না, সেটা ঠিক সত্য নয়, আরও খানিকটা পিছিয়ে যেতে হবে আমাদের অতীতের দিকে এবং দেখতে হবে সেখানে কোথাও অর্থ সংক্রান্ত মোটিভ আছে কিনা–আমরা বলতে পারি এটা একটা অর্থপূর্ণ–দয়া করে এ-ব্যাপারে আমাকে কিছু জিজ্ঞেস করবেন না। তার জন্য আমার সত্যিকারের কোনো গুণ নেই। মিসেস অলিভার বললেন, হাতির ব্যাপারে আমি যা বলেছিলাম সেটা বরং মোটামুটি ভালো যুক্তি হতে পারে।
পরচুলার ব্যাপারে আপনি যদি একটু মাথা ঘামান তাহলে সব থেকে ভালো হয় অন্তত আমার ধারণা তাই।
পরচুলা?
পুলিশের রিপোর্টে দেখা যায় পরচুলগুলো যে দোকান থেকে কেনা হয় লন্ডনের স্ট্রিটে হেয়ার ড্রেসার ফার্মটা ছিল খুব বিলাসবহুল। পরে সেই দোকান বন্ধ হয়ে তাদের ব্যাবসা অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই দোকান চালাত দুজন মূল অংশীদার। তবে সেই নতুন ফার্মটাও কিছুদিন বাদে বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে প্রধান ফিটার ও হেয়ার ড্রেসারের ঠিকানা আমি সংগ্রহ করেছি। তাই আমার অনুমান যদি কোনো মহিলা এব্যাপারে খোঁজ-খবর নেয় তবে একটা না একটা ফল পাওয়া যেতে পারে।
মিসেস অলিভার বললেন, সেই মহিলাটি কি আমি?
হ্যাঁ আপনিই।
ঠিক আছে। আমাকে কী করতে হবে এখন বলুন?
সেলটেনহ্যামের একটা ঠিকানায় আপনাকে যেতে হবে। সেখানে গিয়ে আপনি দেখতে পাবেন মেয়েদের চুলের সরঞ্জাম তৈরি করে মাদাম রোসেনটেলকে। এখন সে আর যুবতী নেই। তবে আধুনিক ফ্যাশনের চুলের সরঞ্জাম তৈরি করতে তার জুড়ি নেই। সে এমন একজনকে বিয়ে করেছে যার পেশা তারই মতো। পুরুষদের মাথায় টাক পরে যাওয়ার সমস্যার সমাধান করতে সে বিশেষ পারদর্শী।
এই কাজ আপনি আমাকে দিচ্ছেন? এ-ব্যাপারে সে কি কিছু মনে রাখতে পারে? আপনি কী মনে করেন? বললেন মিসেস অলিভার।
এরকুল পোয়ারো বললেন, হাতিরা মনে রাখে।
সেই ডাক্তার যার কথা আপনি বললেন। আপনি কি তার কাছে খোঁজ করতে যাচ্ছেন?
হ্যাঁ একটা ব্যাপার
আপনি কি মনে করেন তিনি মনে রেখেছেন?
পোয়ারো বললেন, খুব বেশি নয়। তবে আমার মনে হয় এটা সম্ভব, কারণ একটা দুর্ঘটনার কথা তিনি হয়তো শুনে থাকবেন। সেটা খুব আগ্রহের, কেস হিস্ট্রিতে রেকর্ড আছে নিশ্চয়ই বুঝলেন।
আপনি কি যমজ বোনের কথা বলছেন?
হ্যাঁ, তাকে নিয়ে দুটি দুর্ঘটনার কথা যতদূর মনে হয় আপনি শুনেছেন। একবার তিনি যখন যুবতী মা ছিলেন কান্ট্রিতে। ঠিকানাটা যতদূর মনে হয় হ্যাঁটারস গ্রীনে আর দ্বিতীয়বার তিনি যখন মালয়তে ছিলেন। প্রতিবারেই শিশুর মৃত্যুর কারণ হচ্ছে দুর্ঘটনা। সেই ব্যাপারে হয়তো আমি কিছু জানতে পারি
তার মানে আপনি বলতে চাইছেন যেহেতু তারা যমজ ছিলেন, মলির মানসিক রোগ ছিল আমি কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছি না। তিনি মোটেই সেরকম ছিলেন না, তিনি ছিলেন স্নেহপ্রবণ ও আবেগপ্রবণ এবং দেখতে ছিলেন সুন্দর। তিনি ছিলেন এক ভয়ঙ্কর চমৎকার লোক।
হ্যাঁ ঠিকই। দেখলে সেই রকমই মনে হয়, আর তিনি খুব সুখীও বটে। আপনি কি মনে করেন?
