ফুয়ুমির কিছু একটা মাথায় এল। “ঠিক তাই! এটাই ঠিক…লোকটার জানার কোন উপায় ছিল না যে তুমি তার পেছনে লেগেছ কিনা। আর আজকে সবার সামনে তুমি যখন বললে তুমি আমার সাথে কথা বলতে চাও, আর সময় আর জায়গাটাও বললে,..”
“আমি ধরে নিয়েছিলাম লোকটা ওয়ারড্রবে এসে লকাবে।” মিকি হাতের মুঠি দিয়ে ওয়ারড্রবের পাল্লার উপর কিল দিল।
“তারমানে এর ভেতর এখন কোন লাশ নেই, যে আছে সে হল খুনিটা। যে দেখতে এসেছিল তুমি আর আমি কি নিয়ে কথা বলি।”
ফুয়ুমি ওয়ারড্রবের উপর কিল দিল। “কেউ কি ভেতরে আছে? থেকে থাকলে উত্তর দাও। পাল্লায় শব্দ করলেই হবে।”
ফুয়ুমি আর মিকি তাদের হাত ভাঁজ করে ট্রাকের উপর রাখা ওয়ারড্রবের দিকে তাকিয়ে থাকল। কয়েক সেকেন্ডের জন্য সবকিছু নীরব হয়ে থাকল।
তারপর কেবিনেটের ভেতর থেকে একটা টোকার শব্দ ভেসে এল। মেয়ে দুজন একে অপরের দিকে তাকাল।
“কেউ একজন আসলেই ভেতরে আছে!” ফুয়ুমি অবাক হয়ে বলল।
“তুমি কি রিয়ুজিকে খুন করেছ? করলে দুবার টোকা দাও। না করে থাকলে একবার,” মিকি বলল।
দু বার টোকার শব্দ হল। হ্যাঁ।
“তুমি কি চিঠিগুলো পাঠিয়েছ?” ফুয়ুমি জানতে চাইল। হ্যাঁ।
“তুমি কি চিঠিগুলো একারনে পাঠিয়েছ যাতে লাশটা পাওয়া যায় আর সবাই আমাকে খুনি মনে করে?” মিকি জানতে চাইল।
না।
“এসব কি আগে থেকে পরিকল্পনা করা ছিল?” ফুয়ুমি প্রশ্ন করল।
না।
“…এর কারন কি আমার অতীত?” মিকি যন্ত্রণাগ্রস্থ মখে জানতে চাইল।
হ্যাঁ। “রিয়ুজি তোমাকে বলেছিল?” মিকি জানতে চাইল। হ্যাঁ।
“তুমি রিজিকে খুন করতে চেয়েছিলে কারন ও আমার গোপন ব্যাপারটা জানত, আর তুমি আমাকে এর জন্য আরো শাস্তি দিতে চেয়েছিলে?” মিকি প্রশ্ন করল।
হ্যাঁ। “চল দেখা যাক ভেতরে কে আছে।”
ও কথাটা বলার পর ফুয়ুমি আস্তে করে পাল্লাগুলো খুলল। ওয়ারড্রবের ফাঁক দিয়ে ওর সাথে আমার চোখাচোখি হল। আমার স্ত্রী আর আমার বোনের মুখ থেকে সমস্ত রক্ত সরে গিয়েছিল। ওদেরকে একদম মৃত লাশের মত ফ্যাকাসে দেখাচ্ছিল।
ওয়ার্ডস অফ গড
১
আমার মা ছিলেন খুবই বুদ্ধিমতি। তিনি যখন ছোট ছিলেন, তখন কঠিন কঠিন সব বই পড়তেন এবং এক সময় নামকরা একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যান। তিনি ছিলেন খুবই সুন্দরি আর স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে নিজ থেকে যোগদান করতেন। তার এলাকার সবাই তাকে ভালবাসত। তিনি যখন মেরুদন্ড টানটান করে সোজা হয়ে দাঁড়াতেন তখন তাকে শীতকালে লেকে দাঁড়ানো আভিজাত্যপূর্ণ বকের মত দেখাত। তার ছিল বুদ্ধিপূর্ণ এক জোড়া চোখ, যা ধুলোহীন চশমার ভেতর দিয়ে পুরো দুনিয়া চেয়ে চেয়ে দেখত।
