তাই বুঝি, তাহলে সেজন্য আপনাকে তত বাড়তি ধন্যবাদ দিতে হয় মিস জনস্টন। আপনার বদান্যতা আর সাহায্য সত্যিই প্রশসংনীয়।
এলিজাবেথ জনস্টন চলে যাওয়ার পর স্থির দৃষ্টিতে বন্ধ দরজার দিকে তাকিয়ে রইলো ইনসপেক্টর শার্প। তার তন্ময়তা ভাঙাবার জন্য সার্জেন্ট কব দুদুবার চেষ্টা করেছিল।
ওহো, তুমি! সম্বিৎ ফিরে পেয়ে শার্প বলে, হ্যাঁ আরাম এখানে কি পেলাম? খুবই অল্প। কিন্তু আমি তোমাকে একটা কথা বলে রাখছি কব, সার্চ ওয়ারেন্ট নিয়ে আগামীকালই আমি এখানে ফিরে আসছি, ওরা হয়তো ভাবছে সবকিছুই বুঝি শেষ হয়ে গেছে, ভাবতে দাও ওদের। ওখানে যে একটা বড়রকম কিছু ঘটতে যাচ্ছে, আমি নিশ্চিত। আগামীকাল এ কেসের ভোল আমি পাল্টে দেব।-তবে কাজটা খুব সহজ হবে না, কিন্তু আমার বিশ্বাস, আমি আমার একটা ক্লু ঠিক খুঁজে পাবোই। মিস জনস্টনের কথাবার্তা শুনে দারুণ আগ্রহ বোধ করছি। মেয়েটির মধ্যে নেপোলিয়নের অহংভাব আছে, আমার সন্দেহ মেয়েটি অবশ্যই কিছু জানে।
৩. মিস লেমনকে নোট দিতে
১০.
মিস লেমনকে নোট দিতে গিয়ে থামলো এরকুল পোয়ারো। মিস লেমন সপ্রশ্ন দৃষ্টিতে তার দিকে তাকালো। হা এরপর কি লিখবো বলুন মঁসিয়ে পোয়ারো। আমার মনটা খুবই বিক্ষিপ্ত। হাত তুলে বললো পোয়ারো, এ চিঠিটা তেমন জরুরী নয়, মিস লেমন দয়া করে সেখানে তোমার বোনের সঙ্গে যোগাযোগ করবে একবার।
হ্যাঁ এখুনি ফোন করছি মঁসিয়ে পোয়ারো। কয়েক মিনিট পরে পোয়ারো তার সেক্রেটারির হাত থেকে রিসিভারটা তুলে নেয়।
হ্যালো, বললো সে।
বলুন মঁসিয়ে পোয়ারো, কি খবর? মিসেস হার্বার্ড এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বললো যেন।
ওখানে এখন নিশ্চয়ই বিক্ষোভ দেখানো হচ্ছে? ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করলো পোয়ারো।
না মঁসিয়ে বেশ সুষ্ঠ ভাবেই ইনসপেক্টর শার্প সমস্ত ছাত্রছাত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদের কাজ শেষ করেছেন। আজ তিনি সার্চ ওয়ারেন্ট নিয়ে এসেছিলেন। মিসেস নিকোলেটিসের অবস্থা হিস্টিরিয়া রোগিণীর মতো তখন, আমাকে সামলাতে হয়েছে।
আহা। সহানুভূতি দেখালো পোয়ারো। তারপর সে বললো, একটা ছোট্ট প্রশ্ন করতে চাই। উধাও হওয়া সেই জিনিসগুলোর একটা ছোট্ট তালিকা তুমি আমাকে দিয়েছিলে মনে আছে? আচ্ছা সেগুলো কি তুমি পরপর সাজিয়েছিলে? মানে যেদিন যে জিনিসটা উধাও হয়েছিল সেই সব তারিখ অনুযায়ী লিখেছিলে।
না, ঠিক তা নয়। আমি দুঃখিত, যখন যেটা খেয়াল হয়েছে সেই ভাবে লিখেছিলাম। এ ব্যাপারে তখন আমার খেয়াল হয়নি। কিন্তু এখন দেখছি সেটার খুবই প্রয়োজন। তোমার সেই তালিকাটা আমার কাছে রয়েছে। বলল পোয়ারো। যেমন ধরা যাক প্রথমেই সান্ধ্যজুতো, তারপর ব্রেসলেট, হীরের আংটি, পাউডার কমপ্যাক্ট, লিপস্টিক, স্টেথোস্কোপ এবং আরো কিছু। কিন্তু তুমি এখন বলছে, এগুলো কালক্রমে সাজানো হয়নি।
না।
এখন তুমি কি মনে করতে পারো, নাকি সেগুলো পরপর সাজাতে তোমার খুব অসুবিধে হবে?