হ্যাঁ তিনি ছিলেন একজন সুখী ব্যক্তি। ওঁর পরবর্তী জীবনের কিছুই জানা নেই কারণ তিনি তখন বিদেশে ছিলেন। তবে কোনো উপলক্ষ্যে ওর সঙ্গে দেখা করতে যেতাম বা ওঁর কাছ থেকে চিঠি পেতাম। সব সময় মনে হত উনি খুবই সুখে ছিলেন?
সেই যমজ বোনের ব্যাপারে আপনি সত্যিই কিছু জানেন না? না, তবে আমার মনে হয় তিনি ছিলেন–খোলাখুলি বলতে গেলে এক ধরনের সংস্থায় তিনি ছিলেন, মলিকে খুব কম উপলক্ষে আমি দেখেছি। সেই মলির বিয়েতেই ওঁকে দেখতে পাইনি আমি। এমন কি ওঁর সহচরী হিসাবেও না।
সেটা খুব অদ্ভুত ব্যাপার।
এর মধ্যে থেকে আপনি কী বার করতে যাচ্ছেন আমি এখনও ঠিক বুঝতে পারছি না।
পোয়ারো বললেন, স্রেফ একটা খবর।
.
ডাঃ উইলবি
পোয়ারো ট্যাক্সি থেকে নেমে ভাড়া এবং টিপস দিয়ে পকেট থেকে ছোটো নোট বইটা বের করে আর একবার ঠিকানাটা মিলিয়ে নিলেন। কারণ ঠিক জায়গায় এসছেন কিনা দেখার জন্য। ডাঃ উইলবিকে উদ্দেশ্য করে লেখা চিঠিটা পকেট থেকে বার করলেন এবং সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠে এলেন। তারপর বেল টিপলেন, দরজা খুলে দেখেন একজন পুরুষ পরিচালক। পোয়ারো নাম বললেন, সেই শুনে সে বলল তাকে, ডাঃ উইলবি তার জন্য অপেক্ষা করছেন। যে ঘরে পোয়ারো ঢুকলেন সেটা একটা ছোটো ঘর। তার চারিদিকে তুক সেলিফ। আসবাব বলতে দুটি আরাম কেদারা। হাতলের ওপর দুটি গ্লাস, একটা কারুকার্য করা সুরাপাত্র সমেত ট্রে। ডাঃ উইলবি দাঁড়িয়ে তাঁকে অভিবাদন জানালেন। তার বয়স বছর পঞ্চাশ-ষাট আর চেহারা পাতলা রোগাটে, কপাল চওড়া, কালো চুল এবং ধূসর চোখ। তিনি করমর্দন করলেন এবং পকেট থেকে চিঠিটা বার করে তাঁর হাতে দিলেন পোয়ারো।
তাঁর হাত থেকে চিঠিটা নিলেন ডাক্তার এবং খুলে পড়লেন। তারপর সেটা একপাশে রেখে খুব আগ্রহের সঙ্গে পোয়ারোর দিকে তাকালেন।
সুপারিনটেন্ডেন্ট গ্যারোওয়ে আমাকে আগেই বলেছিলেন। আর তাছাড়া হোম অফিস থেকে আমার একজন বন্ধুও অনুরোধ করেছে আপনার এই আগ্রহের ব্যাপারে আমি যেন সাধ্যমতো সাহায্য করি।
আমাকে অনুগ্রহ করার জন্য, আপনাকে অনুরোধ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, বললেন পোয়ারো। কিন্তু তারও একটা কারণ আছে যা আমার কাছে জরুরি বলে মনে হয়েছে।
এত বছর বাদে হঠাৎ এত জরুরি বলে মনে হচ্ছে কেন?
