, উনি তো…….. আহ আমার মনে পড়েছে। উনি এলিন আর ওর স্বামীকে সাক্ষী হিসাবে সই করানোর জন্যেও নিয়ে এসেছিলেন।
কথাটা শোনামাত্র পোয়ারো অর্থপূর্ণ চোখে আমার দিকে তাকায়।
আহ-হ। সত্যি আমি একটা নির্বোধ। আমার মনে পড়েছে ওটা তো চার্লসের কাছে। রয়েছে।
হ্যাঁ, নিশ্চয়ই। মিঃ ক্রফট বলেছিলেন একজন আইনবিদই ব্যাপারটার সঠিক দায়িত্ব। নিতে পারবেন।
হুম। মিঃ ক্রফট অবশ্যই ঠিক কথাই বলেছিলেন।
সুতরাং, আমরা ওটাকে একটা খামে বন্ধ করে সোজা চার্লসের কাছে পাঠিয়ে দিই।
তাহলে এই ব্যাপার। পোয়ারো ঠাণ্ডা গলায় কেটে কেটে বলেন।
নিক বালিশে হেলান দিয়ে বসে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে।আমি সত্যিই অত্যন্ত দুঃখিত। আসলে গত কয়েকদিন ধরে যা চলেছে, মাথা কাজ করছে না।
