পোয়ারো একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল, এইসব অল্পবয়সী মেয়েরা, এদের ঠিকঠাকভাবে মানুষই করা হয়না বুঝলে হে। শৃঙ্খলা, গোছানো পদ্ধতি, এসব এদের ধরা ছোঁয়ার বাইরে। একটা ঘোট, চেষ্ট ড্রয়ার ঘাঁটাঘাঁটি করতে শুরু করে এরপর। ঠিকই চলছে। বেশ খানিকটা লজ্জিত ভাবেই তাকিয়ে থাকার পর, ওকে না বলে পারি না। পোয়ারো, কি হচ্ছে? মহিলাদের অন্তর্বাস রয়েছে দেখছ না ওখানে? নিজের কাজ চালিয়ে যেতে যেতে পোয়ারো ছোট্ট মন্তব্য করে, তাতে কি? আমি বিস্ময়ের গলায় প্রশ্ন করি, তুমি কি আশা করছ ওখানে……. হো হো করে প্রবল হাসির গমকে ফেটে পড়ে সে, হেস্টিংস, তুমি তখনও সেই ভিকটোরিয়ান যুগেই পড়ে রয়েছ। আরে আজকের আধুনিক যুবতীরা আর তাদের অন্তর্বাস নিয়ে লজ্জিত হয় না। তবুও আমার মনে হয় এটা আমরা পারি না।
না, বন্ধু, আমার মনে হয় না মাদাম জোয়েল নিক এসব ব্যাপারে খুব রক্ষণশীল। লুকোচুরি পছন্দ করেন না। তাহলে তো ড্রয়ারটাকে তিনি বন্ধ করেই রাখতেন। তাই না? পোয়ারোর যুক্তিগুলো আমাকে মোটেই কাবু করতে পারে না। বেশ দৃঢ় গলায় আমি প্রশ্ন করি, তবু এসবের কি প্রয়োজন আছে খুব?
এবার, এতক্ষণে পোয়ারো আমার দিকে ফিরে তাকায়, সে কথা যদি বল বন্ধু, কোথায়-কখন-কিভাবে যে প্রয়োজন তাকে কেউ বলতে পারে না। পোয়ারো এবার অন্তর্বাসের স্তূপের নীচ থেকে তার হাত বের করে আনে।
বাদামী একটা মোটা খাম, গোলাপী রিবন জড়িয়ে বাঁধা। সম্ভবত, মাইকেল সেটনের প্রেমপত্রের গোছা। শান্ত গলায় বলে সে। ততোধিক শান্তভঙ্গিতে সে গোছা খুলে ফেলে রিবনের বাঁধন থেকে, তারপর চিঠিগুলো বের করে পড়তে আমি আর্তচিৎকার করে উঠি স্ক্যানডালাইজড হয়ে গিয়ে। তুমি কিন্তু এটা কিছুতেই করতে পার না। খুব বেশি রকম বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে। কোন ছেলেখেলা নয় মোটেই এটা।
আমি মোটেই ছেলেখেলা করছি না বন্ধু। আচমকাই ওর মন তীক্ষ্ণ, তীব্র হয়ে ওঠে। আমি একজন, খুনিকে খুঁজে বেড়াচ্ছি।
হ্যাঁ, কিন্তু ব্যক্তিগত চিঠিপত্র……
এগুলো হয়ত কিছুই বলবে না, আবার হতে পারে অনেক কিছুই বলে দেবে। আমাকে সব প্রত্যেকটি সুযোগই নিতে হবে বন্ধু। এস, তোমাকেও চিঠিগুলো আমার সাথে পড়তে হবে। একজোড়া চোখের চেয়ে দুজোড়া চোখ অনেক বেশি কার্যকরী হতে পারে। যদিও ব্যাপারটা আমার একেবারেই পছন্দ হচ্ছিল না। যদিও, আমি বুঝতে পারছিলাম পোয়ারোর পক্ষে সব দিকগুলো, সম্ভাব্য সবকটি পথ হাতড়ে দেখাই উচিত, সঠিক কাজ। পোয়ারো আমাকে অবাক করে হঠাৎ বলে মনকে সান্ত্বনা দিতে চাইলে, ভেবে নাও, তোমার আমার অনেক আগেই নিশ্চিতভাবেই এলিন এগুলো সবকটাই পড়ে ফেলেছে। যদিও আমি মনের বিরুদ্ধে গিয়েও কাজটা করতে সান্ত্বনা খুঁজে নিলাম নিকের বলা কয়েকটা শব্দ, শেষ কথাগুলো, যা ইচ্ছে হয়, যেখানে খুশি খুঁজে দেখতে আপনারা যা ইচ্ছে করতে পারেন।
