রেডিমেড সোনা মেলে প্রকৃতিতে? জিজ্ঞেস করল কিশোর। আমি বলতে চাইছি, প্রসেসিং ছাড়াই খাঁটি সোনা বের করা যায়?
সাধারণত অন্য ধাতুর সঙ্গে মেশানো থাকে স্বর্ণ। তবে এটা খুব ভাল পেয়েছ। কোথায় পেল লোকটা, কে জানে।
বলেনি, তাড়াতাড়ি জবাব দিল কিশোর।
হুঁ, নুড়িটা আবার ফিরিয়ে দিল জুয়েলার। কোন বাতিল খনিতে পেয়েছে বোধহয়, ক্যালিফোর্নিয়ার কোন জায়গায় হবে। খনি বন্ধ করে দেয়ার পরেও এসব খনিজ-সন্ধানীরা বহুদিন তার আশেপাশে ঘুরঘুর করে, ছিটেফোটা পায়ও মাঝে মাঝেই।
নুড়িটা পকেটে রাখতে রাখতে বলল কিশোর, অন্য ধাতুর সঙ্গে মেশানো থাকে বললেন। এটার সঙ্গে কি মেশানো আছে? রূপা-টুপা কিছু?
না। লালচে। তার মানে তামা। রূপা থাকলে সবজে দেখাত। বাক্স খুলে পুরানো একটা টাই-পিন বের করল জুয়েলার। ওক পাতার মত ডিজাইন, খুব হালকা সবুজ একটা ভাব রয়েছে। এই যে, এটাতে আছে। অনেকে সবুজ সোনা বলে একে। পঁচিশ পারসেন্ট রূপা, তারমানে এটা আঠারো-ক্যারাট স্বর্ণ। আর এই যে আঙটিগুলো, পঁচিশ-ক্যারাট। বাচ্চাদের জন্যে বানানো হয়েছে বড়দিনের উপহারের জন্যে কেনে লোকে। তবে খুব নরম, সেটা বলে দিই আমি বিক্রির। সময়। তোমার নুড়িটাতে এই জাতের স্বর্ণই আছে।
পাঁচ ডলার দাম ঠিক আছে?
তা আছে। আজকাল তো একটা প্ল্যাসটিকের টুকরোর দামও এর চেয়ে বেশি। যত্ন করে রেখে দাও। কখনও টাই-পিন বা আঙটি বানাতে ইচ্ছে হলে সোজা চলে এসো আমার কাছে।
জুয়েলারকে ধন্যবাদ জানিয়ে দোকান থেকে বেরিয়ে এল ওরা।
খাইছে! উত্তেজনা আর চেপে রাখতে পারল না মুসা। খনিটাতে সত্যি সত্যি সোনা রয়েছে!
তামাও, চিন্তিত ভঙ্গিতে বলল কিশোর। কিন্তু অবাক লাগছে, এটাতে রূপার বদলে তামা কেন? রূপা থাকাটাই তো স্বাভাবিক ছিল, কারণ পাওয়া গেছে রূপার খনিতে। সোনা আর রূপা এক খনিতে পাওয়া যায়, এটা জানি আমি, কিন্তু সোনা, রূপা, তামা…নাহ, মিলছে না।
মজার ব্যাপার,? জিনা বলল। শয়তানের চেলা তো ব্যাটা, ওর ওস্তাদই বোধহয় গোপনে ওকে জানিয়েছে, খনিটার ভেতরে সোনার স্তর লুকানো আছে। ওর বাপ ছিল ফোরম্যান, দক্ষ খনিকার। হয়তো সে-ই খোঁজ পেয়েছিল সোনার, চুপ থেকেছে, ছেলে বড় হওয়ার পর তাকে বলেছে। ব্যস, জনাব ম্যাকআরথার এসে কিনে নিয়েছেন খনিটা। গল্প ফেঁদেছেন, জন্মভূমির জন্যে কেঁদে কেঁদে তার অন্তত চুরচুর হয়ে গেছে, আহারে। মিথুকের বাচ্চা মিথ্যুক!
তাই যদি হয়, কিশোর বলল, তাহলে আরও আগেই এল না কেন? তার। বয়েস এখন চল্লিশ, আরও বিশ বছর আগেই আসতে পারত। কয়েক বছর আগে সোনার দাম চড়েছিল, তখনও তো আসতে পারত, আর আসার মোক্ষম সময় ছিল সেটাই। কেন এল না?
