ফিঞ্চ, তার মানে আপনি বলতে চাইছেন, কোনো ব্যাপারে আপনি ভয় পাচ্ছেন?
হ্যাঁ, আমি ভীত কোনো কিছু কিংবা কেউ এমন এখানে অত্যন্ত নিষ্ঠুর। এখানকার সমস্ত জায়গাটা দুষিত–কে জানে আপনাকে ঠিক কি ভাবে যে বোঝাবো। না, না, ইনসপেক্টর আমি কমিউনিস্টদের কথা বলছি না। আমি দেখতে পাচ্ছি, আপনার ঠোঁট কাঁপছে। আবার বলছি কমিউনিস্টদের ভয়ে নয়, এমন কি কোনো তাপরাধীর ভয়েও নয়। তবে আপনাকে বাজী ধরে বলতে পারি যে এই ভয়ঙ্কর বয়স্ক মহিলা এ ব্যাপারে সবকিছুই জানেন।
কোনো বয়স্কা মহিলা? আপনি মিসেস হার্বার্ডের কথা বলছেন না তো?
না, না, উনি আমাদের অতিপ্রিয়, আমি বলতে চাইছি মিসেস নিকোলেটিসের কথা। সেই বৃদ্ধা মেয়ে নেকড়ে বাঘিনীর কথা।
মিস ফিঞ্চ এতে খুবই আগ্রহের ব্যাপার, মিস নিকোলেটিসের ব্যাপারে একটু বিশদ ভাবে বলতে পারে না?
সেলী মাথা নাড়লো, সঠিক ব্যাপারটা আমি জানি না। মনে হয় সিলিয়া কিছু জানতো। শেষদিন আমাকে এরকম একটা আভাও দিয়েছিল। এখানকার সেই সব অশুভ ঘটনা ঘটে যাওয়ার ব্যাপারে। পুরো খুলে না বললেও ভয়ে সে আমাকে বলেছিল, এমন কিছু একটা সে জানে যা সে আমার কাছে প্রকাশ করতে চায়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার বলা হয়ে ওঠেনি। তাই বলছি ইনসপেক্টর কারোর ব্যাপারে সে নিশ্চয়ই কিছু জানত, আর আমার মনে হয়, সেই কারণেই খুন হয়েছিল সে।
কিন্তু ফল সেরকম কিছু ভয়ঙ্কর হবে সেটা—
তাকে বাধা দিয়ে বলে উঠলো সেলী-সেটা যে কতো ভয়ঙ্কর এ সম্পর্কে তার কোনো ধারণাই ছিলো না। জানেন খুব একটা চটপটে মেয়ে সে ছিলো না। নেহাতই বোকা বোকা গোছের মেয়ে ছিলো সে, এমন একটা কিছু সে জানতো, যার বিপদের সম্ভাবনা তার আদৌ জানা ছিল না। সে যাহোক, এই হলো আমার পর্যবেক্ষণ, এটা যে কতো মূল্যবান তা আমার জানা নেই।
তাই বুঝি। ধন্যবাদ–এখন বলুন রাতে নৈশভোজের পরে শেষবারের মতো সিলিয়াকে আপনি কমনরুমে দেখেছিলেন, এই তো?
হ্যাঁ ঠিক তাই। তবে আসলে তার পরেও আমি তাকে দেখেছিলাম।
তারপরেও আপনি তাকে দেখেছিলেন! কোথায়? তার ঘরে?
না, আমি যখন শুতে যাই, তখন কমনরুম থেকে বেরিয়ে এসেছিলাম। তখন ওকে সামনের দরজা দিয়ে বেরিয়ে যেতে দেখি।
সামনের দরজা দিয়ে বেরিয়ে যেতে, মানে আপনি বলতে চাইছেন বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে দেখেছিলেন তাকে?
হ্যাঁ।
খুব আশ্চর্যের ব্যাপার তো কেউ তো একথা বলেনি।
মনে হয় তারা জানে না। সিলিয়া নিশ্চয়ই তাদের শুভরাত্রি জানিয়ে তাদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে থাকবে, তাই তারা ধরে নিয়েছিল ও শুতে যাচ্ছে। আর আমি যদি ওকে দেখতে না পেতাম, আমিও সেইরকম ভেবে নিতাম। মনে হয় বাইরে কারোর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলো ও।
বাইরের কারোর সঙ্গে, নাকি কোনো ছাত্রের সঙ্গে?
