আপনি যদি একটা বিশেষ ব্যাপারে ঠিক ঠিক খেয়াল করতে পারেন তাহলে আপনি অবশ্যই বুঝতে পারবেন সেটা সত্যিই জরুরি কিনা?
ওরা সেটা করেছে কিনা আমি বলতে পারব না। আমার আগ্রহ এই কারণে যে, স্পেশাল ব্রাঞ্চে এই পেশায় বেশ কয়েক বছর ছিলাম।
এসবের ওপর আপনার বাবার কর্তৃত্ব ছিল সুবিদিত।
হ্যাঁ, তাই ছিলেন তিনি, সেটা একটা বিরাট আগ্রহের ব্যাপার ছিল তাঁর জীবনে। তার মতবাদ ছিল অনেক। তার মধ্যে কিছু মতবাদ গর্বের সঙ্গে সঠিক প্রমাণিত হয়েছে। আর বাকি, মতবাদ প্রমাণিত হয়েছে হতাশাব্যাঞ্জক। আমি লক্ষ্য করেছি একটা ভয়ের ব্যাপারে আপনি বিশেষ আগ্রহী।
একজন মহিলা, তাঁর নাম ডরোথি প্রেস্টন-গ্রে।
সেই সময় আমি যুবক ছিলাম এবং তখন আমি আমার বাবার পেশায় আগ্রহী হয়ে উঠেছিলাম, যদিও আমার মানসিক বিশ্লেষণ সব সময় বাবার মতবাদের সঙ্গে মিল হত না। এবং যে কাজ তিনি করেছিলেন সেটা ছিল সারা জাগানোর মতো কৌতূহল। এবং যৌথভাবে আমি যে কাজ করেছিলাম সেটা আমাকে খুব আগ্রহ জাগায়, ডরোথি প্রেস্টন গ্রে-র ব্যাপারে আপনার বিশেষ আগ্রহ কেন আমি জানি, কারণ তিনি প্রেস্টন গ্রে থাকলেও পরে মিসেস গ্যারো হন।
পোয়ারো বললেন, আমি জেনেছি তিনি ছিলেন যমজের একজন।
হ্যাঁ, সেই সময় আমার বাবার গবেষণার ক্ষেত্র নির্বাচিত ছিল যমজদের জীবন নিয়ে। যেমন যে সব যমজ সন্তানরা একই পরিবেশে বড়ো হয়েছে, আবার যারা বিভিন্ন পরিবেশে বড়ো হয়েছে, তাদের নিয়ে গবেষণা করা। তারা কতকাল দুজনে একই রকম থাকে বা তাঁদের দু-জনের জীবনে একইরকম ঘটনা ঘটে কিনা এই সব বিষয় নিয়ে ছিল গবেষণা করা, দু-জন বোন বা দু-জন ভাই যারা খুব কম সময়ই একসঙ্গে কাটিয়েছে তাদের জীবনে বিস্ময়করভাবে একই সময় একই ঘটনা ঘটে কিনা সেটাও দেখার বিষয় ছিল। যাই হোক আমি শুনেছি এ-ব্যাপারে আপনার বিশেষ কোনো আগ্রহ নেই।
না বললেন পোয়ারো, বরং বলা যেতে পারে আমার আগ্রহের কারণ একটি শিশুর দুর্ঘটনার ব্যাপারে। হ্যাঁ তা হতে পারে, আমার মনে হয় ঘটনাটা মায়ের খুব ভালো জায়গায় লোকেরা বাস করত। ক্যাম্বরলি থেকে খুব দূরে নয়, মিসেস গ্যারো ছিলেন বিধবা এবং তাঁর দুটি সন্তান ছিল। সম্প্রতি তাঁর স্বামী একটা দুর্ঘটনায় মারা যান। যার ফলে তিনি
পোয়ারো প্রশ্ন করলেন, মানসিক দিক থেকে বিপর্যস্ত?