দেখুন মঁসিয়ে পোয়ারো, ঠিক এই মুহূর্তে আমি বলতে পারছি না। বুঝতেই তো পারছেন, ঘটনাগুলো অনেকদিন আগের তাই আমাকে একটু ভাবতে হবে। আমার বোনকে আমি বলেছি, আসলে আপনি ফোন করার আগেই আমি ঠিক করে রেখেছিলাম, আপনার সঙ্গে দেখা করতে যাবো। আর তখনই কালক্রমে সাজানো নতুন একটা তালিকা নিয়ে যাবো আপনার জন্য। আজ সন্ধ্যায় আপনার কাছে যাচ্ছি, তার আগে সম্ভব নয়, কারণ মনে করে তালিকাটা ঠিক করতে হবে তো? তাছাড়া প্রয়োজনীয় অপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলো যাচাই করতে হবে। অপ্রয়োজনীয় জিনিস বলতে যেমন বোরিক পাউডার, ইলেকট্রিক বাল্ব, ঝোলানো ব্যাগ–এগুলো সত্যিই জরুরী কিছু নয়, ভেবে দেখেছি ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর এগুলোর ব্যাপারে চিন্তা করা হয়েছিল।
তাই বুঝি! বললো পোয়ারো, হা দেখেছি আমি কি করতে পারিম্যাডাম প্রচুর সময় নিয়ে এসো অনেক কথা আছে তোমার সাথে। উধাও হওয়া জিনিসগুলো কালো ড্রেসে সাজিয়ে এনো।
নিশ্চয়ই মঁসিয়ে পোয়ারো, কাঁধে ঝোলানো ব্যাগটাই প্রথম উধাও হয় বলেই আমার বিশ্বাস, তারপর ইলেকট্রিক বাল্ব, যা আমার মনে হয়েছিল অন্য হারানো জিনিসগুলোর সাথে সম্পর্ক নেই–তারপর ব্রেসলেট এবং পাউডার কমপ্যাক্ট, না, না-সান্ধ্যজুতো। কিন্তু এরপর এখনি যেন আমাকে অনুমান করতে বলবেন না। কালক্রমে এরপর কি কি হতে পারে। ঠিক ঠিক ভাবে পরের জিনিসগুলো আমি সাজিয়ে আনবো।
ধন্যবাদ ম্যাডাম, তোমার কথা আমার চিরদিন মনে থাকবে। রিসিভারটা নামিয়ে রাখলো পোয়ারো।
শনিবার সকাল, হিকরি রোডে সার্চ ওয়ারেন্ট সঙ্গে নিয়ে এসে মিসেস নিকোলেটিসের সাক্ষাৎকার নেওয়ার দাবি করলো ইনসপেক্টর শার্প।
প্রচণ্ড ভাবে আপত্তি জানালেন মিসেস নিকোলেটিস, কিন্তু এতো এক ধরনের অপমান, আমার ছাত্র-ছাত্রীরা এরপর এখানে আর থাকবে ভেবেছো? সবাই চলে যাবে। তারা সবাই চলে যাবে। আমি তখন ধ্বংস হয়ে যাবো।
না, না ম্যাডাম। আমি ওদের চিনি, ওরা বোঝদার, ওরা ভুল বুঝবে না। হাজার হোক এটা তো খুনের কেস।
না, এ কখনোই খুনের নয়, আত্মহত্যার কেস।
আপনাকে তো আমি আগেই বলেছি, কেউ আপত্তি করবে না-নরম সুরে বললো মিসেস হার্বার্ড। এ আমি হলফ করে বলতে পারি কেবল–কেবল মিঃ আহমেদ আলি আর মিঃ চন্দ্রলাল ছাড়া।