পোয়ারো ততক্ষণে একটা চিঠি খুলে পড়তে শুরু করেছে।
নববর্ষ প্রিয়তমা,
শুভ নববর্ষ। আমার নতুন বছরের রিজিলিউশন একটা মিষ্টি ব্যাপার। তোমাকে আরও-আরও ভালোবাসা। আমার জীবনটাতে তুমি এসে একেবারে অন্য চেহারা দিয়েছ। প্রথম দর্শন থেকেই আমরা দুজনেই জানতাম–যা ঘটেছে সেটাই আমাদের জীবনের একমাত্র গন্তব্য ছিল। হ্যাপি নিউ ইয়ার, আমার মিষ্টি সোনা।
—তোমার চিরদিনের মাইকেল।
ফ্রেব্রুয়ারী ৪
প্রিয়তমা,
আমাদের মধ্যে কি আরও ঘনঘন দেখা হতে পারে না? সত্যি বড় বিশ্রী ব্যাপার। এমন একটা ব্যস্ততার মধ্যে জড়িয়ে গিয়েছি। তোমাকে তো সব কথাই বলেছি। আবার আমাদের সম্পর্কটাকে নিয়েও এমন ছলনার আশ্রয় নিতে হচ্ছে। আমি জানি তুমি মিথ্যে এবং ছলনা কতটা ঘৃণা কর। আমিও করি। তবু এছাড়া কোন উপায় নেই। এই মুহূর্তে ম্যাথু কাকাকে সব কথা জানানোর অর্থই হচ্ছে পুরো দুধের গামলাটায় কয়েক ফোঁটা চোনা ফেলে দেওয়া। বিয়ে, নারী এসব উনি কতটা ঘৃণা করেন তুমি কল্পনাও করতে পার না।
মন খারাপ কর না সোনা। সব খুব তাড়াতাড়িই ঠিক হয়ে যাবে।
তোমার-তোমারই–মাইকেল।
মার্চ–২
প্রিয়তমা,
আগামীকাল আবার স্কারবরোঘ. যাচ্ছি। সেই স্কারবরোঘ। আমার জীবনটাকে ভগবানের আশীর্বাদধন্য করে তুলেছে যে জায়গা। পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর এই জায়গাটা তাই আমার কাছে। আজ সকালে উঠেই তাই তোমার কথা মনে পড়ল।
প্রিয়তমা, তুমি জান না, আমি তোমায় কতখানি–কতটা ভালবাসি।
—তোমারই মাইকেল।
এপ্রিল–১৮
প্রিয়তমা,
সব সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছি। নিশ্চিতভাবেই এই সময়টা সফলভাবে করে ফিরতে পারি (এবং আমি জানি সফল হয়েই ফিরব)। আমি ম্যাথু কাকার সঙ্গে কথা বলব। পুরো ব্যাপারটা ওনাকে জানাব। উনি যদি খুশি না হন, তোমাকে মেনে নিতে না পারেন, আমার তাহলে আর কিছু করার নেই। ওনাকে স্পষ্ট জানিয়ে দেব আমি তোমাকে বিয়ে করছি। আশা করছি, এই বিশ্ব সফরটাতে সফল হলে অর্থনৈতিকভাবে আমাকে আর ওনার মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হবে না। সুতরাং, এসব ব্যাপার নিয়ে আর দুশ্চিন্তা কর না।
এদিকের আর সব খবর ভাল। আলবাট্রাস পুরোপুরি তৈরি। এবার শুধু আমার ওড়বার অপেক্ষা। আমাকে নিয়ে চিন্তা করো না। ভগবানের কৃপায় সব ঠিকঠাক চলবে।
ভাল থেকো সুইটহার্ট
— তোমার–মাইকেল এপ্রিল ২০ প্রিয়তমা,
