আপনার কি দয়া আপনি আমাকে মনে রেখেছেন। আমি আশা করব সত্যিকারের কী ঘটেছিল সে ব্যাপারে আপনি আমাকে একটু আলোকপাত করতে পারবেন।
মিসেস অলিভার বললেন, আমার আশঙ্কা, আমি খুব বেশি সফল হতে পারিনি। সেই জন্যই মঁসিয়ে পোয়ারোকে আমি বলেছি আপনার সঙ্গে দেখা করার জন্য। এ-ব্যাপারে উনি একজন বিশেষজ্ঞ বলা যেতে পারে। এটা এমন একটা বেদনাদায়ক ঘটনা যা ঘটেছিল আজ থেকে অনেক বছর আগে।
মিসে বারটন কক্স বললেন, তা অবশ্য ঠিক। এখনও ওঁর চোখে একটা সন্দেহ যেন ঘোরাফেরা করছে।
মিসেস অলিভার প্রশ্ন করলেন : এখন বলুন কী চান? চায়ের সময় অনেক আগেই চলে গেছে। সুতরাং এক গ্লাস শেরি? অথবা আপনার পছন্দসই কোনো ককটেল জাতীয় কিছু?
ওঃ! এক গ্লাস শেরি।
পোয়ারোকে জিজ্ঞেস করলেন, কী খাবেন আপনি?
পোয়ারো বললেন, আমিও শেরি।
হাঁফ ছেড়ে যেন যেন বাঁচলেন মিসেস অলিভার। পোয়ারো যে তার প্রিয় ড্রিঙ্কস চাননি তার জন্য মনে মনে ধন্যবাদ জানালেন। কারণ তিনি যদি তার প্রিয় ড্রিঙ্কস চাইতেন, তিনি দিতে পারতেন না। তার ভাড়ায় এই মুহূর্তে সেটা ছিল না। পোয়ারোকে আমি আগেই বলে রেখেছি আপনি যে ব্যাপারে তদন্ত করতে চান।
মিসেস বারটন কক্স বললেন, হ্যাঁ। তার মুখ দেখে কিন্তু মনে হল তার সন্দেহ এখনও যায়নি কারণ পোয়ালোর পারদর্শিতার জন্য।
পোয়ারোকে বললেন তিনি, এই সব তরুণদের আজকাল বোঝা খুবই মুশকিল। যেমন আমার ছেলের কথাই ধরুন। ও ভীষণ ভালো ছেলে এবং আমাদের বিরাট আশা যে, ভবিষ্যতে সে উন্নতি করবে। সম্ভবত মিসেস অলিভার আপনাকে বলেছেন। ওঁর ধর্মকন্যা সিলিয়া অবশ্য এ-খবরটা সবই জানে। সে খুব সুন্দর মেয়ে। এই বন্ধুত্ব গড়ে উঠলেও প্রায়ই দেখা যায় সেটা বেশিদিন টেকে না, এটা ওদের কৈশোর প্রেম। অনেক বছর আগের কথা সব না হলেও কিছু জানা আমার জরুরি অন্তত আগের লোকদের সম্পর্কে। যদিও আমি জানি সিলিয়ার জন্ম বৃত্তান্ত ভালো কিন্তু সেখানে এমন একটা বিয়োগান্ত ঘটনা ঘটে যায়। আমার মনে হয় বলতে পারেন বিশ্বাস ও এটা একটা আপোষে আত্মহত্যা। কী এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছিল যাতে তাদের আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হয়েছিল। সে সম্পর্কে এখনও পর্যন্ত কেউ আলোকপাত করতে পারেনি। এমন কোনো বন্ধু নেই আমার যাদের সাথে র্যাভেন্সক্রফটের বন্ধুত্ব তাদের থেকে সেই আত্মহত্যার ব্যাপারে জানতে পারি। তাই আমার পক্ষে ধারণা করা খুবই কষ্টকর ব্যাপার। আমি জানি সিলিয়া খুবই ভালো মেয়ে। কিন্তু যে কেউ ওদের পরিবারের ব্যাপারে জানতে চাইবে আর অনেক বেশি করে। আর সেটাই তো স্বাভাবিক নয় কি?