আমার মায়ের যদি একটা অসঙ্গতি থেকে থাকে তাহলে সেটা ছিল তিনি তার পোষা বিড়াল আর ক্যাক্টাসের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারতেন না। যে কারনে, একবার আমাদের বাড়ির বিড়ালটাকে চেপে ধরে মাটিতে পুঁতে তার উপর পানি ঢেলে দিয়েছিলেন। আবার আরেকবার একটা ক্যাক্টাস গাছকে বিড়াল ভেবে মুখের সাথে ঘষতে শুরু করেছিলেন। ফলাফল যা হয়েছিল তা হল তার মুখ ছিলে কেটে রক্তাক্ত হয়ে গিয়েছিল।
আমার বাবা আর ভাই আমার মায়ের এরকম রহস্যজনক কর্মকাণ্ড দেখে ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করত কেন তিনি এমন করতেন। অন্য সব ক্ষেত্রে বুদ্ধিমতি আমার মা তাদের প্রশ্ন উপেক্ষা করে বিড়ালের খাবারের একটা ক্যান খুলে অনড় ক্যাক্টাস গাছের উপর ঢেলে দিতেন।
এর সব কিছুই হয়েছিল আমার দোষে। আমি একটা ভুল করে ফেলেছিলাম আর সেজন্য আমি দুঃখিত।
***
যখন আমি অনেক ছোট ছিলাম, আমাকে প্রায়ই বলা হত যে আমার কণ্ঠ খুবই সুমধুর। নিউ ইয়ার্স কিংবা গ্রীষ্মের বুদ্ধিস্ট সোল ফেস্টিভ্যালের সময় আমরা যখন নানু বাড়ি যেতাম, তখন আমাদের সব আত্মীয়, যাদের সাথে বিশেষ অনুষ্ঠান ছাড়া দেখা হত না, তারা আমার উপর ঝাঁপিয়ে পড়তেন। আমি খুব একটা সামাজিক ধরনের ছিলাম না কিন্তু তারা কয়েকটা ড্রিঙ্ক নিতেন, আমি তাদের কৌতুকে হাসতাম আর তাদের কথায় মনোযোগ দিচ্ছি প্রমাণ করার জন্য যথেষ্ট পরিমাণ কথা বলতাম। এমনকি ভাব নিতাম যে তাদের বুঝতে কষ্ট হওয়া গ্রাম্য উচ্চারন বুঝতে কোন কষ্টই হচ্ছে না।
“তুমি আসলেই একটা ভাল ছেলে,” আমার খালা আমাকে বললেন, আমি উত্তরে মলিন একটা হাসি হাসলাম। সত্যি কথা হচ্ছে আমি মোটেও কোন ভাল ছেলে ছিলাম না। আমার হৃদয় ছিল পঁচন ধরে কুঁচকে যাওয়া। আমি সেফ অভিনয় করতাম।
আমার আত্মীয়রা আমাকে যত ভাল ভাল কথাই বলতেন না কেন আমি কখনো খুশি হতে পারতাম না। সবসময় বিরক্ত বোধ করতাম, আমার শুধু ইচ্ছে করত কোথাও পালিয়ে যাই। কিন্তু আমার ভয় ছিল যদি আমি আমার আত্মীয়দের থেকে পালিয়ে যাই তাহলে তাদের সাথে আমার সব সুসম্পর্ক নষ্ট হয়ে যাবে। যদিও তারা কি বলতেন তাতে আমার কোন আগ্রহ ছিল না কিন্তু তারা আমার কাছ থেকে যে উষ্ণ প্রতিক্রিয়া আশা করতেন তা দেয়া ছাড়া আমার কাছে কোন উপায় ছিল না। ‘
সে সময়ে নিজের প্রতি আমার বিতৃষ্ণা ছিল। সেফ চাইতাম, লোকজন আমাকে ভাল মনে করুক তাই অর্থহীন একটা হাসি মুখের সাথে ঝুলিয়ে রাখতাম। কিন্তু আসলে আমি ছিলাম ঘৃণ্য।
“তোমার কণ্ঠ যেন সঙ্গীতের মত, একদম স্ফটিকের মত স্বচ্ছ,” একজন কমবয়সি যুবতী আত্মীয় আমাকে বলেছিল। আমার নিজের কানে আমার কণ্ঠ বিকৃত আর জঘন্য শোনাত, মনে হত কোন জানোয়ার মানুষের অনুকরন করার ব্যর্থ চেষ্টা করছে।
