না, না, আমি তা বিশ্বাস করি না। জানে, নিশ্চয়ই কেউ জানতো। সত্যি কথা বলতে কি কেউ একজন সবসময়ই পুরো ব্যাপারটা জানতো। যদি বা নিশ্চিত ভাবে না জেনেও থাকে, সঠিক নিখুঁত ভাবে আন্দাজ করেছিল। মাদাম জোয়েল রাইস কিছুটা সন্দেহ করেছিলেন সম্পর্কের ব্যাপারটা। গত রাতের ডিনারে ওর কথা নিক তো প্রায় মেনেই নিয়েছিলেন, অনেকটাই, নিজের নিশ্চিত বিশ্বাস থেকেই যদি মাদাম জোয়েল রাইস প্রসঙ্গটা তুলে থাকেন সে রাতে?
কিন্তু উনি কি ভাবে আন্দাজ করতে পারবেন?
অনেক রকম ভাবেই সম্ভব। যেমন ধরো মাইকেল সেটনের কোনও প্রেমপত্র যদি ওনার নজরে পড়ে থাকে? আমরা তো ইতিমধ্যে নিশ্চিত ভাবেই জেনে গিয়েছিলাম, কাগজপত্র গুছিয়ে রাখবার ব্যাপারে মিস বার্কলি অত্যন্ত অসতর্ক। সুতরাং এই সম্ভাবনাটা খুবই প্রবলভাবে থাকছে।
এবার আমি চিন্তান্বিত গলায় বলি, তোমার কি মনে হয় মিসেস রাইস বান্ধবীর উইলের ব্যাপারটা জানেন?
নিঃসন্দেহে। পোয়ারো দ্ব্যর্থহীন ভঙ্গিতে উত্তর দেয়। তারপর, একঝলক কি যেন ভেবে নিয়ে বলে ওহহহ, ভাল কথা। আমার তালিকাটা। তোমার মনে আছে নিশ্চয়ই? সন্দেহভাজনদের সেই তালিকাটা? ক,খ,গ,…. নাহ, আর অত দূর এগোবার দরকার নেই। তালিকাটা কাটছাঁট করে খুব ছোট্ট করে এনেছি মাত্র দুইজনে।
আমি অবাক গলায় বলি, মাত্র দু’জন?
পোয়ারো খুশি খুশি ভঙ্গিতে মাথা নাড়ে, আমার কথায় সায় দেয়, হা।
আমি কম্যান্ডার শ্যালিঙ্গারকে বাদ দিচ্ছি। যদিও প্লাইমাউথ থেকে এখানে আসতে তিনি আড়াই ঘণ্টা সময় নিয়েছিলেন। মাত্র তিরিশ মাইল দূরত্ব পার হতে কোনোমতেই অতটা সময় লাগবার কথা নয়। তবুও……..। লম্বা নাকের মিঃ লাজারুমকেও হেঁটে ফেলেছি। যদিও মাত্র কয়েক পাউন্ড দামের একটা ছবিকে বেশ কয়েকগুণ বেশি চড়া দামে কেনবার প্রস্তাব দিয়েছিলেন তিনি। খুবই অস্বাভাবিক। যাইহোক আমি অস্ট্রেলিয়ান দম্পতিদেরও বাদ দিচ্ছি। আমাদের তালিকাটাতে তবু কয়েকজন সন্দেহজনক থেকে যাচ্ছেন।
ফ্রেডরিকা রাইস তাদের একজন।
অবশ্যই। তিনি নিঃসন্দেহে তালিকার প্রথম দিকে থাকবেন। উইল অনুযায়ী (নিক বার্কলির) মাদাম জোয়েলের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়া হবার সুত্রে অর্থকরী দিক দিয়ে তিনিই নিঃসন্দেহে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবেন। শুধু এন্ড হাউস নয়, গত রাতে মাদাম জোয়েল ম্যাগি বার্কলির পরিবর্তে নিক মারা গেলে, মাদাম জোয়েলে রাইস আজ সকালে প্রচুর সম্পত্তির মালিক একজন ধনী মহিলা হয়ে যেতেন।
আমি ব্যাপারটাকে বিশ্বাস তো দূরের কথা, ভালভাবে হজম করতে পর্যন্ত পারছিলাম না।
তার মানে তুমি বলতে চাও এরকম একজন সুন্দরী মহিলা যে খুনী হতে পারে তুমি বিশ্বাস করতে পারছ না?
