পোয়ারো প্রসঙ্গ পালটিয়ে নিহত মহিলার স্বাস্থ্য এবং স্বভাব সম্পর্কে জানতে চাইলেন খুঁটিনাটি। কাজে নাও লাগতে পারে এসব তথ্য তবু খড়ের গাদায় ছুঁচ খোঁজার চেষ্টা চালালেন। তিনি।
কথায় কথায় বোঝা গেল পিসীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ তাদের বিশেষ ছিল না। মাঝে মধ্যে এক আধবার যাতায়াত হত এই পর্যন্ত এবং বড়দিনে উপহার বিনিময়। যেটুকু পারিবারিক সম্পর্ক থাকার সেটুকুই ছিল। উনি জানতেন পিসীর মৃত্যুর পর তার সঞ্চিত অর্থ তাকেই বর্তাবে তবে তিনি আগ্রহী নন তার জন্য। বুনতে ভালোবাসতেন পিসী। কুকুর পছন্দ করতেন না তবে একটা বেড়াল ছিল তার। তিনি কয়েকটা বাড়িতে টুকটাক গৃহস্থালীর কাজ করতেন।
পোয়ারো জিজ্ঞাসা করলেন, সামারহেসদের বাড়িতে?
-হ্যাঁ, তিনি ওখানেও দুদিন যেতেন সপ্তাহে। ওরা চলে এসেছেন ভারতবর্ষ থেকে। এখানে সাহায্য করবার মত ওঁদের কাজের লোক ছিল না। ছেলেমেয়েরা বাড়িতে থাকলে একেবারে হুলুস্থুলু বাধায় তারা। তবু আমার পিসী মিসেস সামারহেসকে পছন্দ করতেন। খুব পরিষ্কার ছিলেন পিসী। কাচ্চাবাচ্চা ভালোবাসতেন।
গীর্জায় যেতেন প্রতি রবিবার। মাঝে মাঝে সিনেমাতেও যেতেন, ঔৎসুক্য ছিল চিত্রতারকাদের সম্বন্ধে। এক শিল্পী আর তার স্ত্রীকে এড়িয়ে চলতেন তিনি যখন জানতে পারলেন যে সামাজিক বিবাহ তাদের হয়নি। রবিবারের কাগজ পুরোনো পত্রিকা সংগ্রহ করে পড়তে ভালোবাসতেন। নিজে বিশেষ খরচ করতেন না পোশাকের জন্য। প্রচুর পাওয়া জামা কাপড়ও ছিল আর বাতিক ছিল তা জমিয়ে রাখা।
পোয়ারো বুঝতে পারলেন যে সত্যিই সব কথা। তার মৃতার সম্বন্ধে সত্যিই এরকমই একটা ধারণা হয়েছিল। উঠতে যাবেন তিনি ঠিক এমন সময় মিঃ বাৰ্চ বাড়ি ফিরলেন। ঘরের ভেতরে এলেন একটু অপ্রস্তুত ভাবে।
মানুষটি ছোটোখাটো। ব্যাপার শুনে ওকে ওর স্ত্রীর মত মনে হল না অতটা বিচলিত। পুলিশকে সাহায্য করতে তিনি যেন বেশি আগ্রহ দেখালেন। সেটা মিঃ স্পেন্সের চিঠি দেখেও হতে পারে। কিন্তু ওর মধ্যে কোথায় যেন একটু অস্বস্তির ভাব আছে বলে মনে হচ্ছে। সেটা অন্য কোনো কারণেও থাকতে পারে। এমন হতে পারে সিনেমায় যাবার অ্যালিবাই সাজানো। হল থেকে কোনো এক ফাঁকে বেরিয়ে এসে কাজ সেরে গেছেন। মিসেস ম্যাগিনটি দরজা খুলে দিয়েছেন। হত্যা করার পর সব ব্যাপারটাকে যাতে নিছক ডাকাতি বলে মনে হয়, হয়তো এমনভাবে সাজানো ওরই কাজ। ধারালো ভারী অস্ত্রটি কিন্তু ঘটনাস্থল বা আশেপাশের ঝোঁপঝাড়, পুকুরের মধ্যে কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি। কিন্তু কেন? হত্যার ছাপ বা চিহ্ন না রেখেও তো খুন করা যায়। কেন খুঁজে পাওয়া গেল না অস্ত্রটা? তবে কি জো বার্চ লুকিয়ে রেখেছেন সেটা?