হ্যাঁ আমার ধারণা, বোধহয় কোনো ছাত্রের সঙ্গে। দেখুন, ও যদি গোপনে কোনো ছাত্রের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিল, সেতো এই বাড়িতেই করতে পারতো, হয়তো কেউ ওকে বলে থাকবে বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে কোথাও দেখা করার জন্য।
কখন সে আবার ফিরে এসেছিল, এ ব্যাপারে আপনার কোনো ধারণা আছে?
না, কোনো ধারণাই নেই।
পরিচারক গেরানিমো জানতে পারে?
কারণ এগারোটার পর দরজায় চেন লাগিয়ে তালা দিয়ে দেয় সে। এগারোটা পর্যন্ত যে কেউ তার নিজের চাবি দিয়ে দরজায় তালা খুলতে পারে।
ঠিক কখন সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল মনে আছে?
মনে হয় রাত দশটা কিংবা দু-চার মিনিট পরে হবে তার বেশি নয়।
আপনি যা বললেন, তার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ মিস ফিঞ্চ, ইনসপেক্টর শার্প শেষ জবানবন্দী নিলো এলিজাবেথ জনস্টনের। মেয়েটিকে দেখা মাত্র তার দক্ষতা সম্পর্কে বেশ ভালোরকমই উপলব্ধি করলো সে। মেয়েটি তার প্রশ্নের উত্তর দিলো বেশ বুদ্ধিমতীর মতো।
শুনেছি সিলিয়া অস্টিন আপনার কাজ নষ্ট করার ব্যাপারে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তীব্রভাবে করেছিল। মিস জনস্টন আপনি কি তা বিশ্বাস করেন?
আমার বিশ্বাসই হয় না, এ কাজ সিলিয়া করতে পারে না, না, অসম্ভব।
কিন্তু কে সে কাজ করেছিল, আপনি জানেন না?
এর স্পষ্ট উত্তর হলো, নিজেল চ্যাপম্যান, কিন্তু আমার কাছে আবার এও স্পষ্ট যে, নিজেল অত্যন্ত বুদ্ধিমান, সে কি নিজের কালি ব্যবহার করতে পারে?
বেশ তো নিজেল যদি না হয়, তাহলে অন্য কে সে?
সে তো আরো কঠিন ব্যাপার, তবে আমার ধারণা, কে এ কাজ রাতে করতে পারে? সিলিয়া জানতো, কিংবা অন্তত অনুমান করেছিল।
সেরকম কিছু কি সে বলেছিল আপনাকে?
ও বলেছিল, একটু থেমে জনস্টন বলল, ও বলেছিল আমি ঠিক নিশ্চিত নই, এর কারণ আমি জানি না-হয়তো সেটা একটা ক্ষণিকের ভুল কিংবা দুর্ঘটনা হতেও পারে–তবে আমি নিশ্চিত যেই সে কাজ করে থাকুক না কেন, সুখী নয় সে, আর সত্যিই সে তার কৃতকর্ম স্বীকার করবেই একদিন না একদিন। সিলিয়া বলে চলে, তবে যেদিন পুলিস এখানে আসে ইলেকট্রিক বাল্ব উধাও হওয়ার ঘটনাটা আমার ঠিক বোধগম্য হয় না।
বাধা দিলো শার্প, এই ইলেকট্রিক বাল্ব উধাও হওয়া পুলিস আসার ব্যাপারটা কিরকম?
আমি জানি না। তবে সিলিয়া যা বলেছিল তা এইরকম : আমি সেগুলো নিইনি, তারপর সে আরো বলে কিন্তু পাসপোর্টের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক আছে কিনা জানি না। আমি তখন ওকে জিজ্ঞেস করি, কোনো পাসপোর্টের কথা তুমি বলছো? উত্তরে বলে, আমার মনে হয় কেউ হয়তো পাসপোর্ট নকল করে থাকবে।