পোয়ারো কৌতুকের চোখে আমার দিকে তাকায় তারপর আবার বলতে শুরু করে, জুরিদের মধ্যেও অনেকসময় এই ধরনের মানসিকতা দেখা যায়, তবে তুমি হয়তো ঠিক বলেছ, আরও একজন প্রধানতম সন্দেহভাজন রয়েছে।
কে? তীব্র কৌতূহলের গলায় প্রশ্ন করে, চার্লস ভ্যাইস? কিন্তু উত্তরাধিকার সূত্রে সে তো শুধুমাত্র বাড়িটুকুই পেতে পারে বা পাবে।
হ্যাঁ, সম্ভবত সেকথা সে জানে না। তিনি স্বয়ং কি মাদাম জোয়েলের উইল তৈরি করেছেন? সম্ভবত না। তা যদি হত, তাহলে মোটেই নকিং এরাউন্ড সাম হোয়ার এই বাক্যবন্ধই তো ব্যবহার করেছিলেন মাদাম জোয়েল? না সেরকম ও আচরণ করত না। সুতরাং হেস্টিংস, এটাই স্বাভাবিক যে তিনি এই বিষয়ে কিছুই জানতেন না। সুতরাং মিঃ ভাইসের ধারণা থাকতে পারে মাদাম জোয়েল কোনো উইল করেন নি। সেক্ষেত্রে ওর আশা হতে পারে মাদাম জোয়েলের সবচেয়ে কাছের আত্মীয় হিসাবে তিনি মাদাম জোয়েলের অবর্তমানে সম্পূর্ণ সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হবেন।
এটা আমার কাছে অনেক বেশি সম্ভব বলে মনে হচ্ছে।
তোমার রোমান্টিক মনই একথা বলছে হেস্টিংস। কুচক্রী আইনজীবী, অসৎ, খল, গল্প-উপন্যাসে যেমন দেখা যায়। তাছাড়া ওর চেহারাটাও মোটেই তেমন সুবিধের নয়। খলনায়ক হবার মতো সবরকম উপাদান ওর মধ্যে অবশ্যই রয়েছে, তোমার মত অনুযায়ী, তবে হাঁ, এটা ঠিক যে, পিস্তলটা হাতিয়ে নেবার এবং ব্যবহার করা সবচেয়ে ভাল সুযোগ ওনারই ছিল।
আর পাহাড়ের চাতাল থেকে অতবড় পাথরটা গড়িয়ে দেবার সুযোগ একমাত্র কোন পুরুষেরই রয়েছে।
হয়তো ঠিকই বলেছ। তবে কোন কিছুর সাহায্যে চাড় দিয়ে পাথরটা সহজেই কোন মহিলাও নাড়িয়ে ফেলতে পারে। আর এটা একটা মহিলার অপরাধী বুদ্ধিজনক ঘটনা। আর যেভাবে পাথরটা ভুল সময়ে ফেলে মাদাম জোয়েলকে লক্ষ্যভ্রষ্ট করেছে, সেটা দেখে কাজটা কোনো মহিলারই বলে মনে হচ্ছে। আবার গাড়ির ব্রেক খারাপ করে রাখাটা পুরোপুরি পুরুষ অপরাধমনষ্কতারই প্রমাণ যদিও আজকাল অনেক মহিলারই গাড়ি বিষয়ে পুরুষের সমতুল্য জ্ঞানগম্যি থাকে। গাড়ির মেকানিক হিসেবেও তারা দক্ষ হন। তবে, অবশ্যই দুই-একটা ফাঁক থেকে যাচ্ছে মিঃ ভ্যাইসের বিরুদ্ধে থিয়োরিটাতে।
যেমন? আমি কৌতূহলী গলায় প্রশ্ন করি।
মাদাম জোয়েল রাইসের তুলনায় ওর এনগেজমেন্টের ব্যাপারটা জানতে পারবার সম্ভাবনা কম। সেক্ষেত্রে ওর মত একজন পাকা বুদ্ধির আইনজ্ঞের ঝোঁকের বশে তাড়াহুড়ো করে কোনো কাজ করে বসা, না ওর চরিত্রের সঙ্গে ব্যাপারটা একেবারেই মানাচ্ছে না। বিশেষ করে, সেটনের মৃত্যুর খবরটা যখন মাত্র কাল রাতেই জানতে পারা গেল।