নিঃসন্দেহ নন পোয়ারো কিন্তু মনের কোণায় তবুও সন্দেহে যেন উঁকি মারছে। ঠিক মাংস কুচোবার ছুরি ওই ধরনের হবে বলে মনে হয় না। তার থেকে সামান্য অন্যরকম এবং ওটা কার হতে পারে ওই বিশেষত্বটুকুই বুঝিয়ে দেবে।
ওই ধরনের বেন্টলীর কিছু ছিল বলে খবর নেই। এটা বেন্টলীর নির্দেশিত তার পক্ষে যাবার মত একটা খুব ছোট যুক্তি। বিরুদ্ধে যাওয়া অন্যান্য সব সাক্ষ্য প্রমাণের মত ততটা ভারী ওজন না হলেও এটা নিঃসন্দেহে তার পক্ষে যাবে। পোয়ারো তার অভ্যস্ত চতুর চোখ দ্রুত বৈঠকখানার সর্বত্র বুলিয়ে নিলেন।
২. মেসার্স ব্রিদার অ্যাণ্ড স্কাটল
০৬.
মেসার্স ব্রিদার অ্যাণ্ড স্কাটল-এর অফিসে মিঃ পোয়ারো প্রবেশ করলেন।
অত্যন্ত অমায়িক মানুষ মিঃ স্কাটল। তিনি হাত ঘষতে ঘষতে বললেন, সুপ্রভাত, সুপ্রভাত। বলুন কি করতে পারি আপনার জন্য মঁসিয়ে?
ভদ্রলোক পোয়ারোকে এক নজরে দেখে তার সম্বন্ধে ধারণা করতে চেষ্টা করলেন।
–মিঃ স্কাটল, নিশ্চয়ই আমি আপনার সময় নষ্ট করছি না। জেমস বেন্টলীর সম্বন্ধে কিছু খবর জানতে এসেছি আমি।
–আপনি রিপোর্টার না পুলিশ?
–না। এ ব্যাপারে বেন্টলীর এক আত্মীয় আমাকে তদন্ত করতে বলেছেন।
–কোনো নিকটাত্মীয় বেন্টলীর আছে বলে তো শুনিনি?
আর বিচারে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় মৃত্যুদণ্ড হয়েছে তো বেন্টলীর। আপনি জানেন না?
–এখনো কার্যকরী হয়নি দণ্ড। যতক্ষণ শ্বাস, আশ ততক্ষণই নয় কি? অবশ্য ওর বিরুদ্ধে তো সেই প্রমাণ।
–এই আত্মীয়টি ওর কে?
–তিনি অবশ্যই ধনী।
–আপনি দেখছি মশাই অবাক করলেন। ধনী কথাটায় মিঃ স্কাটল নড়েচড়ে বসলেন।
পোয়ারো বললেন, ছেলেকে নিয়ে মিসেস বেন্টলী পরিবার ছেড়ে অনেক দূরে চলে আসায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এদের সঙ্গে।
–তা হলে তো খুবই দুঃখের ব্যাপার যে বেন্টলীকে বাঁচাতে কেউ এতদিন এগিয়ে আসেনি।
–জানতে পারা মাত্র তারা তদন্তের ভার দিয়েছেন আমাকে।
–কিন্তু বুঝতে পারছি না, আপনাদের আমি কিভাবে সাহায্য করতে পারি?
সামনের দিকে পোয়ারো ঝুঁকে পড়লেন–শুনুন আপনাদের এখানে বেন্টলী কাজ করতো মিঃ স্কাটল। কিছু বলুন ওর সম্বন্ধে।
–বিশেষ কিছু নেই ওর সম্বন্ধে বলার মত। ও আমার অধস্তন কর্মচারীদের মধ্যে একজন। বেশ ভালোই ছিল। অন্তত বিরুদ্ধে বলবার মত কিছু নেই। তবে কি জানেন? আমরা হলাম বাড়ি বিক্রির এজেন্ট। তেমন তুখোড় ছিল না সে এ বিষয়ে। আমাদের ব্যবসায় কথার চালে খদ্দেরদের মত করতে হয়, তাদের মনস্তত্ত্ব বুঝে এগোতে পারলে কাজ হতে হয়। এদিকটা বেন্টলী ঠিক তেমনভাবে কায়দা….