না, সেরকম কিছু ভাবা যায় না ওঁর সম্পর্কে। তার স্বামী মারা যাওয়ায় তিনি গভীরভাবে শক পেয়েছিলেন এবং তাঁর মনে হয়েছিল তিনি বিরাট কিছু হারিয়ে ফেলেছেন। তাঁর চিকিৎসকের মতে তার স্বাস্থ্য খুব একটা ভালো ছিল না, কিন্তু তিনি যেভাবে সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন সেটা তার চিকিৎসক ভালো মনে মেনে নিতে পারেননি। এর ফলে মনে হয় তার মধ্যে একটা অদ্ভুত ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তবে যাই হোক উনি আমার বাবার সঙ্গে একটা পরামর্শ করতে চান এবং রোগিণীকে নিজের চোখে দেখে আসার জন্য সেখানে যেতে বলেন, তিনি তার অবস্থা দেখে খুবই উৎসাহিত বোধ করেন এবং এও মনে করেন তার বিপদেরও সম্ভাবনা আছে। সুতরাং তাকে যদি একটা নার্সিংহোমে রেখে চিকিৎসা করা যায় বেশ ভালো হয়। এমন কি সেই শিশুর মৃত্যুর পরও তার অবস্থা একই রকম ছিল। ওঁর দুটি সন্তান ছিল। মিসেস গ্যারোর মতে ঘটনাটা যা ঘটেছিল তা হল-বড়ো মেয়ে তার থেকে বছর চার পাঁচের ছোটো ভাইকে আক্রমণ করে। একটা কোদাল দিয়ে তাকে আঘাত করে এবং কৃত্রিম সাজানো পুকুরে জলে ডুবে মারা যায়। পেরামবুলেটার থেকে ছোটো ভাই বা বোনকে ধাক্কা দিয়ে পুকুরে ফেলে দিতে দেখা যায়। তার কারণ ঈর্ষা এবং তারা ভাবে এডওয়ার্ড বা ডোলান্ড অথবা যে নামই হোক না কেন সে যদি পৃথিবীতে না থাকে তার মার কষ্ট কিছুটা দূর হবে। অথবা ভাই বা বোন না থাকলে তার পক্ষে খুব ভালো হয়। এরকম ঘটনা ছোটো ছেলে মেয়েদের মধ্যে প্রায়ই ঘটে থাকতে দেখা যায়। এসবই ঈর্ষা থেকে সৃষ্টি হয়। এই কেসে নির্দিষ্ট কোনো কারণ বা সাক্ষ্য প্রমাণ নেই। মেয়েটি কিন্তু তার ভায়ের জন্ম হওয়াতে ক্রুদ্ধ হয়নি।
অপরপক্ষে দেখা যায় মিসেস গ্যারো এই দ্বিতীয় সন্তানটিকে জন্ম দিতে চাননি। কিন্তু তার স্বামী আসন্ন দ্বিতীয় সন্তানের জন্য খুশি হয়েছিলেন। গর্ভপাতের জন্য তিনি দু-জন ডাক্তার দেখান। কিন্তু গর্ভপাত করতে পারেননি কারণ তখন তা ছিল বেআইনি। তখন আরও শোনা যায় যে একজন চাকর এবং একটি ছেলে এসে বলল, একজন মহিলা নাকি তার ছেলেকে আক্রমণ করে। সেটি কিন্তু কন্যা সন্তান ছিল না। আবার তখন জানালা দিয়ে বাইরে দেখছিল তিনি ছিলেন তার মিস্ট্রে। তিনি বললেন, আমার ধারণা সেই সময় তিনি কী করছিলেন তা তিনি জানতেন না কারণ তাঁর স্বামী মারা গিয়েছিলেন। বিচারে বলা হয় সেটা ছিল একটা দুর্ঘটনা এবং ছেলেমেয়েরা তখন একসঙ্গে খেলছিল। সুতরাং কেসট এইভাবে পরিত্যক্ত হয়। কিন্তু আমার বাবা যখন কেসটা নিয়ে মিসেস গ্যারোর সঙ্গে আলোচনা করেন এবং তাঁকে সহানুভূতি জানিয়ে প্রশ্নের পর প্রশ্ন করেন, আবার কয়েকটা পরীক্ষা নিরীক্ষা করে একদম নিশ্চিত হন তখন যা ঘটেছিল তার জন্য তিনিই দায়ী। অতএব তার পরামর্শমতো মিসেস গ্যারোর মানসিক চিকিৎসার দরকার ছিল।