আমার বন্ধু মিসেস অলিভারের কাছে আমি আমি জানতে পারি আপনি একটা বিশেষ ঘটনার ব্যাপারে আমার কাছে জানতে চান। আর সেই ঘটনাটা হল প্রকৃতপক্ষে সেই আত্মহত্যা ঠিক কীভাবে ঘটেছিল–মানে
মিসেস অলিভার দৃঢ়স্বরে বললেন, সেই যে আপনি জানতে চেয়েছিলেন যে, সিলিয়ার বাবা তার মাকে গুলি করে পরে নিজেই নিজেকে গুলি করেছিলেন না সিলিয়ার মা তার বাবাকে গুলি করে পরে নিজেই নিজেকে গুলি করেছিল।
মিসেস বারটন কক্স বললেন, আমি মনে করি এর মধ্যে নিশ্চয়ই একটা তফাত থেকে যায়।
খুব মূল্যবান যুক্তি, বললেন পোয়ারো এবং তাঁর বলার ধরনটা শুনে মনে হল খুব একটা উৎসাহব্যাঞ্জক নয়। ও হো, এর পশ্চাদপটে একটা ভাবাবেগ আছে আর সেই ভাবাবেগের ঘটনাই তাদের আত্মহত্যার পথে ঠেলে দেয়। আপনি নিশ্চয়ই এটা মানবেন সব বিয়েতেই যে কেউ সন্তানের কথা চিন্তা করে থাকে। মানে আমি বলতে চাইছি বংশ পরম্পরাক্রমে চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের পুনাবৃত্তি যাতে ঘটে। আমরা এখন উপলব্ধি করতে পারি পরিবেশের থেকেও সেটা অনেক বেশি কিছু। এবং সেটা একটা চরিত্র গঠনের দিকে ঠেলে দেয় তাতে একটা বেশ ঝুঁকিও থাকে যা কেউ নিতে চায় না।
পোয়ারো বললেন, সত্য সেই ঝুঁকি যারা নেয় সিদ্ধান্ত তাদেরই নেওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। যেমন আপনার ছেলে আর এই তরুণী মেয়েটি, সেটা হবে তাদের পছন্দ।
আমি জানি, অভিভাবকদের কখনওই পছন্দ করার অনুমতি দেওয়া হয় না। শুধু তাই নয় তাদের উপদেশও দিতে দেওয়া হয় না। কিন্তু এ-ব্যাপারে আমি কিছু জানতে চাই এবং সেটা জানার জন্য আমি খুব আগ্রহী। আপনি যদি কোনো তদন্তের ভার নেন তাহলে আমার কথাটা আপনি মাথায় রাখবেন। আমি একজন নির্বোধ মা, এবং আমার পুত্রের জন্য আমি খুব বেশি চিন্তিত। বোধহয় সব মায়েদেরই একরকম অবস্থা হয়। একদিকে মাথাটা সামান্য হেলিয়ে একটু হাসলেন তিনি। শেরির গ্লাসে চুমুক দিয়ে বললেন, এ-ব্যাপারে আপনি চিন্তা করবেন আর আমিও আপনাকে জানাব। সম্ভবত ঠিক যে ব্যাপারে আমি চিন্তিত সেটা জানাব আপনাকে।
তারপরেই তিনি তার হাত ঘড়ির দিকে তাকালেন, ওহো, আমার আর একটা সাক্ষাৎকারে খুব দেরি হয়ে গেল। এত তাড়াতাড়ি চলে যাওয়ার জন্য সত্যিই খুব দুঃখিত মিসেস অলিভার। কিন্তু কী জানেন, আজকাল বিকালের দিকে ট্যাক্সি পাওয়া খুব মুশকিল ব্যাপার, একটার পর একটা ট্যাক্সিচালক মাথা ঘুরিয়ে সোজা চলে যায়। আমার অনুমান আপনার ঠিকানা মিসেস অলিভারের কাছে। তাই তো আছে না?
পোয়ারো বললেন, আমি আপনাকে আমার ঠিকানা দিচ্ছি। এই বলে তিনি তার পকেট থেকে একটা কার্ড বার করে তাঁর হাতে তুলে দিলেন।