আসেনি যে সেটা জানছি কি করে? পাল্টা প্রশ্ন করল জিনা। পাঁচ বছর আগে যখন ডাকাত বাড হিলারি খনিতে পড়ে মরল, তখন ম্যাকআরথারও যে আসেনি সঙ্গে, শিওর হচ্ছি কিভাবে? দুজনে পার্টনার হিসেবেই হয়তো এসেছিল। কোন কারণে মতের মিল হয়নি, ঝগড়া লেগেছিল, তাই হয়তো লোকটাকে গর্তে ঠেলে ফেলে দিয়েছে ম্যাকআরথার।
খুব বেশি কল্পনা করছ, জিনা, প্রতিবাদ করল রবিন। একজন কোটিপতি পুরানো এক খনিতে এক ডাকাতের সঙ্গে ঝগড়া করতে আসবে কেন? কোন কারণ নেই। আর যদি ম্যাকআরথার জানেই খনিটাতে স্বর্ণ আছে, তাহলে পার্টনার নেয়ার কোন দরকার নেই। ওই স্বর্ণ তোলার সামর্থ্য তার একারই আছে। আর তার খনি থেকে সে যদি সোনা তোলেই, সেটা বেআইনী কিছু নয়, কাজেই গোপনে তোলার চেষ্টা করার তো কোন কারণ দেখছি না। ওসব বাদ দিয়ে এসো এখন কাজের কথা বলি, বা হিলারির খোঁজ লাগাই।
পকেট থেকে নোটবুক বের করে জোরে জোরে পড়ল রবিন বাড হিলারি, দাগী আসামী, নিয়মিত দুবার দেখা করেই গায়েব হয়েছে। অনেকগুলো ছদ্মনাম ব্যবহার করেছে সে, বেরি হারবার্ট, বন হিরাম, বার হুম্যান। স্যান কোয়েনটিন থেকে ছাড়া পেয়ে পাঁচ বছর আগে স্যান ফ্রানসিসকো থেকে নিখোঁজ হয়েছে। সেটা সম্ভবত জানুয়ারির শেষ কিংবা ফেব্রুয়ারির গোড়ার দিকে। টুইন লেকসে পৌচেছে হয়তো মে মাসের কোন এক সময়, লর্ডসবুর্গ থেকে গাড়ি চুরি করে নিয়ে।
খুব ভাল রের্কড লিখেছ, নথি, প্রশংসা করল কিশোর।
একটা ব্যাপার লক্ষ করার মত, বলে গেল রবিন, তার আসল নাম আর ছদ্মনাম, সবগুলোরই আদ্যাক্ষর বি এইচ। লর্ডসবুর্গেও যদি কোন ছদ্মনাম নিয়ে থাকে, এই দুটো অক্ষর দিয়েই হয়তো নাম বানিয়েছে। সেভাবেই খোঁজা দরকার আমাদের। কিশোর, পাবলিক লাইব্রেরি থেকে শুরু করব? ফোন বুক, সিটি ডিরেকটরি, পুরানো খবরের কাগজ, সবই পাওয়া যাবে ওখানে।
সায় দিল কিশোর।
জিনা চেনে লাইব্রেরিটা। পথ দেখিয়ে তিন গোয়েন্দাকে নিয়ে এল সেখানে। খুব ভদ্রভাবে লাইব্রেরিয়ানকে জানাল কিশোর, এই অঞ্চলে বেড়াতে এসেছে ওরা। তার এক মামা নাকি থাকে এখানে, অনেক দিন কোন খোঁজখবর নেই, তাই আসার সময় কিশোরের মা বলে দিয়েছে, পারলে মামার খোঁজ নিয়ে আসতে। লাইব্রেরিয়ান মানুষটা ভাল, তাছাড়া এমনভাবে অভিনয় করে বলেছে কিশোর, গলে গেলেন। নিজেই উঠে গিয়ে ফোন বুক, সিটি ডিরেকটরি বের করে দিলেন। পাঁচ বছরের পুরানো বই-পুত্র নিয়ে লম্বা একটা টেবিলে বসে গেল ওরা। নামের আদ্যাক্ষর বি এইচগুলো খুঁজছে।
